📄 আল-মুসতায়হার বিল্লাহ
আল-মুসতাযহার বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুকতাদী বিল্লাহ ৪৭০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৬ বছর বয়সে তিনি তখতে আরোহণ করেন। ইবনে আছীর (র.) বলেন, তিনি অত্যন্ত কোমল মতি, উন্নত চরিত্র, নেককার এবং সদা লাস্যমান। অনেক বিষয়ে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। যা তার ব্যাপক জ্ঞানভাণ্ডারের অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি দানশীল, উদার এবং ওলামা প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই খলীফার খিলাফতে অসুন্দরের কোনো নমুনা পাওয়া যাবে না। খিলাফতের দিনগুলো তার যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে সর্বদা উদ্বিগ্ন অবস্থায় কেটেছে। খিলাফত লাভে প্রথম বছর মিসর শাসনকর্তা মুসতানসির উবায়দীর মৃত্যুর পর তার ছেলে তখত নসীন হয়। এ বছর রোমানরা বলনসীয়াহ শহর দখল করে নেয়।
৪৮৮ হিজরীতে সমরকন্দের বাদশাহ আহমদ খা নিহত হয়। ৪৮৯ হিজরীতে একমাত্র শনিগ্রহ ছাড়া সকল গ্রহপুঞ্জ ও নক্ষত্ররাজি বুরজে হতে মীন রাশি জমা হলে জ্যোতিষিরা ঐকমত্য হয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল- অচিরেই হযরত নূহ (আ.)- এর যুগের মত তুফান হবে। কিন্তু একটি প্লাবন ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ৪৯০ হিজরীতে খুরাসানের শাসনকর্তা সুলতান আরসালান আরগোয়ান বিন আলব আরসালান সালজুকী নিহত হয়। এ বছর ফিরিঙ্গীরা এসে সর্বপ্রথম তায়কীয়া শহর দখল করে। ৪৯২ হিজরীতে ফিরিঙ্গীরা দেড় মাস দুর্গে আবদ্ধ থাকার পর বাইতুল মুকাদ্দীস দখল করে এবং আলেম-ওলামা, ইবাদতকারী ও দানশীলদের এক বড় জামাতকে হত্যা করে। নিহতদের সংখ্যা আনুমানিক ৭০ সহস্রাধিক। এ বছর মিসরে এত অন্ধকার নেমে আসে যে, আপন হাত পর্যন্ত দেখা যেত না। আকাশ থেকে অবিরাম বালু বর্ষিত হয়। এ বছর ফিরিঙ্গী এবং স্পেন শাসনকর্তা ইবনে নাশিকীনের মধ্যে লড়াই হয়। মুসলমানরা জয়লাভ করে।
৫০৭ হিজরীতে মওসুলের বাদশাহ মওদুদ ফিরিঙ্গীদের বাদশাহর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বাইতুল মুকাদ্দীস যান। সেখানে তুমুল যুদ্ধ হয়। অতঃপর মওদুদ দামেশকে এসে জামে মসজিদে জুমআর নামায পড়ে বেরুনোর সময় জনৈক বাতনীর অতর্কিত আক্রমণে নিহত হন। ৫১১ হিজরীতে প্রাকৃতিক প্লাবনে বোখার এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো ডুবে যায়। এ বছর সুলতান মুহাম্মাদের মৃত্যু হয়। ৫১২ হিজরীতে খলীফা মুসতাযহার বিল্লাহ ১৩ রবিউল আউয়াল মঙ্গলবারে ২৫ বছর খিলাফত পরিচালনার পর পরপারে পাড়ি জমান। মুসতাযহার কবিতা জানতেন। তার অনেক কবিতা প্রসিদ্ধতা অর্জন করেছে।
তার যুগে যেসব ওলামায়ে কেরাম ইন্তেকাল করেন তাঁরা হলেন- আবুল মুতফার সামআনী, নাসরুল মুকাদ্দাসী, আবুল ফরজ, রুয়ানী, খতীব তিবরিযী, কিয়ার হারায়ী, ইমাম গাযালী, মুসতাযহারের প্রশংসামূলক জীবনী লেখক শাশী, আয়বরদী আল-লগবী, ইবনে সায়্যেদাহ, আবু ইয়ালা বিন ফারার শায়খে হানাবালা, শাফী হাযালী, শায়খে বাগদাদী ইবনে রাশীক, উমদাহ বিন আব্দুল বার প্রমুখ।
📄 আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ
আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ আবু মানসুর আল-ফজল বিন আল-মুসতাযহার বিল্লাহ ৪৮৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর ৫১২ হিজরীর রবিউল আখের মাসে তিনি তখতে সমাসীন হন। তিনি বীর, সাহসী, বিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ। খিলাফতের কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতেন। খিলাফতকে পুনর্জীবন দান করেন। খিলাফতকে সুসংহত ও সুদৃঢ়করণে বিস্তর অবদান রাখেন। শরীয়তের আরকানগুলো মজবুত করেন। তিনি স্বশরীরে যুদ্ধ করতেন। সর্বশেষ তিনি ইরাকে গিয়ে পরাজিত হয়ে বন্দী হন।
পিতার খিলাফতকালে তাঁকে উত্তরাধিকার মনোনীত করা হয়। সুন্দর হস্তাক্ষরের ক্ষেত্রে বনূ আব্বাসের সকল খলীফার মধ্য থেকে তিনি অগ্রজ। তাঁর বীরত্ব, সাহসিকতা এবং প্রতিপত্তি ছিল দিগ্বিজয়ের ন্যায়। যাহাবী বলেন, ৫২৩ হিজরীতে সুলতান মাহমুদ বিন মুল্ক শাহ নিহত হন। তার ছেলে দাউদ সুলতান হয়। ৫২৯ হিজরীতে সুলতান মাসউদ এবং খলীফার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। মাসউদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। খলীফার সৈন্যরা বিশ্বাসঘাতকতা করলে মাসউদ জয়লাভ করে। খলীফা একদল অভিজাত লোকসহ বন্দী হন। হামদানের নিকটবর্তী এক দুর্গে তাঁদের কয়েদ করে রাখা হয়।
সুলতান সিনজর স্বীয় উযীরকে মাসউদের নিকট দূত পাঠিয়ে খলীফাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বলেন। মাসউদ ক্ষমা প্রার্থনা করে খলীফাকে সসম্মানে দারুল খুলাফায় পৌছে দেবার জন্য একদল সৈন্য পাঠায়। এ সৈন্য দলের মধ্যে ১৭ জন বাতেনী সম্প্রদায়ভুক্ত লোক ঢুকে পড়ে খলীফাকে হত্যা করে। ৫২৯ হিজরীর যিলকদ মাসের ১৬ তারিখ সোমবারে তিনি শহীদ হন। মুসতারশিদ তাঁর বাবার শান অনুযায়ী ঈদুল আযহায় সুন্দর একটি খুতবা পাঠ করতেন।
৫২৪ হিজরীতে মুসতারশিদের যুগে মওসুলে আকাশ থেকে আগুন বর্ষিত হয়। মুসতারশিদের শাসনামলে বর্ণিত ওলামায়ে কেরাম ইন্তেকাল করেন- শামসুল আইম্মা আবুল ফজল ইমামে হানাফীয়া, আবুল ওফা বিন আকীল হাম্বলী, কাযী-উল- কুযযাত আবুল হাসান আল-দামগানী বিন বিলমাতুল মাকরী, তগরায়ী, আবু আলী সিদ্ফী হাফেজ, আবু নসর কুশায়রী বিন কাতা আল-লগবী, মহিউসুন্নাহ আল-বাগবী, ইবনুল হায আল-মাকরী, মাকামাতের লেখক হারীরী, আমছালের লেখক ময়দানী, আবুল ওলীদ বিন রুশদ আল মালিকী, ইমাম আবু বকর তরতুসী, আবুল হুজ্জাজ সয়কতী ইবনে সায়্যেদ যাতলুসী সী, আবু আলী আল-ফারুকী শাফী বিন খাত-তুরুত, ইবনে বাযশ, কবি জাফর, আব্দুল গাফ্ফার প্রমুখ।
📄 আর-রাশেদ বিল্লাহ
আর-রাশেদ বিল্লাহ আবু জাফর মানসুর বিন মুসতারশিদ ৫০২ হিজরীতে এক বাঁদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে, জন্মের সময় তার পায়খানার রাস্তা বন্ধ ছিল। চিকিৎসকগণ পরামর্শক্রমে স্বর্ণের রাগ দ্বারা পায়খানার রাস্তা চিরে দিলে পরবর্তীতে তা ভালো হয়ে যায়। ৫১৩ হিজরীতে তার পিতা মুসতারশিদ তার শাসনামলে তাকে উত্তরাধিকার মনোনীত করেন। পিতার মৃত্যুর পর ৫২৯ হিজরীর যিলকাদা মাসে তিনি খিলাফতের তখতে আরোহণ করেন।
