📄 নৈতিক পরিশুদ্ধির সহজ পন্থা
যাই হোক, কুরাআনে কারীমের এই হুকুম মতে সঠিক ইলমের অধিকারী, বিশুদ্ধ আকীদা পোষণকারী, বাহ্যিকভাবে সুন্নাতের অনুসারী এবং কোনো বুযুর্গের কাছে নিজেকে সংশোধনকারী আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া এবং তার দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমল করা নৈতিক পরিশুদ্ধির সহজ পন্থা।
📄 সরলমনা মানুষ যাবে কোথায়!
বর্তমানে মানুষ প্রশ্ন করে থাকে যে, আমরা নিজেদের সংশোধনের জন্য কার নিকট যাবো? কোনো সংশোধনকারীই চোখে পড়ে না। আগের যুগে বড়ো বড়ো বুযুর্গ ও বড়ো বড়ো শাইখ ছিলেন। যেমন হযরত আব্দুল কাদের জিলানী, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী, হযরত আল্লামা শিবলী এবং হযরত মারুফ কারখী রহ.। এখন তো এ সকল হযরত বিদ্যমান নেই। তাই যখন কোনো মুসলীহ নেই, তাই আমরা দায়মুক্ত। যা ইচ্ছা তাই করবো, কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজনটা কি?
📄 কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিহ থাকবেন
আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ বলতেন যে, এটা শয়তানের অনেক বড়ো ধোঁকা। প্রথম কথা এই যে, কুরাআনে কারীম যখন বলেছে যে, আল্লাহওয়ালাদের সাহচর্য অবলম্বন করো, তাই এ নির্দেশ শুধু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এ নির্দেশ। তাই এ আয়াতের মধ্যে এ সুসংবাদও রয়েছে যে, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহওয়ালাগণ থাকবেন। শুধু খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন।
📄 সব জিনিসের মধ্যেই ভেজাল রয়েছে
আমার ওয়ালেদ ছাহেব বলতেন, এটা ভেজালের যুগ। সব জিনিসের মধ্যে ভেজাল। গমের মধ্যে ভেজাল, ঘি-এর মধ্যে ভেজাল, দুধের মধ্যে ভেজাল। কোনো জিনিস খাঁটি পাওয়া যায় না। কিন্তু এই ভেজালের কারণে কি আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে, অমুক জিনিসের মধ্যে যেহেতু ভেজাল রয়েছে এজন্য তা খাবো না। যেমন ঘি ও তেলের মধ্যে ভেজাল রয়েছে, এজন্য আগামীতে ঘি ও তেল ব্যবহার করবো না, গ্রীজ ব্যবহার করবো। এটা করি না। বরং এই ভেজালের যুগেও আমরা খোঁজ করি যে, কোথায় ভালো ঘি পাওয়া যায়, কোথায় ভালো তেল পাওয়া যায়। সেখান থেকে সংগ্রহ করে ব্যবহার করি। তিনি বলতেন, সব জিনিসের মধ্যে যখন ভেজাল তাই আল্লাহ ওয়ালাদের মধ্যেও ভেজাল আছে। কিন্তু কেউ তালাশ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে সঠিক জায়গায় পৌঁছিয়ে দিবেন। আজও সংশোধনকারীগণ বিলুপ্ত হয়ে যাননি।