📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আল-মুকতাদী বি আমরিল্লাহ

📄 আল-মুকতাদী বি আমরিল্লাহ


আল-মুকতাদী বি আমরিল্লাহ আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন কায়িম বি আমরিল্লাহ গর্ভে থাকাকালীন তার পিতার মৃত্যু হয়। বাবার ইন্তেকালের ছয় মাস পরে তিনি এক দাসীর গর্ভে ভূমিষ্ঠ হন। দাদার মৃত্যুর পর তিনি ১৯ বছর তিন মাস বয়সে খিলাফতে আসীন হন। তার খিলাফতকালে শহরগুলোতে অনেক নেক কাজ হয়। খিলাফতের সীমানা বৃদ্ধি পায়। তার খিলাফত ছিল পূর্ববর্তী খিলাফতের বিপরীত। বাগদাদে গান-বাজনা নিষিদ্ধ হয়। গায়কগায়িকাদের বাগদাদ থেকে বের করে দেয়া হয়। পর্দা বিনষ্ট না হওয়ার জন্য হাম্মামের সিঁড়িগুলো ভেঙে ফেলেন। বনু আব্বাসের মধ্যে তার খিলাফত ছিল অত্যন্ত দ্বীনদার, অতিশয় নেককার এবং প্রতাপান্বিত। তার খিলাফতের প্রথম বছর থেকেই পবিত্র মক্কা শরীফে উবায়দীদের নামে খুতবা পাঠ করা হতে থাকে। এ বছর নিযামুল মুলুক তারকা বিশেষজ্ঞদের সমবেত করে সূর্যাস্তের পর থেকে নববর্ষের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়। আগে সূর্যোদয় থেকে দিনের শুরু হতো।

৪৬৮ হিজরীতে দামেশকে মুকতাদীর নামে খুতবা দেয়া আরম্ভ হয়। আযান থেকে حَيَّ عَلَىٰ خَيْرِ الْعَمَلِ শব্দগুলো বাদ পড়ে। ৪৬৯ হিজরীতে আবু নসর বিন উসতাদ আবুল কাসিম কাশিরী আশআরী বাগদাদের মাদরাসা নিযামিয়ায় এসে ওয়াজ করেন। এতে হানাবেলারা রাগান্বিত হওয়ায় এক বড় ফিত্নার সৃষ্টি হয়। ফলে এক দল আরেক দলের হাতে নির্মমভাবে নিহত হয়। ৪৭৫ হিজরীতে মুকতাদী সুলতানের নিকট আবু ইসহাক শিরাজীকে পাঠিয়ে উমায়েদ আবুল ফাতাহ- এর অভিযোগ দায়ের করেন। ৪৭৬ হিজরীতে দুর্ভিক্ষ উঠে যাওয়ায় শহরগুলোতে ফসলাদি উৎপাদিত হয়। ৪৭৭ হিজরীতে কণ্ডনীয়া এবং আকসার শাসনকর্তা সসৈন্যে সিরিয়ায় গমন করেন এবং ইনতাকীয়া শহর দখল করেন। ৪৭৮ হিজরীতে বাগদাদে অন্ধকার নেমে আসে, বিদ্যুৎ চমকায়। আকাশ থেকে বালু মাটি বর্ষিত হয়। ৪৭৯ হিজরীতে সুবতা ও মুরাকিশের শাসনকর্তা ইউসুফ বিন তাশফীনের অনুরোধের প্রেক্ষিতে মুকতাদী তাকে তার অধীনস্থ রাজ্যগুলো প্রদানকরত আমিরুল মুসলিমীন উপাধিতে ভূষিত করেন। এ বছর থেকে হারামাইন শরীফাইন উবায়দীদের নাম রহিত করে খুতবায় খলীফার নাম পাঠ করা হয়।

৪৮৪ হিজরীতে ফিরিঙ্গীরা গোটা সাকলীয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। ৪৮৫ হিজরীতে সুলতান মুলক শাহ আবার বাগদাদে এসে খলীফাকে অতিসত্বর বাগদাদ ছেড়ে চলে যাওয়ার সংবাদ দেয়। খলীফা কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন। সে তার প্রার্থনা প্রত্যাখ্যান করে। অতঃপর খলীফা সুলতান মুলক শাহ- এর উযীরের নিকট সময় চাইলে সে মাত্র ১০ দিন সময় দেয়। কিন্তু ১০ দিন অতিক্রান্ত না হতেই সুলতান রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। লোকেরা এটাকে খলীফার কারামত হিসেবে উল্লেখ করে। কথিত আছে, খলীফা মুকতাদী সময় লাভের দিনগুলোতে রোযা রাখতে শুরু করেন। ইফতারের মুহূর্তে ছাই-এর উপর বসে সুলতান মুলক শাহ থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্য অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আল্লাহ তা'আলার দরবারে দু'আ করতেন। আল্লাহ পাক তার দু'আ কবুল করেন।

