📄 জীবন এক নিরন্তর পরীক্ষা
দুনিয়াবী জীবনের রূঢ় বাস্তবতা, দৈনন্দিন জীবন-জীবিকার অবিশ্রান্ত মহড়া আমাদের এতটাই আত্মভোলা করে রাখে যে, প্রায়শঃই আমরা বিস্মৃত হই যে, দুনিয়াবী জীবন আমাদের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র। আমাদের প্রাত্যহিক যাপিত জীবন, আমাদের উপর আপতিত বিপদ-আপদ, দুঃখ-কষ্ট, সুখ-আনন্দ সবকিছুই এই পরীক্ষার নিত্য অনুষঙ্গ। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি আচরণের অন্তরালে চলমান থাকে চুলচেরা হিসাব-নিকাশ (যিলযাল ৯৯/৭-৮)।
সবকিছুর মধ্যেই নিহিত মহান স্রষ্টার এক নিখুঁত কর্মকৌশল, যার পশ্চাতে লুকিয়ে থাকে বইয়ের পৃষ্ঠার মত ধারাবাহিক একের পর এক এলাহী নিদর্শন আর কার্যকারণ। কখনও এই পরীক্ষা এতই সূক্ষ্ম যে, তার বাস্তবতা অনুভব করতে আমাদের সীমিত জ্ঞান ও বিবেক একান্তই অক্ষম। কখনও পরীক্ষার ধরণগুলোও এমন বিস্তৃত শাখা-প্রশাখাময় যে, বাস্তবিকপক্ষে তা যে কোন পরীক্ষার অংশ, তাও আমাদের ধারণার অতীত হয়।
কখনও মহান রব সুনিশ্চিত বিপদ কিংবা মৃত্যুর হাত থেকে আমাদের বাঁচিয়ে পরীক্ষা নেন- আমরা কতটুকু রবের প্রতি শোকরগুযার; আবার কখনও কঠিন বিপদ চাপিয়ে পরীক্ষা নেন- কতটুকু আমরা রবের সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। কখনও আমাদের মধ্যে মতভেদের স্রোতে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষা নেন- কে আমাদের মধ্যে রবের বিধানের প্রতি আনুগত্যশীল আর কে সীমালংঘনকারী। কখনও মানুষকে দলে দলে বিভক্ত করে পরীক্ষা নেন- কে সঠিক পথের উপর অবিচল থাকতে চায় আর কে পথভ্রষ্ট। কখনও দুনিয়াবী প্রলোভনের বস্তুগুলো সামনে হাযির করে পরীক্ষা নেন- কে রবকে বেশী অগ্রাধিকার দেয় আর কে নিজের নফসকে। কার নিয়ত শুদ্ধ আর কার নিয়ত অশুদ্ধ। কখনও পারস্পরিক দুনিয়াবী স্বার্থ সামনে এনে পরীক্ষা নেন- দুনিয়ার মোহ আমাদের কাছে বড়, নাকি পরকালীন মুক্তি। অন্যের হক রক্ষা করা যরূরী, নাকি নিজের অন্যায় স্বার্থসিদ্ধি।
কখনও সফলতা দিয়ে পরীক্ষা নেন-আমরা অহংকারী, নাকি রবের রহমতের ভিখারী। কখনও বিফলতা দিয়ে পরীক্ষা নেন- আমরা বেসামাল অনুযোগকারী, নাকি কল্যাণের প্রত্যাশায় ধৈর্যধারণকারী। কখনও দারিদ্র্য চাপিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেন- আমরা হালাল নাকি হারাম উপার্জনের প্রত্যাশী। কখনও ধনাঢ্য করে পরীক্ষা নেন- আমরা হালাল পথে ও নেকীর কাজে ব্যয়ের অভিলাষী, নাকি হারাম বিলাস-ব্যাসনে সম্পদ অপচয়কারী। কখনও পাপের কাজের সম্মুখীন করে পরীক্ষা নেন- কতটা আমরা রবের প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল ও তওবাকারী আর কতটা অবাধ্য ও স্বেচ্ছাচারী। কখনও নেকীর কাজ করিয়ে পরীক্ষা নেন- কতটা তা আল্লাহ্ জন্য ইখলাছপূর্ণ আর কতটা ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা দুনিয়াবী প্রাপ্তির জন্য। কখনও দ্বীনদারীর পরীক্ষা নেন- কতটা আমরা আল্লাহ্ ভয়ে দ্বীন পালন করি, আর কতটা মানুষের প্রতি অন্ধ ভালবাসা, অধিকাংশের ভয় কিংবা ব্যক্তিগত গোড়ামি থেকে পালন করি। এরূপ হাযারো মাধ্যমে, হাযারো পদ্ধতিতে প্রতিনিয়ত আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নেন এবং নিচ্ছেন, সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব রাখছেন। আমাদের অগোচরে।
দৈনিন্দন জীবনে আমাদের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়বস্তু থাকে দারিদ্র্য, দুর্ভিক্ষ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, সম্পদহানি ইত্যাদি। অথচ এসব বিষয় মানবজীবনের একান্ত অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, যা থেকে চাইলেই বের হওয়া সম্ভব নয়। বরং কারা আল্লাহ্র উপর প্রকৃত ভরসাকারী, কারা উত্তম ধৈর্যশীলতা অবলম্বনকারী, তা বাছাই করে নিতে আল্লাহ এটা আমাদের জন্য অবধারিত করে রেখেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। (এমতাবস্থায়) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৫)। কখনও আল্লাহ উপদেশ স্বরূপ বান্দার পরীক্ষা নেন। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা কি লক্ষ্য করে না যে, তারা প্রতি বছর একবার বা দু’বার কোন না কোন বিপদে পতিত হয়ে থাকে? তবুও তারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণও করে না’ (তওবা ৯/১২৬)।
আবার ঈমানদার ও দ্বীনদার হলেই যে আমরা আল্লাহ্ পরীক্ষা থেকে বেঁচে যাব, এমনটি ভাবার কোন সুযোগ নেই। বরং তাদের জন্য পরীক্ষাটা আরো বড়। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষ কি মনে করে যে, আমরা ঈমান এনেছি-এ কথা বললেই তাদেরকে পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেয়া হবে’? (আনকাবূত ২৯/২)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘পৃথিবীতে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা নেয়া হয় নবীদের। তারপর বান্দার দ্বীনদারীর মাত্রার উপর পরীক্ষা করা হয়। যে যত দ্বীনদারীতে অবিচল, সে তত কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়’ (তিরমিযী হা/২৩৯৮; ইবনু মাজাহ হা/৪০২৩)। কেন আল্লাহ ঈমানদারদের পরীক্ষা নেন? এর কিছু কারণ রয়েছে। যেমন-
