📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মার গুরুত্ব

📄 আত্মার গুরুত্ব


এ কারনেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে ইরশাদ করেন,
أَلَا إِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَ إِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
'ভালো করে শুনে নাও! নিঃসন্দেহে দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে তা ঠিক হলে পুরো দেহ ঠিক হয়ে যায়, আর তা খারাপ হলে পুরো দেহ খারাপ হয়ে যায়। খুব ভালো করে শোনো! সেই মাংসপিণ্ডটি হলো আত্মা।'
আল্লাহ তা'আলা আত্মা নামের এক বিস্ময়কর বস্তু সৃষ্টি করেছেন, যার উপর মানুষের বাহ্যিক জীবনও নির্ভরশীল এবং আধ্যাত্মিক জীবনের ভালো-মন্দও নির্ভরশীল। শারীরিক সুস্থতা আত্মার উপর নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি তো সকলেই জানে যে, আত্মা যতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকভাবে কাজ করে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ জীবিত থাকে। আত্মা মানুষের জন্মের পূর্ব থেকে কাজ আরম্ভ করে এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার কাজ অব্যাহত থাকে। তার ছুটি নেই। তার কাজের কোনো বিরতি নেই। তার কখনো বিশ্রাম নেই। তার কাজ এই যে, সে এক মিনিটে বাহাত্তর বার পুরো দেহে রক্ত ছড়িয়ে দেয় আবার তা ফিরিয়ে নেয়। সে এ কাজ থেকে কখনোই বিশ্রাম পায় না। অন্যান্য অঙ্গের কাজের বিরতি আছে। অন্যান্য অঙ্গ বিশ্রাম করে। মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে তার চোখ বিশ্রাম করে, কান বিশ্রাম করে, দেহের অন্যান্য অঙ্গ বিশ্রাম করে, কিন্তু আত্মা ঘুমন্ত অবস্থাতেও তার কাজ চালিয়ে যায়। এমনকি অচেতন অবস্থাতেও আত্মার কাজ অব্যাহত থাকে। কারণ, যেদিন আত্মা বিশ্রাম নিবে সেদিন ঐ মানুষের মৃত্যু ঘটবে। মানুষের ইহলীলা সাঙ্গ হবে。

টিকাঃ
১. সুনানে বাইহাকী আলকুবরা, হাদীস নং ১০১৮০, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ২৯৭, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৫৩৩, আযযাওয়াজির আন ইকতারাফিল কাবাইর, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৮, ইতহাফুল খুবারাতিল মুহারা বি যাওয়াইদিল মাসানীদিল আশারা, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৩৪, মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা, হাদীস নং ৪৪৪৩, আযযুহদুল কাবীর লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৮৭২, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৭৮, আল আরবাউন লিল ফাসাবী, হাদীস নং ৩৮, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৬৩

এ কারনেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ভাষণে ইরশাদ করেন,
أَلَا إِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلُحَتْ صَلُحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ وَ إِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ أَلَا وَهِيَ الْقَلْبُ
'ভালো করে শুনে নাও! নিঃসন্দেহে দেহের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড রয়েছে তা ঠিক হলে পুরো দেহ ঠিক হয়ে যায়, আর তা খারাপ হলে পুরো দেহ খারাপ হয়ে যায়। খুব ভালো করে শোনো! সেই মাংসপিণ্ডটি হলো আত্মা।'
আল্লাহ তা'আলা আত্মা নামের এক বিস্ময়কর বস্তু সৃষ্টি করেছেন, যার উপর মানুষের বাহ্যিক জীবনও নির্ভরশীল এবং আধ্যাত্মিক জীবনের ভালো-মন্দও নির্ভরশীল। শারীরিক সুস্থতা আত্মার উপর নির্ভরশীল হওয়ার বিষয়টি তো সকলেই জানে যে, আত্মা যতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকভাবে কাজ করে ততক্ষণ পর্যন্ত মানুষ জীবিত থাকে। আত্মা মানুষের জন্মের পূর্ব থেকে কাজ আরম্ভ করে এবং মৃত্যু পর্যন্ত তার কাজ অব্যাহত থাকে। তার ছুটি নেই। তার কাজের কোনো বিরতি নেই। তার কখনো বিশ্রাম নেই। তার কাজ এই যে, সে এক মিনিটে বাহাত্তর বার পুরো দেহে রক্ত ছড়িয়ে দেয় আবার তা ফিরিয়ে নেয়। সে এ কাজ থেকে কখনোই বিশ্রাম পায় না। অন্যান্য অঙ্গের কাজের বিরতি আছে। অন্যান্য অঙ্গ বিশ্রাম করে। মানুষ ঘুমিয়ে থাকলে তার চোখ বিশ্রাম করে, কান বিশ্রাম করে, দেহের অন্যান্য অঙ্গ বিশ্রাম করে, কিন্তু আত্মা ঘুমন্ত অবস্থাতেও তার কাজ চালিয়ে যায়। এমনকি অচেতন অবস্থাতেও আত্মার কাজ অব্যাহত থাকে। কারণ, যেদিন আত্মা বিশ্রাম নিবে সেদিন ঐ মানুষের মৃত্যু ঘটবে। মানুষের ইহলীলা সাঙ্গ হবে。

