📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 বিভিন্ন ঘটনাবলী

📄 বিভিন্ন ঘটনাবলী


সালাফী তাওরিয়াত গ্রন্থে ইবনে মুবারকের সূত্রে লিখেছেন, হারুন রশীদ খলীফা হওয়ার পর মাহদীর এক বাঁদিকে তার মনে ধরে। হারুন রশীদ বাঁদিকে ডাকলে সে বলল, আমার সাথে আপনার বাবার মিলন হয়েছে। কিন্তু তিনি প্রেমের হস্তবাহু উন্মুক্তই রাখলেন। তিনি ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-কে এ সম্পর্কে মাসয়ালা জিজ্ঞেস করলেন। কাযী আবু ইউসুফ বললেন, আমিরুল মুমিনীন! বাঁদি যা বলেছে তা কি সত্য? কারণ সে তো পবিত্র নয়, তাকে সত্যায়িত করবেন না।

ইবনে মুবারক বলেন, আমি যে সব বিষয়ে আশ্চর্য ও আফসোস করি তা হলো- ঐ বাদশাহ এবং খলীফাদের ব্যাপারে যাদের হাত মুসলমানদের মালে ও রক্তে রঞ্জিত এবং যিনি পিতার মর্যাদার প্রতি খেয়াল করেন না। অথবা আমিরুল মুমিনীনের মত শানদার খলীফাও বাঁদির প্রতি আসক্ত, অথবা যুগ শ্রেষ্ঠ ফকীহ এবং ইসলামের কাযী যিনি খলীফাকে বাবার অভিব্যক্তি ও সংকল্পের সাথে সহবাসের পরামর্শ দিয়ে গুনাহর বোঝা (নাউযুবিল্লাহ-অনুবাদক) নিজ কাঁধে নেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ বলেন, রশীদ একদা কাযী আবু ইউসুফকে বলেন, আমি এক বাঁদি কিনেছি। এক হায়েয পার হওয়ার আগেই আমি তার সাথে সহবাস করতে চাই। সুতরাং যদি শরীয়তের কোন হিলা আপনার জানা থাকে তবে বলুন। কাযী আবু ইউসুফ বললেন, প্রথমে তাকে নিজের ছেলের কাছে হেবা করুন। অতঃপর তাকে বিয়ে করুন।

ইসহাক বিন রাহুয়া বলেন, এক দিন রাতে হারুন কাযী আবু ইউসুফকে ডেকে একটি মাসয়ালা জিজ্ঞেস করেন। মাসয়ালা বয়ান করার পর হারুন তাকে এক লাখ দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন। কাযী আবু ইউসুফ বললেন, আমিরুল মুমিনীন! এ অর্থ আমাকে ভোর হওয়ার আগে দিলে ভালো হবে। হারুন সকাল হওয়ার পূর্বে অর্থ দানের নির্দেশ দিলেন। কিন্তু জনৈক ব্যক্তি বলল, কোষাধ্যক্ষ বাড়িতে এবং কোষাগার বন্ধ। কাযী আবু ইউসুফ বললেন, যখন আমাকে ডাকা হয়েছিল তখনও দরজা বন্ধ ছিল। এ কথা শুনে কোষাগারের দরজা খুলে দেয়া হল।

সূলী ইয়াকুব বিন জাফর থেকে বর্ণনা করেন, হারুন রশীদ খলীফা হওয়ার পর সে বছরেই রোমের আশপাশের অঞ্চলগুলোতে আক্রমণ শেষে শাবান মাসে সেখান থেকে ফিরে এসে হজ্বের ফরযিয়ত আদায় করেন। তিনি হারামাইন শরীফাইনে গিয়ে বিপুল পরিমাণে অর্থ সম্পদ খরচ করেন। এর পূর্বে হারুন রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে স্বপ্নে দেখেন। তিনি (সা.) তাকে বলেন, এ মাসেই তোমার উপর খিলাফতের দায়িত্ব অর্পিত হবে। তোমার জন্য উচিত যে, তুমি লড়াই করবে, জিহাদ করবে, হজ্ব করবে এবং হারামাইন অধিবাসীদের প্রচুর অর্থ-সম্পদ দান করবে। হারুন খিলাফত লাভের পর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতিটি হুকুম অক্ষরে অক্ষরে আদায় করেন।

