📄 ইতিবাচকতা
আমেরিকান শিক্ষাবিদ স্টিফেন কভেই (১৯৩২-২০১২)-এর মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণতঃ ১০% বিষয় এমন থাকে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু বাকি ৯০% বিষয় হল কোন ক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রতিক্রিয়ার ফলাফল। এটি তার ‘৯০/১০ তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। তিনি উদাহরণ দেন, যেমন আপনি সকালে নাশতার টেবিলে বসলেন। এ সময় আপনার সন্তানের হাতে লেগে কফির মগটি আপনার জামায় উল্টে পড়ল। এ বিষয়টির উপর না আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ বা হাত ছিল, আর না আপনার সন্তানের। একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। কিন্তু এর পরবর্তীতে যা ঘটবে তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন। কীভাবে? যদি আপনি এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখান, রাগান্বিত হন এবং আপনার সন্তানকে ধিক্কার দেন; তাহ’লে সন্তান কাঁদবে। আপনি হয়ত আপনার স্ত্রীকেও ধমক দেবেন কফির মগটি টেবিলের কিনারে রাখার জন্য। হয়ত মৌখিক তর্ক হবে দু’জনের মাঝে। তারপর আপনি ঘরে গিয়ে দ্রুত জামাটি পাল্টিয়ে নতুন জামা পরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবেন। কিন্তু আপনার সন্তানটি তখনও কাঁদছে এবং স্কুলের বাস মিস করেছে। আপনি তাকে নিজের গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে গেলেন অতিরিক্ত গতিতে। ফলে আপনাকে ট্রাফিক আইন লংঘনের দায়ে জরিমানা দিতে হ’ল। অতঃপর আপনি ২০ মিনিট দেরীতে অফিসে পৌঁছে দেখলেন তাড়াহুড়োর মধ্যে আপনার ব্রিফকেসটি বাড়ীতে রেখে এসেছেন। এভাবে আপনার সকালটা ভয়ংকরভাবে শুরু হ’ল। দিন শেষে যখন বাড়ি এলেন, তখনও আপনার সন্তান এবং স্ত্রী আপনার সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলবে না, আপনার সকালের রুক্ষ আচরণের কারণে।
এবার ভাবুন, কেন আপনার দিনটা মন্দভাবে গেল? কফির কারণে? আপনার সন্তানের কারণে? আপনার স্ত্রীর কারণে? ট্রাফিক পুলিশের কারণে? না, এর কোনটাই না, বরং এর কারণ আপনি নিজেই। যদি সকালে মাত্র ৫ সেকেণ্ডের ঐ অনাকাংখিত আচরণটি না করতেন, তাহ’লে পুরো দিনটি আপনার এমন নিরানন্দ হওয়ার কথা ছিল না। এর বদলে যদি আপনি ঐ পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারতেন সন্তানকে এরূপ কথা বলে যে, ‘কোন সমস্যা নেই বাবা, তোমাকে পরবর্তীতে আরও সতর্ক থাকতে হবে’। তাহলে পুরো চিত্রটি ভিন্ন রকম হ’ত। কোন জটিলতার অবকাশ থাকত না। একটি সঠিক প্রতিক্রিয়া এভাবে বহু জটিলতা থেকে আমাদেরকে রেহাই দেয়, আবার ভুল প্রতিক্রিয়া তৈরী করে নানান অশান্তি এবং বিশৃংখলা।
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত ঘটনার মত জীবনে আমাদেরকে ছোট-বড় বহু ধরনের সংকট অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু প্রায়ই সেসব ঘটনায় আমরা অনর্থক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিষয়গুলো অসম্ভব জটিল করে তুলি। অথচ ইতিবাচক দৃষ্টিতে তার মোকাবিলা করতে পারলে জীবনের স্বচ্ছ-সরল গতিধারায় তেমন কোন ছেদ পড়ত না। আপনার বাস বা ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি? সময়টা অন্য কাজে লাগান। বই পড়ুন। কোন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হন। নতুন কোন ভাবনার অর্গল খুলে দিন। আপনার চাকুরী চলে গেছে? নতুন কোন চাকুরী খুঁজুন। আরো বড় চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নিন। কেন হতাশায়, বিরক্তিতে নিমজ্জিত হবেন? তাতে কী লাভ? সেই সময়টা বরং জীবনের নতুন কোন বৈচিত্র্যের জায়গা অনুসন্ধানে ব্যয় করুন। এভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটিয়ে সহজেই আমরা জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারি। নিজেকে সযতনে দূরে রাখতে পারি অনর্থক ঝামেলা আর বিবাদ-বিসম্বাদ থেকে। কোন বিষয়কে কঠিন করে তুলে নিজের উপর যুলুম চাপিয়ে দেবেন, নাকি তার সরল সমাধান খুঁজে নিজেকে প্রশান্ত রাখবেন, এ সিদ্ধান্তটা একান্তই আপনার নিজের।
বিশেষ করে যারা আখেরাতে বিশ্বাসী এবং পরকালীন সঞ্চয়ই জীবনের একমাত্র মিশন ও ভিশন হিসেবে নিয়েছে; তাদের জন্য দুনিয়াবী জটিলতা ও স্বার্থহানি কখনই এতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না যে, তা তাদের স্বাভাবিক মানবিকতা ও নৈতিকতাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, এমন অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষকেও দেখা যায়, যারা জীবনের কোন সংকট মুহূর্তে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি; বরং অবিবেচক ও ধৈর্যহীনভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যার খেসারত তাদেরকে সারাজীবন ধরে দিতে হয়েছে প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ততা, বিপন্নবোধ এবং অন্তর্জালা নিয়ে। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে এক অপচিত জীবন নিয়ে তারা ধুঁকতে থাকে আমৃত্যু। অথচ সময়মত একটুখানি ধৈর্যধারণ হয়ত এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারত।
