📄 আল-কাহির বিল্লাহ
আল-কাহির বিল্লাহ আবু মানসুর মুহাম্মাদ বিন মুতাযদ বিন তলহা বিন মুতাওয়াক্কিল ফিতনাহ নামক বাঁদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। মুকতাদার নিহত হওয়ার সময় লোকেরা তাকে এবং মুহাম্মাদ বিন মুকতাফীকে নির্বাচন করে। তারা খিলাফত গ্রহণের অনুরোধ নিয়ে ইবনে মুকতাফীর নিকট গেলে তিনি তা গ্রহণে অসম্মতি জানিয়ে বলেন, খিলাফতে আমার প্রয়োজন নেই। কারণ আমার চাচা কাহির খিলাফতের বেশি হকদার। কাহির খিলাফত গ্রহণ করলে বাইআত হয়ে যায়। ৩১৭ হিজরীতে তাকে আল-কাহির উপাধি দেয়া হয়।
তিনি খিলাফতে আসীন হয়ে সর্বপ্রথম মুকতাদারের আওলাদদের উপর জরিমানা আরোপ করেন এবং এতে তারা অনেক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করে। পরিস্থিতি এমন হয় যে, মুকতাদারের মা ধুকেধুকে ইন্তেকাল করেন।
৩২১ হিজরীতে সেনা বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে মুনিস এবং ইবনে মুকালাহসহ কতিপয় লোক কাহিরকে খিলাফতচ্যুত করে ইবনে মুকতাফীকে তখতে বসানোর চেষ্টা চালায়। জানতে পেয়ে কাহির একটি ফাঁদ পাতেন। তিনি তার বিরোধী সকলকে বন্দী করে হত্যা করেন এবং ফৌজদের উপহার- উপঢৌকন দিয়ে হাত করে নেন। এভাবে তিনি প্রজাদের অন্তরে মর্যাদার আসন করে নেন। তিনি তার লকবের সাথে 'আল-মুনতাকিম মিন আ'দায়াদ্বীনিল্লাহ'- এতটুকু বৃদ্ধি করেন।
এ বছর তিনি গায়িকা বাঁদিদের রাখা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। মদ দূরে ফেলে দেন। গায়কদের বন্দী করেন। হিজড়াদের নির্বাসনে পাঠান। খেলাধূলার সামগ্রী ভেঙে ফেলেন। যারা উত্তেজনাকর গান গাইত এবং যারা ঠাণ্ডা সঙ্গীত পরিবেশন করত না তাদের বিক্রি করে দেবার নির্দেশ দেন। অথচ তিনি নিজেই অসম্ভব রকম গান শুনতেন এবং মদ পান করে বুদ হয়ে থাকতেন।
৩২২ হিজরীতে দায়লম আলী বিন বুয়ার সহযোগিতায় ইস্পাহানের উপর আক্রমণ চালায়। সে সম্পদের পাহাড় গড়েছিল। খলীফার নায়েবের সাথে মিলে মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুবকে পরাজিত করে এবং ইবনে বুয়া পারস্যের দিকে দৃষ্টি দেয়। তার বাবা-মা ছিল হতদরিদ্র। তারা মৎস্য শিকার করত। একদিন সে স্বপ্নে দেখল, তার পেশাবের রাস্তা দিয়ে এক খণ্ড অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বের হয়ে পৃথিবী আলোকিত করে ফেলেছে। সে নিজেই এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করল এ ভাবে যে, তার আওলাদ বাদশাহ হবে। আর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ যতদূর পর্যন্ত পৌছেছে ততদূর পর্যন্ত তার রাজ্যের সীমানা যুদ্ধের মাধ্যমে সম্প্রসারিত হবে।
ইবনে বুয়া অনেক মাল জমা করে এবং অধিকাংশ শহর তার পদানত হয়। খোরাসান এবং পারস্য খিলাফত থেকে বেরিয়ে ইবনে বুয়ার অধীনে চলে যায়। এ বছর কাহির ইসহাক বিন ইসমাঈলকে কূপের মধ্যে লটকিয়ে হত্যা করেন। তার অপরাধ ছিল- সে খিলাফত লাভের আগে কাহিরের এক বাঁদিকে কাহিরের চেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে কিনে নিয়েছিল।
