📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 আমীর মুআবিয়ার জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র

📄 আমীর মুআবিয়ার জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র


ইবনে আবি শাইবা 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে সাঈদ বিন জুমহানের বরাত দিয়ে লিখেছেন, আমি সাফীনাকে বললাম, বনূ উমাইয়া বলছে, খিলাফত তাদের বংশীয়। তিনি বললেন, সে সঠিক বলেনি। তিনি বাদশাহ, কঠোর বাদশাহ। আর সর্বপ্রথম বাদশাহ হলেন আমীর মুআবিয়া (রা.)।

বায়হাকী এবং ইবনে আসাকির ইবরাহীম বিন সুওয়াইদুল আরমানীর বরাত দিয়ে বলেন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বলকে জিজ্ঞেস করা হলো, খলীফা কে কে? তিনি বললেন, আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম। আমি বললাম, আর মুআবিয়া? তিনি বললেন, হযরত আলীর যুগে খিলাফতের যোগ্য হযরত আলী (রা.) ছাড়া আর কেউ ছিল না।

সালাফী 'তৌরিয়াত' গ্রন্থে লিখেছেন, আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) হযরত আলী (রা.) এবং হযরত মুআবিয়া (রা.) সম্পর্কে তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, হযরত আলীর অনেক শত্রু ছিল। তারা সর্বদা তাঁর ভুল ত্রুটির অনুসন্ধান করতো। তাঁর কোনো দোষ-ত্রুটি না পেয়ে তার এমন লোকের কাছে সমবেত হয়, যে আগে থেকেই হযরত আলীর ব্যাপারে শত্রুতা পোষণ করতো।

ইবনে আসাকির আব্দুল মালিক বিন উমায়ের (রহ:) থেকে বর্ণনা করেন, একদা জারিয়া বিন কুদামা সাদী আমীর মুআবিয়ার নিকট গেলে তিনি বললেন, তুমি কে? জারীয়া বললেন, আমি জারীয়া বিন কুদামা। তিনি বললেন, তুমি কি সৃষ্টি করতে চাও? তুমি তো মূল্যহীন মধুওয়ালা মাছি। জারীয়া বললেন, আপনি এমন দৃষ্টান্ত দিয়েছেন যে, সেই মাছির হুল অত্যন্ত শক্ত এবং মজবুত।

ফজল বিন সুওয়ায়েদ বলেন, জারীয়া বিন কুদামা হযরত আমীর মুআবিয়ার দরবারে গেলে তিনি বললেন, তোমাদের (হযরত আলী) পক্ষ হতে এমন অগ্নি প্রজ্বলিত হবে, যা আরবের সকল জনপদকে ভস্মীভূত করে ফেলবে এবং রক্তের নদী প্রবাহিত করে দিবে। জারীয়া বললেন, হে মুআবিয়া! আপনি হযরত আলীর পিছু ছেড়ে দিন। আমরা যেদিন থেকে তাঁকে ভালোবেসেছি সেদিন থেকে আর তাঁকে অসন্তুষ্ট করিনি। যেদিন থেকে তাঁর মঙ্গল কামনা করেছি সেদিন থেকে তাঁকে ধোঁকা দেইনি। হযরত মুআবিয়া (রা.) বললেন, জারীয়া! তোমার ব্যাপারে দুঃখ হয়। তুমি তোমার বংশের বোঝা। যে তোমার নাম জারীয়া (বাঁদী) রেখেছে সে সার্থক। জারীয়া বললেন, হে মুআবিয়া! আপনিই সমাজের বোঝা। যে আপনার নাম মুআবিয়া (ঘেউ ঘেউকারী) রেখেছে সে ধন্য। তিনি বললেন, তুমি আমাকে ধোঁকা দিয়েছ। জারীয়া বললেন, আপনি তলোয়ারের শক্তি দিয়েও আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারেননি। আমরা যুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। কিন্তু সন্ধির মাধ্যমে আপনি জেঁকে বসেছেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে আমরাও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবো। শর্ত ভঙ্গ করলে আমরা বিকল্প পথ খুঁজবো। আমাদের সাথে অনেক সাহায্যকারী রয়েছে যাদের বর্ম খুব মজবুত এবং লোহার চেয়েও পরিপক্ক। আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে আমরা বিদ্রোহ করবো। অতঃপর আমাদের বিদ্রোহের স্বাদ আস্বাদন করবেন। হযরত মুআবিয়া (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা তোমার মতো আর কাউকে যেন সৃষ্টি না করেন।

