📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 বিনয় ও নিজেকে অবমাননা করার মধ্যে পার্থক্য

📄 বিনয় ও নিজেকে অবমাননা করার মধ্যে পার্থক্য


এমনিভাবে বিনয় অত্যন্ত উৎকৃষ্ট একটি জিনিস। উঁচু স্তরের একটি গুণ। কাঙ্খিত বস্তু। আরেকটি বিষয় হলো অন্যের সামনে নিজেকে লাঞ্ছিত করা। এটা হারাম। আল্লাহ তা'আলা নিজের সম্মানকে ওয়াজিব করেছেন। নিজেকে লাঞ্ছিত করা উচিত নয়। কিন্তু কোনটা বিনয় আর কোনটা নিজেকে অপমান করা, এই দুই জিনিসের মধ্যে পার্থক্য করা সবার সাধ্যভুক্ত নয়।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা

📄 হযরত থানভী রহ.-এর একটি ঘটনা


এই পার্থক্য সম্পর্কে হযরত থানভী রহ. নিজের ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে, আমি একবার রেল গাড়িতে সফর করছিলাম। গাড়িতে আমার কাছে কিছু গ্রাম্য লোকও বসা ছিলো। যাত্রা পথে খাবার খাওয়ার সময় হলে ঐ গ্রাম্য লোকগুলো তাদের সাথে আনা সালুন-রুটি বের করে আমাকে দাওয়াত দিয়ে বললো, হযরতজী কিছু গু-মুত আমাদের সাথেও খাও। তারা এই খাবারকে বিনয়বশত গু-মুত নাম দিয়েছে! বাহ্যিকভাবে তো এটা বিনয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটা আল্লাহপ্রদত্ত রিযিকের অবমূল্যায়ন। আল্লাহপ্রদত্ত রিযিককে গু-মুত নাম দিয়ে অন্যকে খাবার খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া বিনয় নয়, বরং আল্লাহ তা'আলার নেয়ামতের অবমূল্যায়ন, অকৃতজ্ঞতা ও অবমাননা।
মোটকথা, কখনো বিনয়ের প্রান্ত আত্ম-অবমাননার সঙ্গে গিয়ে যুক্ত হয়, আর কখনো যুক্ত হয় অকৃতজ্ঞতার সাথে। এখন কি পরিমাণ বিনয় অবলম্বন করবে আর কি পরিমাণ করবে না, কোথায় বিনয় হচ্ছে আর কোথায় অবমূল্যায়ন হচ্ছে, কোথায় বিনয় হচ্ছে আর কোথায় আত্ম-অবমাননা হচ্ছে, এগুলোর মাঝে পার্থক্য করা সবার কাজ নয়। কোনো শাইখের নিকট তারবিয়াত গ্রহণ করা ছাড়া এটা লাভ হয় না।
শুধু কিতাব পড়িয়ে দেওয়ার দ্বারা এটা লাভ হয় না। কিতাবের মধ্যে পড়ে কোনো জিনিসের পরিপূর্ণ সংজ্ঞা জানবে তারপর নিজেই তার শর্ত শারায়েত বের করবে তা হয় না। মনে রাখবেন! এটা এ ধরনের কাজ নয়। বরং হাতে-কলমে দীক্ষার মাধ্যমে এটা লাভ হয়। যখন মানুষ কোনো শাইখকে একাধারে দেখতে থাকে, তার কর্মপদ্ধতি প্রত্যক্ষ করতে থাকে, নিজের অবস্থা জানিয়ে তার থেকে দিকনির্দেশনা নিতে থাকে, তখন তার মধ্যে এই জ্ঞান ও অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, আমল ও আখলাকের এই স্তর অর্জনযোগ্য এবং এই স্তর বর্জনযোগ্য।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 সুগন্ধির দৃষ্টান্ত

📄 সুগন্ধির দৃষ্টান্ত


আমি এর দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকি যে, বড়ো থেকে বড়ো কোনো দার্শনিক ও যুক্তিবাদীকে যদি বলা হয় যে, তুমি এই গোলাপ ফুলের ঘ্রাণের এমন পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা দাও, যার ফলে চামেলী ফুলের ঘ্রাণ থেকে তাকে পার্থক্য করা যাবে। গোলাপ ফুল থেকেও ঘ্রাণ আসছে এবং চামেলী ফুল থেকেও ঘ্রাণ আসছে। এবার বড়ো থেকে বড়ো কোনো ভাষাবিদ ও কবি সাহিত্যিককে ডেকে বলুন যে, গোলাপ ও চামেলীর ঘ্রাণের পার্থক্য বর্ণনা করুন। বলুন! কেউ পার্থক্য বর্ণনা করতে পারবে কি? কখনোই পারবে না। এই পার্থক্য জানার একমাত্র রাস্তা হলো, প্রশ্নকারীকে বলা হবে, তুমি এই গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ শোঁকো, আর এই চামেলী ফুলের ঘ্রাণ শোঁকো। তাহলেই বুঝতে পারবে গোলাপ ফুলের ঘ্রাণ কেমন হয়, আর চামেলী ফুলের ঘ্রাণ কেমন হয়। এ ছাড়া এতোদুভয়ের পার্থক্য বোঝার আর কোনো পথ নেই।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 আম ও গুড়ের মিষ্টতার পার্থক্য

📄 আম ও গুড়ের মিষ্টতার পার্থক্য


আরেকটি দৃষ্টান্ত শুনুন। আমও মিষ্টি, আবার গুড়ও মিষ্টি। গুড়ের মিষ্টতা কেমন, আর আমের মিষ্টতা কেমন? উভয়ের মিষ্টতার মধ্যে যে পার্থক্য তা বড়ো থেকে বড়ো কোনো দার্শনিক ও যুক্তিবাদী কখনোই বর্ণনা করতে পারবে না। কারণ, উভয়ের মিষ্টতার মধ্যে যে পার্থক্য তা ভাষা দ্বারা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। এই পার্থক্য বোঝার জন্য প্রশ্নকারীকে বলতে হবে যে, তুমি গুড়ও খাও এবং আমও খাও। তাহলেই বুঝতে পারবে, আমের মিষ্টতা কেমন আর গুড়ের মিষ্টতা কেমন?
ঠিক একইভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক যেসব গুণ রয়েছে, যেমন বিনয়। কেউ যদি ভাষার মাধ্যমে এর পরিপূর্ণ সংজ্ঞা উপস্থাপন করতে চায় তাহলে তা খুব কঠিন, কিন্তু যদি কোনো বিনয়ী মানুষকে দেখেন, তার কর্মপদ্ধতি প্রত্যক্ষ করেন এবং তার সাহচর্য অবলম্বন করেন তাহলে এর ফলে ঐ সব গুণ আপনার মধ্যেও স্থানান্তরিত হতে থাকবে। এজন্য তাসাওউফ ও সূলুকের মধ্যে শাইখের সান্নিধ্য অবলম্বন করা ও তার শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। শুধু কথা বলার দ্বারা এ জিনিস লাভ হয় না। বরং কারো ঘষা-মাজা খেলে আল্লাহ তা'আলা অনুগ্রহ করেন, ফলে এ জিনিস লাভ হয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00