📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীরূপে প্রেরণ করার চারটি উদ্দেশ্য
তবে এ কথা বোঝার পূর্বে জেনে নিন যে, কুরআনে কারীম কমপক্ষে চার জায়গায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের দায়িত্বের বর্ণনা দিয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতে কেন পাঠিয়েছেন? কি দায়িত্ব তাকে ন্যস্ত করা হয়েছে? কি কাজ তাকে সম্পাদন করতে হবে? কুরআনে কারীম চার জায়গায় এসব কাজের বর্ণনা দিয়েছে। সূরা বাকারায় আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ এ আয়াতে সর্বপ্রথম কাজ বলেছেন,
يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ অর্থাৎ, আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষের সামনে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন। দ্বিতীয় কাজ বলেছেন,
وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ শিক্ষা দেন। কারণ, মানুষ আমার এই কিতাব নিজে নিজে বুঝতে সক্ষম হবে না। তৃতীয় কাজ বলেছেন,
وَالْحِكْمَةَ
তবে এ কথা বোঝার পূর্বে জেনে নিন যে, কুরআনে কারীম কমপক্ষে চার জায়গায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের দায়িত্বের বর্ণনা দিয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতে কেন পাঠিয়েছেন? কি দায়িত্ব তাকে ন্যস্ত করা হয়েছে? কি কাজ তাকে সম্পাদন করতে হবে? কুরআনে কারীম চার জায়গায় এসব কাজের বর্ণনা দিয়েছে। সূরা বাকারায় আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ এ আয়াতে সর্বপ্রথম কাজ বলেছেন,
يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ অর্থাৎ, আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষের সামনে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন। দ্বিতীয় কাজ বলেছেন,
وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ শিক্ষা দেন। কারণ, মানুষ আমার এই কিতাব নিজে নিজে বুঝতে সক্ষম হবে না। তৃতীয় কাজ বলেছেন,
وَالْحِكْمَةَ
📄 পরিশুদ্ধির প্রয়োজন কেন?
দেন। যেন তিনি মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেন। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয় শিক্ষা দেন। চতুর্থ কাজ বলেছেন,
وَيُزَكِّيهِمْ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করেন। তাদেরকে পাক-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করেন।
আপনারা চিন্তা করে দেখুন এ আয়াতে 'তাযকিয়া' তথা পরিশুদ্ধির বর্ণনার পূর্বে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের কথা এসেছে। তারপর কুরআনে কারীমের শিক্ষা ও তা'লীমের আলোচনা এসেছে। তারপর হিকমত শিক্ষা দেওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু কুরআনে কারীম বলে যে, শুধু এই তিন কাজ যথেষ্ট নয়। বরং আপনার চতুর্থ কাজ এই যে, মানুষের আমল ও আখলাককে পরিশুদ্ধ করবেন। এখন প্রশ্ন জাগে যে, তিনি যখন কুরআনে কারীম শিখিয়েছেন, তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, হিকমতের কথার বর্ণনা দিয়েছেন, তাহলে এই অতিরিক্ত কাজের কথা কেন বলা হলো যে, আপনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করবেন।
দেন। যেন তিনি মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেন। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয় শিক্ষা দেন। চতুর্থ কাজ বলেছেন,
وَيُزَكِّيهِمْ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করেন। তাদেরকে পাক-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করেন।
আপনারা চিন্তা করে দেখুন এ আয়াতে 'তাযকিয়া' তথা পরিশুদ্ধির বর্ণনার পূর্বে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের কথা এসেছে। তারপর কুরআনে কারীমের শিক্ষা ও তা'লীমের আলোচনা এসেছে। তারপর হিকমত শিক্ষা দেওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু কুরআনে কারীম বলে যে, শুধু এই তিন কাজ যথেষ্ট নয়। বরং আপনার চতুর্থ কাজ এই যে, মানুষের আমল ও আখলাককে পরিশুদ্ধ করবেন। এখন প্রশ্ন জাগে যে, তিনি যখন কুরআনে কারীম শিখিয়েছেন, তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, হিকমতের কথার বর্ণনা দিয়েছেন, তাহলে এই অতিরিক্ত কাজের কথা কেন বলা হলো যে, আপনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করবেন।
📄 বই-পুস্তকের শিক্ষার পর হাতে-কলমের শিক্ষা অপরিহার্য