সুতরাং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নেতিবাচক মানসিকতা, প্রতিক্রিয়া এবং কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। আবার এর বিপরীতে ইতিবাচকতার ফলাফল হয় অতীব মধুর। ইসলামে ছবর বা ধৈর্যের ব্যাপারে এ জন্যই এত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেননা ধৈর্য মানুষকে সবসময় ইতিবাচক রাখে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, সংকটের সময় সঠিক সমাধানের পথ বাতলে দেয়; সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে দৃঢ় রাখে। এমন গুণসম্পন্ন মানুষের হাতে সমাজ কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং পরার্থপরতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতাই হয় তাদের জীবনের মূলমন্ত্র। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কত চমৎকারভাবে না মানবজাতিকে ইতিবাচকতার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ভাল এবং মন্দ এক নয়, (হে রাসূল!) আপনি (মন্দের) প্রতিরোধ করুন সর্বোৎকৃষ্ট দ্বারা, তাহলে দেখবেন যে ব্যক্তির সাথে আপনার শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এমন (মহৎ) চরিত্র কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এই চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহা সৌভাগ্যবান (ফুছছিলাত ৩৪, ৩৫)। তিনি আরও বলেন, নিশ্চয়ই কঠিনের সাথে রয়েছে সহজতা (ইনশিরাহ ৬)। ইসলাম শিখিয়েছে- কোন বিপদ ও সমস্যার শুরুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা ব্যক্তিই হ’ল প্রকৃত ধৈর্যশীল। রাসূল (ছাঃ) বলেন, الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى ‘ধৈর্য তো সেটাই, যেটা (বিপদ বা সমস্যার) শুরুতেই ধারণ করা হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭২৮)।
বস্তুতঃ মানবজীবন হ’ল পরীক্ষার জীবন। ফলে যে কোন সময় অনাকাঙখিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন- কে কর্মে ও আচরণে অধিক উত্তম। সুতরাং যদি বিপদের সময় অধৈর্য না হয়ে আল্লাহ্র উপর প্রগাঢ় ভরসা রাখা যায় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে বলা যায়, ‘হয়তবা আল্লাহ আমাদেরকে অধিকতর উত্তম বদলা দেবেন, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী’ (কলম ৩২), তাহলে বহু পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃংখলার হাত থেকে আমরা রেহাই পেতে পারি। আর একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ-নির্ভরতাই তো জীবনের পরমার্থ। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসূল!) আপনি বলে দিন! আল্লাহই তোমাদেরকে (ভয়-ভীতি) থেকে মুক্তি দেন এবং সকল দুঃখ-বিপদ থেকে’ (আনআম ৬৪)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ খুলে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা সে চিন্তাও করে নি। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ উপর ভরসা রাখে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট’ (তালাক ২-৩)। সুতরাং কথায়-কাজে, চলনে-বলনে যথাসাধ্য ইতিবাচকতা বজায় রাখাই আমাদের কর্তব্য। জীবনকে নির্ঝঞ্ঝাট ও লক্ষ্যের পথে অবিচল রাখতে চাইলে এই শক্তিশালী মূলমন্ত্রটি কখনও হাতছাড়া করা যাবে না। জীবনের প্রতি পদে মনে রাখুন রাসূল (ছাঃ)-এর এই চিরন্তন উপদেশ, ‘মুমিনের ব্যাপারটি বড়ই বিস্ময়কর, তার সমস্ত বিষয়টিই কল্যাণময়। মুমিন ব্যতীত আর কারো জন্য এরূপ নেই। যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে শুকরিয়া আদায় করে। ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যখন তাকে অকল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে ছবর করে, ধৈর্য ধরে। ফলে এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুসলিম হা/২৯৯৯)। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হবে- দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী যিন্দেগীকে স্রেফ পরকালীন উপার্জনের নিমিত্ত মনে করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়া। নিশ্চিন্ত ও নির্ভার জীবন যাপন করতে চাইলে এর চেয়ে উত্তম প্রভাবক আর নেই।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘ভাল এবং মন্দ এক নয়, (হে রাসূল!) আপনি (মন্দের) প্রতিরোধ করুন সর্বোৎকৃষ্ট দ্বারা, তাহলে দেখবেন যে ব্যক্তির সাথে আপনার শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এমন (মহৎ) চরিত্র কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এই চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহা সৌভাগ্যবান। -ফুছছিলাত ৩৪, ৩৫।
📄 ক্যারিয়ার ভাবনা
বাংলাদেশের সমকালীন প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত মহলে পেশাগত ক্যারিয়ার এক অতীব আলোচিত ও চর্চিত বিষয়। সময়ের সাথে সাথে পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ নিজেদের সন্তানদের বস্তুগত ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নকে এতদূর নিয়ে গেছেন যে, সন্তানের মুখে বোল ফোটার আগেই তারা তাদের শিশুমনে সেই স্বপ্নের আঁচড়রেখা টানার চেষ্টা করেন। তারপর শৈশবের আনন্দমুখর দিনগুলোকে যেন জেলখানায় বন্দী রেখে শুরু হয় পিতা-মাতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিশুদের উদয়াস্ত পরিশ্রমের পালা। স্কুল-মাদ্রাসায় বরাদ্দ সময়টুকুর পরও রাত-দিন চলে প্রাইভেট পড়ার মহাসংগ্রাম, আর কাঙ্খিত রেজাল্টের আশায় বন্যার মত হন্যে হয়ে অবিরাম পথ চলা। আবার যারা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারাও নানা ভাবনা-চিন্তায় গলদঘর্ম হয়ে পড়েন। মেডিকেল নাকি ইঞ্জিনিয়ারিং, আইন নাকি সোশাল সাইন্স- ইত্যাকার হাজারো হিসাব-নিকাশ মিলাতে ভীষণ ব্যস্ত আজকের প্রজন্ম ও তাদের অভিভাবকরা। অথচ এই সময়গুলোকে খুব কম সংখ্যকের মনেই জীবনের এই মৌলিক প্রশ্নগুলো জাগ্রত হয় যে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যে আসলে কী? সফল ক্যারিয়ার বলতে কী বুঝায়? আর সেই ক্যারিয়ার গঠনের উপায়ই বা কী? শুধু কাঙ্খিত রেজাল্ট আর প্রত্যাশিত পেশাজীবন কিংবা পদ-পদবী, অর্থবিত্ত আর সামাজিক মর্যাদা লাভই কী ক্যারিয়ার গঠনের প্যারামিটার? দুনিয়ার ক্ষণিকের মিছে মায়ার জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পর এই বহুল প্রত্যাশিত ক্যারিয়ারের কোন ভূমিকা থাকবে কি? নাকি তা বিপদ থেকে উত্তরণের কোন মাধ্যম হবে চিরস্থায়ী জীবনের ফলাফল নির্ধারণী সেই মহাদিবসে?
