📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা‘লীম ও তারবিয়াত উভয়টির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা‘লীম ও তারবিয়াত উভয়টির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে


আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।

আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 চারিত্রিক পরিশুদ্ধির অর্থ কি?

📄 চারিত্রিক পরিশুদ্ধির অর্থ কি?


দ্বিতীয় তাফসীর অনুপাতে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের অর্থ এই যে, সফলতা তারা লাভ করে, যারা নিজেদের আমল-আখলাককে পবিত্র করার জন্য পরিপূর্ণরূপে চেষ্টা করে। এখন প্রশ্ন হলো, পবিত্র করার অর্থ কি? শরীর পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কাপড় পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কিন্তু আমল ও আখলাক পাক করার পদ্ধতি কি? এগুলো কি পানি দিয়ে ধুতে হবে? নাকি গোসল দেওয়ায়ে হবে?

দ্বিতীয় তাফসীর অনুপাতে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের অর্থ এই যে, সফলতা তারা লাভ করে, যারা নিজেদের আমল-আখলাককে পবিত্র করার জন্য পরিপূর্ণরূপে চেষ্টা করে। এখন প্রশ্ন হলো, পবিত্র করার অর্থ কি? শরীর পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কাপড় পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কিন্তু আমল ও আখলাক পাক করার পদ্ধতি কি? এগুলো কি পানি দিয়ে ধুতে হবে? নাকি গোসল দেওয়ায়ে হবে?

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মা মানুষের আমলের উৎস

📄 আত্মা মানুষের আমলের উৎস


খুব ভালো করে বুঝুন! মানুষের যাবতীয় আমলের মূল উৎস ও কেন্দ্র তার আত্মা। সর্ব প্রথম মানুষের অন্তরে আমলের ইচ্ছা সৃষ্টি হয় তারপর তার দ্বারা ঐ আমল সম্পাদিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি জুমার নামায আদায় করার জন্য মসজিদে আসলেন। তখন সর্বপ্রথম আপনার অন্তরে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে যে, আজকে জুমার দিন। মসজিদে গিয়ে আমার জুমার নামায আদায় করা উচিত। প্রথমে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে, তারপর ঐ ইচ্ছা পোক্ত হয়েছে। মনের অলসতার বিরোধিতা করে ইচ্ছাকে সংকল্পে পরিণত করতে হয়েছে। এই সংকল্পের ফলে আপনার পা মসজিদের দিকে ধাবিত হয়েছে। আপনি যদি সংকল্প না করতেন তাহলে আপনার পা মসজিদের দিকে চলতে আর করতো না। হ্যাঁ, কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে তার হাত-পা ইচ্ছ ছাড়াও নড়াচড়া করতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, অনুভূতি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে ইচ্ছা না জাগলে কোনো কাজ করতে পারবে না। সে কাজ ভালো হোক বা মন্দ। এতে বোঝা গেলো যে মানুষের সমস্ত কাজের উৎস তার আত্মা।

খুব ভালো করে বুঝুন! মানুষের যাবতীয় আমলের মূল উৎস ও কেন্দ্র তার আত্মা। সর্ব প্রথম মানুষের অন্তরে আমলের ইচ্ছা সৃষ্টি হয় তারপর তার দ্বারা ঐ আমল সম্পাদিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি জুমার নামায আদায় করার জন্য মসজিদে আসলেন। তখন সর্বপ্রথম আপনার অন্তরে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে যে, আজকে জুমার দিন। মসজিদে গিয়ে আমার জুমার নামায আদায় করা উচিত। প্রথমে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে, তারপর ঐ ইচ্ছা পোক্ত হয়েছে। মনের অলসতার বিরোধিতা করে ইচ্ছাকে সংকল্পে পরিণত করতে হয়েছে। এই সংকল্পের ফলে আপনার পা মসজিদের দিকে ধাবিত হয়েছে। আপনি যদি সংকল্প না করতেন তাহলে আপনার পা মসজিদের দিকে চলতে আর করতো না। হ্যাঁ, কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে তার হাত-পা ইচ্ছ ছাড়াও নড়াচড়া করতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, অনুভূতি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে ইচ্ছা না জাগলে কোনো কাজ করতে পারবে না। সে কাজ ভালো হোক বা মন্দ। এতে বোঝা গেলো যে মানুষের সমস্ত কাজের উৎস তার আত্মা।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আত্মার মধ্যে সূক্ষ্ম শক্তিসমূহ গচ্ছিত রাখা হয়েছে

📄 আত্মার মধ্যে সূক্ষ্ম শক্তিসমূহ গচ্ছিত রাখা হয়েছে


আল্লাহ তা'আলা 'দিল' নামক বিস্ময়কর এক জিনিস সৃষ্টি করেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে রক্তের একটি টুকরা মনে হয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা ঐ রক্তের টুকরার সঙ্গে কিছু সূক্ষ্ম শক্তি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সেসব শক্তি চোখে দেখা যায় না। কোনো ল্যাবরেটরিতে এগুলোর টেস্টও করা যায় না কিন্তু এসব শক্তি আত্মার সঙ্গে সংযুক্ত আছে। আত্মার মধ্যে বিভিন্ন কাম বাসনা সৃষ্টি হয়। এ কাজ করবো, ও কাজ করবো। অন্তরেই এসব বাসন সৃষ্টি হয়। অন্তরেই ইচ্ছা জাগ্রত হয়। অন্তরেই আবেগ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই ক্রোধ সৃষ্টি হয়। অন্তরেই চাহিদা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই দুনিয়া জোড়া কামনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই বেদনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই আনন্দ সৃষ্টি হয়। এসব কিছুই আত্মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

আল্লাহ তা'আলা 'দিল' নামক বিস্ময়কর এক জিনিস সৃষ্টি করেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে একে রক্তের একটি টুকরা মনে হয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা ঐ রক্তের টুকরার সঙ্গে কিছু সূক্ষ্ম শক্তি সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সেসব শক্তি চোখে দেখা যায় না। কোনো ল্যাবরেটরিতে এগুলোর টেস্টও করা যায় না কিন্তু এসব শক্তি আত্মার সঙ্গে সংযুক্ত আছে। আত্মার মধ্যে বিভিন্ন কাম বাসনা সৃষ্টি হয়। এ কাজ করবো, ও কাজ করবো। অন্তরেই এসব বাসন সৃষ্টি হয়। অন্তরেই ইচ্ছা জাগ্রত হয়। অন্তরেই আবেগ উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই ক্রোধ সৃষ্টি হয়। অন্তরেই চাহিদা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই দুনিয়া জোড়া কামনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই বেদনা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়। অন্তরেই আনন্দ সৃষ্টি হয়। এসব কিছুই আত্মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00