এ বছর ইবনে মুকালা আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে সেনা বাহিনীতে এ অপপ্রচার চালায় যে, সৈন্যদের বন্দী করে রাখার জন্য কাহির ভূগর্ভস্থ কক্ষ নির্মাণ করেছেন। এ কথা শুনে তারা কোষমুক্ত তলোয়ার নিয়ে কাহিরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে তিনি পালিয়ে যান এবং ৩২২ হিজরীর জামাদিউল আখের মাসের ছয় তারিখে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের হাতে তিনি বন্দী হন।
জনগণ আব্বাস মুহাম্মাদ বিন মুকতাদারের নিকট বাইআত করে এবং আর-রাযী বিল্লাহ উপাধি দিয়ে তার উপর খিলাফত চাপিয়ে দেয়। অতঃপর লোকেরা উযীর, আবুল হাসান বিন কাযী আবু উমর, হাসান বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল শাওয়ারিব, আবু তালিব বিন বহলুলকে কাহিরের নিকট পাঠায়। তারা তাকে বলল, এখন আপনি কি করতে চান? তিনি বললেন, তোমরা আমার বাইআত করেছ। আমি তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট নই। তোমরা আমার আনুগত্য করবে এবং অন্যদেরকেও আনুগত্য করতে উদ্বুদ্ধ করবে। এর জবাবে উযীর কাহিরকে অপসারণের অভিমত ব্যক্ত করে চলে যায়।
কাযী আবুল হাসান বলেন, আমি রাযীর নিকট গিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টিতে তার আমানত ফরয। রাযী বললেন, তোমাকে ছেড়ে দেয়া হল। আমি সেখান থেকে চলে আসার পর কাহিরের চোখে সীসা ঢেলে দেয়া হয়, ফলে তিনি চিরদিনের জন্য অন্ধ হয়ে যান। মাহমুদ ইস্পাহানী বলেন, দুশ্চরিত্র এবং রক্ত ঝরানোর প্রতি অসম্ভব নেশার কারণে কাহিরকে অপসারণ করা হয়। তিনি পদচ্যুত হতে অসম্মতি জানালে তার চক্ষুদ্বয় খুলে নেয়া হয়।
সূলী বলেন, কাহির ছিলেন রক্ত পিপাসু, দুশ্চরিত্র, স্বতন্ত্র মেজাজ এবং মদ্যপায়ী। প্রহরী পছন্দ না হলে তিনি তার বংশের পর বংশ হত্যা করতেন। তিনি বর্শা হাতে নিলে কাউকে না কাউকে হত্যা না করা পর্যন্ত ক্ষান্ত হতেন না।
৩৩৯ হিজরীর জামাদিউল আউয়াল মাসের শেষের দিকে ৫৩ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তিনি আব্দুস সামাদ, আবুল কাসিম, আবুল ফজল এবং আব্দুল আযীয নামক চার পুত্রের জনক।
📄 আর-রাযি বিল্লাহ
আর-রাযী বিল্লাহ আব্বাস মুহাম্মাদ বিন মুকতাদর মুতাযদ বিন তলহা বিন মুতাওয়াক্কিল ২৯৭ হিজরীতে জুলুম নামক এক রোমান বাঁদীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কাহিরকে অপসারণ করার পর তিনি তখতে উপবেশন করেন। মসনদে আরোহণের পর তিনি ইবনে মুকালাকে নির্দেশ দেন যে, কাহিরের ভুলত্রুটিগুলো পুস্তক আকারে লিপিবদ্ধ করে মানুষদের তা শুনিয়ে দাও।
৩২২ হিজরীতে মুরওয়াদিজের সিপাহসালার দিলম ইস্পাহানে মারা যায়। তার রাজ্যের সীমানা এতই সম্প্রসারিত হয়েছিল যে, লোকেরা বলত, দিলম বাগদাদ আক্রমণের ইচ্ছা করছে। দিলম বলত, আরব সাম্রাজ্য ভেঙ্গে আজমী সাম্রাজ্য গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। এ বছর আলী বিন বুয়া রাযীর নিকট বলে পাঠালো যে, যে শহরগুলো আমার করতলগত সেগুলোর জন্য বার্ষিক এক কোটি দিরহাম কর আমাকে দিতে হবে। রাযী সঙ্গে সঙ্গে তা পাঠিয়ে দিলে ইবনে বুয়া সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে প্রজাদের উপর বল প্রয়োগ করা ছেড়ে দেয়।
