📄 সর্বাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি
একটি হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কি অপূর্ব তার এ বাণী! আমাদের সকলের তা মুখস্থ রাখা উচিত। তিনি বলেন,
إِذَا قَالَ الرَّجُلُ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
যে ব্যক্তি বলে যে, সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে (অর্থাৎ অন্যদের উপর আপত্তি করে যে, মানুষ বিগড়ে গেছে, তাদের মধ্যে বদদ্বীনী ছেয়ে গেছে, তাদের মধ্যে বিপথগামিতা চলে এসেছে, তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হচ্ছে) সে ব্যক্তি নিজেই সবচে' বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত।” কারণ এই যে, সে অন্যদের উপর আপত্তি উত্থাপনের জন্য বলছে যে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাস্তবেই যদি তার ধ্বংস নিয়ে চিন্তা থাকত তাহলে আগে নিজের সম্পর্কে চিন্তা করতো এবং নিজের সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতো।
টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯
📄 অসুস্থ ব্যক্তির অন্যের অসুস্থতা সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়?
যে ব্যক্তির পেট ব্যথা হচ্ছে, পেট মোচড়াচ্ছে, কোনোভাবেই শান্তি পাচ্ছে না, সে অন্যের হাঁচির বিষয়ে কীভাবে চিন্তা করবে? অন্যের হাঁচি আসছে, কী সুন্নাত আসছে তা নিয়ে কিসের পরওয়া করবে। আল্লাহ না করুন, আমার পেটে যদি তীব্র ব্যথা হয়, তাহলে আমার নিজের চিন্তা হবে, নিজের জানের চিন্তা হবে, নিজের ব্যথা দূর করার চিন্তা হবে, নিজের কষ্ট দূর করার চিন্তা হবে, তখন অন্যের ব্যাধি ও অন্যের সাধারণ কষ্টের দিকে মনোযোগ যাবে না। এমনও দেখা গেছে যে, নিজের কষ্ট সাধারণ, আর অন্যের কষ্ট অনেক বেশি, কিন্তু তবুও নিজের কষ্টের চিন্তা এতো বেশি আচ্ছন্ন করে রাখে যে, অন্যের অধিক কষ্টের দিকে দৃষ্টি যায় না।
📄 তার পেটে তো ব্যাথা নেই
আমার এক আত্মীয়া মহিলা ছিলেন। তার পেটে ব্যথা ছিলো। সে ব্যথা খুব বেশি আশঙ্কাজনকও ছিলো না। তাকে ডাক্তার দেখানোর জন্য ডাক্তার খানায়ও নিয়ে যাই। লিফটে যাওয়ার সময় দেখি যে, এক মহিলা হুইল চেয়ারে বসে এদিকে আসছে। তার হাত-পা ভাঙ্গা, প্লাস্টার করা, বুক জ্বলা, খুব মর্মান্তিক তার অবস্থা। আমি আমার আত্মীয়া মহিলাকে সান্ত্বনা দেয়ার জন্য বললাম যে, দেখুন! এই মহিলাটি কি মারাত্মক পেরেশানি ও কষ্টের মধ্যে আছে। তাকে দেখলে নিজের কষ্ট কম অনুভব হয়। মুখে আল্লাহর শোকর চলে আসে। তখন উত্তরে ঐ মহিলা বললেন, বাস্তবিকই তার হাত-পা ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু তার পেটে তো ব্যথা নেই। দেখুন! তার চিন্তায় সবচেয়ে বড়ো কষ্ট এই যে, আমার পেটে ব্যথা হচ্ছে। অন্যের জ্বলে যাওয়া চামড়া ও ভাঙ্গা হাত-পা দেখেও নিজের কষ্টের চিন্তা দূর হচ্ছে না। কারণ, নিজের কষ্ট ও রোগের অনুভূতি রয়েছে। কিন্তু যার নিজের কষ্ট ও রোগের অনুভূতি নেই, সে অন্যের সাধারণ সাধারণ কষ্ট দেখে থাকে। তাই আমাদের বড়ো একটি ব্যাধি এই যে, আমরা নিজেদের সংশোধনের বিষয়ে গাফেল। অন্যের উপর আপত্তি ও অন্যের সমালোচনা করতে আমরা সদা প্রস্তুত।
📄 রোগের চিকিৎসা
আল্লাহ তা'আলা এই আয়াতের মধ্যে বলেন যে, হে ঈমানদারগণ! প্রথমে নিজের ব্যাপারে চিন্তা করো। তোমরা বলো, অমুক গোমরা হয়ে গেছে, অমুক ধ্বংস হয়ে গেছে। মনে রেখো! তুমি যদি সঠিক পথে থাকো, তাহলে তার বিপথগামিতা তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষের সাথে তার নিজের আমল যাবে। এজন্য নিজেকে নিয়ে চিন্তা করো। তোমরা সকলে আল্লাহ তা'আলার নিকট ফিরে যাবে। সেখানে তিনি তোমাদেরকে বলবেন, তোমরা কী আমল করতে? তোমাদের আমল বেশি ভালো ছিলো, নাকি অন্যদের আমল? জানা তো নেই যার উপর আপত্তি করছেন, যার দোষ তালাশ করছেন, তার কোনো কাজ, তার কোনো আঙ্গিক, আল্লাহ তা'আলার নিকট এতো মাকবুল যে, সে আপনার চেয়ে আগে চলে যাবে। মোটকথা, শুধু আসর জমানোর জন্যে, শুধু কথার মজা ভোগ করার জন্যে আমরা যেসব কথা বলে থাকি, তা সংশোধনের পথ নয়।