সুলতান মুলক শাহ- এর মৃত্যু সংবাদ তার স্ত্রী গোপন রেখে আমীর-উমারাদের নিকট থেকে তার পাঁচ বছরের শিশু সন্তান মাহমুদের জন্য উত্তরাধিকারের (ওলী আহাদের) শপথ নেয়। অতঃপর সে তাকে সুলতান মনোনীত করার জন্য খলীফার নিকট আবেদন জানায়। খলীফা তা মঞ্জুর করেন এবং তাকে নাসিরুদ্দীন ওয়া দুনিয়া উপাধি দেন। কিছু দিন পর মাহমুদের ভাই বরকিয়ারুক হামলা চালায়। খলীফা তাকে সুলতান বানিয়ে রুকনদ্দৌলা উপাধি দেয়। এ ঘটনার পর দিন ৪৮৭ হিজরীতে শামসুন নাহার নামক বাঁদীর বিষ প্রয়োগে খলীফা মুকতাদী ইন্তেকাল করেন।

তার খিলাফতকালে যেসব ওলামায়ে কেরাম ইন্তেকাল করেন তাঁরা হলেন- আব্দুল কাহের জুরজানী, আবুল ওয়ালীদ বাজী, আবু ইসহাক শিরাজী বিখ্যাত নাহুবিদ, শামলের লেখক ইবনে সবাআ, ইমামুল হারামাইন আল-মুতাওয়াল্লী, আদ-দামগানী হানাফী, ইবনে ফাযাল মুজাশায়ী, বুযুদী শায়খে হানাফী প্রমুখ।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আল-মুসতায়হার বিল্লাহ

📄 আল-মুসতায়হার বিল্লাহ


আল-মুসতাযহার বিল্লাহ আবুল আব্বাস আহমদ বিন মুকতাদী বিল্লাহ ৪৭০ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার মৃত্যুর পর ১৬ বছর বয়সে তিনি তখতে আরোহণ করেন। ইবনে আছীর (র.) বলেন, তিনি অত্যন্ত কোমল মতি, উন্নত চরিত্র, নেককার এবং সদা লাস্যমান। অনেক বিষয়ে তিনি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। যা তার ব্যাপক জ্ঞানভাণ্ডারের অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি দানশীল, উদার এবং ওলামা প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। এই খলীফার খিলাফতে অসুন্দরের কোনো নমুনা পাওয়া যাবে না। খিলাফতের দিনগুলো তার যুদ্ধ বিগ্রহের কারণে সর্বদা উদ্বিগ্ন অবস্থায় কেটেছে। খিলাফত লাভে প্রথম বছর মিসর শাসনকর্তা মুসতানসির উবায়দীর মৃত্যুর পর তার ছেলে তখত নসীন হয়। এ বছর রোমানরা বলনসীয়াহ শহর দখল করে নেয়।

৪৮৮ হিজরীতে সমরকন্দের বাদশাহ আহমদ খা নিহত হয়। ৪৮৯ হিজরীতে একমাত্র শনিগ্রহ ছাড়া সকল গ্রহপুঞ্জ ও নক্ষত্ররাজি বুরজে হতে মীন রাশি জমা হলে জ্যোতিষিরা ঐকমত্য হয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করল- অচিরেই হযরত নূহ (আ.)- এর যুগের মত তুফান হবে। কিন্তু একটি প্লাবন ছাড়া আর কিছুই হয়নি। ৪৯০ হিজরীতে খুরাসানের শাসনকর্তা সুলতান আরসালান আরগোয়ান বিন আলব আরসালান সালজুকী নিহত হয়। এ বছর ফিরিঙ্গীরা এসে সর্বপ্রথম তায়কীয়া শহর দখল করে। ৪৯২ হিজরীতে ফিরিঙ্গীরা দেড় মাস দুর্গে আবদ্ধ থাকার পর বাইতুল মুকাদ্দীস দখল করে এবং আলেম-ওলামা, ইবাদতকারী ও দানশীলদের এক বড় জামাতকে হত্যা করে। নিহতদের সংখ্যা আনুমানিক ৭০ সহস্রাধিক। এ বছর মিসরে এত অন্ধকার নেমে আসে যে, আপন হাত পর্যন্ত দেখা যেত না। আকাশ থেকে অবিরাম বালু বর্ষিত হয়। এ বছর ফিরিঙ্গী এবং স্পেন শাসনকর্তা ইবনে নাশিকীনের মধ্যে লড়াই হয়। মুসলমানরা জয়লাভ করে।

