📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তাসাউফশাস্ত্র সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝি

📄 তাসাউফশাস্ত্র সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝি


আখলাকের সাথে সম্পৃক্ত যেসব বিষয় আমি আলোচনা করছি, সেগুলোর বর্ণনা এবং সেগুলো অর্জন করার পদ্ধতি তাসাওউফশাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। বর্তমানে মানুষ তাসাওউফশাস্ত্র সম্পর্কে অতিরঞ্জন ও অতিশৈথিল্যের শিকার। কতক মানুষ মনে করে যে, শরীয়তের সাথে তাসাওউফের কোনো সম্পর্ক নেই। কুরআনে কারীম এবং হাদীস শরীফের কোথাও তাসাওউফের কথা উল্লেখ নেই। তাসাওউফ গ্রহণ করা বিদ'আত। ভালো করে বুঝুন! কুরআনে কারীম এবং হাদীস শরীফে নৈতিক চরিত্রের সংশোধনের যেই নির্দেশ এসেছে তাই তাসাওউফের বিষয়বস্তু। এজন্য তাসাওউফ কুরআনে কারীম ও হাদীস শরীফের পরিপন্থী কিছু নয়। অপরদিকে কতিপয় লোক তাসাওউফকে ভুল ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করেছে। তাদের নিকট তাসাওউফের অর্থ মোরাকাবা করা, কাশফ অর্জন হওয়া, ইলহাম হওয়া, স্বপ্ন এবং তার ব্যাখ্যা জানতে পারা এবং কারামত অর্জন হওয়া ইত্যাদি। তাদের নিকট এগুলোরই নাম তাসাওউফ। এর ফলে তারা কতক সময় তাসাওউফের নামে শরীয়তপরিপন্থী কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। এ ব্যাপ্যারে তারা দু'ধরনের হস্তক্ষেপ করেছে।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তাসাউফের বিষয়ে দুটি ভুল হস্তক্ষেপ

📄 তাসাউফের বিষয়ে দুটি ভুল হস্তক্ষেপ


এক ধরনের হস্তক্ষেপ তো এই করেছে যে, যে সব লোক নিজেদেরকে 'সূফী' বলেও আখ্যা দেয়, আবার ভাং-ও সেবন করে আর বলে যে, ভাং মৌলভীদের জন্য হারাম হলেও সূফীদের জন্য হালাল। কারণ আমরা তো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য ভাঙ্গ পান করে থাকি। নাউযুবিল্লাহ! আল্লাহ জানেন, আরো কতো ধরনের অসার কথাবার্তা, গলদ আকীদা ও শিরকী চিন্তা-ভাবনার নাম দিয়েছে তাসাওউফ।
দ্বিতীয় হস্তক্ষেপ এই করেছে যে, মুরীদরা হলো পীরের দাস। একবার কাউকে পীর বানালে সে পীর মদ পান করুক, জুয়া খেলুক, হারাম কাজ করুক, সুন্নাতকে পদদলিত করুক, কিন্তু পীর সাহেবের পীরগিরি ঠিকই থাকে। মুরীদকে তার পদচুম্বন করতে হবে। কয়েকদিন পর পর তার সামনে নজরানা পেশ করতে হবে। কারণ এভাবে পীর সাহেবকে খুশি না করা পর্যন্ত তার জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে না। নাউযুবিল্লাহ! তাসাওউফের এই রূপরেখা না কুরআনে আছে, না হাদীসে আছে। শরীয়ত ও সুন্নাতের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 তাসাউফের সঠিক রূপরেখা

