📄 সুগন্ধির দৃষ্টান্ত
আমি এর দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি যে, বড়ো থেকে বড়ো কোনো দার্শনিক ও যুক্তিবাদীকে যদি বলা হয় যে, তুমি এই গোলাপ ফুলের ঘ্রাণের এমন পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দাও, যার ফলে চামেলী ফুলের ঘ্রাণ থেকে তাকে পার্থক্য করা যাবে। গোলাপ ফুল থেকেও ঘ্রাণ আসছে এবং চামেলী ফুল থেকেও ঘ্রাণ আসছে। এবার বড়ো থেকে বড়ো কোনো ভাষাবিদ ও কবি সাহিত্যিককে ডেকে বলুন যে, গোলাপ ও চামেলীর ঘ্রাণের পার্থক্য বর্ণনা করুন। বলুন! কেউ পার্থক্য বর্ণনা করতে পারবে কি? কখনোই পারবে না। এই পার্থক্য জানার একমাত্র রাস্তা হলো, প্রশ্নকারীকে বলা হবে, তুমি এই গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ শোঁকো, আর এই চামেলী ফুলের ঘ্রাণ শোঁকো। তাহলেই বুঝতে পারবে গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ কেমন হয়, আর চামেলী ফুলের ঘ্রাণ কেমন হয়। এ ছাড়া এতোদুভয়ের পার্থক্য বোঝার আর কোনো পথ নেই।
📄 আম ও গুড়ের মিষ্টতার পার্থক্য
আরেকটি দৃষ্টান্ত শুনুন। আমও মিষ্টি, আবার গুড়ও মিষ্টি। গুড়ের মিষ্টতা কেমন, আর আমের মিষ্টতা কেমন? উভয়ের মিষ্টতার মধ্যে যে পার্থক্য তা বড়ো থেকে বড়ো কোনো দার্শনিক ও যুক্তিবাদী কখনোই বর্ণনা করতে পারবে না। কারণ, উভয়ের মিষ্টতার মধ্যে যে পার্থক্য তা ভাষা দ্বারা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এই পার্থক্য বোঝার জন্য প্রশ্নকারীকে বলতে হবে যে, তুমি গুড়ও খাও এবং আমও খাও। তাহলেই বুঝতে পারবে, আমের মিষ্টতা কেমন আর গুড়ের মিষ্টতা কেমন?
ঠিক একইভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক যেসব গুণ রয়েছে, যেমন বিনয়। কেউ যদি ভাষার মাধ্যমে এর পরিপূর্ণ সংজ্ঞা উপস্থাপন করতে চায় তাহলে তা খুব কঠিন, কিন্তু যদি কোনো বিনয়ী মানুষকে দেখেন, তার কর্মপদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেন এবং তার সাহচর্য অবলম্বন করেন তাহলে এর ফলে ঐ সব গুণ আপনার মধ্যেও স্থানান্তরিত হতে থাকবে। এজন্য তাসাওউফ ও সূলুকের মধ্যে শাইখের সান্নিধ্য অবলম্বন করা ও তার শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। শুধু কথা বলার দ্বারা এ জিনিস লাভ হয় না। বরং কারো ঘষা-মাজা খেলে আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেন, ফলে এ জিনিস লাভ হয়।
📄 আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য
যাই হোক, পীর ও শাইখের হাতে বাই'আত হওয়া ফরয নয়। কোনো শাইখের হাতে হাত দিয়ে বাই'আত হওয়া জরুরী নয়। কিন্তু আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য। আত্মশুদ্ধির জন্যে যখন কোনো মানুষ কোনো শাইখের শরণাপন্ন হয়, তখন তার মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে উত্তম গুণাবলি লাভ করা এবং মন্দ চরিত্র দূর করা। মন্দ চরিত্রের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। সুলুক ও তাসাওউফের এটাই মূল উদ্দেশ্য। তবে বিভিন্ন যিকির, আমল ও ওযীফা এ পথের পথিকের জন্য সহযোগী ও উপকারী বিষয়। তবে এসবের পরিমাণ, সময় ও ক্ষণ নির্ধারণ শাইখের দিকনির্দেশনা ও পরামর্শক্রমে হওয়া জরুরী। এর মাধ্যমেই আত্মশুদ্ধির উপকার পাওয়া যায়। অন্যথায় সাধারণ অবস্থায় এসব যিকির ও ওযীফা এই পর্যায়ের মূল উদ্দেশ্য নয়। আসল কাজ হলো নিজের চরিত্রের সংশোধন ও তার পরিশুদ্ধি। এর জন্যে শাইখকে নিজের অবস্থা জানাতে থাকা, তার থেকে দিকনির্দেশনা নিতে থাকা এবং সে অনুপাতে আমল করা অপরিহার্য। সারাটা জীবন এ কাজই করতে থাকবে। শাইখের শরণাপন্ন হওয়ার মূল উদ্দেশ্য এটাই।
এই 'আনফাসে ঈসা' কিতাবে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ঈসা ছাহেব রহ. 'রাযায়েল' ও 'ফাযায়েল' সংক্রান্ত যেসব মালফূয ও বাণী সংকলন করেছেন, সেগুলো পড়ছি এবং সাথে সেগুলোর কিছু ব্যাখ্যাও পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলা নিজ দয়ায় এগুলো বোঝার তাওফীক দান করুন এবং এর মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির তাওফীক দান করুন।
وَاخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