📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ

📄 আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ


আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আবু আব্দুল্লাহ আব্দুল আযীয বিন ইয়াকুব বিন মুতাওয়াক্কিল জিন্দীর মেয়ে হাজ মুলক-এর গর্ভে ৮১৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। খিলাফত তার পিতার হস্তগত ছিল না। তিনি শৈশব থেকেই সুন্দর চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি জ্ঞান আহরণে মশগুল থাকতেন। তিনি আমার পিতার কাছেও ইলম অর্জন করেছেন। তার চাচা মুকতাফী তার মেয়ের সাথে তাকে বিয়ে দেন। তার ঔরসে এক পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করে যিনি অত্যন্ত নেককার, হাশিমী এবং হাশিমীর আওলাদ। মুসতানজিদের অসুস্থতার সময় তাকে উত্তরাধিকার মনোনীত করা হয়। তার মৃত্যুর পর ৮৮৪ হিজরীর মুহাররম মাসের ১৬ তারিখ সোমবারে সুলতান, বিচারপতিগণ এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দের উপস্থিতিতে আম জনতা তার হাতে বাইআত করে। বাইআতের পর কেল্লা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। সেদিন তার সাথে ছিল গোটা মন্ত্রী পরিষদ। সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে আবার কেল্লায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি মুসতানজিদের মত কেল্লায় বসবাস করতেন।

এ বছর সুলতান মুলকূল আশরাফ হজের জন্য হিজায গমন করেন। তার পূর্বে ১০০ বছর কোন সুলতান হজ করেননি। হজের পূর্বে তিনি মদীনা শরীফে যিয়ারত করেন এবং সেখানে ৬০০০ দিনার খরচ করেন। অতঃপর মক্কায় এসে ৫০০০ দিনার ব্যয় করেন। সেখানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং এখানে একজন বড় মাপের উস্তাদকে নিয়োগ দেন। হজের আহকাম শেষ করে ফেরার সময় শহরে খুশির বন্যা বয়ে যায়। ৮৮৫ হিজরীতে দাওয়াদারের নেতৃত্বে মিসরের সৈন্যরা ইরাকের উপর হামলা চালায়। ইয়াকুব শাহ বিন হাসান রাহী অঞ্চলে তাদের সাথে লড়াই করে। এ যুদ্ধে মিসরীরা পরাজিত, অনেক মিসরী নিহত এবং দাওয়াদার কয়েদ হয়। পরে তাকে হত্যা করা হয়। এ যুদ্ধটি রমযানুল মোবারক মাসের শেষ দিকে সংঘটিত হয়। ৮৮৬ হিজরীর ১৭ই মুহাররম ভূমিকম্প হয়। এতে মাদরাসা সালিহার ছাদ ধসে পড়ে বিচারপতি শরফুদ্দীন বিন আব্দ নিহত হন। এ বছর রবিউল আউয়াল মাসে খাকী নামক একজন ভারতীয় লোক এসে তার বয়স ১৫০ বছর দাবী করে। আমিও (গ্রন্থকার) তাকে দেখেছি। তার দাড়ি কালো, সে বলেছে, আমি ১৮ বছর বয়সে হজ করে ভারতে ফিরে যাই। সুলতান হাসানের যুগে তাতারীদের আক্রমণের সময় বাগদাদ হয়ে মিসর আসি। আমার মতে সে মিথ্যা বলেছে। এ বছর শাওয়াল মাসে মদীনা শরীফ থেকে এ মর্মে পত্র আসে যে, রমযানুল মুবারকের ১৩ তারিখে বজ্রপাতের কারণে মসজিদে নববী (সা.)-এর ছাদ, খাযানা এবং গ্রন্থাদি জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে যায়। মসজিদের দেয়াল ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না- যা এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। ৯০৩ হিজরীর মুহাররম মাসের শেষ বুধবারে খলীফা মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ ইন্তেকাল করেন। তিনি পুত্র ইয়াকুবকে আলসাতমাসাক বিল্লাহ উপাধি দিয়ে ওলী আহাদ মনোনীত করে যান। এটাই হল সর্বশেষ অবস্থা যা আমি এই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করলাম।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 স্পেনের উমাইয়্যা রাজত্ব