টিকাঃ
১. সুনানে বাইহাকী আলকুবরা, হাদীস নং ১০১৮০, খণ্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৬৫, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং ২৯৭, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৫৩৩, আযযাওয়াজির আন ইকতারাফিল কাবাইর, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-১৯৮, ইতহাফুল খুবারাতিল মুহারা বি যাওয়াইদিল মাসানীদিল আশারা, খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৩৪, মুসতাখরাজে আবী আওয়ানা, হাদীস নং ৪৪৪৩, আযযুহদুল কাবীর লিল বাইহাকী, হাদীস নং ৮৭২, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৩৭৮, আল আরবাউন লিল ফাসাবী, হাদীস নং ৩৮, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৬৩

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 দেহের সুস্থতা আত্মার সুস্থতার উপর নির্ভরশীল

📄 দেহের সুস্থতা আত্মার সুস্থতার উপর নির্ভরশীল


এজন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আত্মা যদি সুস্থ, সবল ও শক্তিশালী হয় তাহলে পুরা দেহ সুস্থ, সবল ও শক্তিশালী হয়। আত্মা অসুস্থ হওয়ার চেয়ে মানুষের দেহের জন্য বড়ো কোনো বিপদ নেই। এজন্য জনৈক কবি বলেছেন,
نیست بیماری چوں بیماری دل 'আত্মার ব্যাধির সমান কোনো ব্যাধি নেই।' এটা তো হলো আত্মার বাহ্যিক অবস্থা।

এজন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আত্মা যদি সুস্থ, সবল ও শক্তিশালী হয় তাহলে পুরা দেহ সুস্থ, সবল ও শক্তিশালী হয়। আত্মা অসুস্থ হওয়ার চেয়ে মানুষের দেহের জন্য বড়ো কোনো বিপদ নেই। এজন্য জনৈক কবি বলেছেন,
نیست بیماری چوں بیماری دل 'আত্মার ব্যাধির সমান কোনো ব্যাধি নেই।' এটা তো হলো আত্মার বাহ্যিক অবস্থা।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মার ইচ্ছা পবিত্র হওয়া উচিত

📄 আত্মার ইচ্ছা পবিত্র হওয়া উচিত


আত্মার অভ্যন্তরীণ অবস্থা এই যে, আল্লাহ তা'আলা আত্মার মধ্যে সূক্ষ্ম শক্তিসমূহ সৃষ্টি করেছেন। যার প্রভাবে কামনা-বাসনা সৃষ্টি হয় এবং আবেগ- উদ্দীপনা জন্ম গ্রহণ করে। যার দ্বারা ইচ্ছা সৃষ্টি হয়। সেসব সূক্ষ্ম শক্তি যদি পাক-পবিত্র হয় তাহলে মানুষের আমলসমূহও পাক-পবিত্র হয়। আর যদি সেগুলো পাক-পবিত্র না হয়, বরং নোংরা ও নাপাক হয় তাহলে আমল- আখলাকও নাপাক হয়। একটি কাজ বাহ্যিকভাবে নেক আমল বলে দৃষ্টিগোচর হলেও আত্মার যেই ইচ্ছা ও প্রেরণা একে জন্ম দিয়েছে তা পাক না হলে ঐ আমলও পাক হবে না।