আবু তোফায়েল আমের বিন ওয়াতালা সাহাবী বলেন, একদিন আমি হযরত মুআবিয়ার কাছে গেলে তিনি বললেন, তুমি কি উসমান (রা.)-এর হত্যাকারীদের একজন? আমি বললাম, না, আমি উপস্থিত ছিলাম, তবে সাহায্য করিনি। তিনি বললেন, কে সাহায্য করতে তোমাকে নিবৃত্ত করেছে? আমি বললাম, মুহাজির এবং আনসারদের মধ্যে কেউ নয়। তিনি বললেন, লোকেরা সে প্রতিশোধ নেবার অধিকার সংরক্ষণ করে। আমি বললাম, হে আমিরুল মুমেনীন, আপনি কেন সেদিন তাঁকে সাহায্য করেননি? অথচ সিরিয়াবাসী আপনার সাথে ছিল। তিনি বললেন, আমি তাঁর রক্তের প্রতিশোধ নিয়ে আমি তাঁকে সাহায্য করেছি। আমি তার কথা শুনে হাসলাম এবং বললাম, হযরত উসমান (রা.) এবং আপনার দৃষ্টান্ত এ রকম যেরূপ কবি, বলেন, "এমনটা যেন না হয়ে যে, মৃত্যুর পর আমার জন্য বিলাপ করবে। আর জীবিত থাকা অবস্থায় আমার যা পাওনা ছিল তা বুঝিয়ে দিয়ো না।"

শা'বী (রা.) বলেন, আমীর মুআবিয়া (রা.) সর্বপ্রথম বসে খুতবা পাঠের প্রবর্তন করেন। কারণ সে সময় তিনি অনেক মোটা এবং পেট বড় হয়েছিল। (ইবনে আবী শায়বা) যহরী বলেন, তিনি ঈদের খুতবা নামাযের পূর্বে পাঠ করার নিয়ম চালু করেন। (আব্দুর রাজ্জাক) সাঈদ বিন মুসায়‍্যাব (রা.) বলেন, তাঁর যুগে ঈদের নামাযের আযান দেয়ার মতো বিদআত কাজটি করা হতো। (ইবনে আবী শায়বা) তিনি এত বলেন যে, হযরত মুআবিয়া (রা.) নামাযের তাকবীর কম করে বলতেন।

আল্লামা আসকারী 'আওয়ায়েল' গ্রন্থে লিখেছেন, তিনি প্রথম ডাক বিভাগের প্রবর্তন করেন। তাঁর সাথে জনগণ প্রথম গোস্তাখী করে। السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَ كَاةٌ الصَّلُوةُ يَرْ حَمُكَ الله এ পদ্ধতিতে সালামের রীতি প্রবর্তন করেন। তিনি সর্বপ্রথম দাপ্তরিক কাজে আব্দুল্লাহ বিন আউস গাসসানীর তত্ত্বাবধানে لكل عمل ثواب খোদিত মোহর ব্যবহার করেন। আব্বাসীয়া বংশের সকল খলীফা এ মোহর ব্যবহার করেছেন। আমীর মুআবিয়ার ফরমানে এক লক্ষ দেরহামের স্থানে জনৈক কর্মচারী কর্তৃক দুই লক্ষ লিখিত হওয়ার প্রেক্ষিতে মোহরের প্রবর্তন করা হয়। তিনি জামে মসজিদের মেহরাব তৈরি করেন। তিনি সর্বপ্রথম কাবার গিলাফ নামানোর নির্দেশ জারি করেন।

