📄 আল-মুতাদ বিল্লাহ আবুল ফাতাহ
আল-মুতাযদ বিল্লাহ আবুল ফাতাহ আবু বকর বিন আল-মুসতাকফী তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর ৭৫৩ হিজরীতে লোকেরা জ্ঞানীদের সাথে মিত্রতার সম্পর্ক স্থাপনের জন্য তার হাতে বাইআত হয়। তিনি ৭৬৩ হিজরীর জামাদিউল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন।
৭৫৫ হিজরীতে সুলতান সালিহ অপসারিত হলে আন-নাসর হাসান সুলতান মনোনীত হয়। ৭৫৬ হিজরীতে নতুন পয়সা বাজারে ছাড়া হয়। ২৪টি পয়সা এক দিরহামের সমান ওজন হয়। আগে এক দিরহামে দেড় রিতিল পয়সা হত। ৭৬৬ হিজরীতে আন-নাসর হাসান নিহত হওয়ায় তার ভাতিজা মুহাম্মাদ বিন মুযাফফর 'আল-মানসুর' উপাধি নিয়ে ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করে।
আল-মুতাযদের যুগে যেসব ওলামা হযরাত ইন্তেকাল করেন তাঁরা হলেন— সিরিয়ার বিচারপতি শায়খ তকীউদ্দীন সবুকী, সামীন, বাহা বিন আকীল, সালাহুল আলাযী, জামাল বিন হিশাম, হাফেজ মোগলতাঈ, আবু উমামা বিন নাকাস প্রমুখ।
📄 আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আবু আব্দুল্লাহ
আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-মুতাযদ সর্বশেষ খলীফাদের পিতা। তিনি প্রথমে উত্তরাধিকার মনোনীত হয়েছিলেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ৭৬৩ হিজরীর জামাদিউল উলা মাসে তিনি খিলাফতের তখতে আরোহণ করেন। তিনি পঁয়তাল্লিশ বছর খিলাফত পরিচালনা করেন। এর মধ্যে সেই সময়টুকুও অন্তর্ভুক্ত যে সময়ে তিনি অন্তরীণ ছিলেন। এর বিবরণ আমরা সামনে পেশ করব।
তিনি অনেক আওলাদ রেখে যান। কথিত আছে, তিনি ছিলেন এক শত সন্তানের জনক। এদের মধ্যে কেউ গর্ভে, প্রসবের সময় এবং শৈশবে মারা গেছে। আর অধিকাংশরা পরিণত বয়সে পরলোক গমন করে। এদের থেকে পাঁচজন খিলাফত প্রাপ্ত হন- যার নজির অন্য খলীফাদের মধ্যে বিরল। তারা হলেন, ১। আল-মুসতাইন আল-আব্বাস। ২। আল-মুতাযদ দাউদ। ৩। আল-মুসতাকফী সুলায়মান। ৪। আল-কায়িম হামযা এবং ৫। আল-মুসতানজিদ ইউসুফ।
খলীফা মুতাওয়াককিলের জীবিত আওলাদের মধ্যে একমাত্র মূসাই বাকী থাকে- যে চারিত্রিক দিক থেকে ইবরাহীম বিন মুসতাকফীর অনুরূপ ছিল। সে সময় বনূ আব্বাসের যতগুলো লোক ছিল মুতাওয়াককিলের আওলাদই ছিল ততগুলো।
৭৬৪ হিজরীতে আল-মানসুর মুহাম্মাদ অপসারিত হলে শাবান বিন হুসাইন বিন নসর বিন মুহাম্মাদ বিনা কালাদুন 'আশরাফ' উপাধি নিয়ে সুলতান মনোনীত হয়। ৭৭৩ হিজরীতে অভিজাতবর্গকে সহজে নির্ণয়ের জন্য সুলতান তাদেরকে সবুজ পাগড়ি বাঁধার নির্দেশ দেয়। এটা ছিল একটি অভিনব কাজের আদেশ। এ বছর উদ্ধত তাইমুর লঙ্গ আক্রমণ চালিয়ে শহরগুলো ধ্বংস করে ফেলে, অনেক বনী আদম হত্যা করে এবং খোদার যমীনে ফিতনা ছড়িয়ে দেয়। আল্লাহ তা'আলা এই অভিশপ্তকে ৮৭৩ হিজরীতে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন।
তাইমুর লঙ্গ দিহকানের বাসিন্দা ছিল। সে চুরি-রাহাজানীর মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। অতঃপর খায়ল শহরের সুলতানের কাছে চলে যায়। সুলতানের মৃত্যু হলে সে তার স্থানে বসে। আস্তে আস্তে সে এমন বেড়ে যায় যে, কিয়ামত পর্যন্ত ইতিহাসে তার নাম রয়ে যায়। জনৈক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, তাইমুর লঙ্গ সর্বপ্রথম কত সালে হামলা করে? সে জবাব দেয়, শাস্তির বছর। কারণ আরবী বর্ণমালার মান-নির্ণয় অক্ষরের বিন্যাস প্রণালীর দৃষ্টিকোণ থেকে শাস্তি (عَذَابٌ) এর সংখ্যাগত মান হয় ৭৭৩।
