📄 আমাদের চিকিৎসক প্রয়োজন
এসব মন্দ চরিত্র মানুষের আখলাককে ধ্বংস করে দেয়। এজন্য এমন একজন চিকিৎসক প্রয়োজন, যিনি বুঝতে পারবেন যে, এই রোগ তার মধ্যে আছে কি না? থাকলে তার চিকিৎসা করবেন। এরই নাম তাসাওউফ ও পীর-মুরীদী। তাসাওউফের আসল হাকীকত এটাই। সুতরাং কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّدِقِينَ
'হে ঈমানদারগণ! তাকওয়া অবলম্বন করো। তাকওয়া অবলম্বনের সহজ পন্থা এই যে, মুত্তাকীদের সাহচর্য অবলম্বন করো।'
তোমরা তাদের সাহচর্য অবলম্বন করলে তাদের স্বভাব-চরিত্র তোমাদের মধ্যে চলে আসবে। তাদের প্রকৃতি তোমাদের মধ্যে স্থানান্তরিত হবে। তোমাদের মধ্যে কোনো রোগ থাকলে তারা তা চিনবেন এবং চিকিৎসা করবেন। তোমাদের ইসলাহ করবেন। আখলাককে পরিশুদ্ধ করার এবং নিজেকে সংশোধন করার এই পদ্ধতি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত চলে আসছে।
টিকাঃ
১. সূরা তওবা, আয়াত-১১৯
📄 নৈতিক পরিশুদ্ধির সহজ পন্থা
যাই হোক, কুরাআনে কারীমের এই হুকুম মতে সঠিক ইলমের অধিকারী, বিশুদ্ধ আকীদা পোষণকারী, বাহ্যিকভাবে সুন্নাতের অনুসারী এবং কোনো বুযুর্গের কাছে নিজেকে সংশোধনকারী আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া এবং তার দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমল করা নৈতিক পরিশুদ্ধির সহজ পন্থা।
📄 সরলমনা মানুষ যাবে কোথায়!
বর্তমানে মানুষ প্রশ্ন করে থাকে যে, আমরা নিজেদের সংশোধনের জন্য কার নিকট যাবো? কোনো সংশোধনকারীই চোখে পড়ে না। আগের যুগে বড়ো বড়ো বুযুর্গ ও বড়ো বড়ো শাইখ ছিলেন। যেমন হযরত আব্দুল কাদের জিলানী, হযরত জুনায়েদ বাগদাদী, হযরত আল্লামা শিবলী এবং হযরত মারুফ কারখী রহ.। এখন তো এ সকল হযরত বিদ্যমান নেই। তাই যখন কোনো মুসলীহ নেই, তাই আমরা দায়মুক্ত। যা ইচ্ছা তাই করবো, কারো কাছে যাওয়ার প্রয়োজনটা কি?
📄 কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিহ থাকবেন
আমার ওয়ালেদ মাজেদ হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ বলতেন যে, এটা শয়তানের অনেক বড়ো ধোঁকা। প্রথম কথা এই যে, কুরাআনে কারীম যখন বলেছে যে, আল্লাহওয়ালাদের সাহচর্য অবলম্বন করো, তাই এ নির্দেশ শুধু হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কিয়ামত পর্যন্তের জন্য এ নির্দেশ। তাই এ আয়াতের মধ্যে এ সুসংবাদও রয়েছে যে, কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহওয়ালাগণ থাকবেন। শুধু খুঁজে নেওয়ার প্রয়োজন।