যুবায়ের বিন বাকার 'মুকাযিয়াত' গ্রন্থে যহরীর ভাতিজার বরাত দিয়ে লিখেছেন, আমীর মুআবিয়া (রা.) সর্বপ্রথম বাইআতের সময় কসম খাওয়ার প্রথা চালু করেন। তিনি খিলাফতের বিষয়ে কসম করেছিলেন। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান গোলাম আযাদ করার ক্ষেত্রেও কসম নিতেন।

আসকারী 'আওয়ায়েল' গ্রন্থে সুলায়মান বিন আব্দুল্লাহ বিন মুআম্মারের বরাত দিয়ে লিখেছেন, একদা আমীর মুআবিয়া (রা.) মক্কা অথবা মদীনার মসজিদে গমন করলেন। সেখানে ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম বসেছিলেন। আমীর মুআবিয়া (রা.) তাঁদের নিকট এসে বসলে ইবনে আব্বাস (রা.) মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, হে মুখ ঘুরিয়েলেনেওয়ালা! আমি তোমার চাচাতো ভাই-এর চেয়ে বেশি খিলাফতের হকদার। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণের জন্য? রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে সর্বপ্রথম সহাচর্য দানের জন্য? না হুযূর (সা.)-এর নিকটাত্মীয় হওয়ার কারণে আপনি তার চেয়ে বেশি খিলাফতের হকদার? আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, তোমার চাচার ছেলে নিহত হওয়ার কারণে। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, এ দৃষ্টিকোণ থেকে ইবনে আবু বকর (রা.) বেশি হকদার। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, আবু বকর (রা.) তো স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, তাহলে ইবনে উমর (রা.) হকদার। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, এদিক থেকে তোমার যুক্তি পরিত্যাজ্য। কারণ আপনার চাচার ছেলের উপর যারা আক্রমণ করে শহীদ করেছে তারা মুসলমান।

আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল বলেন, আমি একবার মদীনা শরীফে আমীর মুআবিয়ার নিকট গেলাম। কিছুক্ষণ পর আবু কাতাদা (রা.) আনসারীও এলেন। আমীর মুআবিয়া (রা.) তাকে বললেন, আমার নিকট সকলেই আসলেও আনসারগণ এলেন না। তিনি জবাব দিলেন, আমাদের আনসারদের নিকট কোনো বাহন নেই। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, তোমাদের উটগুলো কি হয়েছে? তিনি বললেন, বদর যুদ্ধে আপনাদের এবং আপনার বাবার পশ্চাদ্ধাবন করতে গিয়ে সবগুলো মারা পড়েছে। অতঃপর তিনি আবার বললেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট ইরশাদ করেছেন, আমার পর অন্যরা হকদারদের উপর প্রাধ্যান্য পাবে। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, তুমি এ পরিস্থিতিতে কি করবে? তিনি বললেন, সহনশীল হব। ধৈর্যধারণ করবো। আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, তবে ধৈর্যধারণ করে থাক।

এ প্রেক্ষিতে আব্দুর রহমান বিন হাসসান এ কবিতাটি রচনা করেন, "আমিরুল মুমিনীন মুআবিয়া বিন হরবের নিকট অবশ্যই এ সংবাদ পৌছে দিবে যে, কিয়ামত দিবস পর্যন্ত আপনাকে সুযোগ দেয়া হয়েছে এবং আমরা সেই ইনসাফের দিন পর্যন্ত ধৈর্যধারণ করবো।"

ইবনে আবীদ দুনিয়া এবং ইবনে আসাকির জাবালা বিন সাহীম থেকে বর্ণনা করেন, আমি আমীর মুআবিয়ার দরবারে গিয়ে মুআবিয়ার গলায় দড়ি লাগিয়ে এক বাচ্চাকে টানতে দেখে বললাম, এ বাচ্চা কি করছে? তিনি বললেন, চুপ করো। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি যে, বাচ্চার সঙ্গে মিশলে নিজেকে বাচ্চা হয়ে যেতে হয়। ইবনে আসাকিরের মতে হাদীসটি গরীব।