ক. ঈমানের দাবীর সত্যতা ও নিয়তের ভালো-মন্দ যাচাই করা। আল্লাহ বলেন, ‘আমি অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছিলাম। সুতরাং আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং কারা মিথ্যাবাদী’ (আনকাবূত ২৯/৩)।
খ. ইখলাছ ও তাক্বওয়াশীলতা যাচাই করা। কারা আল্লাহ্র প্রকৃত মুখলিছ বান্দা আর কারা প্রকৃত আল্লাহভীরু, তার পরীক্ষা আল্লাহ নানা রূপে নিয়ে থাকেন। আমলের পরীক্ষায় অনেকে বিপুল সমৃদ্ধ হলেও ইখলাছ ও তাক্বওয়ার ঘাটতিতে সে হারিয়ে ফেলে তার আমলের সুফল (মায়েদাহ ২৭; কাহফ ১০৩; মুসলিম হা/২৫৮১)।
গ. দ্বীনের ব্যাপারে অধিক অগ্রগামিতা যাচাই: দ্বীন পালনে সবাই সমান নয়। সবাই একই মর্যাদার অধিকারীও নয়। দ্বীনের প্রতি অগ্রগামিতার প্রতিযোগিতায় প্রাগ্রসরদের নির্বাচন করা এই পরীক্ষার অংশ (নিসা ৪/৯৫; ফাত্বির ৩২)।
ঘ. হককে দৃঢ়ভাবে ধারণকারী নির্বাচন করা: ঈমানদারীর দাবী সত্ত্বেও বান্দা সত্যিই হকের অনুসরণকারী কি-না কিংবা কতটুকু অনুসন্ধানী তা যাচাই করা এই পরীক্ষার অংশ (আলে ইমরান ৩/১০৫)।
ঙ. জান্নাতে উচ্চতর স্থান নির্ধারণ: জান্নাতীরা সবাই সমান স্তরের হবে না। আমলের শুদ্ধতা ও পরীক্ষায় সফল হওয়ার মাপকাঠিতে আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের বিভিন্ন স্তর নির্ধারণ করবেন (আন’আম ৬/১৩২)।
চ. পরিশুদ্ধ করা: আল্লাহ যাদের কল্যাণ চান, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করার জন্যও তাদেরকে বিপদগ্রস্থ রেখে পরীক্ষা নেন, যাতে একসময় সে গুনাহমুক্ত হয়ে যায় (তিরমিযী হা/২৩৯৮; ইবনু মাজাহ হা/৪০২৩)।
অনেক সময় ঈমানদারদেরকে পর্যন্ত দল-উপদলে বিভক্ত হতে দেখে আমরা হতাশা বোধ করি; আবার অতি দ্বীনদার কেউ নিজেকে দায়মুক্ত ভেবে সঙ্গোপনে আত্মতুষ্টিও লালন করি। অথচ এই দলে দলে বিভক্তি মূলতঃ আল্লাহ্র পরীক্ষারই অংশ, যার মাধ্যমে তিনি অধিকতর ভাল-মন্দ বাছাই করে নেন। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ চাইলে তিনি তোমাদের (ঐক্যবদ্ধ) এক জাতিতে পরিণত করতে পারতেন। তবে তিনি চান তোমাদেরকে যা কিছু প্রদান করেছেন, তা দিয়ে পরীক্ষা করতে। অতএব তোমরা কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা কর’ (মায়েদাহ ৫/৪৮)। অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ চাইলে তোমাদেরকে এক জাতিতে পরিণত করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা করছ, সে বিষয়ে তোমাদের অবশ্যই জিজ্ঞাসা করা হবে’ (নাহল ১৬/৯৩)। সুতরাং মুসলমানদের মধ্যে একতা কাম্য হলেও তা হবার নয়। কেননা এই বিভক্তির মধ্য দিয়েই আল্লাহ তাঁর সৎ ও একনিষ্ঠ মুমিন বান্দাদেরকে অসৎ এবং কপট ঈমানদার থেকে বাছাই করে নেন।
সর্বোপরি এটাই স্বতঃসিদ্ধ যে, দুনিয়ায় আমাদের যাপিত জীবনের সবটুকু অংশই এক মহাপরীক্ষার অংশ এবং এতে সফল হওয়াই আমাদের জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। এই সত্যটা আমরা যতই অনুধাবন করব এবং এর প্রভাব যত বেশী আমাদের জীবনাচরণে পরিলক্ষিত হবে, ততই আমরা সফলতার উচ্চ সোপানে আরোহণ করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
📄 লক্ষ্যপূর্ণ জীবন
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষের চলার পথ ভিন্ন ভিন্ন রাখলেও সকলের গন্তব্য একই নির্ধারণ করে রেখেছেন। আমাদের জীবনের অবস্থানগত দিক হাযারো বৈচিত্র্যে ভরপুর থাকলেও পরিসমাপ্তির জায়গাটা সকলের জন্য এক। আমরা প্রত্যেকেই জ্ঞাতসারে কিংবা অজ্ঞাতসারে একটি সুনির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে ছুটে চলেছি। এমনকি মহাকালের জীব-জড় সকল প্রাণী ও বস্তুই সেই একক মহাগন্তব্যের পথে ধাবমান। এসব কিছু থেকে সুস্পষ্টই প্রতীয়মান হয়, আমাদের জীবনটা কিছুতেই লক্ষ্যহীন নয়। প্রতিবার মৃতজনের অনন্তযাত্রার সংবাদপ্রাপ্তিতে ‘ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ্ জন্য এবং তাঁর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন) যে শব্দবন্ধটি আমাদের মুখ থেকে বের হয়, তা আমাদেরকে জীবনের সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যের কথা গভীর উপলব্ধির সাথে স্মরণ করিয়ে দেয়।