এ বছর মাহদীর দাবীদার পশ্চিমাঞ্চলে ২৫ বছর রাজত্ব করার পর মারা যায়। সে মিসরের ফাতেমী খলীফাদের একজন। কথিত আছে, সে হযরত আলীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত, সে ইমাম মাহদীর দাবী করে বলত, আমি হযরত আলীর বংশধর। মূলত তার দাদা অগ্নিপূজক ছিল। কাযী আবূ বকর বাকলানী বলেন, মাহদী দাবীদার লোকটির লকব ছিল উবায়দুল্লাহ। তার দাদা অগ্নিপূজক। সে পশ্চিমাঞ্চলে এসে মাহদীর দাবী করে বলে, আমি হযরত আলীর বংশধর। কিন্তু কোনো আলেম তাঁর দাবীর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেননি।
৩২৩ হিজরীতে রাযী শাসনভার নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তার দুই ছেলে আবুল ফজল এবং আবু জাফর পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে নিজেদের প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠা করে। এ বছর জামাদিউল আউয়াল মাসে এক প্রকার বিশেষ অন্ধকার গোটা পৃথিবীকে গিলে ফেলে। এটি আসর থেকে মাগরীব পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এ বছর যিলকাদা মাসের সকল রজনীতে আকাশের বড় বড় নক্ষত্রগুলো ভেঙে ভেঙে পড়তে থাকে।
৩২৪ হিজরীতে মুহাম্মাদ বিন আমীর রায়েক ওয়াসেত এবং এর পার্শ্ববর্তী শহরগুলো দখল করে নেয়। শহরগুলোতে মুহাম্মাদের ফরমান জারি হয়। উযীরগণকে বরখাস্ত করা হয়।
৩২৫ হিজরীতে মুসলিম সাম্রাজ্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। প্রথমে বিদ্রোহীরা শহরগুলো দখল করে। তারপর প্রশাসকবৃন্দ অধিকৃত শহর, নগর ও জনপদ থেকে কেন্দ্রীয় কোষাগারে খারাজ আসা বন্ধ হয়ে যায়। চারিদিকে অরাজকতা ছড়িয়ে পড়ে। বাগদাদ এবং এর পার্শ্ববর্তী জনপদ ছাড়া রাযীর হাতে আর কোন কিছুই রইল না। এ সময় খিলাফত নামসর্বস্ব হয়ে পড়ে। ফলে উমাইয়্যা বংশীয় স্পেনের বাদশাহ আমীর আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদের সাহস বেড়ে যায়। তিনি নিজের নামের সাথে আমীরুল মুমিনীন নাসিরুদ্দীনীল্লাহ উপাধি লাগিয়ে দাবী করে বলেন, আমিই খিলাফতের বেশি হকদার।
৩২৬ হিজরীতে বুহকিম আলী বিন রায়েককে আক্রমণ করে। আলী আত্মগোপন করে। বুহকিম বাগদাদে প্রবেশ করলে রাযী তাকে সাদর সম্ভাষণ জানান। তাকে আমীরুল উমারা খিতাব দেন।
৩২৭ হিজরীতে আবু আলী উমর বিন ইয়াহইয়া স্বীয় বন্ধু কারমাতীকে এ মর্মে পত্র লিখল যে, জনপ্রতি পাঁচ দিনার আদায়সাপেক্ষে হাজীদের রাস্তা খুলে দাও এবং হজ্ব করার অনুমতি দাও। সে অনুমতি দিল, লোকেরা হজ্ব আদায় করতে লাগল।
৩২৮ হিজরীতে দজলা নদীর পানি ফুলে ১৯ হাত খাড়া হয়ে যায়। এতে গোটা বাগদাদ প্লাবিত হয়। মানুষ এবং প্রাণিকুল ডুবে যায়।
৩২৯ হিজরীতে রাযী অসুস্থ হয়ে পড়লে রবিউল আউয়াল মাসে ৩১ বছর ৬ মাস বয়সে পরলোক গমন করেন। তিনি দানশীল, জ্ঞানী, সাহিত্যিক, কবি, বাগ্মী এবং ওলামা মাশায়েখ প্রিয় ছিলেন।