📄 স্পেনের উমাইয়্যা রাজত্ব


স্পেনের প্রথম বাদশাহ আব্দুর রহমান বিন মুআবিয়া বিন হিশাম বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান। ১৪৮ হিজরীতে স্পেনে পালিয়ে গেলে তার নিকট খিলাফতের বাইআত করা হয়। তিনি আলেম এবং ন্যায়পরায়ণ। ১৭০ হিজরীর রবিউল আখের তার মৃত্যু হলে তদস্থলে তদীয় পুত্র হিশাম আবু ওয়ালীদ তখতে আরোহণ করেন। ১৮০ হিজরীর সফর মাসে তার মৃত্যুর পর তার ছেলে আল-হাকাম আবুল মুযাফফর মুর্তজা উপাধি নিয়ে মসনদে বসেন। ২০৬ হিজরীর যিলহজ মাসে তিনি মারা যান। তার ছেলে আব্দুর রহমান পিতার শূন্য তখত অলংকৃত করেন। তিনি সর্বপ্রথম স্পেনের মাটিতে উমাইয়্যাদের শাসন ব্যবস্থা পরিপক্ক ও মজুত করেন। তিনি স্পেনে খিলাফতের মহত্ত্ব ও আভিজাত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তার যুগে পোশাক অলংকৃত করা হয় এবং দিরহাম তৈরি করা হয়। এর আগে এখানে মুদ্রা তৈরি হতো না। পূর্বাঞ্চলীয় লোকেরা যে দিরহাম নিয়ে আসত তাই এখানে চলত। তিনি মুদ্রা তৈরির কারখানা নির্মাণ করেছিলেন। তিনি শান-শওকত ও প্রভাব-প্রতিপত্তির দিক থেকে ওয়ালীদ বিন আব্দুল মালিকের মত এবং দর্শন শাস্ত্র প্রবর্তনের ক্ষেত্রে বনূ আব্বাসের খলীফা মামুনের অনুরূপ ছিলেন। তিনি স্পেনে সর্বপ্রথম দর্শন নিয়ে আসেন। ২৩৯ হিজরীতে তার ইন্তেকালের পর তার ছেলে মুহাম্মাদ তখত নসীন হন। ২৭৩ হিজরীর সফর মাসে তার অন্তর্ধানে তার ছেলে আল-মুনযির বাদশাহ হন। ২৭৫ হিজরীর সফর মাসে তার মৃত্যুর পর তার ভাই আব্দুল্লাহ মসনদে উপবেশন করেন। তিনি স্পেনের খলীফাদের মধ্যে ইলম ও শরীয়তের দিক দিয়ে সর্বোত্তম। ৩০০ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে তার ইন্তেকালের পর তদস্থলে তার পৌত্র আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ আননাসর উপাধি নিয়ে তখতে উপবেশন করেন। তিনি সর্বপ্রথম স্পেনকে খিলাফতের উপাধিতে ভূষিত করেন এবং সর্বপ্রথম তাকে আমিরুল মুমিনীন হিসেবে সম্বোধন করা হয়। খলীফা মুকতাদরের শাসনকালে বনু আব্বাসের খিলাফত দুর্বল হয়ে পড়ায় তিনি স্পেনের মাটিতে খিলাফত দাবী করেন এবং আমিরুল মুমিনীন উপাধি ধারণ করেন। তার পূর্বের সকল বাদশাহকে 'আমীর' হিসেবে স্মরণ করা হতো।

