📄 বই-পুস্তকের শিক্ষার পর হাতে-কলমের শিক্ষা অপরিহার্য
এর উত্তর বোঝার পূর্বে এ কথা বুঝুন যে, দুনিয়াতে যতো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকর্ম রয়েছে, সেগুলোর এক তো হয়ে থাকে পুথিগত বা থিওরিটিক্যাল শিক্ষা। তার মধ্যে ঐ জ্ঞানের থিওরী ও দর্শনগত বর্ণনা দেওয়া হয়। তাকে তা'লীম বা শিক্ষা বলা হয়। কিন্তু দুনিয়ার কোনো শাস্ত্র বোঝার জন্যেই থিওরিটিক্যাল শিক্ষা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতে-কলমে ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া না হয়। আপনি যদি ডাক্তার হতে চান, তাহলে মেডিক্যাল সাইন্সের বই পড়লেই কি আপনি ডাক্তার হয়ে যাবেন? না। বরং আপনি যদি মেডিক্যাল সাইন্সের পুরো কোর্স পড়েন এবং সমস্ত থিওরী বুঝতে সক্ষম-ও হন যে, কি কি ব্যাধি হয় এবং সেগুলোর পিছনে কারণ কি থাকে এবং সেগুলোর চিকিৎসাই বা কি, এ সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানার পরেও আপনি ডাক্তার হতে পারবেন না। আপনি ডাক্তার তখন-ই হতে পারবেন, যখন কোনো বিজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে অবস্থান করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। চিকিৎসা কীভাবে করা হয়, রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়, ঔষধপত্র কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, রোগীর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় ইত্যাদি, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি চিকিৎসা করার যোগ্য হবেন না। এ কারনেই যেসব প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল সাইন্স শিক্ষা দিয়ে থাকে, তারা কোর্স পুরা করার পর ইন্টার্নশীপ আবশ্যকীয় করে থাকে। হাসপাতালে অবস্থান করে অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের সঙ্গে থেকে হাতে-কলমে চিকিৎসা-পদ্ধতি শিখতে হয়। প্রতিষ্ঠানে যা পড়েছিলো তা ছিলো শিক্ষার দর্শন, আর হাসপাতালে গিয়ে ওয়ার্ডে যেই ইনডোর ডিউটি করছে তা হলো প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং।
এর উত্তর বোঝার পূর্বে এ কথা বুঝুন যে, দুনিয়াতে যতো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকর্ম রয়েছে, সেগুলোর এক তো হয়ে থাকে পুথিগত বা থিওরিটিক্যাল শিক্ষা। তার মধ্যে ঐ জ্ঞানের থিওরী ও দর্শনগত বর্ণনা দেওয়া হয়। তাকে তা'লীম বা শিক্ষা বলা হয়। কিন্তু দুনিয়ার কোনো শাস্ত্র বোঝার জন্যেই থিওরিটিক্যাল শিক্ষা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতে-কলমে ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া না হয়। আপনি যদি ডাক্তার হতে চান, তাহলে মেডিক্যাল সাইন্সের বই পড়লেই কি আপনি ডাক্তার হয়ে যাবেন? না। বরং আপনি যদি মেডিক্যাল সাইন্সের পুরো কোর্স পড়েন এবং সমস্ত থিওরী বুঝতে সক্ষম-ও হন যে, কি কি ব্যাধি হয় এবং সেগুলোর পিছনে কারণ কি থাকে এবং সেগুলোর চিকিৎসাই বা কি, এ সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানার পরেও আপনি ডাক্তার হতে পারবেন না। আপনি ডাক্তার তখন-ই হতে পারবেন, যখন কোনো বিজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে অবস্থান করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। চিকিৎসা কীভাবে করা হয়, রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়, ঔষধপত্র কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, রোগীর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় ইত্যাদি, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি চিকিৎসা করার যোগ্য হবেন না। এ কারনেই যেসব প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল সাইন্স শিক্ষা দিয়ে থাকে, তারা কোর্স পুরা করার পর ইন্টার্নশীপ আবশ্যকীয় করে থাকে। হাসপাতালে অবস্থান করে অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের সঙ্গে থেকে হাতে-কলমে চিকিৎসা-পদ্ধতি শিখতে হয়। প্রতিষ্ঠানে যা পড়েছিলো তা ছিলো শিক্ষার দর্শন, আর হাসপাতালে গিয়ে ওয়ার্ডে যেই ইনডোর ডিউটি করছে তা হলো প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং।
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা‘লীম ও তারবিয়াত উভয়টির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।
📄 চারিত্রিক পরিশুদ্ধির অর্থ কি?