📄 তাসাউফের সঠিক রূপরেখা


তাসাওউফের প্রকৃত রূপরেখা নীতি-চরিত্র ও অভ্যন্তরীণ আমলের সংশোধন। এর জন্য সুন্নাতের অনুসারী সঠিক ইলমের ধারক এবং সঠিক আকীদায় বিশ্বাসী ব্যক্তিকে নিজের অনুসরণীয় বানানো জরুরী। যিনি কোনো মুরুব্বীর মাধ্যমে নিজের তারবিয়াত করিয়েছেন। তার কাছে গিয়ে বলবে যে, আমি আপনার দিকনির্দেশনা চাই। তিনি তাকে দিকনির্দেশনা দান করবেন। যেমন সাহাবায়ে কেরাম রাযি. হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের মুরুব্বী বানিয়েছিলেন। তাঁর তারবিয়াত গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মাধ্যমে নিজেদের আমল-আখলাক সংশোধন করেছিলেন। তাঁর আনুগত্য করেছিলেন। এ রূপরেখা পরিপূর্ণ সঠিক। এ পীর-মুরীদী বিশুদ্ধ এবং কুরআন-হাদীস ভিত্তিক। কুরআন-হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় উত্তম চরিত্র গ্রহণের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। একহাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِنَّمَا بُعِثْتُ لِأُتَيْمَ مَكَارِمَ الْأَخْلَاقِ

📘 তাসাওউফ ও আত্মশুদ্ধি আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, পথ পদ্ধতি > 📄 হযরত ওমর ফারুক রাযি.-কে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান

📄 হযরত ওমর ফারুক রাযি.-কে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান


'আমাকে মানুষের আখলাককে পরিশুদ্ধ করা এবং সেগুলোকে পরিপূর্ণতা দান করার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।”
সাহাবায়ে কেরام রাযি. নিজেদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে ন্যস্ত করেছিলেন যে, আপনি যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবে আমল করবো। আমাদের মন চাক বা না চাক, আমাদের যুক্তি-বুদ্ধিতে ধরুক বা না ধরুক, আপনি যা কিছু বলবেন সে অনুপাতে আমরা আমল করবো। এর ফলে আল্লাহ তা'আলা সাহাবায়ে কেরাম রাযি.-এর আখলাককে এমন পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল করেন যে, তাঁদের পরে পৃথিবীর বুকে এবং আসমানের নিচে এমন উত্তম চরিত্রের লোক আর সৃষ্টি হয়নি। সাহাবায়ে কেরাম রাযি. কখনোই নিজেদের নফসের ব্যাপারে গাফেল হতেন না। তাঁরা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তারবিয়াত লাভ করেছিলেন এবং তাঁর সোহবত তাঁদেরকে নিখাদ বানিয়েছিলো, কিন্তু এতদসত্ত্বেও সবসময় এই আশঙ্কা করতেন যে, আমরা সঠিক পথ থেকে আবার বিচ্যুত হয়ে না যাই।
হযরত ওমর ফারুক রাযি.- যাঁর সম্পর্কে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَوْ كَانَ بَعْدِي نَبِيًّا لَكَانَ عُمَرُ
'আমার পরে যদি কেউ নবী হতো তাহলে ওমর নবী হতো।২
যিনি নিজ কানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ওমর জান্নাতে যাবে। যিনি সরাসরি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, হে ওমর! আমি যখন মেরাজে যাই এবং জান্নাতে ভ্রমণ করি তখন জান্নাতে একটি জমকালো মহল দেখতে পাই। আমি জিজ্ঞাসা করি এ মহলটি কার? আমাকে বলা হয় যে, এটা ওমর ইবনে খাত্তাবের মহল। আমার মন চাইলো মহলের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি। কিন্তু

টিকাঃ
১. কানযুল উম্মাল, খণ্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৪, হাদীস নং ৫২১৭, জামউল জাওয়ামে' সূয়ূতী কৃত, খণ্ড-১, হাদীস নং ৩০০০, সুনানে বাইহাকী, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৪৭২, হাদীস নং ২১৩০১, জামেউল আহাদীস, খণ্ড-৯, পৃষ্ঠা-৪৮৬, হাদীন নং ৮৮৯২, আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদদ্বীন, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-২৮৪, আদদুরারুল মুনতাশিরাহ, খণ্ড-১, পৃষ্ঠা-৮
২. সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ৩৬১৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৬৭৬৪

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00