মানবজীবন একমাত্র আল্লাহ্র উদ্দেশ্যেই নিবেদিত। আল্লাহ্র দাসত্বের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হ’লে এ জীবনের মূল লক্ষ্য। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই বাস্তব জীবনে এসে এই মহাসত্যটি ভুলে যায়। জীবনের ঊষালগ্নে নবীন কিশোরের চোখের দ্যুতিতে পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ যে রঙিন স্বপ্নের ঝিলিক এঁকে দেন সযতনে, তা জাগতিক প্রয়োজনে কিংবা সামাজিক বলয়ে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থানের জানান দেয়ার তাড়নায় বড় সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ধরা দেয় বটে; কিন্তু জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে সেটি নিছক একটি নিমিত্ত ভিন্ন কিছুই নয়। তবুও জৈবিক স্বপ্ন পূরণের সাধনাই পরিশেষে আমাদের অধিকাংশের জীবনের চূড়ান্ত গন্তব্যে পরিণত হয়। যার অনিবার্য ফলস্বরূপ দুনিয়াবী প্রাপ্তির গর্ব অথবা অপ্রাপ্তির বেদনা আমাদের ভাবনাজগতকে সর্বদা বেসামাল করে রাখে। অথচ জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকলে কোন অবস্থাতেই এসব ক্ষণস্থায়ী লোভনীয় বস্তুতে প্রতারিত হওয়ার কথা ছিল না।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন প্রয়োজন ব্যতিরেকে পৃথিবীতে কোন কিছুই সৃষ্টি করেননি। পৃথিবী পরিচালনার জন্য তিনি বিভিন্ন মানুষকে বিভিন্ন মেধা দিয়ে প্রেরণ করেছেন। মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত এই মেধা ব্যবহারের মাধ্যমে পার্থিব জীবনকে নানা মাত্রায় সুষমামণ্ডিত করে মানবসভ্যতাকে অগ্রযাত্রার পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। ক্বিয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতার কোন ছেদ ঘটবে না। সুতরাং সমাজের প্রত্যেকে আলেমে দ্বীন, কিংবা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী হবে; এমন কোন বাধ্যবাধকতা ইসলামে নেই। বরং যার যার মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী মানুষ পেশা বেছে নিতে পারে। তবে চূড়ান্ত বিচারে প্রতিটি কর্মের লক্ষ্য হতে হবে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি; এটাই হ’লে ইসলামী জীবনদর্শনের মূলকথা।
জীবনের মূল লক্ষ্যের এই তাৎপর্য অনুধাবন না করতে পারার কারণে অনেক দ্বীনদার ভাইকেও কখনও এমন হতাশায় নিক্ষিপ্ত দেখা যায় যে, তিনি ক্যারিয়ারের পিছনে সময় দিতে গিয়ে দ্বীনের কাজে যথেষ্ট সময় দিতে পারেন না। অথচ এটাই সত্য যে, তিনি যে হালাল ‘ক্যারিয়ার’ গঠনে সময় দিচ্ছেন এবং এর মাধ্যমে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন, সেটিই তার জন্য ‘ইবাদত’ হ’তে পারে, যদি এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন ও মানবতার সেবার সংকল্প করে থাকেন। অপরদিকে যে ব্যক্তি দ্বীনের খেদমতে ব্যস্ত রয়েছেন, অথচ তার লক্ষ্য হল দুনিয়া; তার দ্বীনের খেদমত আর ‘ইবাদত’ থাকে না। কেননা আল্লাহকে খুশী করা তার মূল লক্ষ্য নয়। তেমনিভাবে একজন ব্যক্তি যদি সর্বশ্রেষ্ট ইবাদত ছালাতও আদায় করে; অথচ ছালাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সে সচেতন নয়, কেবল মানুষকে দেখানোর জন্য ছালাত আদায় করে; তার ছালাত আর ‘ইবাদত’ থাকে না; বরং ‘আদাত’ বা নিছক অভ্যাসগত কর্মে পরিণত হয়। এই লক্ষ্যহীন ছালাতে তার কোন ছওয়াব হয় না, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনেও কোন উপকারে আসে না। মোদ্দাকথা, জীবনের মহান লক্ষ্যকে সামনে রাখতে পারলে মানুষের প্রতিটি পদক্ষেপই অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে লক্ষ্য সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান ও ঈমান না থাকলে অনেক সৎআমলও পরিশেষে অর্থহীন হয়ে যায়।
সুতরাং লক্ষ্যপূর্ণ জীবনই অর্থপূর্ণ জীবন। প্রতিটি কাজ আল্লাহ্র সন্তুষ্টির খালেছ নিয়তে করার প্রতিজ্ঞাকে সামনে রেখে যদি আমরা জীবন পরিচালনা করতে পারি কিংবা বহুল আলোচিত ‘ক্যারিয়ার’ গঠন করতে পারি, তবে কর্মক্ষেত্র যেখানেই হোক না কেন, পেশা যা-ই হোক না কেন, আমাদের জীবন প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনের পথেই ধাবিত হবে ইনশাআল্লাহ। আর এই লক্ষ্যকে বুকে ধারণ করা এবং সেই মোতাবেক নিজেকে পরিচালনা করতে পারা এবং না পারার মধ্যেই একজন মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করছে।
