📄 শোকর ও সবর আত্মার আমল
এমনিভাবে নেয়ামতের জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা আত্মার একটা অমল। মানুষ আত্মা দিয়ে একথা চিন্তা করবে যে, আমি এই নেয়ামতের যোগ্য ছিলাম না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা কেবলই দয়া করে আমাকে এই নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করেছেন। একে শোকর বলে, এটা আত্মার আমল। এটা ফরয।
আত্মার আরেকটি আমল হলো সবর। সবরের অর্থ হলো, অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটলে বা কোনো কষ্টের শিকার হলে মানুষ চিন্তা করবে যে, যদিও আমার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমি আল্লাহ তা'আলার ফয়সালার উপর রাযি আছি। আল্লাহ তা'আলা যা কিছু করছেন তা হিকমতের দাবিতেই করছেন। এর নাম সবর, এটা আত্মার কাজ। এ গুণটি অর্জন করা ফরয। এরকম আরো অনেক আমল আছে, যেগুলোর সম্পর্ক মানুষের আত্মার সাথে, এগুলোকে 'আখলাক' বলা হয়। উত্তম আখলাক অর্জন করা ফরয।
এমনিভাবে নেয়ামতের জন্য আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করা আত্মার একটা অমল। মানুষ আত্মা দিয়ে একথা চিন্তা করবে যে, আমি এই নেয়ামতের যোগ্য ছিলাম না। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা কেবলই দয়া করে আমাকে এই নেয়ামত দ্বারা ভূষিত করেছেন। একে শোকর বলে, এটা আত্মার আমল। এটা ফরয।
আত্মার আরেকটি আমল হলো সবর। সবরের অর্থ হলো, অনাকাঙ্খিত কোনো ঘটনা ঘটলে বা কোনো কষ্টের শিকার হলে মানুষ চিন্তা করবে যে, যদিও আমার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু আমি আল্লাহ তা'আলার ফয়সালার উপর রাযি আছি। আল্লাহ তা'আলা যা কিছু করছেন তা হিকমতের দাবিতেই করছেন। এর নাম সবর, এটা আত্মার কাজ। এ গুণটি অর্জন করা ফরয। এরকম আরো অনেক আমল আছে, যেগুলোর সম্পর্ক মানুষের আত্মার সাথে, এগুলোকে 'আখলাক' বলা হয়। উত্তম আখলাক অর্জন করা ফরয।
📄 তাকাব্বুর আত্মার হারাম কাজ
আত্মার সাথে সম্পৃক্ত কিছু আমল এমন আছে, যেগুলো হারাম। যেমন অহংকার করা, নিজেকে নিজে বড়ো মনে করা। এমন মনে করা যে, আমার মতো আর কেউ নেই। আমার তুলনায় অন্য সবাই তুচ্ছ। তাদের কোনোই গুরুত্ব নেই। আমি সবচেয়ে বড়ো। এটা তাকাব্বুর। এটা অন্তরে সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এই অহংকার মুখে প্রকাশ পায় না। মুখে তো বলে যে, আমি খুবই তুচ্ছ, খুবই অধম, খুবই খারাপ, কিন্তু অন্তরে অহংকার ভরা থাকে। কারণ, সে অন্যদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। এই অহংকার আত্মার ব্যাধি, যা হারাম। অহংকার এতো মারাত্মক যে, শূকরের মাংস খাওয়ার চেয়েও তা অধিক হারাম। মদ পান করার চেয়েও অধিক হারাম। কারণ, অহংকারকারী প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে যুদ্ধকারী। কারণ বড়ত্ব শুধু আল্লাহ তা'আলার জন্যই অবধারিত। যে ব্যক্তি বলে যে, আমি বড়ো, সে মূলত আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোটকথা, অহংকার অনেক বড়ো বিপদ ও হারাম।
আত্মার সাথে সম্পৃক্ত কিছু আমল এমন আছে, যেগুলো হারাম। যেমন অহংকার করা, নিজেকে নিজে বড়ো মনে করা। এমন মনে করা যে, আমার মতো আর কেউ নেই। আমার তুলনায় অন্য সবাই তুচ্ছ। তাদের কোনোই গুরুত্ব নেই। আমি সবচেয়ে বড়ো। এটা তাকাব্বুর। এটা অন্তরে সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এই অহংকার মুখে প্রকাশ পায় না। মুখে তো বলে যে, আমি খুবই তুচ্ছ, খুবই অধম, খুবই খারাপ, কিন্তু অন্তরে অহংকার ভরা থাকে। কারণ, সে অন্যদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। এই অহংকার আত্মার ব্যাধি, যা হারাম। অহংকার এতো মারাত্মক যে, শূকরের মাংস খাওয়ার চেয়েও তা অধিক হারাম। মদ পান করার চেয়েও অধিক হারাম। কারণ, অহংকারকারী প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে যুদ্ধকারী। কারণ বড়ত্ব শুধু আল্লাহ তা'আলার জন্যই অবধারিত। যে ব্যক্তি বলে যে, আমি বড়ো, সে মূলত আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মোটকথা, অহংকার অনেক বড়ো বিপদ ও হারাম।
📄 এরই নাম ‘তাযকিয়া’