মুআবিয়া বিন সালেহ তার বাবা থেকে বর্ণনা করেন, হারুন রশীদ জীবনের প্রথম কবিতাটি প্রথম হজ্বের সময় আবৃত্তি করেন। ঘটনাটি এ রকম- তিনি এক বাড়িতে গেলেন, সে বাড়ির দেয়ালে এ কবিতাটি লিখা ছিল- "আমিরুল মুমিনীন! আপনি দেখেননি যে, আমি আপনাকে ফিদয়ার ক্ষেত্রে আমার প্রিয়তমকে বর্জন করেছি।" হারুন এর নিচে এ কবিতাটি লিখলেন- "হজ্বের যে পশুগুলো হারাম শরীফে যবেহ করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সেগুলো পবিত্র মক্কা শরীফের দিকে ধাবিত হতে অসমর্থ রয়ে গেছে।"

সাঈদ বিন মুসলিম বলেন, হারুন রশীদের জ্ঞান ছিল আলেমদের অনুরূপ। তিনি অধিকাংশ কবির বিভিন্ন কাব্য ও চরণ শুদ্ধ ও সংস্কার করে দিতেন। একবার কবি নো'মানের কবিতার একটি চরণ শুদ্ধ করে দেন, যা তিনি অশ্ব চিহ্নিতকরণে লিখেছিলেন।

ইবনে আসাকির ইবনে উলায়া থেকে বর্ণনা করেন, হারুন রশীদ এক ধর্মচ্যূতকে ধরে এনে হত্যা করার নির্দেশ দিলে সে বলল, আপনি কোন অপরাধে আমাকে হত্যা করবেন? তিনি বললেন, তোমার ফিতনা থেকে আল্লাহর সৃষ্টিকুল নিরাপদ থাকবে। সে বলল, আমি এক হাজার মনগড়া হাদীস লিপিবদ্ধ করে সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছি- এগুলো আপনি কি করবেন? হারুন রশীদ বললেন, এমনটা কেন করেছ হে আল্লাহর দুশমন? পরবর্তীরা আবু ইসহাক কুযারী এবং আব্দুল্লাহ বিন মুবারক জাল হাদীসগুলো খুঁজে খুঁজে বের করে এক একটি করে অক্ষর সমুদ্রে নিক্ষেপ করেন।

সূলী ইসহাক হাশমী থেকে বর্ণনা করেন, একদিন আমি হারুন রশীদের কাছে বসে ছিলাম। তিনি বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, আম জনতা আমার প্রতি এ ধারণা পোষণ করছে যে, আমি নাকি হযরত আলী (রা.)-এর ব্যাপারে শত্রুতা পোষণ করি। আল্লাহর কসম! আমি কাউকে হযরত আলী (রা.)-এর চেয়ে বেশি ভালোবাসি না। বস্তুত যারা আমার শত্রুতা করে তারা আমার অপবাদ ছড়াচ্ছে। যারা আমার সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় তারা এ কথা ছড়িয়ে দিয়েছে। আর শুধু এজন্য যে, আমি তাদের শাস্তি দিব তাই এবং তারা বনু উমাইয়্যার অনুগত। হযরত আলী (রা.)-এর পুত্রদ্বয় সকল মর্যাদাবান ও সম্মানিতদেরও উর্ধ্বে, আমার বাবা মাহদী আমার নিকট এ রেওয়ায়েতটি বর্ণনা করেন, যা তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন- নবী আকরাম (সা.) হযরত ইমাম হাসান (রা.) এবং হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর ব্যাপারে ইরশাদ করেন, যে এ দুজনকে ভালোবাসবে সে আমাকেও ভালোবাসবে, আর যে তার শত্রুতা করবে সে আমারও শত্রুতা করবে। তিনি (সা.) আরো বলেন, হযরত ফাতিমাতুয যুহরা হযরত মারিয়ম বিনতে ইমরান এবং হযরত আসীয়া বিন মুযাহিম (ফিরাউনের স্ত্রী) ছাড়া পৃথিবীর সকল নারীদের নেত্রী।

বর্ণিত আছে, একদা ইবনে সামাক হারুন রশীদের কাছে এলেন। সে সময় হারুন রশীদের পিপাসা লেগেছিল। তিনি পানি চাইলেন, কেউ পানি এগিয়ে দিলে ইবনে সামাক বললেন, থামুন, আপনার যদি খুব পিপাসা লাগে আর কোথাও পানি না পান তাহলে এক গ্লাস পানি আপনি কত দিয়ে ক্রয় করবেন? হারুন রশীদ বললেন, অর্ধেক রাজত্ব দিয়ে। ইবনে সামাক বললেন, এবার পান করুন। তিনি পানি পান করলে ইবনে সামাক আবার জিজ্ঞেস করলেন, আপনার পানকৃত পানি যদি পেটেই থেকে যায় তাহলে তা বের করার জন্য আপনি কতটুকু খরচ করবেন? হারুন বললেন বাকী অর্ধেক রাজ্য। ইবনে সামাক বললেন, আপনি স্মরণ রাখবেন, আপনার গোটা সাম্রাজ্য এক গ্লাস পানি পান এবং পেশাবের সমমূল্য। অতএব একজন জ্ঞানী ব্যক্তির জন্য বাদশাহীর দিকে ঝুঁকে পড়া নিরেট বোকামী ছাড়া কিছু নয়। এ কথা শুনে হারুন রশীদ খুব কাঁদলেন।