একজন মুমিন তার জীবনের লক্ষ্যের উপর কতটা অটুট তার প্রাথমিক একটা প্রমাণ হয়ে যায় তার দৈনন্দিন ছালাত আদায়ের মধ্যেই। কেননা ছালাতই প্রভুর সাথে একান্ত সান্নিধ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই ছালাত যে যত গুরুত্ব সহকারে এবং খুশ-খুযূ সহকারে আদায় করতে পারে, জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে তার সচেতনতা তত বেশী। এজন্য পবিত্র কুরআনে ছালাত আদায় নয়; বরং প্রতিবারই ছালাত কায়েমের কথা বলা হয়েছে। এই চেতনার উপর ছওয়াবেরও কম-বেশী হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, এমনও লোক আছে (যারা ছালাত আদায় করে বটে; কিন্তু সঠিকভাবে রুকন ও শর্তগুলো পূরণ না করায় এবং ছালাতে একাগ্রতা ও খুশু-খুযু না থাকায় ছালাতের পূর্ণ ছওয়াব পায় না) যাদের কেউ দশ ভাগের এক ভাগ, কেউ নয় ভাগের এক ভাগ, কেউ আট ভাগের এক ভাগ, কেউ সাত ভাগের এক ভাগ, কেউ ছয় ভাগের এক ভাগ, কেউ পাঁচ ভাগের এক ভাগ, কেউ চার ভাগের এক ভাগ, কেউ তিন ভাগের এক ভাগ, কেউবা অর্ধাংশ ছওয়াব পায় (আবুদাউদ হা/৭৯৬, সনদ হাসান)। অর্থাৎ জীবনের লক্ষ্যের সাথে যেমন আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের গভীর সংযোগ রয়েছে; তেমনিভাবে এর উপরই নির্ভর করে প্রতিটি ইবাদতের কুবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা।
স্মর্তব্য যে, লক্ষ্য নির্ধারণ করার পর তা অর্জনের চেষ্টা করতে গিয়ে আমাদের তরুণরা প্রায়শই ভুল পথে হাটে। কখনও তারা কোন পছন্দের ব্যক্তিকে মানদণ্ড ধরে নিয়ে তাকে অন্ধভাবে হুবহু অনুসরণ করে। অথচ এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। কেননা লক্ষ্য একই থাকলেও একেকজনের লক্ষ্য অর্জনের প্রকৃতি ও সফলতার ধরন একেক রকম। উদাহরণস্বরূপ আপেল গাছের নিচে বসে গবেষণা করলেই কেউ নিউটন হয়ে যায় না। মসজিদে নববীতে বসে পাঠগ্রহণ করলেই কেউ শায়খ উছায়মীন হয় না। সুতরাং কাউকে হুবহু অনুসরণ করাকে জীবনের লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যম হিসাবে গ্রহণ রক্ষা যাবে না। বরং ইখলাছ তথা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনই যেন আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়, তাহলে যে কোন লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।
লক্ষ্য অর্জনের পথে আধুনিক তরুণদের মধ্যে অপর যে সমস্যাটি প্রকট আকার ধারণ করেছে তা হল, খ্যাতি বা আত্মপ্রচারের নেশা। যার অনিবার্য ফলাশ্রুতি হ’ল ইখলাছের ঘাটতি, সফলতার জন্য শর্টকাট রাস্তা খোঁজা, কপটতা এবং শেষমেষ ব্যর্থতা ও হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হওয়া। তথ্যপ্রযুক্তি এবং নিত্য-নতুন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রসার এতে যোগ করেছে অবক্ষয়ের এক নতুন অধ্যায়। জীবনে বড় স্বপ্ন থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। জীবনের যদি কোন বিশেষ লক্ষ্য না থাকে, মহৎ কিছুর স্বপ্ন না থাকে তবে সে জীবন সৃজনশীল ও সার্থক হয়ে গড়ে ওঠে না। সুতরাং তারুণ্যের স্বপ্নজগতের সীমা-পরিসীমা আকাশছোঁয়া থাকবে, এটাই প্রত্যাশিত। এপিজে আবুল কালামের মতে, ‘স্বপ্ন তা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখ, বরং স্বপ্ন তা-ই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না’। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, স্বপ্ন হবে বাস্তবতাবিবর্জিত, স্বপ্ন ছোঁয়ার পথ ও পদ্ধতি হবে কোন শর্টকাট রাস্তায় কিংবা অসদুপায় অবলম্বন করে। আত্মপ্রচার, আত্মপ্রশংসা, সমাজে নাম-ডাক, প্রভাব- প্রতিপত্তি লাভের গোপন প্রত্যাশা কখনই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ নয়।
কোন মহৎ স্বপ্ন অর্জন করতে গেলে তার পিছনে অবশ্যই দীর্ঘ সময় দিতে হয়। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। একাধারে তার পিছনে লেগে থাকতে হয়। তার প্রতি সৎ এবং বিশ্বস্ত থাকতে হয়। সর্বোপরি আল্লাহ প্রদত্ত যোগ্যতা এবং তাঁর রহমতে তা পরিপূর্ণতা লাভ করে। সুতরাং কোন স্বপ্ন অর্জনে একনিষ্ঠতা, সৎনিয়ত এবং সঠিক কর্মপন্থার কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীতে সফল ব্যক্তিমাত্রই এক বাক্যে বলেছেন, জীবনে সফল হওয়ার জন্য কোন শর্টকাট পথ নেই। মানুষ ততটুকুই পাবে, যতটুকু সে চেষ্টা করেছে। একনিষ্ঠতা ও অধ্যবসায় না থাকলে কেউই সফল হ’তে পারে না।
অতএব সফলতা অর্জনে ইখলাছের কোন বিকল্প নেই। পৃথিবীতে যারাই সফলতার শিখরে আরোহণ করেছেন, তাদের প্রত্যেকের মাঝেই সাধারণ যে গুণ বা বৈশিষ্ট্যটি সর্বাধিক লক্ষ্যণীয় তা হ’ল একনিষ্ঠতা। যারা যে কাজে একনিষ্ঠ ও সৎ থেকেছেন, বিশ্বস্ততার সাথে নিজের কর্তব্য সমাধা করেছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে আবশ্যকভাবে সফলতার মুকুট পরেছেন। যদিওবা কেউ জীবদ্দশায় সফল হননি, তবুও পরবর্তী প্রজন্ম তার ফসল যুগ যুগ ধরে ভোগ করে গেছে। অপরপক্ষে কোন কাজ যদি সততা, একনিষ্ঠতা, বিশ্বস্ততা ও আমানতদারিতার সাথে না করা হয়, তবে যত বড় কাজই হোক না কেন, তাতে সফলতা আসতে পারে না। সাময়িকভাবে তা কখনও রঙ চড়ালেও এক সময় তা বুদবুদের মতই হারিয়ে যায়।