ইবনে আবী শায়বা 'মুসান্নাফ' গ্রন্থে লিখেছেন, জনৈক কুরাইশ ব্যক্তি আমীর মুআবিয়ার কাছে গিয়ে অনেক নরম-গরম মন্তব্য শুনানোর পর হযরত আমীর মুআবিযা বললেন, ভাতিজা! এ ধরনের মন্তব্য থেকে ফিরে আস। বাদশাহর রাগ বাচ্চার রাগের মতো। আর বাদশাহর আক্রমণ বাঘের ন্যায় ক্ষিপ্র ও দুর্ধর্ষ।

শা'বী (রা.) যিয়াদের বরাত দিয়ে বলেন, আমি খারাজ আদায় করার জন্য এক লোককে পাঠালাম। সে ফিরে এসে সন্তোষজনক হিসাব দিতে না পারায় আমার ভয়ে আমীর মুআবিয়ার নিকট আশ্রয় নেয়। আমি বিষয়টি তাঁকে অবগত করালে তিনি পত্র লিখে জানালেন, আমাদের একই পদ্ধতিতে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। আমরা উভয়ে নমনীয় হলে জাতি পাপকার্যে নিমজ্জিত হবে। আবার উভয়ে কঠোর হলে আমজনতা শেষ হয়ে যাবে। অতএব, তুমি নমনীয় হলে আমার অবস্থান শক্ত হবে, আর তুমি কঠোর হলে আমি মমতার আশীর্বাদ নিয়ে জাতির সামনে এসে দাঁড়াব।

শা'বী (রা.) বলেন, আমি হযরত মুআবিয়াকে বলতে শুনেছি যে জাতি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে অনৈক্য ও মতভেদ থাকবে সে জাতির উপর ভ্রান্ত মতবাদে বিশ্বাসী সম্প্রদায় প্রাধান্য পাবে। তবে এ উম্মতের উপর এমনটা হবে না।

তৌরিয়াত গ্রন্থে সুলায়মান আল-মাখযুমী কর্তৃক বর্ণিত, একদা হযরত আমীর মুআবিয়া (রা.) জনসাধারণের এক উন্মুক্ত সমাবেশে নিজের জন্য প্রযোজ্য এমন অর্থবোধক তিনটি আরবী কবিতা শ্রবণের আগ্রহ প্রকাশ করলে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের তিন লক্ষ দেরহামের বিনিময়ে তা শোনাতে সম্মত হন। পরিশেষে আমীর মুআবিয়ার রাজী হওয়ার প্রেক্ষিতে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা.) আবৃত্তি করেন, প্রথম কবিতা "আমি জনতাকে পালন করে থাকি আমি তোমাকে ছাড়া লোকদের মধ্যে কাউকে শত্রুতা পোষণ করতে দেখেনি।" দ্বিতীয় কবিতা, "আমি তোমার যুগে বেদনায় বিধ্বস্ত জনতার দলকে শত্রুতা ছাড়া আর কিছু করতে দেখেনি।" তৃতীয় কবিতা, "আমি সকল দুঃখ ও লজ্জার স্বাদ পেয়েছি। কিন্তু ভীক্ষাবৃত্তির চেয়ে বড় লজ্জাকর কাজ আর দেখেনি।" আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, তুমি যথার্থই বলেছ। অতঃপর তিনি কবিকে তিন লক্ষ দেরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন।