৭৭৫ হিজরীর রমযান মাসে সুলতানের সামনে কেল্লার মধ্যে বুখারী শরীফের ক্লাস আরম্ভ হয়। প্রথমে হাফেজ যাইনুদ্দীন ইরাকী পরবর্তীতে শিহাবুদ্দীন ইরয়ানী কারী নিযুক্ত হন। ৭৭৮ হিজরীতে আশরাফ শাবান নিহত হলে তার ছেলে আলী আল-মানসুর উপাধি নিয়ে তখত নসীন হয়। এ বছর শাবান মাসের ১৪ তারিখে চন্দ্রগ্রহণ এবং ২৮ তারিখে সূর্যগ্রহণ হয়।
৭৭৯ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ৪ তারিখে আতাবেগ আল-আসাকির যাকারীয়া বিন ইবরাহীম বিন আল-মুসতামসিক বিন খলীফা হাকিমকে খিলআত প্রদান করে এবং খলীফা বানিয়ে দেয়। অথচ কেউ তার কাছে বাইআত করেনি এবং কেউ তার বিষয়ে ইজমাও করেনি। যাকারীয়া বিন ইবরাহীম আল-মুসতাযদ উপাধি ধারণপূর্বক খলীফা মুতাওয়াককিলকে কুস শহরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। আশরাফ নিহত হওয়ার সময় আতাবেগের অন্তরে খলীফার প্রতি জিঘাংসার সৃষ্টি হয়। মুতাওয়াককিল কুসে গমন করলে রবিউল আউয়ালের ২০ তারিখে মুসতাযদ ১৫ দিনের জন্য খলীফা হয়ে সেও অপসারিত হয়।
৭৮২ হিজরীতে নামাযের সময় এক লোক চিল্লাচিল্লি করলে নামায শেষে তাকে শূকরের সুরতে দেখা গেল। ৭৮৫ হিজরীর সফর মাসে মানসুর নিহত হলে তার ভাই হাজী বিন আশরাফ সালিহ উপাধি নিয়ে সুলতান মনোনীত হয়। ৭৮৪ হিজরীর রমযান মাসে সালিহ অপসারিত হয় এবং যাহির উপাধি নিয়ে বরকুক বাদশাহ হয়।
৭৮৫ হিজরীর রযব মাসে বরকুক খলীফা মুতাওয়াককিলকে জাবাল দুর্গে বন্দী আল-ওয়াছিক বিল্লাহ উপাধি দিয়ে মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আল-মুসতামসিক বিন হাকিমের হাতে বাইআত করে নেয়। মুহাম্মাদ ৭৮৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করলে লোকেরা মুতাওয়াককিলকে পুনরায় খলীফা মনোনীত করার জন্য অনুরোধ জানালে বরকুক তা প্রত্যাখ্যান করে। সে তার ভাই মুহাম্মাদ যাকারীয়াকে ডেকে এনে খলীফা বানায়। সে ৭৯১ হিজরী পর্যন্ত খলীফা ছিল। অবশেষে বরকুক লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে মুতাওয়াককিলকে মুক্তি দেয় এবং তাকে আবার খলীফা মনোনীত করে। আর যাকারীয়াকে অপসারণ করা হয়। সে স্বেচ্ছায় গৃহজীবন বেছে নেয় এবং সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আর মুতাওয়াককিল মৃত্যু অবধি খলীফাই থাকেন।
📄 আল-ওয়াছিক বিল্লাহ উমর
আল-ওয়াছিক বিল্লাহ উমর বিন ইবরাহীম বিন ওলীআহাদ আল-মুসতামসিক বিন হাকিম। মুতাওয়াক্কিলের অপসারণের পর ৭৮৫ হিজরীর রযব মাসে লোকেরা তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে। ৭৮৮ হিজরীর শাওয়াল মাসের ১৯ তারিখ বুধবারে খলীফা থাকা অবস্থায় তার ইন্তেকাল হয়।
📄 আল-মুসতাসিম বিল্লাহ যাকারিয়া
আল-মুসতাসিম বিল্লাহ যাকারিয়া বিন ইবরাহীম বিন আল-মুসতামসিক। তার ভাই-এর মৃত্যুর পর তার বাইআত হয় এবং ৭৯১ হিজরীতে তাকে অপসারণ করা হয়। এর বিবরণ আমরা পেশ করেছি।