৩৫০ হিজরীতে তার মৃত্যুতে তার ছেলে আল-হাকিম আল-মুসতানসির বাদশাহ হন, যিনি ৩৬৬ হিজরীর সফর মাসে পরলোক গমন করেন। তার পর তার ছেলে হিশাম আল-মুঈদ তখতে আরোহণ করেন। ৩৯৯ হিজরীতে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে বন্দী করা হয়। তদস্থলে মুহাম্মদ হিশাম বিন আব্দুল জাববার বিন নাসের আব্দুর রহমান 'আল-মাহদী' উপাধি নিয়ে তখতে আসীন হন। ছয় মাস পর তার ভাতিজা হিশাম বিন সুলায়মান বিন নাসর আব্দুর রহমান হামলা চালিয়ে বাদশাহ হন। অতঃপর তার উপর তার চাচা হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করে বাদশাহ হন। জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে অপসারণ করে। তিনি আত্মগোপন করেন। অবশেষে খুঁজে বের করে তাকে হত্যা করা হয়। স্পেনের জনতা হিশামের হত্যাকারীর ভাতিজা সুলায়মান বিন হাকাম আল-মুসতানসিরকে 'আল-মুসতাইন' উপাধি দিয়ে তার কাছে বাইআত করে। অতঃপর প্রজাবৃন্দ তার সাথে লড়াই করে ৪০৬ হিজরীতে তাকে বন্দী করে এবং আব্দুর রহমান বিন আব্দুল মালিক বিন নাসরকে মুর্তজা লকব দিয়ে তার নিকট বাইআত করে নেয়। বছরের শেষে তাকেও হত্যা করা হয়। তার অন্তর্ধানে উমাইয়্যা শাসনের পতন হয়। তদস্থলে গড়ে উঠে ফাতেমী শাসনের সৌধ। ৪০৭ হিজরীর মুহাররম মাসে আন-নাসর আলী বিন হামুদ ফাতেমী রাজত্বের তখতে সমাসীন হন। ৪০৮ হিজরীর যিলকদ মাসে তাকে হত্যা করে তদস্থলে তার ভাই আল-মামুন আল-কাসিম বাদশাহ হন। ৪১১ হিজরীতে তাকে অপসারণের পর তার ভাতিজা ইয়াহইয়া বিন নাসর আলী বিন হামুদ 'আল-মুসতা'আলা' উপাধি নিয়ে বাদশাহ হন। ১ বছর ৭ মাস পর তাকে হত্যার মাধ্যমে আবার উমাইয়্যা রাজত্ব ফিরে আসে। আল-মুসতাযহার আব্দুর রহমান বিন হিশাম বিন আব্দুল জাব্বার (উমাইয়্যা বংশীয়) বাদশাহ হন। ৫০ দিন পর তাকে হত্যা করা হলে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান বিন উবায়দুল্লাহ বিন নাসর আব্দুর-রহমান আল-মুকতাফী উপাধি নিয়ে ক্ষমতারোহণ করেন। ১ বছর ৪ মাস পর তাকে অপসারণ করা হয়। তদস্থলে হিশাম বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল মালিক বিন নাসর আব্দুর রহমান আল-মুতামাদ বাদশাহ হন। কিছু দিন পর তাকেও অপসারণ এবং বন্দী করা হয়। ৪০০ হিজরীর সফর মাসে অথবা এর চেয়ে কয়েক হিজরী পরে তিনি বন্দী অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর সাথে সাথে স্পেনের মাটিতে উমাইয়্যা শাসনেরও মৃত্যু হয়।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 পাশ্চাত্যের উবায়দিয়া রাজত্ব

📄 পাশ্চাত্যের উবায়দিয়া রাজত্ব


পাশ্চাত্যে (তথা আরবের পশ্চিমাঞ্চলে- অনুবাদক) ২৯২ হিজরীতে আল-মাহদী উবায়দুল্লাহ সর্বপ্রথম উবায়দিয়া শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন। তিনি ৩২২ হিজরীতে মারা গেলে তার ছেলে আল-কায়িম বি আমরিল্লাহ মুহাম্মাদ তদস্থলে উপবেশন করেন। ৩৩৩ হিজরীতে তিনিও মারা যান। কায়িমের পর তার ছেলে আল-মানসুর ইসমাঈল তখতে সমাসীন হন। তিনি ৩৪১ হিজরীতে মারা যান। অতঃপর তার পুত্র আল-মুআয লিদ্দীনিল্লাহ সাদ বাদশাহ হন, যিনি ৩৬২ হিজরীতে কায়রো প্রবেশ করেন এবং ৩৬৫ হিজরীতে মারা যান। তার স্থানে তার ছেলে আল-আযীয বাযযার আসীন হন। তিনি ৩৮৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার পর তার ছেলে হাকিম বিন আমরিল্লাহ মানসুর তখতে আরোহণ করেন। ৪১১ হিজরীতে তাকে হত্যা করা হলে পুত্র আয-যাহির লা-আযাযুদ্দীনিল্লাহ সালতানাতে প্রতিষ্ঠা পান। তিনি ৪২৮ হিজরীতে মারা যাওয়ায় পুত্র আল-মুনতাসির মুহাম্মাদ সালতানাতের তখত অধিকার করেন। তিনি ৪৮৭ হিজরীতে পরলোক গমন করেন। তিনি ষাট বছর চার মাস রাজত্ব করেন।

