📄 তিনটি গুণের বর্ণনা
সর্বপ্রথম গুণ এই বর্ণনা করেছেন যে, তারা নামাযের মধ্যে খুশু অবলম্বন করে। আলহামদুলিল্লাহ! এ সম্পর্কে প্রয়োজন পরিমাণ আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় গুণ এই বর্ণনা করেছেন যে, তারা অসার, অহেতুক ও অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না। অর্থাৎ, অহেতুক কাজের মধ্যে নিজের সময় ব্যয় করাকে পছন্দ করে না। অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে। আলহামদুলিল্লাহ! এ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তৃতীয় গুণ বর্ণনা করা হয়েছে,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
আয়াতটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি নিবেদন করেছি যে, এই আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ এই যে, তারা যাকাত দেয়। যাকাতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরয। দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। এ সম্পর্কে গত দুই-তিন জুমায় বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেছি। এতদসংক্রান্ত জরুরী মাসআলাসমূহও বর্ণনা করেছি। আজ এ আয়াতের দ্বিতীয় অর্থ পেশ করবো।
সর্বপ্রথম গুণ এই বর্ণনা করেছেন যে, তারা নামাযের মধ্যে খুশু অবলম্বন করে। আলহামদুলিল্লাহ! এ সম্পর্কে প্রয়োজন পরিমাণ আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় গুণ এই বর্ণনা করেছেন যে, তারা অসার, অহেতুক ও অনর্থক কাজে লিপ্ত হয় না। অর্থাৎ, অহেতুক কাজের মধ্যে নিজের সময় ব্যয় করাকে পছন্দ করে না। অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে। আলহামদুলিল্লাহ! এ সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তৃতীয় গুণ বর্ণনা করা হয়েছে,
وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ
আয়াতটির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আমি নিবেদন করেছি যে, এই আয়াতের দুটি অর্থ হতে পারে। একটি অর্থ এই যে, তারা যাকাত দেয়। যাকাতও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরয। দ্বীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। এ সম্পর্কে গত দুই-তিন জুমায় বিস্তারিত আলোচনা তুলে ধরেছি। এতদসংক্রান্ত জরুরী মাসআলাসমূহও বর্ণনা করেছি। আজ এ আয়াতের দ্বিতীয় অর্থ পেশ করবো।
📄 আয়াতটির দ্বিতীয় অর্থ
আরবী ভাষার ভিত্তিতে আয়াতটির আরো একটি অর্থ হতে পারে। তা এই যে, তারা এমন লোক যারা আত্মশুদ্ধি করে এবং পবিত্রতা অবলম্বন করে। এখানেও সেই একই সমস্যা। আমরা যখন আরবী থেকে উর্দুতে অনুবাদ করি, তখন আরবী শব্দের অর্থ উপস্থাপনের জন্যে উর্দুতে সঠিক ও উপযুক্ত শব্দ পাই না। আমাদের ভাষায় 'যাকাত' শব্দের কোনো প্রতিশব্দ নেই। এজন্য আমরা এ আয়াতের এভাবে তরজমা করি যে, এরা এমন লোক যারা পবিত্রতা অবলম্বন করে। কিন্তু এখানে পবিত্রতা দ্বারা দৈহিক পবিত্রতা উদ্দেশ্য নয়। কারণ দৈহিক পবিত্রতার জন্য আরবী ভাষায় 'তাহারত' শব্দ ব্যবহার করা হয়। এখানে পবিত্রতা দ্বারা চারিত্রিক পবিত্রতা উদ্দেশ্য। আরবী ভাষায় একে 'যাকাত' ও 'তাযকিয়া' বলা হয়। এদিক থেকে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের তরজমা হবে, এরা এমন লোক যারা নিজেদের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ রাখে এবং পাক-পবিত্র রাখে। চরিত্রের মধ্যে যেসব নোংরামি ও অপবিত্রতা অন্তর্ভুক্ত হয় তা থেকে তারা নিজেদেরকে পবিত্র করে। এই অর্থের দিক থেকে এ আয়াতের উদ্দেশ্য অনেক বিস্তৃত এবং এর প্রেক্ষাপট অনেক ব্যাপক।
আরবী ভাষার ভিত্তিতে আয়াতটির আরো একটি অর্থ হতে পারে। তা এই যে, তারা এমন লোক যারা আত্মশুদ্ধি করে এবং পবিত্রতা অবলম্বন করে। এখানেও সেই একই সমস্যা। আমরা যখন আরবী থেকে উর্দুতে অনুবাদ করি, তখন আরবী শব্দের অর্থ উপস্থাপনের জন্যে উর্দুতে সঠিক ও উপযুক্ত শব্দ পাই না। আমাদের ভাষায় 'যাকাত' শব্দের কোনো প্রতিশব্দ নেই। এজন্য আমরা এ আয়াতের এভাবে তরজমা করি যে, এরা এমন লোক যারা পবিত্রতা অবলম্বন করে। কিন্তু এখানে পবিত্রতা দ্বারা দৈহিক পবিত্রতা উদ্দেশ্য নয়। কারণ দৈহিক পবিত্রতার জন্য আরবী ভাষায় 'তাহারত' শব্দ ব্যবহার করা হয়। এখানে পবিত্রতা দ্বারা চারিত্রিক পবিত্রতা উদ্দেশ্য। আরবী ভাষায় একে 'যাকাত' ও 'তাযকিয়া' বলা হয়। এদিক থেকে وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكُوةِ فَاعِلُونَ আয়াতের তরজমা হবে, এরা এমন লোক যারা নিজেদের চরিত্রকে পরিশুদ্ধ রাখে এবং পাক-পবিত্র রাখে। চরিত্রের মধ্যে যেসব নোংরামি ও অপবিত্রতা অন্তর্ভুক্ত হয় তা থেকে তারা নিজেদেরকে পবিত্র করে। এই অর্থের দিক থেকে এ আয়াতের উদ্দেশ্য অনেক বিস্তৃত এবং এর প্রেক্ষাপট অনেক ব্যাপক।
📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীরূপে প্রেরণ করার চারটি উদ্দেশ্য
তবে এ কথা বোঝার পূর্বে জেনে নিন যে, কুরআনে কারীম কমপক্ষে চার জায়গায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের দায়িত্বের বর্ণনা দিয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতে কেন পাঠিয়েছেন? কি দায়িত্ব তাকে ন্যস্ত করা হয়েছে? কি কাজ তাকে সম্পাদন করতে হবে? কুরআনে কারীম চার জায়গায় এসব কাজের বর্ণনা দিয়েছে। সূরা বাকারায় আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ এ আয়াতে সর্বপ্রথম কাজ বলেছেন,
يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ অর্থাৎ, আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষের সামনে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন। দ্বিতীয় কাজ বলেছেন,
وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ শিক্ষা দেন। কারণ, মানুষ আমার এই কিতাব নিজে নিজে বুঝতে সক্ষম হবে না। তৃতীয় কাজ বলেছেন,
وَالْحِكْمَةَ
তবে এ কথা বোঝার পূর্বে জেনে নিন যে, কুরআনে কারীম কমপক্ষে চার জায়গায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুওয়াতের দায়িত্বের বর্ণনা দিয়েছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা'আলা এ দুনিয়াতে কেন পাঠিয়েছেন? কি দায়িত্ব তাকে ন্যস্ত করা হয়েছে? কি কাজ তাকে সম্পাদন করতে হবে? কুরআনে কারীম চার জায়গায় এসব কাজের বর্ণনা দিয়েছে। সূরা বাকারায় আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ এ আয়াতে সর্বপ্রথম কাজ বলেছেন,
يَتْلُوا عَلَيْهِمْ أَيْتِكَ অর্থাৎ, আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষের সামনে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন। দ্বিতীয় কাজ বলেছেন,
وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে আল্লাহ তা'আলার আয়াতসমূহ শিক্ষা দেন। কারণ, মানুষ আমার এই কিতাব নিজে নিজে বুঝতে সক্ষম হবে না। তৃতীয় কাজ বলেছেন,
وَالْحِكْمَةَ
📄 পরিশুদ্ধির প্রয়োজন কেন?
দেন। যেন তিনি মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেন। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয় শিক্ষা দেন। চতুর্থ কাজ বলেছেন,
وَيُزَكِّيهِمْ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করেন। তাদেরকে পাক-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করেন।
আপনারা চিন্তা করে দেখুন এ আয়াতে 'তাযকিয়া' তথা পরিশুদ্ধির বর্ণনার পূর্বে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের কথা এসেছে। তারপর কুরআনে কারীমের শিক্ষা ও তা'লীমের আলোচনা এসেছে। তারপর হিকমত শিক্ষা দেওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু কুরআনে কারীম বলে যে, শুধু এই তিন কাজ যথেষ্ট নয়। বরং আপনার চতুর্থ কাজ এই যে, মানুষের আমল ও আখলাককে পরিশুদ্ধ করবেন। এখন প্রশ্ন জাগে যে, তিনি যখন কুরআনে কারীম শিখিয়েছেন, তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, হিকমতের কথার বর্ণনা দিয়েছেন, তাহলে এই অতিরিক্ত কাজের কথা কেন বলা হলো যে, আপনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করবেন।
দেন। যেন তিনি মানুষকে হিকমত শিক্ষা দেন। প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার বিষয় শিক্ষা দেন। চতুর্থ কাজ বলেছেন,
وَيُزَكِّيهِمْ আমি তাঁকে এজন্য পাঠিয়েছি, যেন তিনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করেন। তাদেরকে পাক-পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করেন।
আপনারা চিন্তা করে দেখুন এ আয়াতে 'তাযকিয়া' তথা পরিশুদ্ধির বর্ণনার পূর্বে কুরআনে কারীমের আয়াতসমূহ তিলাওয়াতের কথা এসেছে। তারপর কুরআনে কারীমের শিক্ষা ও তা'লীমের আলোচনা এসেছে। তারপর হিকমত শিক্ষা দেওয়ার কথা এসেছে। কিন্তু কুরআনে কারীম বলে যে, শুধু এই তিন কাজ যথেষ্ট নয়। বরং আপনার চতুর্থ কাজ এই যে, মানুষের আমল ও আখলাককে পরিশুদ্ধ করবেন। এখন প্রশ্ন জাগে যে, তিনি যখন কুরআনে কারীম শিখিয়েছেন, তার লক্ষ্য উদ্দেশ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন, হিকমতের কথার বর্ণনা দিয়েছেন, তাহলে এই অতিরিক্ত কাজের কথা কেন বলা হলো যে, আপনি মানুষকে পরিশুদ্ধ করবেন।