রাসূল (ছাঃ) প্রতিদিন সকালে তিনটি বিষয়ের প্রার্থনা করে একটি দো’আ পাঠ করতেন- ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল এবং পবিত্র রিযিক দান করুন’। উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমল ও পবিত্র রুযী- তিনটি মৌলিক বিষয়। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায় যে, আমরা যারা ঈমানদার, তাদের ক্যারিয়ার ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তো এটাই হওয়া উচিৎ ছিল! কেননা যে ক্যারিয়ার ভাবনা ইহকাল ও পরকাল দু’টোকেই সামনে রাখে, সেটাই তো মুমিনের প্রকৃত ক্যারিয়ার ভাবনা। সফল ক্যারিয়ার তো তারই যে নিজেকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতের সফলতার জন্য প্রস্তুত করে। যদি কেউ একপাক্ষিকভাবে কেবল দুনিয়াবী ক্যারিয়ার গঠনকেই গুরুত্ব দেয়, আর পরকালকে গুরুত্বহীন মনে করে, নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ার পরিকল্পনা শুধু অপূর্ণাঙ্গই নয়, বরং চরমভাবে ব্যর্থ। কেননা ইহকালীন জীবন যত সফলই হোক না কেন, পরকালের জীবন যদি বিফলতায় পর্যবসিত হয়, তবে এই সাময়িক সফলতার কানাকড়িও মূল্য নেই। পবিত্র কুরআনে সেই চিত্র উঠে এসেছে এভাবে- ‘কিন্তু যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, হায়! আমাকে যদি দেওয়াই না হ’ত আমার আমলনামা এবং আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব! হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হ’ত! আমার ধন-সম্পদ আমার কোন কাজেই আসল না! আমার ক্ষমতাও হারিয়ে গেছে!’ (হাক্কাহ ২৫-২৯)।
প্রিয় পাঠক! রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতিদিনের প্রার্থিত বিষয়গুলির প্রতি খুব গুরুত্ব দিয়ে লক্ষ্য করুন। কী কী জিনিস তিনি চেয়েছেন এবং কেন চেয়েছেন? এগুলোই কি আমরা আমাদের ক্যারিয়ার ভাবনার বিষয়বস্তু হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়? চলুন, সেগুলোর প্রতি একবার নযর বুলিয়ে আসি।-
প্রথমতঃ উপকারী জ্ঞান: যে জ্ঞান মানুষের উপকারে আসে। সে জ্ঞান ইহলৌকিকও হতে পারে, পারলৌকিকও হতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই উপকারী হতে হবে। কেবল মানবকল্যাণার্থেই ব্যবহৃত হতে হবে। অর্থাৎ জ্ঞান মাত্রই যে উপকারী ও কল্যাণকর হবে, তা নয়। বরং এমন অনেক জ্ঞান রয়েছে, যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর; দুনিয়াবী কিংবা পরকালীন দিক থেকে। এজন্য রাসূল (ছাঃ) শুধু জ্ঞানার্জন নয়, বরং উপকারী জ্ঞান অর্জনের কথা বলেছেন। একজন মুসলমানের জন্য মুখ্য হ’ল পরকাল। সুতরাং যে কোন জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে পূর্ণ সচেতন থাকতে হবে যে, তা আসলে উভয় জগতের জন্য উপকারী কিনা কিংবা কতটুকু উপকারী। এই জ্ঞান কি সত্যের পথে পরিচালিত করবে? এই জ্ঞানে কি মানব কল্যাণ রয়েছে? এই জ্ঞানের মাধ্যমে কি আমি হালাল রিযিক উপার্জন করতে পারব? এই জ্ঞান কি আমাকে জান্নাত লাভে সহায়তা করবে?