যাহাবী বলেন, আমার মতে মুসলিম জাহানের কোনো খলীফা বা বাদশাহ এত দীর্ঘ সময় রাজ্য শাসন করেননি।

অতঃপর তার ছেলে আল-মুসতা'আলা বিল্লাহ আহমদ মসনদে আরোহণের পর ৪৯৫ হিজরীতে মারা যান। এরপর তার ছেলে আল-আমর বি আহকামিল্লাহ মানসুর পাঁচ বছর বয়সে বাদশাহ হন। ৫২৪ হিজরীতে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তার চাচাত ভাই আল-হাফিজ লিদ্দীনিল্লাহ আব্দুল মজিদ ইবন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসতানসির তখত নসীন হন, যিনি ৫৪৪ হিজরীতে মারা যান। তদস্থলে পুত্র যাফর বিল্লাহ ইসমাঈল উপবেশনপূর্বক ৫৪৯ হিজরীতে নিহত হলে ফায়েয বি নাসরিল্লাহ ঈসা তখতে আসীন হন। যিনি ৫৫৫ হিজরীতে মারা যান। তারপর আল-আযদ লিদ্দীনিল্লাহ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাফিজ লিদ্দীনিল্লাহ তখত নসীন হন। তিনি ৫৬৭ হিজরীতে অপসারিত হন এবং এ বছরই মারা যান। বর্তমানে মিসরে আব্বাসীয় শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং সেখানে উবায়দিয়া রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। যাহাবী বলেন, উবায়দিয়া রাজত্বের চতুর্দশ বাদশাহ নিজেকে খলীফা দাবী করলেও কেউ তার খিলাফত মেনে নেয়নি।

পাশ্চাত্যে (তথা আরবের পশ্চিমাঞ্চলে- অনুবাদক) ২৯২ হিজরীতে আল-মাহদী উবায়দুল্লাহ সর্বপ্রথম উবায়দিয়া শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন। তিনি ৩২২ হিজরীতে মারা গেলে তার ছেলে আল-কায়িম বি আমরিল্লাহ মুহাম্মাদ তদস্থলে উপবেশন করেন। ৩৩৩ হিজরীতে তিনিও মারা যান। কায়িমের পর তার ছেলে আল-মানসুর ইসমাঈল তখতে সমাসীন হন। তিনি ৩৪১ হিজরীতে মারা যান। অতঃপর তার পুত্র আল-মুআয লিদ্দীনিল্লাহ সাদ বাদশাহ হন, যিনি ৩৬২ হিজরীতে কায়রো প্রবেশ করেন এবং ৩৬৫ হিজরীতে মারা যান। তার স্থানে তার ছেলে আল-আযীয বাযযার আসীন হন। তিনি ৩৮৬ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার পর তার ছেলে হাকিম বিন আমরিল্লাহ মানসুর তখতে আরোহণ করেন। ৪১১ হিজরীতে তাকে হত্যা করা হলে পুত্র আয-যাহির লা-আযাযুদ্দীনিল্লাহ সালতানাতে প্রতিষ্ঠা পান। তিনি ৪২৮ হিজরীতে মারা যাওয়ায় পুত্র আল-মুনতাসির মুহাম্মাদ সালতানাতের তখত অধিকার করেন। তিনি ৪৮৭ হিজরীতে পরলোক গমন করেন। তিনি ষাট বছর চার মাস রাজত্ব করেন।

যাহাবী বলেন, আমার মতে মুসলিম জাহানের কোনো খলীফা বা বাদশাহ এত দীর্ঘ সময় রাজ্য শাসন করেননি।