এর উত্তর বোঝার পূর্বে এ কথা বুঝুন যে, দুনিয়াতে যতো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকর্ম রয়েছে, সেগুলোর এক তো হয়ে থাকে পুথিগত বা থিওরিটিক্যাল শিক্ষা। তার মধ্যে ঐ জ্ঞানের থিওরী ও দর্শনগত বর্ণনা দেওয়া হয়। তাকে তা'লীম বা শিক্ষা বলা হয়। কিন্তু দুনিয়ার কোনো শাস্ত্র বোঝার জন্যেই থিওরিটিক্যাল শিক্ষা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতে-কলমে ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া না হয়। আপনি যদি ডাক্তার হতে চান, তাহলে মেডিক্যাল সাইন্সের বই পড়লেই কি আপনি ডাক্তার হয়ে যাবেন? না। বরং আপনি যদি মেডিক্যাল সাইন্সের পুরো কোর্স পড়েন এবং সমস্ত থিওরী বুঝতে সক্ষম-ও হন যে, কি কি ব্যাধি হয় এবং সেগুলোর পিছনে কারণ কি থাকে এবং সেগুলোর চিকিৎসাই বা কি, এ সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানার পরেও আপনি ডাক্তার হতে পারবেন না। আপনি ডাক্তার তখন-ই হতে পারবেন, যখন কোনো বিজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে অবস্থান করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। চিকিৎসা কীভাবে করা হয়, রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়, ঔষধপত্র কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, রোগীর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় ইত্যাদি, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি চিকিৎসা করার যোগ্য হবেন না। এ কারনেই যেসব প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল সাইন্স শিক্ষা দিয়ে থাকে, তারা কোর্স পুরা করার পর ইন্টার্নশীপ আবশ্যকীয় করে থাকে। হাসপাতালে অবস্থান করে অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের সঙ্গে থেকে হাতে-কলমে চিকিৎসা-পদ্ধতি শিখতে হয়। প্রতিষ্ঠানে যা পড়েছিলো তা ছিলো শিক্ষার দর্শন, আর হাসপাতালে গিয়ে ওয়ার্ডে যেই ইনডোর ডিউটি করছে তা হলো প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং।
এর উত্তর বোঝার পূর্বে এ কথা বুঝুন যে, দুনিয়াতে যতো জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকর্ম রয়েছে, সেগুলোর এক তো হয়ে থাকে পুথিগত বা থিওরিটিক্যাল শিক্ষা। তার মধ্যে ঐ জ্ঞানের থিওরী ও দর্শনগত বর্ণনা দেওয়া হয়। তাকে তা'লীম বা শিক্ষা বলা হয়। কিন্তু দুনিয়ার কোনো শাস্ত্র বোঝার জন্যেই থিওরিটিক্যাল শিক্ষা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত হাতে-কলমে ও বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া না হয়। আপনি যদি ডাক্তার হতে চান, তাহলে মেডিক্যাল সাইন্সের বই পড়লেই কি আপনি ডাক্তার হয়ে যাবেন? না। বরং আপনি যদি মেডিক্যাল সাইন্সের পুরো কোর্স পড়েন এবং সমস্ত থিওরী বুঝতে সক্ষম-ও হন যে, কি কি ব্যাধি হয় এবং সেগুলোর পিছনে কারণ কি থাকে এবং সেগুলোর চিকিৎসাই বা কি, এ সবকিছু বিস্তারিতভাবে জানার পরেও আপনি ডাক্তার হতে পারবেন না। আপনি ডাক্তার তখন-ই হতে পারবেন, যখন কোনো বিজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে অবস্থান করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। চিকিৎসা কীভাবে করা হয়, রোগ নির্ণয় কীভাবে করা হয়, ঔষধপত্র কীভাবে নির্ধারণ করা হয়, রোগীর সঙ্গে কীভাবে আচরণ করা হয় ইত্যাদি, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আপনি চিকিৎসা করার যোগ্য হবেন না। এ কারনেই যেসব প্রতিষ্ঠান মেডিক্যাল সাইন্স শিক্ষা দিয়ে থাকে, তারা কোর্স পুরা করার পর ইন্টার্নশীপ আবশ্যকীয় করে থাকে। হাসপাতালে অবস্থান করে অভিজ্ঞ কোনো ডাক্তারের সঙ্গে থেকে হাতে-কলমে চিকিৎসা-পদ্ধতি শিখতে হয়। প্রতিষ্ঠানে যা পড়েছিলো তা ছিলো শিক্ষার দর্শন, আর হাসপাতালে গিয়ে ওয়ার্ডে যেই ইনডোর ডিউটি করছে তা হলো প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং।
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা‘লীম ও তারবিয়াত উভয়টির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।
আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উভয় কাজের জন্যই প্রেরণ করেছেন। তিনি কুরআনে কারীমের থিওরিটিক্যাল শিক্ষাও দিবেন, তার ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যও বুঝাবেন, একই সাথে তিনি মানুষের তারবিয়াত ও তাযকিয়াও করবেন। তাদের নেগরাণীও করবেন। তাদের আমল-আখলাককে কলুষতা মুক্ত করবেন। তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন। এসব বিষয় শুধু কিতাব পড়ানোর দ্বারা লাভ হয় না। দর্শন বুঝিয়ে দেওয়ার দ্বারা অর্জন হয় না। এগুলো সোহবতের মাধ্যমে লাভ হয়। মানুষ যখন কারো সাহচর্যে একটি উল্লেখযোগ্য সময় অবস্থান করে তার কর্মপদ্ধতি লক্ষ করে, তখন তার কর্মপদ্ধতির সৌরভ ক্রমান্বয়ে তার মধ্যেও বিস্তার লাভ করে। এরই নাম 'তাযকিয়া'।