ইবনে জাওযী বলেন, হারুন রশীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শায়বান তাকে এ নসীহত করেন- আপনার যে প্রিয়জন আপনাকে ভয় প্রদর্শন করেন এবং এর ফলাফল হয় নিরাপদ তিনি সেই প্রিয়জনের চেয়ে উত্তম যার ভয় প্রদর্শনের ফল দাঁড়ায় বেপরোয়া হয়ে যাওয়া। হারুন বললেন, ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলুন আপনার কথার উদ্দেশ্য কি? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি আপনাকে বলবে কিয়ামত দিবসে সকল বিষয়ে আপনি জিজ্ঞাসিত হবেন। অতএব আল্লাহকে ভয় করুন। এ ব্যক্তিটি ঐ ব্যক্তির চেয়ে উত্তম যে বলবে- আপনি আহলে বাইত, আপনার সকল পাপরাশি মার্জনীয়। কারণ আপনি নবী আকরাম (সা.)-এর নিকটাত্মীয়। এ কথা শুনে তিনি এমনভাবে কাঁদতে লাগলেন যারা তাঁর পার্শ্বে ছিল তাদের মাঝেও দয়ার উদ্রেক হলো।

সূলী স্বরচিত কিতাবুল আওরাক গ্রন্থে লিখেছেন, হারুন খলীফা হওয়ার পর ইয়াহইয়া বিন খালিদ মক্কীকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিলে ইবরাহীম মওসূলী এ কবিতাটি আবৃত্তি করেন- "হে সম্বোধিত ব্যক্তি! আপনি কি দেখেননি যে, সূর্য অসুস্থ (আলোহীন) ছিল। হারুন খিলাফত প্রাপ্ত হওয়ায় তার দীপ্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। পৃথিবী তার সৌন্দর্যে প্লাবিত, কারণ হারুন বাদশাহ, আর তার মন্ত্রী হলেন ইয়াহইয়া।" এ কবিতা শুনে হারুন কবিকে এক লাখ দিরহাম এবং ইয়াহইয়াকে পঞ্চাশ হাজার দিরহাম পুরস্কার দিলেন।

দাউদ বিন যারীন ওয়াসতীও অনুরূপ একটি কবিতা আবৃত্তি করেন- "হারুনের সংস্পর্শে প্রতিটি শহর, নগর, জনপদে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে। এর কারণে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইনসাফ। তিনি লোকদের ইমাম। তাঁর কাজ হল হজ্ব করা এবং জিহাদের ময়দানে গমন করা। তাঁর চেহারার নূরে পৃথিবীর আলো বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি লোকদের সামনে এলে তাঁর বদান্যতার হস্ত প্রসারিত হতো। সে সময় যারা তাঁর থেকে যতটুকু আশা করতেন তারা তার চেয়েও অনেক বেশি পেতেন।"

কাযী ফাযেল স্বরচিত কতিপয় পুস্তিকায় লিখেছেন আমার দৃষ্টিতে দু'জন বাদশাহ ছাড়া জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোন বাদশাহ এত অধিক ভ্রমণ করেননি। এক. হারুন রশীদ তার দুই ছেলে আমীন এবং মামুনকে নিয়ে মুয়াত্তা ইমাম মালিক পড়ার জন্য ইমাম মালিক (র.)-এর দরবারে গমন করেন। মুয়াত্তা ইমাম মালিকের যে কপিটি তারা তিনজন পড়েছেন তা মিসর অধিপতিদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত ছিল। দুই, সুলতান সালাহউদ্দীন বিন আইয়ূব পরবর্তীতে এই মুয়াত্তা ইমাম মালিক পড়ার উদ্দেশ্যেই ইসকান্দারিয়া পর্যন্ত সফর করেন। এবং সেখানে আলী বিন তহেব বিন আউন তাকে মুয়াত্তা পড়ান।

মানসুর নামরী এ সম্বন্ধে এ কবিতাটি আবৃত্তি করেন- "তিনি কুরআনকে নিজের ইমাম এবং দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কারণ কুরআন শরীফ তার মতে অবশ্য অনুসরণীয়।"। এ প্রেক্ষিতে তিনি এক লাখ দিরহাম ইনাম পান।