৫০৭ হিজরীতে মওসুলের বাদশাহ মওদুদ ফিরিঙ্গীদের বাদশাহর সাথে যুদ্ধ করার জন্য বাইতুল মুকাদ্দীস যান। সেখানে তুমুল যুদ্ধ হয়। অতঃপর মওদুদ দামেশকে এসে জামে মসজিদে জুমআর নামায পড়ে বেরুনোর সময় জনৈক বাতনীর অতর্কিত আক্রমণে নিহত হন। ৫১১ হিজরীতে প্রাকৃতিক প্লাবনে বোখার এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলো ডুবে যায়। এ বছর সুলতান মুহাম্মাদের মৃত্যু হয়। ৫১২ হিজরীতে খলীফা মুসতাযহার বিল্লাহ ১৩ রবিউল আউয়াল মঙ্গলবারে ২৫ বছর খিলাফত পরিচালনার পর পরপারে পাড়ি জমান। মুসতাযহার কবিতা জানতেন। তার অনেক কবিতা প্রসিদ্ধতা অর্জন করেছে।

তার যুগে যেসব ওলামায়ে কেরাম ইন্তেকাল করেন তাঁরা হলেন- আবুল মুতফার সামআনী, নাসরুল মুকাদ্দাসী, আবুল ফরজ, রুয়ানী, খতীব তিবরিযী, কিয়ার হারায়ী, ইমাম গাযালী, মুসতাযহারের প্রশংসামূলক জীবনী লেখক শাশী, আয়বরদী আল-লগবী, ইবনে সায়্যেদাহ, আবু ইয়ালা বিন ফারার শায়খে হানাবালা, শাফী হাযালী, শায়খে বাগদাদী ইবনে রাশীক, উমদাহ বিন আব্দুল বার প্রমুখ।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ

📄 আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ


আল-মুসতারশিদ বিল্লাহ আবু মানসুর আল-ফজল বিন আল-মুসতাযহার বিল্লাহ ৪৮৫ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার মৃত্যুর পর ৫১২ হিজরীর রবিউল আখের মাসে তিনি তখতে সমাসীন হন। তিনি বীর, সাহসী, বিজ্ঞ এবং বিচক্ষণ। খিলাফতের কাজ সুচারুরূপে সম্পাদন করতেন। খিলাফতকে পুনর্জীবন দান করেন। খিলাফতকে সুসংহত ও সুদৃঢ়করণে বিস্তর অবদান রাখেন। শরীয়তের আরকানগুলো মজবুত করেন। তিনি স্বশরীরে যুদ্ধ করতেন। সর্বশেষ তিনি ইরাকে গিয়ে পরাজিত হয়ে বন্দী হন।

পিতার খিলাফতকালে তাঁকে উত্তরাধিকার মনোনীত করা হয়। সুন্দর হস্তাক্ষরের ক্ষেত্রে বনূ আব্বাসের সকল খলীফার মধ্য থেকে তিনি অগ্রজ। তাঁর বীরত্ব, সাহসিকতা এবং প্রতিপত্তি ছিল দিগ্বিজয়ের ন্যায়। যাহাবী বলেন, ৫২৩ হিজরীতে সুলতান মাহমুদ বিন মুল্ক শাহ নিহত হন। তার ছেলে দাউদ সুলতান হয়। ৫২৯ হিজরীতে সুলতান মাসউদ এবং খলীফার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। মাসউদ যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়। খলীফার সৈন্যরা বিশ্বাসঘাতকতা করলে মাসউদ জয়লাভ করে। খলীফা একদল অভিজাত লোকসহ বন্দী হন। হামদানের নিকটবর্তী এক দুর্গে তাঁদের কয়েদ করে রাখা হয়।

সুলতান সিনজর স্বীয় উযীরকে মাসউদের নিকট দূত পাঠিয়ে খলীফাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বলেন। মাসউদ ক্ষমা প্রার্থনা করে খলীফাকে সসম্মানে দারুল খুলাফায় পৌছে দেবার জন্য একদল সৈন্য পাঠায়। এ সৈন্য দলের মধ্যে ১৭ জন বাতেনী সম্প্রদায়ভুক্ত লোক ঢুকে পড়ে খলীফাকে হত্যা করে। ৫২৯ হিজরীর যিলকদ মাসের ১৬ তারিখ সোমবারে তিনি শহীদ হন। মুসতারশিদ তাঁর বাবার শান অনুযায়ী ঈদুল আযহায় সুন্দর একটি খুতবা পাঠ করতেন।