রাশেদ ছিলেন মিষ্টভাষী, সাহিত্যিক, কবি, বীর, প্রাজ্ঞ, দানশীল, চরিত্রবান, ন্যায়পরায়ণ এবং ঝগড়া ফাসাদকে ঘৃণাকারী। সুলতান মাসউদ বাগদাদে আসার সময় খলীফা মওসুলে চলে যান। মাসউদ বাগদাদে এসে বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ওলামাদের সমবেত করে অনেক লোকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন পত্র তাদের সামনে তুলে ধরল। রাশেদ এই অত্যাচার করেছেন, অমুকের অমুকের সম্পদ গ্রাস করেছেন, রক্তের শরাব পান করেছেন। এ ক্ষেত্রে আপনারা ফতোয়া দিন যে, এ খলীফাকে অপসারণ করা নায়েবে সালতানাতের জন্য জায়েয কিনা? এ মুহূর্তে তার ইমামত কি সহীহ হবে? সুলতানগণ তদস্থলে অন্য খলীফা নির্বাচন করেছেন। ওলামাগণ তাকে অপসারণের ফতোয়া দিয়ে দেন। মজলিসে ওলামাদের মধ্যে কাযী শহর ইবনে কুরখীও উপস্থিত ছিলেন। লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তার চাচা মুহাম্মাদ বিন মুসতাযহারকে আল-মুকতাযা লি আমরিল্লাহ উপাধি দিয়ে তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে। এটা ৫৩০ হিজরীর যিলকদ মাসের ষোলো তারিখের ঘটনা।
সংবাদ পেয়ে রাশেদ বিপুল অর্থ-সম্পদের লোভ দিয়ে এক দল সৈন্য নিয়ে আজারবাইযান চলে যান। সৈন্যরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অতঃপর হামদান গিয়ে সেখানেও নারকীয় তাণ্ডব চালায়। অনেক লোককে হত্যা, অনেককে শূলেতে চড়ানো এবং বহু আলেমের দাড়ি কামিয়ে দেয়া হয়। এরপর ইস্পাহান অবরোধ করে শহরে ব্যাপক লুটতরাজ চালায়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৫৩২ হিজরীর রমযান মাসের ষোলো তারিখে এক আযমী লোক তার তাঁবুতে ঢুকে ছোরা দিয়ে তাকে হত্যা করে। তার সাথে খলীফার সহচরদেরও সে হত্যা করে। খবর পেয়ে বাগদাদবাসী এক দিন মাতম করে। উম্মাদ কাতেব বলেন, রাশেদ ছিলেন হযরত ইউসুফ (আ.)-এর লাবণ্য এবং দানশীলতার সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব। চাদর এবং ছড়ি মৃত্যু পর্যন্ত রাশেদের কাছেই ছিল। মৃত্যুর পর সেগুলো মুকতাফীর নিকট পৌঁছে যায়।
📄 আল-মুকতাফী লি আমরিল্লাহ
আল-মুকতাফী লি আমরিল্লাহ ৪৮৯ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের বার তারিখে আল-মুকতাফী লি আমরিল্লাহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আল-মুসতাযহার বিল্লাহ এক হাবশী বাঁদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। রাশেদকে অপসারণের পর ৪০ বছর বয়সে তিনি খিলাফতের তখতে বসেন। আল-মুকতাফী লি আমরিল্লাহ উপাধি ধারণ করার কারণ হলো তিনি খলীফা হওয়ার ছয় দিন পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেন। তিনি (সা.) তাকে বলছেন, অচিরেই তুমি খিলাফত পাবে। তুমি আল-মুকতাফী লি আমরিল্লাহ লকব ধারণ করবে। ফলে তিনি তাই করেন।
মুকতাফী তখতে আরোহণ অন্তে ইনসাফ ও সুবিচারের মাধ্যমে গোটা বাগদাদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেললে সুলতান মাসউদ দারুল খুলাফার সকল আসবাবপত্র যেমন চতুষ্পদ প্রাণী, গৃহের সজ্জা-সরঞ্জাম স্বর্ণ, রৌপ্য, পর্দা ইত্যাদি নিয়ে নেয়। খিলাফতের আস্তাবলে চারটি অশ্ব এবং আটটি গাধা ছাড়া আর কিছুই সে রেখে যায়নি। কথিত আছে, বাইআতের সময় মুকতাফীর সাথে মাসউদের এমন শর্তই ছিল। অতঃপর ৫৩১ হিজরীতে সুলতান মাসউদ কয়েকটি বাগান ছাড়া খিলাফতের সাথে সম্পৃক্ত সকল জিনিসপত্র নিজের অধীনে