হারুন রশীদের স্মরণীয় উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো- তিনি বলেন, আমার প্রশংসাসূচক কাব্যগুলোর মধ্যে আমার নিকট এ কাব্যটি সবচেয়ে বেশি পছন্দনীয়- "হে আমীন, মামুন এবং মুতামিনের বাবার আওলাদ কতইনা নেককার।"

ইসহাক মওসূলী বলেন, একদা আমি হারুন রশীদের নিকট এসে এ কবিতাটি পেশ করলাম- "যখন এ নারী কৃপণতার নির্দেশ করেছিলেন তখন আমি বললাম, কৃপণতা হ্রাস কর। কারণ অর্থ এমন জিনিস যা আসবে যাবে। আমি লোকদেরকে দানশীলদের বন্ধু হতে দেখেছি। কৃপণদের কোন বন্ধু আমার দৃষ্টিতে পড়েনি। কৃপণতা কৃপণকে কলঙ্কিত করে। আমার মন চায় কোন কৃপণ আমাকে বলে, এ যুবকের ভালো দিকগুলোর মধ্যে এটি একটি যে, যখন তার কাছে সম্পদ থাকে তখন সর্বদা সে তা খরচ করে। আমি কেন দরিদ্রতাকে ভয় এবং ধনাঢ্যতাকে সম্মান করবো যখন আমিরুল মুমিনীন আমার ব্যাপারে ভালো ধারণা পোষণ করবেন।" এটা শুনে হারুন রশীদ বললেন, হ্যাঁ কেন ভয় পাবে! হে ফজল, তাকে এক লাখ দিরহাম দাও। আল্লাহর কসম! তার কবিতাগুলো অত্যন্ত সুন্দর। আমি বললাম, আমিরুল মুমিনীন! আমার কবিতার চেয়ে আপনার ফরমান আরো সুন্দর। হারুন বললেন, ফজল! তাকে আরো এক লাখ দিরহাম দাও।

মুহাম্মাদ বিন আলী খোরাসানী বলেন, খলীফাদের মধ্যে হারুন রশীদ সর্বপ্রথম পোলো এবং চিহ্ন নিশানা করে তীর নিক্ষেপকরণ জাতীয় খেলা খেলেন। বনু আব্বাসের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম দাবা খেলেন। সূলী বলেন, তিনিই সর্বপ্রথম গায়কদের পদ মর্যাদা নির্ধারণ করেন।

তিনি বাঁদি হেলেনার মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ শোক গাঁথা আবৃত্তি করেন।

হারুন রশীদ খোরাসান রাজ্যের তওস অঞ্চলে জিহাদে গিয়ে ১৯৩ হিজরীর জামাদিউল আখির মাসের তিন তারিখে ৪৫ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে সেখানেই সমাহিত করা হয়। তার ছেলে সালেহ তাঁর জানাযা পড়ান।

সূলী বলেন, হারুন রশীদ নগদ দশ কোটি দিনার, বিপুল পরিমাণ জিনিস পত্র, মনি-মুক্তা, রৌপ্য, অশ্ব এবং দশ কোটি পঁচিশ হাজার ভূসম্পত্তি রেখে যান।

কথিত আছে, হারুন স্বপ্নে দেখেন তিনি তওস যাত্রা করছেন। ভোরে উঠে তিনি খুব কাঁদলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আমার কবর খনন কর। কবর খনন করা হলো। তিনি নিজে উটের পিঠে সওয়ার হয়ে কবর দেখতে যান। কবরের দিকে দৃষ্টি দিয়ে তিনি বলে উঠলেন- হে ইবনে আদম! তুমি একেই গ্রহণ করবে। অতঃপর কয়েকজনকে কবরে নামার নির্দেশ দিলেন। সেখানে তিনি কুরআন শরীফ খতম করান। সে সময় তিনি কবরের পাশে বসে ছিলেন।

তার ইন্তেকালের পর লোকেরা আমীনের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে। আমীন সে সময় বাগদাদে ছিলেন। বাগদাদে মৃত্যু সংবাদ পৌছাার পর আমীন জুমআর দিন খুতবা প্রদান করেন এবং এতে লোকদের হারুন রশীদের ইন্তেকালের সংবাদ জানিয়ে দেন। সে দিন সেখানেই আম বাইয়াত অনুষ্ঠিত হয়। রাজা নামক হারুন রশীদের গোলাম হারুন রশীদের চাদর, ছড়ি এবং মোহর নিয়ে বারো দিন পর জামাদিউল আখির মাসের পনেরো তারিখে বাগদাদে এসে সেগুলো আমীনকে বুঝিয়ে দেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00