ইখলাছহীন কর্ম যেমন দুনিয়াবী জীবনে সফলতা পায় না, তেমনি পরকালীন জীবনেও তার কোন মূল্য থাকে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন, ‘আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের আমলই গ্রহণ করে থাকেন’ (মায়েদা ৫/২৭)। রাসূল (ছাঃ)- কে একদিন এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল, সেই ব্যক্তি সম্পর্কে আপনি কী বলবেন যে আল্লাহ্র রাস্তায় যুদ্ধ করে নেকীও লাভ করতে চায় আবার মানুষের মধ্যে প্রসিদ্ধিও অর্জন করতে চায়? রাসূল (ছাঃ) বললেন, তার জন্য কিছুই নেই। সেই ব্যক্তি তিনবার একই প্রশ্ন করল, রাসূল (ছাঃ) একই জবাব দিলেন। অতঃপর বললেন, আল্লাহ সেই আমল ব্যতীত কোন আমল কবুল করেন না, যে আমল কেবল তাঁরই উদ্দেশ্যে এবং তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের প্রত্যাশায় করা হয় (নাসাঈ হা/৩১৪০, সনদ ছহীহ)। সুতরাং ইখলাছহীন আমল যে কত ভয়ংকর, তা এই হাদীছ থেকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
একজন পশ্চিমা লেখকের ভাষায়, ‘একনিষ্ঠতা একজন অতি সামান্য ব্যক্তিকেও ‘প্রবল মেধাবী, অথচ কপট’-এমন ব্যক্তির চেয়ে অধিকতর মূল্যবান করে তোলে’ (Sincerity makes the very least person to be of more value than the most talented hypocrite)। অর্থাৎ সুতরাং তরুণ সমাজ যারা আপন মেধা বিকাশের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, আত্মপরতা, আত্মপ্রচার, সমাজে নাম-ডাক লাভের আকাংখা প্রভৃতি আত্মবিনাশী রোগ যেন আমাদেরকে কোনমতেই গ্রাস না করে ফেলে। কেননা মেধার সাথে ইখলাছ, সততা ও আমানতদারিতা যদি যুক্ত না হয়, তবে সেই মেধা কখনই জাতির উপকারে আসবে না। খ্যাতির সাময়িক রঙিন জগত হয়ত পুলক যোগাবে, কিন্তু আদতে তা দুনিয়া ও আখেরাতে কোথাও সফলতার মুখ দেখবে না। এটাই আল্লাহ্ রীতি। সুতরাং সফলতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই একনিষ্ঠ থাকতে হবে, নিজের অন্তর্জগতকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে, উদ্দেশ্যে সৎ থাকতে হবে এবং আমানতদারিতার সাথে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সর্বোপরি লক্ষ্যে অটুট থাকতে হবে। তবেই আল্লাহ্র রহমত নেমে আসবে এবং ব্যক্তি ও সমাজের জন্য তা একদিন কল্যাণময় পথের দিশারী হবে ইনশাআল্লাহ।
📄 নৈতিক দৃঢ়তা
ঈমান আনার পর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন যে বিষয়টিকে সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তা হ’ল ঈমানের উপর দৃঢ় থাকা। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঈমানী দৃঢ়তা অর্জনের জন্য আহ্বান করা হয়েছে মুমিনদেরকে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মাদ! তুমি এবং তোমার সাথে যারা তওবা করেছে সবাই সরলপথের ওপর দৃঢ় থাক, যেভাবে তোমাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর তোমরা সীমালংঘন করো না। নিশ্চয়ই তোমরা যা কিছু করছ তা তিনি দেখছেন (হৃদ ১১২)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই যারা বলেছে আমাদের প্রভু আল্লাহ এবং তার ওপর দৃঢ় থেকেছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না (আহক্বাফ ১৩)। অনুরূপভাবে রাসূল (ছাঃ) নিজেও ছাহাবীদেরকে সতর্ক করেছেন। সুফিয়ান বিন আব্দুল্লাহ ছাক্বাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ)-কে একবার জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন একটি কথা বলুন, যে সম্পর্কে আমি আর অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করব না। নবী করীম (ছাঃ) বললেন, ‘তুমি বল, আমি ঈমান এনেছি, অতঃপর তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাক’ (মুসলিম হা/৬২)।
ইস্তিক্বামাত তথা ঈমানী দৃঢ়তার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে হাফেয ইবনুল কাইয়িম (রহঃ) বলেন, ‘ইস্তিক্বামাত এমন একটি শব্দ যা দ্বীনের সবকিছুকেই শামিল করে। এটি হ’ল আল্লাহ্ সম্মুখে পূর্ণ আমানতদারিতা এবং অঙ্গীকারাবদ্ধতা নিয়ে দণ্ডায়মান হওয়া। এর সম্পর্ক কথা, কর্ম ও নিয়তের সাথে। সবকিছু কেবলমাত্র আল্লাহ্ জন্য হওয়া, আল্লাহ্র পথে হওয়া এবং আল্লাহ্র নির্দেশ মোতাবেক হওয়ার মাধ্যমে ইস্তিকামাত অর্জিত হয়’ (মাদারিজুস সালিকীন)।
অন্যত্র তিনি বলেন, অন্তরে নৈতিক দৃঢ়তা বা ইস্তিক্বামাত সৃষ্টির মাধ্যম হ’ল, আল্লাহ্র আদেশ ও নিষেধকে গুরুত্ব প্রদান করা। আর সেটা জাগ্রত হয় আদেশ ও নিষেধকর্তা তথা আল্লাহ্র প্রতি শ্রদ্ধা পোষণের মাধ্যমে (আল-ওয়াবেলুছ ছাইয়েব)। কোন কোন বিদ্বান বলেন, ইস্তিক্বামাত হ’ল রাসূল (ছাঃ) প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করা এবং প্রবৃত্তির পথে না চলা।