৫২৪ হিজরীতে মুসতারশিদের যুগে মওসুলে আকাশ থেকে আগুন বর্ষিত হয়। মুসতারশিদের শাসনামলে বর্ণিত ওলামায়ে কেরাম ইন্তেকাল করেন- শামসুল আইম্মা আবুল ফজল ইমামে হানাফীয়া, আবুল ওফা বিন আকীল হাম্বলী, কাযী-উল- কুযযাত আবুল হাসান আল-দামগানী বিন বিলমাতুল মাকরী, তগরায়ী, আবু আলী সিদ্‌ফী হাফেজ, আবু নসর কুশায়রী বিন কাতা আল-লগবী, মহিউসুন্নাহ আল-বাগবী, ইবনুল হায আল-মাকরী, মাকামাতের লেখক হারীরী, আমছালের লেখক ময়দানী, আবুল ওলীদ বিন রুশদ আল মালিকী, ইমাম আবু বকর তরতুসী, আবুল হুজ্জাজ সয়কতী ইবনে সায়্যেদ যাতলুসী সী, আবু আলী আল-ফারুকী শাফী বিন খাত-তুরুত, ইবনে বাযশ, কবি জাফর, আব্দুল গাফ্ফার প্রমুখ।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আর-রাশেদ বিল্লাহ

📄 আর-রাশেদ বিল্লাহ


আর-রাশেদ বিল্লাহ আবু জাফর মানসুর বিন মুসতারশিদ ৫০২ হিজরীতে এক বাঁদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কথিত আছে, জন্মের সময় তার পায়খানার রাস্তা বন্ধ ছিল। চিকিৎসকগণ পরামর্শক্রমে স্বর্ণের রাগ দ্বারা পায়খানার রাস্তা চিরে দিলে পরবর্তীতে তা ভালো হয়ে যায়। ৫১৩ হিজরীতে তার পিতা মুসতারশিদ তার শাসনামলে তাকে উত্তরাধিকার মনোনীত করেন। পিতার মৃত্যুর পর ৫২৯ হিজরীর যিলকাদা মাসে তিনি খিলাফতের তখতে আরোহণ করেন।

রাশেদ ছিলেন মিষ্টভাষী, সাহিত্যিক, কবি, বীর, প্রাজ্ঞ, দানশীল, চরিত্রবান, ন্যায়পরায়ণ এবং ঝগড়া ফাসাদকে ঘৃণাকারী। সুলতান মাসউদ বাগদাদে আসার সময় খলীফা মওসুলে চলে যান। মাসউদ বাগদাদে এসে বিচারক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ওলামাদের সমবেত করে অনেক লোকের স্বাক্ষর সম্বলিত একটি আবেদন পত্র তাদের সামনে তুলে ধরল। রাশেদ এই অত্যাচার করেছেন, অমুকের অমুকের সম্পদ গ্রাস করেছেন, রক্তের শরাব পান করেছেন। এ ক্ষেত্রে আপনারা ফতোয়া দিন যে, এ খলীফাকে অপসারণ করা নায়েবে সালতানাতের জন্য জায়েয কিনা? এ মুহূর্তে তার ইমামত কি সহীহ হবে? সুলতানগণ তদস্থলে অন্য খলীফা নির্বাচন করেছেন। ওলামাগণ তাকে অপসারণের ফতোয়া দিয়ে দেন। মজলিসে ওলামাদের মধ্যে কাযী শহর ইবনে কুরখীও উপস্থিত ছিলেন। লোকেরা সঙ্গে সঙ্গে তার চাচা মুহাম্মাদ বিন মুসতাযহারকে আল-মুকতাযা লি আমরিল্লাহ উপাধি দিয়ে তার হাতে বাইআত গ্রহণ করে। এটা ৫৩০ হিজরীর যিলকদ মাসের ষোলো তারিখের ঘটনা।

সংবাদ পেয়ে রাশেদ বিপুল অর্থ-সম্পদের লোভ দিয়ে এক দল সৈন্য নিয়ে আজারবাইযান চলে যান। সৈন্যরা সেখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। অতঃপর হামদান গিয়ে সেখানেও নারকীয় তাণ্ডব চালায়। অনেক লোককে হত্যা, অনেককে শূলেতে চড়ানো এবং বহু আলেমের দাড়ি কামিয়ে দেয়া হয়। এরপর ইস্পাহান অবরোধ করে শহরে ব্যাপক লুটতরাজ চালায়। সেখানে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ৫৩২ হিজরীর রমযান মাসের ষোলো তারিখে এক আযমী লোক তার তাঁবুতে ঢুকে ছোরা দিয়ে তাকে হত্যা করে। তার সাথে খলীফার সহচরদেরও সে হত্যা করে। খবর পেয়ে বাগদাদবাসী এক দিন মাতম করে। উম্মাদ কাতেব বলেন, রাশেদ ছিলেন হযরত ইউসুফ (আ.)-এর লাবণ্য এবং দানশীলতার সর্বশেষ ব্যক্তিত্ব। চাদর এবং ছড়ি মৃত্যু পর্যন্ত রাশেদের কাছেই ছিল। মৃত্যুর পর সেগুলো মুকতাফীর নিকট পৌঁছে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00