📄 আধ্যাত্মিক বিধানের আলোচনা
পূর্বে আমি আলোচনা করেছি যে, আল্লাহ তা'আলা যেভাবে নামায, রোযা ইত্যাদি বাহ্যিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিধান আমাদের উপর আবশ্যক করেছেন, তেমনিভাবে অভ্যন্তরের সাথে সম্পৃক্ত কিছু বিধানও আমাদের উপর আরোপ করেছেন। যেমন মানুষের অন্তরে ইখলাস থাকতে হবে, রিয়া থাকা যাবে না। অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মহব্বত থাকতে হবে। বিনয় থাকতে হবে, অহমিকা থাকা যাবে না। ধৈর্য ধারণের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। শোকরের ক্ষেত্রে শোকর করতে হবে। এসব বিধানের সম্পর্ক মানুষের অভ্যন্তর ও কলবের সঙ্গে।
📄 আত্মার সাথে সম্পৃক্ত হারাম কাজ
এমনিভাবে আত্মার সাথে সম্পৃক্ত অনেকগুলো হারাম কাজ রয়েছে। যেমন হিংসা করা হারাম। অহংকার করা হারাম। কারো প্রতি বিদ্বেষ রাখা হারাম। যশ-খ্যাতি ও মানুষকে দেখানোর জন্য কাজ করা হারাম। তাই নীতি-চরিত্রের সংশোধন এবং সেগুলোকে পাক-পবিত্র করাও একজন মুমিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরয। শুধু নামায পড়া, রোযা রাখা, যাকাত দেওয়া, সামর্থ হলে হজ্ব করা এবং ওমরা করা যথেষ্ট নয়। বরং আত্মার এসব আমল ও আখলাককে সংশোধন করাও জরুরী। অন্তরে যেন অহংকার না থাকে, হিংসা না থাকে, প্রদর্শনপ্রবৃত্তি না থাকে, যশ-খ্যাতির উদ্দেশ্যে কাজ করা না হয় এবং দুনিয়ার মহব্বত অন্তরে বদ্ধমূল না হয়। আল্লাহ ও রাসূলের মহব্বত অন্তরে থাকে। অন্তরে এসব গুণ অর্জন করা জরুরী।
📄 এসব জিনিস তারবিয়াতের মাধ্যমে লাভ হয়
এখন প্রশ্ন হলো, এসব জিনিস অন্তরে অর্জন হয় কীভাবে? ভালো করে বুঝুন যে, এসব জিনিস শুধু কিতাব পড়ার দ্বারা লাভ হয় না, শুধু বয়ান শোনার দ্বারা লাভ হয় না, বরং এর জন্য তারবিয়াতের প্রয়োজন পড়ে। পূর্বে আমি আলোচনা করেছি যে, হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবীরূপে প্রেরণের পিছনে যেসব উদ্দেশ্যের কথা কুরআনে কারীম আলোচনা করেছে তার মধ্যে একটি উদ্দেশ্যে এই যে, আপনি মানুষের নীতি-চরিত্রকে পরিশুদ্ধ করবেন। তাদের আত্মা থেকে নীতিহীনতার নোংরামী দূর করবেন। এ কাজ তারবিয়াতের মাধ্যমে হয়। ইসলামী শাস্ত্রসমূহের মধ্যে তাওসাউফ যেই শাস্ত্রের নাম, তার আসল উদ্দেশ্যই হলো আখলাকের তারবিয়াত করা। আপনারা 'ফিকহ' শব্দ শুনেছেন। 'ফিকহ' ঐ শাস্ত্রকে বলে, যার মধ্যে যাহেরী আমলের বিধিবিধান বর্ণনা করা হয়। কোনটা জায়েয, কোনটা নাজায়েয? কোনটা হালাল, কোনটা হারাম? নামাযের সময় কোনটা? কীভাবে নামায পড়লে তা শুদ্ধ হয়, কীভাবে পড়লে অশুদ্ধ হয়? রোযার বিধান কি? যাকাতের বিধান কি? হজ্বের বিধান কি? এসব বিষয় ফিকহশাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়। এসব বিধানের সম্পর্ক যাহেরী আমলের সঙ্গে।
📄 তাসাউফশাস্ত্র সম্পর্কে ভুল বুঝাবুঝি
আখলাকের সাথে সম্পৃক্ত যেসব বিষয় আমি আলোচনা করছি, সেগুলোর বর্ণনা এবং সেগুলো অর্জন করার পদ্ধতি তাসাওউফশাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। বর্তমানে মানুষ তাসাওউফশাস্ত্র সম্পর্কে অতিরঞ্জন ও অতিশৈথিল্যের শিকার। কতক মানুষ মনে করে যে, শরীয়তের সাথে তাসাওউফের কোনো সম্পর্ক নেই। কুরআনে কারীম এবং হাদীস শরীফের কোথাও তাসাওউফের কথা উল্লেখ নেই। তাসাওউফ গ্রহণ করা বিদ'আত। ভালো করে বুঝুন! কুরআনে কারীম এবং হাদীস শরীফে নৈতিক চরিত্রের সংশোধনের যেই নির্দেশ এসেছে তাই তাসাওউফের বিষয়বস্তু। এজন্য তাসাওউফ কুরআনে কারীম ও হাদীস শরীফের পরিপন্থী কিছু নয়। অপরদিকে কতিপয় লোক তাসাওউফকে ভুল ব্যাখ্যায় উপস্থাপন করেছে। তাদের নিকট তাসাওউফের অর্থ মোরাকাবা করা, কাশফ অর্জন হওয়া, ইলহাম হওয়া, স্বপ্ন এবং তার ব্যাখ্যা জানতে পারা এবং কারামত অর্জন হওয়া ইত্যাদি। তাদের নিকট এগুলোরই নাম তাসাওউফ। এর ফলে তারা কতক সময় তাসাওউফের নামে শরীয়তপরিপন্থী কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। এ ব্যাপ্যারে তারা দু'ধরনের হস্তক্ষেপ করেছে।