একজন মুসলমানের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় তার ইস্তিক্বামাত তথা নৈতিক ও আদর্শিক দৃঢ়তার মাধ্যমে। যিনি যত শক্তিশালী ঈমানদার, তার নৈতিক দৃঢ়তা তত বেশী। শয়তানের প্রতারণা এবং দুনিয়াবী কোন লোভ-লালসার কাছে তিনি পরাজিত হন না। যদি কখনওবা নফসের প্ররোচনায় পদস্খলিত হনও, তবে সম্বিত ফিরে পাওয়া মাত্র নিজেকে সংশোধন করে নেন। অপরদিকে যিনি যত দুর্বল ঈমানদার, তার নৈতিক দৃঢ়তা তত কম। শয়তানের কাছে তিনি সহজেই পরাজিত হন। সামান্য দুনিয়াবী স্বার্থের টোকায় তিনি পথভ্রষ্ট হয়ে যান। এমনকি একসময় অন্তরে এমনভাবে মোহর পড়ে যায় যে, সংশোধনের পথ অনুসন্ধানের চেতনাটুকুও হারিয়ে ফেলেন।
সমাজে চলার পথে এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ পাই, যারা একসময় দ্বীনের পথে চলতেন, কিন্তু দুনিয়াবী ব্যস্ততার অজুহাতে দ্বীন থেকে এত দূরে সরে গেছেন যে, ফরয ছালাতটুকুও নিয়মিত আদায় করেন না। অনেক মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রকে দেখা যায় কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় পরিবর্তিত হয়েছেন, এমনকি নিজের দ্বীনদারিতায় সমৃদ্ধ অতীতকে পর্যন্ত বেমালুম ভুলে গেছেন। অনেক ভাইকে দেখা যায়, তীব্র আবেগ নিয়ে দ্বীনের পথে এসেছেন, কিছুকাল পরই সে আবেগে ভাটা পড়ে আবার দ্বীন থেকে দূরে সরে গেছেন। জীবনের উষাকালে যে বোনটি পর্দার সাথে চলতেন এবং ধার্মিকা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ করার পর সহসাই তিনি এখন দ্বীনের সাথে সম্পর্কচ্যুত। কিছুকাল পূর্বে যে ভাইটি সমাজে আদর্শবান ও দ্বীনী ব্যক্তিত্ব হিসাবে বরিত হয়েছেন, সময়ের আবর্তে তিনি এখন ভিন্ন চিন্তাধারা, ভিন্ন বসনের মানুষ। একসময় যিনি ছিলেন দ্বীনদার তরুণদের আইকন; তিনি এখন আদর্শহীন, চেতনাহীন, নিফাকীর সমুদ্রে নিজেকে হাতড়ে ফেরা এক পচনুন্মুখ বর্জ্যসদৃশ। এসবই ইস্তিক্বামাত হারানোর পরিণাম। ভয়ংকর ব্যাপার এই যে, কোন ব্যক্তি একবার দ্বীনের পথ থেকে বিচ্যুত হলে, খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে, তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। শয়তানের চক্রান্ত তাদের উপর এত শক্তিশালীভাবে বিজয়ী হয়ে যায়, যে তা থেকে তওবার পথ যেন তাদের জন্য চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যায়। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন!
তারুণ্য ও যৌবনে পদার্পণকারী সত্যপিয়াসী ভাই ও বোনদের প্রতি বিনীত পরামর্শ- ইসলামকে প্রকৃত অর্থে জানুন এবং বুঝুন। দ্বীনকে স্বীয় চিত্তে দৃঢ়ভাবে ধারণ করুন। নিজেকে পরিপূর্ণভাবে আল্লাহ্র আনুগত্যের কাছে সঁপে দিন। রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশিত পথকে নিজের জন্য একান্ত আপন করে নিন। শয়তান ও প্রবৃত্তির পথে চলাকে নিজের জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর করে দিন। আত্মসমালোচনা, তওবা-ইস্তিগফারকে নিজের দৈনন্দিন কর্মসূচীতে পরিণত করুন। এভাবে নিত্য প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে নৈতিক ও আদর্শিক দৃঢ়তা সৃষ্টি হবে, তা-ই হকের উপর আমৃত্যু আমাদেরকে টিকিয়ে রাখবে। দুনিয়াবী স্বার্থের কাঁটা এবং শয়তানী চক্রান্ত সহজে গ্রাস করতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। পবিত্র কুরআনে এসেছে, আল্লাহ মুমিনদের দৃঢ় বাক্য দ্বারা মযবুত রাখেন ইহকালীন জীবনে ও পরকালে (কবরে) এবং সীমালংঘনকারীদের পথভ্রষ্ট করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ যা চান তাই করেন’ (ইবরাহীম ১৪/২৭)। নিঃসন্দেহে সেই ‘দৃঢ় বাক্য’ হ’ল তাওহীদের কালেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
এই নৈতিক দৃঢ়তা সৃষ্টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হ’ল, আল্লাহ্র সাথে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। নফল ইবাদত, যিকির-আযকার, হালাল-হারামের সীমারেখা মেনে চলার মাধ্যমে যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহ্র যত নিকটবর্তী করে নিতে পারবে তার জন্য আল্লাহ্র উপর সর্বাবস্থায় ভরসা রাখা এবং দৃঢ় নৈতিক অবস্থান নিয়ে টিকে থাকা সহজ হয়ে যায়। সমস্ত দুনিয়াও যদি এরূপ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলে যায়, তবুও তারা বিচলিত হয় না, পদস্খলিত হয় না। এরূপ মুমিনদের লক্ষ্য করেই রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মুমিনের ব্যাপারটি বড়ই বিস্ময়কর। তার সমস্ত বিষয়টিই কল্যাণময়। মুমিন ব্যতীত আর কারু জন্য এরূপ নেই। যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে শুকরিয়া আদায় করে। ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যখন তাকে অকল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে ছবর করে। ফলে এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুসলিম হা/২৯৯৯)। আল্লাহ আমাদের সকল ভাই-বোনকে দৃঢ় নৈতিকতাসম্পন্ন ও আদর্শবান বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নিন। আমীন!