যদি জ্ঞান হয় সূদ-ঘুষ-দূর্নীতির পাঠ, যদি তা হয় অন্যায়-অসত্য পথ অবলম্বনের, যদি তা হয় কুরআন ও হাদীছ তথা আল্লাহ প্রেরিত মহাসত্যের বিপরীত চেতনাধারী, যদি তা হয় তাওহীদ-সুন্নাহ পরিপন্থী ও শিরক-বিদ’আত মিশ্রিত, যদি তা হয় গান-বাদ্য, অসুস্থ আমোদ-প্রমোদ, বিনোদনের- তবে তা নিঃসন্দেহে অপকারী জ্ঞান। আর এই অপকারী ও মূল্যহীন জ্ঞানকে চিহ্নিত না করতে পারলে এবং তাকে পরিত্যাজ্য করতে না পারলে আমাদের ক্যারিয়ার ভাবনা মূল্যহীন।
দ্বিতীয়তঃ কবুলযোগ্য আমল বা গ্রহণযোগ্য কর্ম: উপকারী জ্ঞান অর্জনের পর কর্তব্য হ’ল- আমার জ্ঞান দ্বারা যে পেশা বেছে নিচ্ছি তাতে শুধু অর্থোপার্জনই মুখ্য? তাতে কি দুনিয়াবী ক্ষমতা ও পদমর্যাদাই মূল উদ্দেশ্য? মানুষের কাছে সম্মান-মর্যাদা লাভই অভীপ্সা? যদি তা-ই হয়, তবে তাতে দুনিয়াবী উপকার থাকতে পারে বটে, কিন্তু পরকালীন জীবনে তার কোন মূল্য আল্লাহ্র কাছে নেই। কেননা মানুষের প্রতিটি আমলই তার নিয়তের উপর নির্ভরশীল। যদি নিয়ত হয় আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, তাঁর নৈকট্য হাছিল করা এবং তাঁর সৃষ্টির সেবা তবেই তা আল্লাহ্র নিকট গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি তা হয় দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্যে, তবে তার ফলাফল দুনিয়া পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। পরকালীন জীবনে তা কোন উপকারে আসবে না। যে আমলের গ্রহণযোগ্যতা আল্লাহ্ কাছে নেই, তা চূড়ান্ত বিচারে অর্থহীন (কাহাফ ১০৩-১০৫)। এক ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর কাছে এসে বললেন, ঐ ব্যক্তি সম্বন্ধে আপনি কি বলেন, যে ব্যক্তি ছওয়াব ও সুনামের জন্য জিহাদ করে, তার জন্য কী রয়েছে? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। সে ব্যক্তি তা তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে একটি কথাই বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। তারপর তিনি বললেন, আল্লাহ বান্দার সেই আমলই কবুল করেন যা কেবল তাঁরই জন্য একনিষ্ঠভাবে করা হয় এবং যা তাঁর সন্তুষ্টি ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয় না’ (নাসাঈ হা/৩১৪০, সনদ হাসান ছহীহ)।
অনুরূপভাবে কোন কর্ম যদি আল্লাহ নির্দেশিত এবং রাসূল (ছাঃ)-এর প্রদর্শিত পথ ও পন্থা বহির্ভূত হয়, তবুও তা আল্লাহ্র কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; সে কর্ম আপাতদৃষ্টিতে যতই সৎকর্ম হিসাবে দৃশ্যমান হোক না কেন, কিংবা তার পিছনে যত সৎনিয়তই থাকুক না কেন। এজন্য ইসলামে কর্মের চেয়ে কর্মপন্থা অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। সূরা ফাতিহার শেষাংশে বর্ণিত ‘ছিরাতুল মুস্তাক্বীম’ বলতে সেই কর্মপন্থাকেই নির্দেশ করা হয়েছে। সুতরাং আল্লাহ্র নির্দেশিত কর্মপন্থা তথা ছিরাতুল মুস্তাক্বীমের অনুসরণের মাধ্যমেই সৎআমল করতে হবে। তাওহীদ ও সুন্নাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বস্ততা রেখেই আমল করতে হবে। নতুবা তা আল্লাহ্র কাছে কবুলযোগ্য আমল হিসাবে গণ্য হবে না (আন’আম ১৫৩; হূদ ১১২; যুখরুফ ৪৩)।
তৃতীয়তঃ পবিত্র রিযিক: আমাদের ক্যারিয়ার গঠনের সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি জড়িয়ে আছে রূযী বা আর্থিক ইনকামের সাথে। একজন মুমিনের জন্য তার ক্যারিয়ার ভাবনার শীর্ষে থাকতে হবে- তার কাংখিত পেশাটি মৌলিকভাবে হালাল কি-না তা নিশ্চিত করা। আর হালাল হ’লে তাতে হারামের সংশ্রব আছে কি-না; দুর্নীতি, সূদ, ঘুষ, জুয়া, লটারী প্রভৃতি নিষিদ্ধ বিষয়ের কোন সম্পর্ক আছে কি-না- ইত্যাদি দিকসমূহ অবশ্যই ক্যারিয়ার ভাবনার মধ্যে থাকতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘ঐ দেহ কখনও জান্নাতে যাবে না, যা হারাম দ্বারা পরিপুষ্ট হয়’ (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/২৭৮৭, সনদ ছহীহ)।
প্রিয় পাঠক! আমরা যারা নিজেদের কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবছি, আগামীর পরিকল্পনা মনে মনে সাজাচ্ছি, তাদের জন্য উপরোক্ত তিনটি মৌলিক নীতিকে সামনে রাখা অত্যাবশ্যক। এর মাঝেই আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বাঙ্গীন সফলতা নিহিত রয়েছে। সুতরাং যদি এর ভিত্তিতে আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ভাবনা ভাবি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের চলার পথ নির্ধারণ করে দিতে পারি এবং পরকালীন সফলতা কেন্দ্রিক ক্যারিয়ার গঠনে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে পারি, তবে একদিকে যেমন বস্তুবাদের মরীচিকাময় কুহেলিকা থেকে মুক্ত হয়ে তারা নিজের জীবনটাকে সঠিক লক্ষ্যে পরিচালনা করতে পারবে, অন্যদিকে দুনিয়া ও আখেরাতের সর্বাঙ্গীন সফলতা অর্জনের পথ তাদের জন্য সুগম হবে ইনশাআল্লাহ।
আমাদের ঐকান্তিক আশাবাদ, আমাদের শিক্ষার্থী ভাই-বোনরা জীবনের প্রকৃত বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন হোক। দুনিয়াবী সফলতার সাথে তাদের ক্যারিয়ার ভাবনায় যুক্ত হোক সীমাহীন সুখময় জান্নাতের বাসনা। পরকালীন সাফল্যই হোক তাদের মনযিলে মাকুছাদ। সোনালী ভোরের স্বর্ণালী আলোয় ভরে উঠুক তাদের জীবনের পবিত্র স্বপ্নগুলো। যে স্বপ্ন বিস্তৃত হয় ক্ষুদ্র পৃথিবী ছাড়িয়ে চিরন্তন আখেরাতের পানে। যে স্বপ্নের ব্যপ্তি হয় মহান প্রভুর একান্ত সান্নিধ্যের পরমতম মুহূর্ত অবধি। সে মহা দিন, মহা ক্ষণের প্রতীক্ষায় মহান প্রভু আমাদের পথ চলাকে সহজ করে দিন- সন্তুষ্টচিত্তে, সন্তোষভাজন হয়ে। আমীন ছুম্মা আমীন!
