📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 রোগ নির্ণয়

📄 রোগ নির্ণয়


আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে এই প্রশ্নের উত্তরও দান করেছেন এবং আমাদের একটি রোগও নির্ণয় করেছেন। এটি এমন একটি আয়াত, যা বেশিরভাগ সময় আমাদের দৃষ্টির আড়ালে থাকে। এর অর্থও আমাদের জানা থাকে না এবং এর মর্মও আমাদের সামনে থাকে না।
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ عَلَيْكُمْ أَنفُسَكُمْ ۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا ٱهْتَدَيْتُمْ ۚ إِلَى ٱللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 নিজের অবস্থা সম্পর্কে গাফেল, আর অন্যদের চিন্তায় মগ্ন

📄 নিজের অবস্থা সম্পর্কে গাফেল, আর অন্যদের চিন্তায় মগ্ন


'হে ঈমানদারগণ! তোমরা নিজেরা নিজেদের খবর নাও, তোমরা যদি সঠিক পথে চলে আসো (তোমরা যদি হেদায়েত লাভ করে সঠিক পথ অবলম্বন করো) তাহলে যেসব লোক পথভ্রষ্ট রয়েছে তাদের এই ভ্রষ্টতা তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। তোমাদের সকলকে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। সেখানে আল্লাহ তোমাদেরকে বলবেন, তোমরা দুনিয়াতে কি করেছো?'
আল্লাহ তা'আলা এ আয়াてে আমাদের অত্যন্ত মৌলিক একটি ব্যাধির কথা বলেছেন যে, সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার একটি বড়ো কারণ হলো, যে ব্যক্তিই সংস্কারের পতাকা নিয়ে দাঁড়ায়, তারই কামনা থাকে অন্য ব্যক্তি নিজেকে সংশোধন ও সংস্কার করতে আরম্ভ করুক। আর যে ব্যক্তি অন্যদেরকে আহ্বান করছে, দাওয়াত দিচ্ছে, ইসলাহের পয়গাম দিচ্ছে, সে নিজের ব্যাপারে উদাসীন এবং নিজের অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে গাফেল।
আমরা সবাই একটু চিন্তা করে দেখি, বিভিন্ন সমাবেশে, বিভিন্ন সভায় আমরা খুব মজা নিয়ে সমাজের মন্দ দিকসমূহের আলোচনা করি আর বলি যে, 'সব মানুষ এই কাজ করছে' 'মানুষের অবস্থা এই', 'সমাজের অবস্থা এতো খারাপ হয়ে গেছে', 'আমি অমুককে দেখেছি সে এই কাজ করছিলো'। এই বিকৃত সমাজে সবচেয়ে সহজ কাজ হলো অন্যের উপর আপত্তি করা, অন্যের সমালোচনা করা, অন্যের দোষ বর্ণনা করা যে, মানুষ এই করছে, সমাজের মধ্যে এই হচ্ছে ইত্যাদি। আমাদের খুব কম বৈঠকই এবং খুব কম সমাবেশই এসবের আলোচনা থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু কখনো নিজের দিকে তাকিয়ে দেখার তাওফীক হয় না যে, আমি নিজে কতো নষ্ট হয়ে গেছি। আমার নিজের অবস্থা কতো খারাপ হয়ে গেছে। আমার নিজের কর্মপদ্ধতি কতো ভুল। এর কি পরিমাণ সংশোধন প্রয়োজন! শুধু অন্যের সমালোচনার ধারা অব্যাহত থাকে। অন্যের দোষের অনুসন্ধান চলতে থাকে। এর ফল এই হয় যে, সমস্ত আলোচনা কথার ফুলঝুড়ি ফুটানো, আসর জমানো এবং স্বাদ গ্রহণের জন্য হয়ে থাকে। ফলে সংশোধনের দিকে কোনো পদক্ষেপ অগ্রসর হয় না।

টিকাঃ
১. সূরা মায়েদা, আয়াত-১০৫

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সর্বাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি

📄 সর্বাধিক ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি


একটি হাদীসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কি অপূর্ব তার এ বাণী! আমাদের সকলের তা মুখস্থ রাখা উচিত। তিনি বলেন,
إِذَا قَالَ الرَّجُلُ هَلَكَ النَّاسُ فَهُوَ أَهْلَكُهُمْ
যে ব্যক্তি বলে যে, সারা দুনিয়ার মানুষ ধ্বংস হয়ে গেছে (অর্থাৎ অন্যদের উপর আপত্তি করে যে, মানুষ বিগড়ে গেছে, তাদের মধ্যে বদদ্বীনী ছেয়ে গেছে, তাদের মধ্যে বিপথগামিতা চলে এসেছে, তারা মন্দ কাজে লিপ্ত হচ্ছে) সে ব্যক্তি নিজেই সবচে' বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত।” কারণ এই যে, সে অন্যদের উপর আপত্তি উত্থাপনের জন্য বলছে যে তারা ধ্বংস হয়ে গেছে। বাস্তবেই যদি তার ধ্বংস নিয়ে চিন্তা থাকত তাহলে আগে নিজের সম্পর্কে চিন্তা করতো এবং নিজের সংশোধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতো।

টিকাঃ
১. সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৭৫৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৩৩১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস মুয়াত্তায়ে মালেক, হাদীস নং ১৫৫৯

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 অসুস্থ ব্যক্তির অন্যের অসুস্থতা সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়?

📄 অসুস্থ ব্যক্তির অন্যের অসুস্থতা সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ কোথায়?


যে ব্যক্তির পেট ব্যথা হচ্ছে, পেট মোচড়াচ্ছে, কোনোভাবেই শান্তি পাচ্ছে না, সে অন্যের হাঁচির বিষয়ে কীভাবে চিন্তা করবে? অন্যের হাঁচি আসছে, কী সুন্নাত আসছে তা নিয়ে কিসের পরওয়া করবে। আল্লাহ না করুন, আমার পেটে যদি তীব্র ব্যথা হয়, তাহলে আমার নিজের চিন্তা হবে, নিজের জানের চিন্তা হবে, নিজের ব্যথা দূর করার চিন্তা হবে, নিজের কষ্ট দূর করার চিন্তা হবে, তখন অন্যের ব্যাধি ও অন্যের সাধারণ কষ্টের দিকে মনোযোগ যাবে না। এমনও দেখা গেছে যে, নিজের কষ্ট সাধারণ, আর অন্যের কষ্ট অনেক বেশি, কিন্তু তবুও নিজের কষ্টের চিন্তা এতো বেশি আচ্ছন্ন করে রাখে যে, অন্যের অধিক কষ্টের দিকে দৃষ্টি যায় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00