খতীব বলেন, রাযীর অনেক ফাযাইল রয়েছে। তিনিই সর্বশেষ খলীফা যার কবিতাগুলো প্রেমের রসে সিক্ত। তিনি শেষ খলীফা যিনি সেনা বাহিনীর ভাতা নির্ধারণের রীতিনীতি প্রণয়ন করেন। তিনি আখেরী খলীফা যিনি জুমআর খুতবা পাঠ করেন। তিনি সর্বশেষ খলীফা যিনি সহকর্মীদের সাথে পরামর্শ সভায় বসতেন। তিনি শেষ খলীফা যিনি পূর্ববর্তী খলীফাদের রীতি অনুযায়ী উপঢৌকন প্রদান করতেন।
📄 আল-মুত্তাকীলিল্লাহ
আল-মুত্তাকীলিল্লাহ আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুকতাদার বিন মুতাযদ বিন মুফিক তলহা বিন মুতাওয়াক্কিল স্বীয় ভ্রাতা রাযীর মৃত্যুর পর খিলাফতের তখতে আসীন হন। সে সময় তার বয়স ৩৪ বছর। তার মায়ের নাম খুলুব, ভিন্ন মতে যহরা। তার মা বাঁদি ছিলেন। তিনি কথার খিলাফ করতেন না। বাঁদি ব্যবহার করতেন না। অনেক রোযা রাখতেন এবং ইবাদত করতেন। তিনি কখনই শরাব স্পর্শ করেননি। তিনি যে বছর মসনদে আরোহণ করেন সে বছর মদীনা শরীফের সবুজ গম্বুজ ভারী বর্ষণ এবং বজ্রপাতের আওয়াজে ভেঙে যায়। এ গম্বুজকে বাগদাদের মুকুট মনে করা হতো।
এ বছর বুহকিম তুর্কী নিহত হওয়ায় তার স্থানে কুর্তগীনকে আমীরুল উমারা নিয়োগ করা হয়। এ বছর ইবনে রায়েক আক্রমণ করে। কুর্তগীন প্রতিহত করতে গিয়ে পরাজিত হয়ে লজ্জায় আত্মগোপন করলে ইবনে রায়েক তার স্থানে আমীরুল উমারা হয়ে যায়।
৩৩০ হিজরীতে বাগদাদে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে এক বস্তা গমের মূল্য দাঁড়ায় ৩১৬ দিনার। এ দুর্ভিক্ষে লোকেরা মৃত প্রাণী ভক্ষণ করে। এ বছর আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মাদ ইয়াযিদী হামলার মোকাবিলা করতে গিয়ে খলীফা মুত্তাকী এবং ইবনে রায়েক পরাজিত হয়ে মওছুলে চলে যান। খলীফা তাকরীয়ত শহরে পৌছুলে সেখানে সাইফুদ্দৌলা আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন হামদান এবং তার ভাই হাসানের সাথে সাক্ষাত হয়। ইবনে রায়েককে ধোঁকায় ফেলে হত্যা করা হয়। তদস্থলে খলীফা হাসান বিন হামদানকে নাসিরুদ্দৌলা উপাধি দিয়ে সাইফুদ্দৌলা এবং নাসিরুদ্দৌলা দুই ভাইকে নিয়ে খলীফা বাগদাদ রওনা করেন। ওদিকে সাইফুদ্দৌলা মাদায়েনের কাছে ইয়াযিদীর মোকাবিলা করে। তীব্র লড়াই হয়। অবশেষে ইয়াযিদী পরাজিত হয়ে ওসেতে পালিয়ে যায়।
৩৩১ হিজরীতে রোমানরা আরযান শহরে চড়াও হয়ে সেখানে গণহত্যা চালায়। এ বছর ওসেত-এ উমারা সাইফুদ্দৌলার উপর আক্রমণ চালায়। ওদিকে তওযুন ওয়াসিতা থেকে বাগদাদে এলে সাইফুদ্দৌলা মওসুলে চলে যায়। তওযুন রমযান মাসে বাগদাদে আসে। মুত্তাকী তাকে আমীরুল উমারা খেতাব দেয়। মুত্তাকী ইবনে হামদানের নিকট সাহায্য চেয়ে পত্র লিখলে সে এক সুবিশাল বাহিনী নিয়ে এসে পড়ায় তওযুন পরাজিত হয়। খলীফা মিসরের আমীর আখশাদের সাহায্য চেয়ে পত্র লিখায় বনূ হামদুন রাগান্বিত হয়ে পড়ে। অবশেষে খলীফা তওযুনকে সন্ধি করার প্রস্তাব দিলে সে তা গ্রহণ করে।