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি সফলকাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাকে প্রয়োজন মাফিক রিযিক দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ তাকে যতটুকু দিয়েছেন ততটুকুতে পরিতুষ্ট রেখেছেন’। -মুসলিম হা/১০৫৪।
📄 কিসের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত আমরা!
বলা হয়ে থাকে যে, Life is a race- জীবন হ’ল এক প্রতিযোগিতার নাম। হ্যাঁ, প্রতিযোগিতাই বটে। আমাদের নিত্যকার পথচলা, আমাদের দৈনন্দিন চিন্তাধারা, আমাদের জীবনের লক্ষ্য, কর্মপন্থা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সবকিছুর মধ্যেই এই প্রতিযোগিতার উপস্থিতি প্রবলভাবে বিদ্যমান। বিদ্যালয় পড়ুয়া শিশু, খেলার মাঠের তরুণ, চাকুরীর পরীক্ষায় অবতীর্ণ যুবক কিংবা বাসে ওঠার সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা পেশাজীবী, টিসিবির পণ্য পেতে লাইনে দাঁড়ানো শ্রমজীবী-এমন কেউই নেই যিনি এই বিরামহীন প্রতিযোগিতার চক্র থেকে বাইরে আছেন। এমনকি এই প্রতিযোগিতাই মানুষের জীবনের চালিকাশক্তি। অন্যকে টপকে সামনে যাওয়া কিংবা নিজেকে পিছনে পড়তে না দেয়ার জোর মানসিকতাই প্রতিযোগিতা, যা প্রতিটি মানুষের ভেতরকার সহজাত প্রবণতা।
এই চাওয়া ইতিবাচক হ’লে নিঃসন্দেহে তাতে দোষের কিছু নেই। বরং তা প্রশংসার যোগ্য এবং কাম্য। কিন্তু যে প্রতিযোগিতা মানুষকে অন্যায়ের পথে পরিচালিত করে, ব্যক্তি ও সমাজ জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, যে প্রতিযোগিতা ন্যায়-ইনছাফের দণ্ডকে পদদলিত করে; যে প্রতিযোগিতা স্রেফ ভোগসর্বস্ব, আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থবাদী; যে প্রতিযোগিতা অর্থহীন ও অন্তঃসারশূন্য, সর্বোপরি যে প্রতিযোগিতা আখেরাতকে ভুলিয়ে দেয়- সে প্রতিযোগিতা নিঃসন্দেহে ব্যর্থ ও ধ্বংসাত্মক।
আজকের পুঁজিবাদী দুনিয়া এবং ভোগবাদী সমাজের দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহ’লে বিলক্ষণ দেখা যাবে যে, অধিকাংশ মানুষই এক অন্তহীন নেতিবাচক প্রতিযোগিতার ঘেরাটোপে বাধা। সবাই যেন কোন এক অপ্রদর্শিত নেশার ঘোরে ছুটে চলেছে- আরো চাই! আরো চাই! চাওয়ার যেন কোন শেষ নেই। হিসাবের খেরোখাতায় চাহিদাগুলো একটার পর একটা ধারাবাহিক যোগ হ’তেই থাকে। প্রলম্বিত হয় অন্ধের মত অবিশ্রান্ত ছুটে চলার পরিধি। হঠাৎ কখনও যদি পিছু ফিরে তাকানোর অবসর হয়, ভেতরকার কোন দূরাগত সত্ত্বার পরশে অশান্ত মনটা সহসা প্রশান্ত হয়, তখন ক্ষণিকের জন্য হ’লেও মনে হয় কিসের পিছনে ছুটছি আমি? এসবের পিছনে ছুটে দিন শেষে লাভটা কী? কেন এসব করছি? কার জন্য করছি? লাভালাভের নিত্য হিসাবটা তখন কেমন যেন অর্থহীন, বিষাদময় মনে হয়। একসময় উদাসী মন সখেদে বলে ওঠে- নাহ, জীবনটা বোধ হয় ষোল আনাই মিছে।
বস্তুতঃ এটা মোটেই বেসুরো মনের ঔদাস্যভরা কথা মাত্র নয়। বরং ষোল আনা মিছে ব্যর্থ জীবনালেখ্য কিন্তু সত্যিই রচনা করে চলেছে মানব সংসারের অধিকাংশ জীবন। যে জীবন মহান স্রষ্টা আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত নয়, যে জীবন রাসূল (ছাঃ)-এর প্রদর্শিত পথের পথিক নয়, সে জীবন যত চকচকেই পরিদৃষ্ট হোক না কেন, তা আদতেই ব্যর্থ জীবন। পশু-পাখির মতই এ জীবন মূল্যহীন। পরকালের খাতায় যে জীবনের মূল্য যোগ হয় না, সে জীবন তো আসলেই মিছে! ষোল আনাই মিছে!