দ্বিতীয় তাফসীর অনুপাতে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের অর্থ এই যে, সফলতা তারা লাভ করে, যারা নিজেদের আমল-আখলাককে পবিত্র করার জন্য পরিপূর্ণরূপে চেষ্টা করে। এখন প্রশ্ন হলো, পবিত্র করার অর্থ কি? শরীর পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কাপড় পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কিন্তু আমল ও আখলাক পাক করার পদ্ধতি কি? এগুলো কি পানি দিয়ে ধুতে হবে? নাকি গোসল দেওয়ায়ে হবে?
দ্বিতীয় তাফসীর অনুপাতে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের অর্থ এই যে, সফলতা তারা লাভ করে, যারা নিজেদের আমল-আখলাককে পবিত্র করার জন্য পরিপূর্ণরূপে চেষ্টা করে। এখন প্রশ্ন হলো, পবিত্র করার অর্থ কি? শরীর পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কাপড় পাক করতে হলে পানি দ্বারা নাপাকী ধুয়ে ফেলতে হয়। কিন্তু আমল ও আখলাক পাক করার পদ্ধতি কি? এগুলো কি পানি দিয়ে ধুতে হবে? নাকি গোসল দেওয়ায়ে হবে?
📄 আত্মা মানুষের আমলের উৎস
খুব ভালো করে বুঝুন! মানুষের যাবতীয় আমলের মূল উৎস ও কেন্দ্র তার আত্মা। সর্ব প্রথম মানুষের অন্তরে আমলের ইচ্ছা সৃষ্টি হয় তারপর তার দ্বারা ঐ আমল সম্পাদিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি জুমার নামায আদায় করার জন্য মসজিদে আসলেন। তখন সর্বপ্রথম আপনার অন্তরে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে যে, আজকে জুমার দিন। মসজিদে গিয়ে আমার জুমার নামায আদায় করা উচিত। প্রথমে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে, তারপর ঐ ইচ্ছা পোক্ত হয়েছে। মনের অলসতার বিরোধিতা করে ইচ্ছাকে সংকল্পে পরিণত করতে হয়েছে। এই সংকল্পের ফলে আপনার পা মসজিদের দিকে ধাবিত হয়েছে। আপনি যদি সংকল্প না করতেন তাহলে আপনার পা মসজিদের দিকে চলতে আর করতো না। হ্যাঁ, কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে তার হাত-পা ইচ্ছ ছাড়াও নড়াচড়া করতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, অনুভূতি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে ইচ্ছা না জাগলে কোনো কাজ করতে পারবে না। সে কাজ ভালো হোক বা মন্দ। এতে বোঝা গেলো যে মানুষের সমস্ত কাজের উৎস তার আত্মা।
খুব ভালো করে বুঝুন! মানুষের যাবতীয় আমলের মূল উৎস ও কেন্দ্র তার আত্মা। সর্ব প্রথম মানুষের অন্তরে আমলের ইচ্ছা সৃষ্টি হয় তারপর তার দ্বারা ঐ আমল সম্পাদিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, আপনি জুমার নামায আদায় করার জন্য মসজিদে আসলেন। তখন সর্বপ্রথম আপনার অন্তরে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে যে, আজকে জুমার দিন। মসজিদে গিয়ে আমার জুমার নামায আদায় করা উচিত। প্রথমে ইচ্ছা সৃষ্টি হয়েছে, তারপর ঐ ইচ্ছা পোক্ত হয়েছে। মনের অলসতার বিরোধিতা করে ইচ্ছাকে সংকল্পে পরিণত করতে হয়েছে। এই সংকল্পের ফলে আপনার পা মসজিদের দিকে ধাবিত হয়েছে। আপনি যদি সংকল্প না করতেন তাহলে আপনার পা মসজিদের দিকে চলতে আর করতো না। হ্যাঁ, কেউ যদি পাগল হয়ে যায় তাহলে তার হাত-পা ইচ্ছ ছাড়াও নড়াচড়া করতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে জ্ঞান-বুদ্ধি আছে, অনুভূতি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত অন্তরে ইচ্ছা না জাগলে কোনো কাজ করতে পারবে না। সে কাজ ভালো হোক বা মন্দ। এতে বোঝা গেলো যে মানুষের সমস্ত কাজের উৎস তার আত্মা।