৩৩৩ হিজরীর মুহাররম মাসের চার তারিখে মুত্তাকী রুকা থেকে বাগদাদের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তওযুন খলীফাকে স্বাগত জানাতে বাইরে আসে। তওযুন খলীফা এবং ইবনে মুকালা-যে খলীফার সাথে ছিল দু'জনকেই সে বন্দী করে খলীফার চক্ষুদ্বয় উপড়ে ফেলে তাকে বাগদাদে পৌছে দেয়। সেখানে তার আংটি, চাদর ও লাঠি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। অতঃপর তওযুন বাগদাদে এসে আব্দুল্লাহ বিন মুকতাফীর নিকট খিলাফতের বাইআত করে এবং তাকে মুসতাকফী বিল্লাহ লকব দেওয়া হয়। মুত্তাকী নিজেও ক্ষতবিক্ষত হয়ে তার বাইআত গ্রহণ করেন। মুত্তাকীকে বন্দী রেখে ২৫ বছর পর ৩৫৭ হিজরীর শাবান মাসে তিনি মুক্তি পান।
📄 আল-মুসতাকফী বিল্লাহ
আল-মুসতাকফী বিল্লাহ আবুল কাসিম আব্দুল্লাহ বিন মুকতাফী বিন মুতাযদ ইমলাহুন্নাস নামক বাঁদির গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। মুত্তাকী অপসারিত হওয়ার পর ৩৩৩ হিজরীর সফর মাসে ৪১ বছর বয়সে তিনি খিলাফত লাভ করেন। এ বছরেই তওযুন পরলোক গমন করলে তারই সহচর আবু জাফর বিন শিরযাদকে আমীরুল উমারা নিয়োগ করেন। খলীফা তাকে খিলআত প্রদান করেন। অতঃপর আহমদ বিন বুয়া বাগদাদে এলে ইবনে শিরযাদ আত্মগোপন করে। ইবনে বুয়া বিনা বাধায় দারুল খুলাফায় প্রবেশ করে খলীফার সামনে গিয়ে বসে পড়ে। খলীফা তাকে মা'যাদ্দৌলা লকবসহ খিলআত প্রদান করেন। অতঃপর তিনি তার দ্বিতীয় ভাই আলীকে ইমাদুদ্দৌলা এবং তৃতীয় ভাই হাসানকে রুকনদ্দৌলা উপাধি দেন। আর তিনি ইমামুল হক লকব ধারণ করে ফরমান জারি করেন।
কিছুদিন পর প্রশাসন মাযাদ্দৌলার হাতে জিম্মি হয়ে পড়লে সে খলীফার দৈনিক খরচের জন্য পাঁচ হাজার দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করে দেয়। মাযাদ্দৌলা দায়লামীদের মধ্যে সাম্রাজ্যের প্রথম নায়েব। সে-ই সর্বপ্রথম খারাজ আদায়ের জন্য লোক নিয়োগ করে। সে লোকদের মাঝে সন্তরণ বিদ্যার খাহেশ পয়দা করে। সে নৌকা চালনা প্রতিযোগিতার প্রবর্তন করে।
কিছুদিন পর খলীফা সম্পর্কে মাযাদ্দৌলার খারাপ ধারণা জন্ম নেয়। ৩৩৪ হিজরীর জামাদিউল আখের মাসের কোনো একদিন দরবার বসল, সভাসদবর্গ স্ব স্ব আসনে উপবেশনরত। তখত অলংকৃত করে বসে আছেন খলীফা মুসতাকফী। দায়লামী সম্প্রদায়ের দু'জন লোক তখতের দিকে এগিয়ে গেল। হাতে চুমু দিবে ভেবে খলীফা তাদের দিকে হস্ত প্রসারিত করলে হাত ধরে টেনে তারা খলীফাকে নিচে ফেলে দিল। অতঃপর তারা তার পাগড়ি দিয়ে খলীফাকে বেঁধে রেখে অন্দর মহল অবাধে লুণ্ঠন করে। ওদিকে মাযাদ্দৌলা স্বীয় আলয়ে অবস্থান করে। তারা মুসতাকফীকে পায়ে হেঁটে আপন কক্ষে নিয়ে যায়। অতঃপর তাকে খিলাফত থেকে সরে দাঁড়াতে বলে এবং তার চক্ষুদ্বয় খুলে নেয়। সে সময় তার খিলাফতের বয়স হয়েছিল এক বছর চার মাস।
এরপর লোকেরা ফজল বিন মুকতাদরের নিকট বাইআত করলে অপারগ হয়ে তিনি তার উপর খিলাফত সোপর্দ করেন। অতঃপর মুসতাকফীকে বন্দী করা হয়। ৩৩৮ হিজরীতে তিনি জেলখানায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মুসতাকফীর ব্যাপারে এ কথা প্রসিদ্ধ যে, তিনি ছিলেন শীআ।