📄 ইতিবাচকতা
আমেরিকান শিক্ষাবিদ স্টিফেন কভেই (১৯৩২-২০১২)-এর মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারণতঃ ১০% বিষয় এমন থাকে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কিন্তু বাকি ৯০% বিষয় হল কোন ক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আমাদের প্রতিক্রিয়ার ফলাফল। এটি তার ‘৯০/১০ তত্ত্ব’ নামে পরিচিত। তিনি উদাহরণ দেন, যেমন আপনি সকালে নাশতার টেবিলে বসলেন। এ সময় আপনার সন্তানের হাতে লেগে কফির মগটি আপনার জামায় উল্টে পড়ল। এ বিষয়টির উপর না আপনার কোন নিয়ন্ত্রণ বা হাত ছিল, আর না আপনার সন্তানের। একটি অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা। কিন্তু এর পরবর্তীতে যা ঘটবে তা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন। কীভাবে? যদি আপনি এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখান, রাগান্বিত হন এবং আপনার সন্তানকে ধিক্কার দেন; তাহ’লে সন্তান কাঁদবে। আপনি হয়ত আপনার স্ত্রীকেও ধমক দেবেন কফির মগটি টেবিলের কিনারে রাখার জন্য। হয়ত মৌখিক তর্ক হবে দু’জনের মাঝে। তারপর আপনি ঘরে গিয়ে দ্রুত জামাটি পাল্টিয়ে নতুন জামা পরে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হবেন। কিন্তু আপনার সন্তানটি তখনও কাঁদছে এবং স্কুলের বাস মিস করেছে। আপনি তাকে নিজের গাড়িতে করে স্কুলে নিয়ে গেলেন অতিরিক্ত গতিতে। ফলে আপনাকে ট্রাফিক আইন লংঘনের দায়ে জরিমানা দিতে হ’ল। অতঃপর আপনি ২০ মিনিট দেরীতে অফিসে পৌঁছে দেখলেন তাড়াহুড়োর মধ্যে আপনার ব্রিফকেসটি বাড়ীতে রেখে এসেছেন। এভাবে আপনার সকালটা ভয়ংকরভাবে শুরু হ’ল। দিন শেষে যখন বাড়ি এলেন, তখনও আপনার সন্তান এবং স্ত্রী আপনার সাথে আন্তরিকভাবে কথা বলবে না, আপনার সকালের রুক্ষ আচরণের কারণে।
এবার ভাবুন, কেন আপনার দিনটা মন্দভাবে গেল? কফির কারণে? আপনার সন্তানের কারণে? আপনার স্ত্রীর কারণে? ট্রাফিক পুলিশের কারণে? না, এর কোনটাই না, বরং এর কারণ আপনি নিজেই। যদি সকালে মাত্র ৫ সেকেণ্ডের ঐ অনাকাংখিত আচরণটি না করতেন, তাহ’লে পুরো দিনটি আপনার এমন নিরানন্দ হওয়ার কথা ছিল না। এর বদলে যদি আপনি ঐ পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারতেন সন্তানকে এরূপ কথা বলে যে, ‘কোন সমস্যা নেই বাবা, তোমাকে পরবর্তীতে আরও সতর্ক থাকতে হবে’। তাহলে পুরো চিত্রটি ভিন্ন রকম হ’ত। কোন জটিলতার অবকাশ থাকত না। একটি সঠিক প্রতিক্রিয়া এভাবে বহু জটিলতা থেকে আমাদেরকে রেহাই দেয়, আবার ভুল প্রতিক্রিয়া তৈরী করে নানান অশান্তি এবং বিশৃংখলা।
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত ঘটনার মত জীবনে আমাদেরকে ছোট-বড় বহু ধরনের সংকট অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু প্রায়ই সেসব ঘটনায় আমরা অনর্থক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিষয়গুলো অসম্ভব জটিল করে তুলি। অথচ ইতিবাচক দৃষ্টিতে তার মোকাবিলা করতে পারলে জীবনের স্বচ্ছ-সরল গতিধারায় তেমন কোন ছেদ পড়ত না। আপনার বাস বা ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছাড়েনি? সময়টা অন্য কাজে লাগান। বই পড়ুন। কোন নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হন। নতুন কোন ভাবনার অর্গল খুলে দিন। আপনার চাকুরী চলে গেছে? নতুন কোন চাকুরী খুঁজুন। আরো বড় চাকুরীর জন্য প্রস্তুতি নিন। কেন হতাশায়, বিরক্তিতে নিমজ্জিত হবেন? তাতে কী লাভ? সেই সময়টা বরং জীবনের নতুন কোন বৈচিত্র্যের জায়গা অনুসন্ধানে ব্যয় করুন। এভাবে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ ঘটিয়ে সহজেই আমরা জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও অর্থপূর্ণ করে তুলতে পারি। নিজেকে সযতনে দূরে রাখতে পারি অনর্থক ঝামেলা আর বিবাদ-বিসম্বাদ থেকে। কোন বিষয়কে কঠিন করে তুলে নিজের উপর যুলুম চাপিয়ে দেবেন, নাকি তার সরল সমাধান খুঁজে নিজেকে প্রশান্ত রাখবেন, এ সিদ্ধান্তটা একান্তই আপনার নিজের।
বিশেষ করে যারা আখেরাতে বিশ্বাসী এবং পরকালীন সঞ্চয়ই জীবনের একমাত্র মিশন ও ভিশন হিসেবে নিয়েছে; তাদের জন্য দুনিয়াবী জটিলতা ও স্বার্থহানি কখনই এতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না যে, তা তাদের স্বাভাবিক মানবিকতা ও নৈতিকতাবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। দুঃখজনক ব্যাপার এই যে, এমন অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষকেও দেখা যায়, যারা জীবনের কোন সংকট মুহূর্তে নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি; বরং অবিবেচক ও ধৈর্যহীনভাবে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যার খেসারত তাদেরকে সারাজীবন ধরে দিতে হয়েছে প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ততা, বিপন্নবোধ এবং অন্তর্জালা নিয়ে। জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে এক অপচিত জীবন নিয়ে তারা ধুঁকতে থাকে আমৃত্যু। অথচ সময়মত একটুখানি ধৈর্যধারণ হয়ত এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারত।