প্রিয় পাঠক! দুনিয়ার চাক্যচিক্য ও মোহে আমরা ঈমানদার হওয়া সত্ত্বেও প্রায়শঃই ভুলে যাই, আমরা আখেরাতের সন্তান, দুনিয়ার নই। আমাদের আসল বাসস্থান জান্নাত, দুনিয়া নয়। আমাদের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু দুনিয়া নয়, আখেরাত। দুনিয়ায় তো আমরা এসেছি মাত্র ক’দিনের মুসাফির হয়ে। সময় ফুরানো মাত্র ফিরে যেতে হবে আসল গন্তব্যে। একজন পর্যটক যেমন রঙিন দুনিয়ার স্বপ্নাতুর মুহূর্তগুলো ক্ষণিকের জন্য আস্বাদন করে ফেরৎ যায়, তার থেকে বিন্দুমাত্র ভিন্ন নয় আমাদের এই জীবন। আখেরাতের আয়নায় দুনিয়াটা দেখলে এই মহাসত্যটি অনুধাবন করা মোটেই রহস্যময় কিছু নয়।
কিন্তু আমরা যে গাফেল। চূড়ান্ত গাফেল। গাফলতির পর্দা চোখে টেনে তাই তো নির্বোধ গাধার মত পরিশ্রম করি এমন কিছুর পিছনে, যেসবের কোনই উপযোগিতা নেই আখেরাতে। নেই তাতে বিশেষ দুনিয়াবী প্রাপ্তিও। অপরদিকে স্বল্প পরিশ্রমেই যেখানে অপেক্ষা করছে আবারিত প্রাপ্তি, চিরস্থায়ী স্বপ্নপূরণের লোভনীয় হাতছানি, তার জন্য একদণ্ড সময় বের করতে গেলেও আসে হাযারো আলস্য আর অজুহাতের সমাহার।
অথচ আমরা নিজেদের কতই না বুদ্ধিমান ভাবি! আখের গোছানোর জন্য আমরা কতই না স্থিতধী পরিকল্পনাবিদ! কিন্তু কখনও কি ভেবেছি আখের গোছানোর নামে আমরা আসলে কি গোছাচ্ছি? আমাদের ভবিষ্যৎ ভাবনার চালাকি আর প্রশান্তিতে ভরপুর চেহারার বিপরীতে চূড়ান্ত বিচার দিবসে অপেক্ষমাণ কোন সে হতভাগ্য, নতমুখ চেহারা লুকিয়ে আছে? আফসোস শত আফসোস!
সেদিনের কথা পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আমাদেরকে অসংখ্যবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। দরদভরা ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন এই জীবনের মূল প্রতিযোগিতা আসলে কিসের? কী এর বিষয়বস্তু। তিনি আহ্বান জানান, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাত লাভের জন্য প্রতিযোগিতা কর, যার সীমানা আসমান এবং যমীনব্যাপী। কেবল মুত্তাকীদের জন্যই যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে’ (আলে ইমরান ৩/১৩৩)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা এগিয়ে চল তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার প্রশস্ততা আসমান ও যমীনের মত। আর তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারীদের জন্য’ (হাদীদ ৫৭/২১)। মুমিনদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন, ‘তারা হ’ল এমন বান্দা যারা কল্যাণের কাজে সর্বদা প্রতিযোগিতা করে এবং তাতে তারা অগ্রগামী থাকে’ (মুমিনূন ২৩/৬১)। ‘অতএব (জান্নাতে নে’মতলাভের জন্য) প্রতিযোগীরা প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হোক’ (মুত্বাফফিফীন ৮৩/২৬)।
কখনও ধমকের সুরে বলেন, ‘অতএব তোমরা সৎকাজের প্রতিযোগিতা কর, তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্র করবেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান’ (বাক্বারাহ ২/১৪৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘অতএব সৎকর্মে তোমরা প্রতিযোগিতা কর, আল্লাহ্ দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করেছিলে, সে সম্পর্কে তিনি তোমাদেরকে অবহিত করবেন’ (মায়েদাহ ৫/৪৮)। কখনও আগাম স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আমাদের পরকালের আফসোস বার্তা- ‘হায়! যদি আবার দুনিয়ার জীবনে ফিরে যেতে পারতাম!’ (আনআম ২৭)। ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আরো কিছু কালের জন্য অবকাশ দিলে না কেন? তাহলে আমি ছাদাকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম!’ (মুনাফিকুন ১০)। ‘হায়! যদি পরকালের জন্য অগ্রিম কিছু পাঠাতে পারতাম!’ (ফজর ২৪)। ‘হায়! যদি আমরা শুনতাম, নিজেদের বুদ্ধি-বিবেককে কাজে লাগাতাম!’ (মুলক ১০)।
অতএব প্রিয় পাঠক! আমাদের জীবনটা এক নিরেট প্রতিযোগিতার মঞ্চ। এই মঞ্চের সত্যিকারের প্রতিযোগী কেবল তারাই যারা আখেরাতকে চিনেছে। ফলাফল পাবে কেবল তারাই যারা আখেরাতের জন্য প্রতিযোগিতা করে। এর বাইরে যারা রয়েছে, তারা কেউ প্রতিযোগীই নয়। কেননা প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুই তাদের জানা নেই। অতএব আসুন! আমরা আমাদের প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু চিনতে শিখি। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, পদ-পদবী, গাড়ি-বাড়ির ধোঁকায় আর দুনিয়াবী অসার প্রতিযোগিতায় নিজেকে বিলীন করে না দেই। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা জেনে রেখো যে, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া- কৌতুক, জাঁকজমক, পরস্পর গর্ব করা, ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির প্রাচুর্যের লাভের প্রতিযোগিতা ছাড়া আর কিছুই নয়’ (হাদীদ ৫৭/২০)। সুতরাং জেনেশুনে এসব জিনিসকে প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তু বানানো নিরেট এবং নিরেট বোকামী ছাড়া কিছুই নয়। এজন্য হাসান বছরী (রহঃ) বলেন, ‘তুমি যখন কাউকে দুনিয়াবী দিক থেকে তোমার সাথে প্রতিযোগিতা করতে দেখবে, তখন তার সাথে তুমি আখেরাতের বিষয়ে প্রতিযোগিতা কর’ (ইবনু আবী শায়বাহ হা/৩৬৩৬১)।
সুতরাং আমরা প্রতিযোগিতা করব। তবে তা যেন নির্বোধের মত দুনিয়ামুখী না হয়ে পরকালীন কল্যাণই একমাত্র লক্ষ্য হয়। প্রতিটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কাজও যদি পরকালীন মুক্তির জন্য হয়, তাতেই আমাদের চূড়ান্ত সাফল্য নিহিত। আর এই প্রতিযোগিতাই আমাদের জন্য নির্ধারণ করে দেবে আমাদের সেই চিরস্থায়ী সুখের ঠিকানা। আল্লাহ বলেন, ‘তারা সকলে সমান নয়। আহলে কিতাবদের মধ্যে একটি হকপন্থী দল আছে, তারা রাত্রিকালে ছালাতরত অবস্থায় আল্লাহর আয়াত পাঠ করে। তারা আল্লাহ ও আখেরাতের উপর বিশ্বাস রাখে এবং তারা সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং তারা কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতা করে। তারাই সৎকর্মশীলদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত (আলে ইমরান ৩/ ১১৪)। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল ভাই ও বোনকে ভোগবাদী দুনিয়ার মোহ থেকে রক্ষা করুন এবং আখেরাতমুখী জীবন যাপনের মাধ্যমে পরকালের পথে জীবনের মূল প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!
