📄 তার পেটে তো ব্যাথা নেই
আমার এক আত্মীয়া মহিলা ছিলেন। তার পেটে ব্যথা ছিলো। সে ব্যথা খুব বেশি আশঙ্কাজনকও ছিলো না। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য ডাক্তার খানায়ও নিয়ে যাই। লিফটে যাওয়ার সময় দেখি যে, এক মহিলা হুইল চেয়ারে বসে এদিকে আসছে। তার হাত-পা ভাঙ্গা, প্লাস্টার করা, বুক জ্বলা, খুব মর্মান্তিক তার অবস্থা। আমি আমার আত্মীয়া মহিলাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বললাম যে, দেখুন! এই মহিলাটি কি মারাত্মক পেরেশানি ও কষ্টের মধ্যে আছে। তাকে দেখলে নিজের কষ্ট কম অনুভব হয়। মুখে আল্লাহর শোকর চলে আসে। তখন উত্তরে ঐ মহিলা বললেন, বাস্তবিকই তার হাত-পা ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু তার পেটে তো ব্যথা নেই। দেখুন! তার চিন্তায় সবচেয়ে বড়ো কষ্ট এই যে, আমার পেটে ব্যথা হচ্ছে। অন্যের জ্বলে যাওয়া চামড়া ও ভাঙ্গা হাত-পা দেখেও নিজের কষ্টের চিন্তা দূর হচ্ছে না। কারণ, নিজের কষ্ট ও রোগের অনুভূতি রয়েছে। কিন্তু যার নিজের কষ্ট ও রোগের অনুভূতি নেই, সে অন্যের সাধারণ সাধারণ কষ্ট দেখে থাকে। তাই আমাদের বড়ো একটি ব্যাধি এই যে, আমরা নিজেদের সংশোধনের বিষয়ে গাফেল। অন্যের উপর আপত্তি ও অন্যের সমালোচনা করতে আমরা সদা প্রস্তুত।
📄 রোগের চিকিৎসা
আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতের মধ্যে বলেন যে, হে ঈমানদারগণ! প্রথমে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করো। তোমরা বলো, অমুক গোমরা হয়ে গেছে, অমুক ধ্বংস হয়ে গেছে। মনে রেখো! তুমি যদি সঠিক পথে থাকো, তাহলে তার বিপথগামিতা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষের সাথে তার নিজের আমল যাবে। এজন্য নিজেকে নিয়ে চিন্তা করো। তোমরা সকলে আল্লাহ তা'আলার নিকট ফিরে যাবে। সেখানে তিনি তোমাদেরকে বলবেন, তোমরা কী আমল করতে? তোমাদের আমল বেশি ভালো ছিলো, নাকি অন্যদের আমল? জানা তো নেই যার উপর আপত্তি করছেন, যার দোষ তালাশ করছেন, তার কোনো কাজ, তার কোনো আঙ্গিক, আল্লাহ তা'আলার নিকট এতো মাকবুল যে, সে আপনার চেয়ে আগে চলে যাবে। মোটকথা, শুধু আসর জমানোর জন্যে, শুধু কথার মজা ভোগ করার জন্যে আমরা যেসব কথা বলে থাকি, তা সংশোধনের পথ নয়।
📄 আত্মসমালোচনার মজলিস
হ্যাঁ, কোথাও যদি এ উদ্দেশ্যে সভা অনুষ্ঠিত করা হয় যে, সেখানে আত্ম-সমালোচনা করা হবে। নিজেদের মধ্যে কি কি দোষ রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। আর তাতে মানুষ এই নিয়তে অংশগ্রহণ করে যে, এসব কথা শুনবে, বুঝবে এবং সে অনুপাতে আমল করার চেষ্টা করবে, তাহলে এমন বৈঠক করা ঠিক আছে।
📄 মানুষের সর্ব প্রথম কাজ
মানুষের সর্ব প্রথম কাজ এই যে, নিজের রাত-দিনের উপর জরিপ চালাবে এবং দেখবে যে, আমি কতোটুকু কাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক এবং তাঁর বলা পদ্ধতি অনুপাতে করছি, আর কতোটুকু কাজ তার বিপরীত করছি। যদি দেখা যায় যে, তার বিপরীত করছি, তাহলে তা সংশোধনের পথ কী? আল্লাহ তা'আলা আমাদের অন্তরে এই চিন্তা জাগ্রত করে দিলে আমাদের সমাজও সংশোধিত হয়ে যাবে।