সুতরাং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নেতিবাচক মানসিকতা, প্রতিক্রিয়া এবং কর্মকাণ্ড মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। আবার এর বিপরীতে ইতিবাচকতার ফলাফল হয় অতীব মধুর। ইসলামে ছবর বা ধৈর্যের ব্যাপারে এ জন্যই এত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেননা ধৈর্য মানুষকে সবসময় ইতিবাচক রাখে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখায়, সংকটের সময় সঠিক সমাধানের পথ বাতলে দেয়; সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে দৃঢ় রাখে। এমন গুণসম্পন্ন মানুষের হাতে সমাজ কখনও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরং পরার্থপরতা, সহমর্মিতা ও সহনশীলতাই হয় তাদের জীবনের মূলমন্ত্র। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কত চমৎকারভাবে না মানবজাতিকে ইতিবাচকতার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, ‘ভাল এবং মন্দ এক নয়, (হে রাসূল!) আপনি (মন্দের) প্রতিরোধ করুন সর্বোৎকৃষ্ট দ্বারা, তাহলে দেখবেন যে ব্যক্তির সাথে আপনার শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এমন (মহৎ) চরিত্র কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এই চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহা সৌভাগ্যবান (ফুছছিলাত ৩৪, ৩৫)। তিনি আরও বলেন, নিশ্চয়ই কঠিনের সাথে রয়েছে সহজতা (ইনশিরাহ ৬)। ইসলাম শিখিয়েছে- কোন বিপদ ও সমস্যার শুরুতেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারা ব্যক্তিই হ’ল প্রকৃত ধৈর্যশীল। রাসূল (ছাঃ) বলেন, الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى ‘ধৈর্য তো সেটাই, যেটা (বিপদ বা সমস্যার) শুরুতেই ধারণ করা হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১৭২৮)।
বস্তুতঃ মানবজীবন হ’ল পরীক্ষার জীবন। ফলে যে কোন সময় অনাকাঙখিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন- কে কর্মে ও আচরণে অধিক উত্তম। সুতরাং যদি বিপদের সময় অধৈর্য না হয়ে আল্লাহ্র উপর প্রগাঢ় ভরসা রাখা যায় এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রেখে বলা যায়, ‘হয়তবা আল্লাহ আমাদেরকে অধিকতর উত্তম বদলা দেবেন, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের পালনকর্তার কাছে আশাবাদী’ (কলম ৩২), তাহলে বহু পারিবারিক ও সামাজিক বিশৃংখলার হাত থেকে আমরা রেহাই পেতে পারি। আর একজন মুমিনের জন্য আল্লাহ-নির্ভরতাই তো জীবনের পরমার্থ। আল্লাহ বলেন, ‘(হে রাসূল!) আপনি বলে দিন! আল্লাহই তোমাদেরকে (ভয়-ভীতি) থেকে মুক্তি দেন এবং সকল দুঃখ-বিপদ থেকে’ (আনআম ৬৪)। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য মুক্তির পথ খুলে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেন, যা সে চিন্তাও করে নি। যে ব্যক্তি আল্লাহ্ উপর ভরসা রাখে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট’ (তালাক ২-৩)। সুতরাং কথায়-কাজে, চলনে-বলনে যথাসাধ্য ইতিবাচকতা বজায় রাখাই আমাদের কর্তব্য। জীবনকে নির্ঝঞ্ঝাট ও লক্ষ্যের পথে অবিচল রাখতে চাইলে এই শক্তিশালী মূলমন্ত্রটি কখনও হাতছাড়া করা যাবে না। জীবনের প্রতি পদে মনে রাখুন রাসূল (ছাঃ)-এর এই চিরন্তন উপদেশ, ‘মুমিনের ব্যাপারটি বড়ই বিস্ময়কর, তার সমস্ত বিষয়টিই কল্যাণময়। মুমিন ব্যতীত আর কারো জন্য এরূপ নেই। যখন তাকে কল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে শুকরিয়া আদায় করে। ফলে এটা তার জন্য কল্যাণকর হয়। আর যখন তাকে অকল্যাণ স্পর্শ করে, তখন সে ছবর করে, ধৈর্য ধরে। ফলে এটাও তার জন্য কল্যাণকর হয়’ (মুসলিম হা/২৯৯৯)। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হবে- দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী যিন্দেগীকে স্রেফ পরকালীন উপার্জনের নিমিত্ত মনে করে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে সম্মুখপানে অগ্রসর হওয়া। নিশ্চিন্ত ও নির্ভার জীবন যাপন করতে চাইলে এর চেয়ে উত্তম প্রভাবক আর নেই।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘ভাল এবং মন্দ এক নয়, (হে রাসূল!) আপনি (মন্দের) প্রতিরোধ করুন সর্বোৎকৃষ্ট দ্বারা, তাহলে দেখবেন যে ব্যক্তির সাথে আপনার শত্রুতা রয়েছে, সে যেন অন্তরঙ্গ বন্ধু। আর এমন (মহৎ) চরিত্র কেবল তারাই লাভ করে যারা ধৈর্য ধারণ করে এবং এই চরিত্রের অধিকারী তারাই হয়, যারা মহা সৌভাগ্যবান। -ফুছছিলাত ৩৪, ৩৫।