নেয়। এরপরও সে খলীফার নিকট থেকে এক লাখ দিনার নিয়ে আসার জন্য স্বীয় উযীরকে পাঠায়। মুকতাফী বললেন, বড়ই বিস্ময়ের বিষয় যে, তোমরা জান মুসতারশিদ নিজের সকল সম্পদ নিয়ে মাসউদের কাছে চলে গিয়েছিলেন। এতে যে অবস্থা হয় তা দুনিয়াবাসী অবগত। তারপর রাশেদ খলীফা হয়ে যা করেছেন তা দিবালোকের ন্যায় উজ্জ্বল। এরপরও যা ছিল ঘরের জিনিসপত্রসহ মাসউদ নিজেই সেগুলো নিয়ে গেছে। মাসউদ উক্ত দুই খলীফার ধনাগারও লুণ্ঠন করেছে। এখন আমি তোমাকে কোথা থেকে সম্পদ এনে দিব? বর্তমানে শুধু এতটুকুই বাকী রয়েছে যে, নিজের ঘর-বাড়ি তোমাদের ছেড়ে দিয়ে আমি অন্য কোথাও চলে যাব। আমি আল্লাহ তা'আলার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, আমি মুসলমানদের উপর অত্যাচার করে একটি দানাও আদায় করব না। এ কথা শুনে মাসউদ নিজের অভিপ্রায় প্রত্যাহার করে। কিন্তু সে সম্পদ আরোহণের জন্য লোকদের উপর কঠোরতা আরোপ করতে থাকে। ব্যবসায়ীদের উপর ট্যাক্সের বড় বড় বোঝা চাপিয়ে দেয়।
৫৩৩ হিজরীতে বিহতারাহ শহরে এক লক্ষ ৮০ হাজার ফুট পর্যন্ত ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে অনেক মানুষ হতাহত হয়। এ বছর শহরগুলো খলীফার নিয়ন্ত্রণে আসে। মাসউদ দুর্বল, অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। সুলতান সিনজর-এরও একই অবস্থা হয়। ৫৪১ হিজরীতে মাসউদ বাগদাদে এসে মুদ্রা প্রস্তুতকারী কারখানার ভিত্তি দেয়। ইবনে উবাবী সুলতান কর্তৃক জনগণের উপর অত্যাচারের বিবরণ দানে মাসউদকে শাসালে মাসউদ এ নসীহত গ্রহণ করে শহরময় এলান করে জানিয়ে দেয় যে, আর কেউ করারোপ করবে না। ৫৪৩ হিজরীতে ফিরিঙ্গীরা দামেশক অবরোধ করলে হলবের শাসনকর্তা নূরুদ্দীন মাহমুদ বিন জঙ্গী এবং তার ভাই তাদের মোকাবিলা করেন। আলহামদুলিল্লাহ মুসলমানগণ বিজয় অর্জন করে। ৫৪৭ হিজরীতে সুলতান মাসউদ মারা যায়। মুকতাফীর উযীর ইবনে হুবায়রাহ বলেন, মাসউদের সাথে প্রকাশ্য মোকাবিলা করার শক্তি না থাকায় আমরা এক মাস বিরামহীন মাসউদের জন্য বদদু'আ করি। এক মাস পূর্ণ হলে মাসউদ মারা যায়।
মাসউদের পরলোক গমনের পর খাস বেগ তার ভাই মুহাম্মাদকে খুযস্তান থেকে ডেকে এনে তার উপর সালতানাত সোপর্দ করে। সে দিন থেকে মুকতাফী মুক্ত-স্বাধীন খলীফা হিসেবে পরিণত হন। ৫৪৮ হিজরীতে তুর্কীরা সুলতান সিনজরের উপর হামলা চালিয়ে তাকে বন্দী করে। ৫৪৯ হিজরীতে মিসরের শাসনকর্তা আল-ফায়েয ঈসা তখতে আসীন হয়। মুকতাফী নূরুদ্দীন জঙ্গীকে মিসর অধিকার করার জন্য লিখিতভাবে জানান। এ সময় মুকতাফীর শান-শওকত বেড়ে যায়। তিনি ৫৫৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের ছয় তারিখ রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন।
যাহাবী বলেন, মুকতাফী খলীফাদের মুকুট, আলেম, সাহিত্যিক, ধৈর্যশীল, বাহাদুর, চরিত্রবান, বিশ্বস্ত এবং খিলাফত পরিচালনায় দক্ষ ও বিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি খিলাফতকে পুনর্জীবন দান করেন। আবু তালিব আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বলেন, মুসতাকফী ছাড়া এমন নরম দিল, চরিত্রবান, বীর খলীফা অতিবাহিত হননি। ইবনে জাওযী বলেন, মুকতাফীর খিলাফত কালে বাগদাদ এবং ইরাক আবার খলীফার হাতে আসে।