এমনিভাবে হিংসা আত্মার একটি ব্যাধি। অর্থাৎ, অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো একটা নেয়ামত লাভ করেছে। এই নেয়ামত দেখে অন্তরে জ্বালা সৃষ্টি হচ্ছে যে, এই নেয়ামত সে কেন পেলো? এই নেয়ামত তার হাতছাড়া হোক। এই যে বাসনা তার অন্তরে জাগ্রত হচ্ছে, এটা হারাম। মোটকথা, বাহ্যিক আমলসমূহের মধ্যে যেমন কিছু ফরয, ওয়াজিব, আর কিছু হারাম রয়েছে, তেমনিভাবে মানুষের আবেগ-উদ্দীপনা, কামনা-বাসনা ও ইচ্ছা-সংকল্পের মধ্যেই কিছু রয়েছে ফরয ওয়াজিব, আর কিছু রয়েছে হারাম। ফরয ও ওয়াজিবসমূহকে মানুষ ঠিক রাখবে, আর যেগুলো গোনাহ ও হারাম সেগুলো থেকে নিজের আত্মাকে রক্ষা করবে, এরই নাম তাযকিয়া, এরই নাম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। তাই এ আয়াতের মধ্যে যে বলা হয়েছে,
وَالَّذِينَ هُمْ لِلرَّكُوةِ فَعِلُونَ
সে সব লোক, যারা তাযকিয়া করে। অর্থাৎ, নিজেদের আত্মাকে অপবিত্র চরিত্র, উদ্দীপনা ও ইচ্ছা থেকে পবিত্র করে তারা সফলকাম।
এমনিভাবে হিংসা আত্মার একটি ব্যাধি। অর্থাৎ, অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো একটা নেয়ামত লাভ করেছে। এই নেয়ামত দেখে অন্তরে জ্বালা সৃষ্টি হচ্ছে যে, এই নেয়ামত সে কেন পেলো? এই নেয়ামত তার হাতছাড়া হোক। এই যে বাসনা তার অন্তরে জাগ্রত হচ্ছে, এটা হারাম। মোটকথা, বাহ্যিক আমলসমূহের মধ্যে যেমন কিছু ফরয, ওয়াজিব, আর কিছু হারাম রয়েছে, তেমনিভাবে মানুষের আবেগ-উদ্দীপনা, কামনা-বাসনা ও ইচ্ছা-সংকল্পের মধ্যেই কিছু রয়েছে ফরয ওয়াজিব, আর কিছু রয়েছে হারাম। ফরয ও ওয়াজিবসমূহকে মানুষ ঠিক রাখবে, আর যেগুলো গোনাহ ও হারাম সেগুলো থেকে নিজের আত্মাকে রক্ষা করবে, এরই নাম তাযকিয়া, এরই নাম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা। তাই এ আয়াতের মধ্যে যে বলা হয়েছে,
وَالَّذِينَ هُمْ لِلرَّكُوةِ فَعِلُونَ
সে সব লোক, যারা তাযকিয়া করে। অর্থাৎ, নিজেদের আত্মাকে অপবিত্র চরিত্র, উদ্দীপনা ও ইচ্ছা থেকে পবিত্র করে তারা সফলকাম।
📄 তাসাউফের প্রকৃত স্বরূপ
আপনারা তাসাওউফ শব্দটি অনেকবার শুনে থাকবেন। মানুষ তাসাওউফ সম্পর্কে অনেক ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করে একে একটি অপবিত্র জিনিস বানিয়ে দিয়েছে। অথচ তাসাওউফের মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার আবেগ-অনুভূতি বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। আপনার স্বভাব-চরিত্র বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। আপনার কামনা-বাসনা বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। এগুলোকে বিশুদ্ধ করার পদ্ধতিই তাসাওউফের মধ্যে বলা হয়। এতোটুকুই হলো তাসাওউফের হাকীকত। এর অতিরিক্ত মানুষ যেসব বিষয়কে তাসাওউফের অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাসাওউফের সাথে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ফকীহগণ যেভাবে নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, বেচা-কেনা, বিবাহ-তালাক ইত্যাদি বাহ্যিক আমলসমূহের বিধান বর্ণনা করে থাকেন, তেমনিভাবে সূফীয়ায়ে কেরام আত্মার মধ্যে সৃষ্ট আবেগ- অনুভূতির বিধানসমূহ বর্ণনা করে থাকেন।
আপনারা তাসাওউফ শব্দটি অনেকবার শুনে থাকবেন। মানুষ তাসাওউফ সম্পর্কে অনেক ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি করে একে একটি অপবিত্র জিনিস বানিয়ে দিয়েছে। অথচ তাসাওউফের মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার আবেগ-অনুভূতি বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। আপনার স্বভাব-চরিত্র বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। আপনার কামনা-বাসনা বিশুদ্ধ হওয়া উচিত। এগুলোকে বিশুদ্ধ করার পদ্ধতিই তাসাওউফের মধ্যে বলা হয়। এতোটুকুই হলো তাসাওউফের হাকীকত। এর অতিরিক্ত মানুষ যেসব বিষয়কে তাসাওউফের অন্তর্ভুক্ত করেছে, তাসাওউফের সাথে সেগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ফকীহগণ যেভাবে নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত, বেচা-কেনা, বিবাহ-তালাক ইত্যাদি বাহ্যিক আমলসমূহের বিধান বর্ণনা করে থাকেন, তেমনিভাবে সূফীয়ায়ে কেরام আত্মার মধ্যে সৃষ্ট আবেগ- অনুভূতির বিধানসমূহ বর্ণনা করে থাকেন।