📄 অর্থ-বিত্ত নয়, আমাদের সম্বল ঈমান ও সৎআমল
দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন উল্লম্ফন, আয়ের সাথে ব্যয়ের ক্রমব্যবধান, জীবন- জীবিকার ব্যাপক সংকোচন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অবনমন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি আমাদের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনধারায় এক বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। করোনার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর মুহূর্তে হঠাৎ এই ছন্দপতনে হতোদ্যম হয়ে পড়েছে নাগরিক জীবন। পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলংকা ও পাকিস্তানের বেহাল দশায় যোগ হয়েছে বাড়তি ভীতি। অজানা আশংকায় ভীতচকিত মানুষের মনজুড়ে বিরাজ করছে এক ধরনের অজানা অস্থিরতা। মনে হচ্ছে এই বুঝি আর পেরে ওঠা হবে না। সন্তান-সংসার, পরিবার-পরিজন নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা আর দুর্ভাবনায় দিন কাটাচ্ছে বহু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার। শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয়, করোনা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের জোড়া ধাক্কায় সমগ্র বিশ্বেই শুরু হয়েছে দ্রব্যমূল্যের ভয়াবহ উর্ধ্বগতি। বিশ্বজুড়ে শোনা যাচ্ছে নতুন করে অর্থনৈতিক মন্দার পদধ্বনি। মা’আযাল্লাহ।
প্রতিবার ধাক্কা আসে, আর আমরা নির্দিষ্ট কাউকে দোষারোপ করি। কখনও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে, কখনও বিশ্বব্যবস্থাকে। কিন্তু আমরা হয়ত কখনও ভাবার অবকাশ পাই না যে, এসব আমাদের জন্য অবহারিতভাবে প্রাপ্য কিংবা এসব আমাদেরই পাপাচারের ফল! সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, অবিবেচকের মত তেল- বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলেছে- এটা নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ; কিন্তু একই অপরাধের অংশীদার কি আমরাও সমানভাবে নই? নইলে তেলের দাম বাড়তে না বাড়তেই অন্য সবকিছুর দাম এমন আকাশছোঁয়া কেন হ’ল? এই সিন্ডিকেটেড অপরাধের জন্য দায়ী কি কেবল সরকার? তেলের দরবৃদ্ধির সাথে সঙ্গতি না রেখে রাতারাতি ইচ্ছেমত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বহুগুণ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় তো সরকার নয়, আমরাই লিপ্ত। বলা হয়ে থাকে যে, সরকার জনগণের প্রতিচ্ছবি। সুতরাং যে দেশের জনগণ যেমন, সে দেশের সরকারও তেমন হবে-এটাই স্বাভাবিক।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এজন্যই ঘোষণা দিয়েছেন- ‘মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসাবেই স্থলে ও সমুদ্রে সর্বত্র বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদের কর্মের কিছু শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা (আল্লাহ্ দিকে) ফিরে আসে’ (সূরা রূম ৪১)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমাদেরকে যেসব বিপদাপদ স্পর্শ করে, সেগুলো তোমাদেরই কৃতকর্মের ফসল। অনেক গুনাহ তো আল্লাহ ক্ষমাই করে দেন’ (সূরা আশ-শূরা ৩০)। অর্থাৎ দুনিয়াবী বিপদাপদ কখনও আল্লাহ্ পক্ষ থেকে পরীক্ষাস্বরূপ আসে; তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানুষের নিজেদেরই কৃতকর্মের শাস্তিমূলক প্রতিফল।
প্রিয় পাঠক, একজন ঈমানদারের জন্য ব্যক্তি ও সমাজের উপর আপতিত বিপদাপদ বৃহত্তর অর্থে তার জীবন পরীক্ষারই অংশ। সেজন্য সে তাতে অস্থিরচিত্ত হয় না, হতাশায় মুহ্যমান হয় না। বরং নিজের অন্তরকে আল্লাহ্ প্রতি আরো বেশী প্রণত করে দেয়। হৃদয়কে আল্লাহ্র রহমতের আশায় প্রশস্ত রাখে। নিজেকে আরো সচেতনভাবে পরকালের জন্য প্রস্তুত করে। যেমন :
ক. তওবা ও ইস্তিগফার : যে কোন বিপদ থেকে মুক্তির জন্য যাবতীয় পাপাচার থেকে তওবা করা এবং আল্লাহ্র কাছে ক্ষমা প্রার্থনার বিকল্প নেই। এতে আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হয় এবং বিপদ থেকে দ্রুত মুক্তি লাভ করা যায়। সূরা হৃদে এসেছে, (হুদ আঃ বলেন) তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তার দিকে ফিরে আস। (তাহ’লে) তিনি তোমাদেরকে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত উত্তম জীবনের স্বাদ দেবেন এবং প্রত্যেক অনুগ্রহ পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য মোতাবেক অনুগ্রহ করবেন। আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উপর মহা দিনের শাস্তির আশংকা করি (হুদ ৩)।