অতঃপর তার ছেলে আল-মুসতা'আলা বিল্লাহ আহমদ মসনদে আরোহণের পর ৪৯৫ হিজরীতে মারা যান। এরপর তার ছেলে আল-আমর বি আহকামিল্লাহ মানসুর পাঁচ বছর বয়সে বাদশাহ হন। ৫২৪ হিজরীতে তাকে সপরিবারে হত্যা করা হলে তার চাচাত ভাই আল-হাফিজ লিদ্দীনিল্লাহ আব্দুল মজিদ ইবন মুহাম্মাদ বিন আল-মুসতানসির তখত নসীন হন, যিনি ৫৪৪ হিজরীতে মারা যান। তদস্থলে পুত্র যাফর বিল্লাহ ইসমাঈল উপবেশনপূর্বক ৫৪৯ হিজরীতে নিহত হলে ফায়েয বি নাসরিল্লাহ ঈসা তখতে আসীন হন। যিনি ৫৫৫ হিজরীতে মারা যান। তারপর আল-আযদ লিদ্দীনিল্লাহ আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন হাফিজ লিদ্দীনিল্লাহ তখত নসীন হন। তিনি ৫৬৭ হিজরীতে অপসারিত হন এবং এ বছরই মারা যান। বর্তমানে মিসরে আব্বাসীয় শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং সেখানে উবায়দিয়া রাজত্বের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। যাহাবী বলেন, উবায়দিয়া রাজত্বের চতুর্দশ বাদশাহ নিজেকে খলীফা দাবী করলেও কেউ তার খিলাফত মেনে নেয়নি।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 বনু তাবাতাবাদের শাসন ব্যবস্থা

📄 বনু তাবাতাবাদের শাসন ব্যবস্থা


১৯৯ হিজরীর জামাদিউল উলা মাসে সর্বপ্রথম যিনি এ শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম তাবাতাবা। তার যুগে আল-হাদী ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইন বিন কাসিম বিন তাবাতাবা ইয়ামনে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং আমিরুল মুমিনীন উপাধি ধারণ করেন। ২০৮ হিজরীর যিলহজ মাসে তার ইন্তেকালের পর পুত্র মুর্তজা মুহাম্মাদ তখতে আরোহণ করেন, যিনি ৩২০ হিজরীতে মারা যান। এরপর তার ভাই নাসর আহমদ তখত নসীন হন। তিনি ৩২৩ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন। তার পর পুত্র আল-মুনতাখিব আল-হুসাইন ক্ষমতায় আসেন এবং ৩২৯ হিজরীতে মারা যান। অতঃপর তার ভাই মুখতার আল-কাসিম মসনদে বসেন। ৩৪৪ হিজরীর শাওয়াল মাসে তিনি নিহত হন। এরপর তার ভাই হাদী মুহাম্মাদ, অতঃপর তার ছেলে রশীদ আব্বাস তখতে উপবেশন করেন। এরপর তাদের শাসন ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটে।

১৯৯ হিজরীর জামাদিউল উলা মাসে সর্বপ্রথম যিনি এ শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম তাবাতাবা। তার যুগে আল-হাদী ইয়াহইয়া বিন আল-হুসাইন বিন কাসিম বিন তাবাতাবা ইয়ামনে শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেন এবং আমিরুল মুমিনীন উপাধি ধারণ করেন। ২০৮ হিজরীর যিলহজ মাসে তার ইন্তেকালের পর পুত্র মুর্তজা মুহাম্মাদ তখতে আরোহণ করেন, যিনি ৩২০ হিজরীতে মারা যান। এরপর তার ভাই নাসর আহমদ তখত নসীন হন। তিনি ৩২৩ হিজরীতে মৃত্যু বরণ করেন। তার পর পুত্র আল-মুনতাখিব আল-হুসাইন ক্ষমতায় আসেন এবং ৩২৯ হিজরীতে মারা যান। অতঃপর তার ভাই মুখতার আল-কাসিম মসনদে বসেন। ৩৪৪ হিজরীর শাওয়াল মাসে তিনি নিহত হন। এরপর তার ভাই হাদী মুহাম্মাদ, অতঃপর তার ছেলে রশীদ আব্বাস তখতে উপবেশন করেন। এরপর তাদের শাসন ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00