আত্মার অভ্যন্তরীণ অবস্থা এই যে, আল্লাহ তা'আলা আত্মার মধ্যে সূক্ষ্ম শক্তিসমূহ সৃষ্টি করেছেন। যার প্রভাবে কামনা-বাসনা সৃষ্টি হয় এবং আবেগ- উদ্দীপনা জন্ম গ্রহণ করে। যার দ্বারা ইচ্ছা সৃষ্টি হয়। সেসব সূক্ষ্ম শক্তি যদি পাক-পবিত্র হয় তাহলে মানুষের আমলসমূহও পাক-পবিত্র হয়। আর যদি সেগুলো পাক-পবিত্র না হয়, বরং নোংরা ও নাপাক হয় তাহলে আমল- আখলাকও নাপাক হয়। একটি কাজ বাহ্যিকভাবে নেক আমল বলে দৃষ্টিগোচর হলেও আত্মার যেই ইচ্ছা ও প্রেরণা একে জন্ম দিয়েছে তা পাক না হলে ঐ আমলও পাক হবে না।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সদিচ্ছার দৃষ্টান্ত

📄 সদিচ্ছার দৃষ্টান্ত


উদাহরণস্বরূপ, এখন আমরা সকলে এখানে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে জুমার নামায পড়ার জন্য একত্রিত হয়েছি। নামায পড়া বাহ্যিকভাবে একটি ভালো আমল। আপনার আত্মা যদি আপনার দ্বারা এই নেক আমলটি এজন্য করায় যে, নামায পড়া আল্লাহ তা'আলার হুকুম। আল্লাহ তা'আলার হুকুম তামিল করলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। ছওয়াব দান করবেন। এই ইচ্ছায় যদি আমলটি করেন তাহলে এটা নেক আমল বলে গণ্য হবে। কিন্তু মন যদি এই ইচ্ছা করে যে, আমি জুমার নামায পড়ছি, যাতে মানুষের মধ্যে খ্যাতি লাভ হয় যে, এই লোকটি অত্যন্ত নামাযী, অত্যন্ত ইবাদতগুজার, অত্যন্ত পরহেযগার, মসজিদের মধ্যে প্রথম কাতারে গিয়ে নামায পড়ে, তাহলে আমলটি যদিও ভালো, কিন্তু ইচ্ছা খারাপ, কামনা খারাপ এবং আত্মা খারাপ হওয়ার ফলে তা বদ আমল রূপে পরিগণিত হবে। এজন্যই হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন যে, তোমাদের আত্মা যদি সঠিক থাকে, সঠিক আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সঠিক ইচ্ছা ও সংকল্প সৃষ্টি করে তাহলে তোমাদের সমস্ত আমল সঠিক হবে। কিন্তু আত্মা যদি ঠিক না থাকে, সে যদি ভুল পথ দেখায় তাহলে তোমাদের আমলও ভুল হবে। বাহ্যিকভাবে দেখতে তা যতো ভালোই হোক না কেন।

উদাহরণস্বরূপ, এখন আমরা সকলে এখানে আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে জুমার নামায পড়ার জন্য একত্রিত হয়েছি। নামায পড়া বাহ্যিকভাবে একটি ভালো আমল। আপনার আত্মা যদি আপনার দ্বারা এই নেক আমলটি এজন্য করায় যে, নামায পড়া আল্লাহ তা'আলার হুকুম। আল্লাহ তা'আলার হুকুম তামিল করলে তিনি সন্তুষ্ট হবেন। ছওয়াব দান করবেন। এই ইচ্ছায় যদি আমলটি করেন তাহলে এটা নেক আমল বলে গণ্য হবে। কিন্তু মন যদি এই ইচ্ছা করে যে, আমি জুমার নামায পড়ছি, যাতে মানুষের মধ্যে খ্যাতি লাভ হয় যে, এই লোকটি অত্যন্ত নামাযী, অত্যন্ত ইবাদতগুজার, অত্যন্ত পরহেযগার, মসজিদের মধ্যে প্রথম কাতারে গিয়ে নামায পড়ে, তাহলে আমলটি যদিও ভালো, কিন্তু ইচ্ছা খারাপ, কামনা খারাপ এবং আত্মা খারাপ হওয়ার ফলে তা বদ আমল রূপে পরিগণিত হবে। এজন্যই হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করছেন যে, তোমাদের আত্মা যদি সঠিক থাকে, সঠিক আবেগ অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সঠিক ইচ্ছা ও সংকল্প সৃষ্টি করে তাহলে তোমাদের সমস্ত আমল সঠিক হবে। কিন্তু আত্মা যদি ঠিক না থাকে, সে যদি ভুল পথ দেখায় তাহলে তোমাদের আমলও ভুল হবে। বাহ্যিকভাবে দেখতে তা যতো ভালোই হোক না কেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00