খ. ধৈর্য ধারণ : পরীক্ষায় ঘেরা মুমিন যিন্দেগীতে ধৈর্য সর্বোত্তম ঢাল। মানবচরিত্রে ধৈর্য ধারণের চেয়ে উত্তম গুণ আর নেই। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা নিব। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরকে’ (বাক্বারা ১৫৫)।
মুমিনের বৈশিষ্ট্যই হ’ল সে যেমন সুখের সময় আল্লাহ্র প্রতি সন্তুষ্ট থেকে প্রাণভরে শুকরিয়া আদায় করবে, তেমনি দুঃখ-কষ্টের সময় আল্লাহ্র প্রতি পূর্ণ ভরসা রেখে ধৈর্য অবলম্বন করবে। কোন অবস্থাতেই সে আল্লাহকে ভুলে যাবে না, আল্লাহ্র প্রতি ভরসা হারাবে না। একথা সে সর্বদা মনে রাখবে যে, রিযিকের ফয়ছালা হয় আসমানে। যে রব সুসময়ে রিযিক দিয়েছেন, সেই রব দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির দুঃসময়েও রিযিক দিতে পারেন। তিনিই সবকিছুর মালিক ও নিয়ন্ত্রণকর্তা (বাক্বারা ২৪৫)। এজন্য ইবরাহীম বিন আদহাম (রহ.) চমৎকারভাবে বলেছেন, আল্লাহ্র কসম! আমি মোটেই পরোয়া করি না যদি যবের প্রতিটি দানার মূল্য এক দিনারও হয়। কেননা আমার দায়িত্ব হ’ল আল্লাহ্র নির্দেশ মোতাবেক ইবাদত জারি রাখা। আর আল্লাহ্ কাজ হ’ল আমাকে তাঁর প্রতিশ্রুত রিযিক দান করা’। সুতরাং দিশেহারা হওয়া নয়; বরং আমাদেরকে তওবা এবং ধৈর্যের মাধ্যমে বিপদাবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাইতে হবে। এতেই আমাদের মুক্তি নিহিত রয়েছে ইনশাআল্লাহ।
অপরদিকে আমাদেরকে এ বিশ্বাস সুদৃঢ় রাখতে হবে যে, দুনিয়াবী জীবন-জীবিকা, ধন-সম্পদ, বাড়ি-গাড়ি কোনকিছুই আমাদের প্রকৃত সম্পদ নয়, বরং ক্ষণকালের ভোগসামগ্রী মাত্র। সুতরাং এসবের মূল্যবৃদ্ধি, ঘাটতি, ক্ষয়ক্ষতি যেন আমাদের হীনবল করে না দেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘দুনিয়াই যার মূল লক্ষ্য এবং সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ, আল্লাহ তাআ’লা তার চোখের সামনে দরিদ্রতা স্থাপন করে দেন তথা যাবতীয় অভাব তার সামনে উপস্থিত করেন’ (তিরমিযী হা/২৪৬৫)।
কেননা আমাদের মূল সম্পদ এবং আমাদের চিরস্থায়ী উপার্জন হ’ল আমাদের বিশুদ্ধ ঈমান এবং সৎআমল; যাতে কোন শিরক-বিদ’আত থাকবে না, থাকবে না রিয়া-প্রদর্শনীর সংমিশ্রণ। যিনি এমন দুই অমূল্য সম্পদের অধিকারী হয়েছেন, তার মত সৌভাগ্যবান আর কেউ নেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাদের উদ্দেশ্যে সুসংবাদবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘তোমাদের ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি তোমাদেরকে আমার নৈকট্যশীল করবে না; বরং নৈকট্যশীল হবে তারাই, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎআমল করেছে। আর তাদের জন্য তাদের কর্মফলস্বরূপ রয়েছে বহুগুণ পুরস্কার। আর তারা সুউচ্চ প্রাসাদে নিরাপদে বসবাস করবে’ (সাবা ৩৭)। উক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, যতক্ষণ আমাদের ঈমান আছে এবং আল্লাহ্ পক্ষ থেকে সৎআমল করার তাওফীক আছে, ততক্ষণ আমরা শত বিপদের মধ্যেও সম্পদশালী। শত দুর্বলতার মাঝেও ক্ষমতাবান। শত দুঃখ-বেদনার মাঝেও সর্বংসহা প্রশান্ত হৃদয়। কেননা আমাদের মূল সম্বল, আমাদের মূল পুঁজি আমাদের হাতছাড়া হয়নি। এই সম্বল যার সংরক্ষণে থাকে, পৃথিবীর তাবৎ বিপদাপদের বার্তা তাকে আতংকিত করে না। বরং আখেরাতের চির প্রশান্তিময় গন্তব্যের জন্য জোগাড়-প্রস্তুতিই হয় তার জীবনের সবকিছু। অতএব দুনিয়ার সবকিছু চলে যাক, কিন্তু কোন অবস্থাতেই যেন ঈমান সম্পদটাকে না হারাই, সৎআমলের পাল্লা যেন লঘুতর না হয়ে পড়ে- এটাই হোক আমাদের দাঁতে দাঁত চাপা প্রতিজ্ঞা।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সকলকে দুনিয়াবী যাবতীয় বিপদাপদ থেকে রক্ষা করুন! সর্বাবস্থায় একমাত্র তাঁর প্রতি ভরসা রেখে তাঁর মহা অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম তথা ঈমান ও সৎআমলের পথে পরিচালিত হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!