ইমাম বুখারী, ইমাম নাসাঈ এবং ইবনে আবী হাতিম (রহ:) কর্তৃক স্বরচিত তাফসীর গ্রন্থে লিখেছেন, মারওয়ান যখন আমীর মুআবিয়া (রা.) কর্তৃক মদীনার গভর্নর সে সময় এক দিন তিনি খুতবার মধ্যে বলেছিলেন, আমিরুল মুমেনীন হযরত মুআবিয়া (রা.) তাঁর ছেলেকে খলীফা মনোনীত করার ব্যাপারে যে অভিমত পেশ করছেন তা যথাযথ। কারণ এটাই ছিল হযরত আবু বকর এবং হযরত উমরের নীতি। এতদশ্রবণে আব্দুর রহমান বিন আবু বকর (রা.) বললেন, এটা আবু বকর এবং উমরের নীতি নয়; বরং তা কেসরা ও কায়সারের নীতি। কারণ আবু বকর (রা.) এবং উমর (রা.) নিজের সন্তানাদি এবং পরিবারের মধ্য থেকে কারো জন্য বাইআত গ্রহণ করেননি। আর হযরত মুআবিযা (রা:)-ও দয়ার্দ্র পিতা হিসেবেই ছেলের জন্য এমনটা করেছেন। মারওয়ান বললেন, তোমরা তো সেই ব্যক্তি নও যাদের কথা কুরআনে বিধৃত রয়েছে। তোমাদের পিতার মৃত্যুতে তোমরা তো আহ শব্দটুকুও বলনি। তোমরা তো নিজ পিতাদের প্রতিরোধ করেছিলে। ইবনে আবু বকর (রা.) বললেন, তুমি কি অভিশপ্তের পুত্র নও? রাসূলুল্লাহ (সা.) তোমার বাবাকে অভিশাপ দিয়ে ছিলেন। বিষয়টি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) পর্যন্ত পৌছে গেলে তিনি বললেন, মারওয়ান মিথ্যা বলেছে। আয়াতটি অমুক লোকের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। আর মারওয়ান তার পিতার ঔরসে থাকা অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) মারওয়ানের পিতাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। এ দিক থেকে মারওয়ান অভিশাপের মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেছে।

ইবনে আবি শায়বা মুসান্নাফ গ্রন্থে ওরওয়ার বরাত দিয়ে লিখেছেন, হযরত মুআবিয়া বলেন, মানুষের আভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ছাড়া ধৈর্য ও সহনশীলতা সৃষ্টি হয় না।

ইবনে আসাকির (রহ:) শা'বী (রহ:) থেকে রেওয়ায়েত করেন, মুআবিয়া, আমর বিন আস, মুগীরা বিন শোবা এবং যিয়াদ হলেন আরবের শ্রেষ্ঠ চার বুদ্ধিমান। হযরত মুআবিয়া (রা.) ভদ্রতা, বিনয় এবং বিচক্ষণতায় হযরত আমর বিন আস কষ্ট সহিষ্ণুতায়, মুগীরা বিন শোবা স্বাধীনতা হাত ছাড়া না হওয়ার জন্য যত্নশীল হওয়ায় এবং যিয়াদ বল্লাহীন কথা বলার জন্য বিখ্যাত। ইবনে আসাকির এটাও বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) আলী (রা.), ইবনে মাসউদ (রা.) এবং যায়েদ বিন সাবিত (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ চার বিচারক।

কুবায়সা বিন জাবির বলেন, আমি উমর বিন খাত্তাব (রা.)-এর সাহচর্যে থেকে এটুকু বুঝতে পেরেছি যে, তাঁর চেয়ে বেশি কুরআন শরীফ এবং আইনের জ্ঞান কারো ছিল না। আমি তলহা বিন উবায়দুল্লাহর সাথেও ছিলাম। না চাইতে দান করার প্রবণতা তাঁর চেয়ে বেশি কারো মধ্যে দেখিনি। আমি হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর সাথেও ছিলাম হযরত মুআবিয়ার চেয়ে ধৈর্যশীল এবং বিচক্ষণ আলেম আমার চোখে পড়েনি। হযরত আমার বিন আসের চেয়ে নিরাপদ সহকর্মী এবং বিশ্বস্ত বন্ধু আর কেউ নেই।

ইবনে আসাকির জাফর বিন মুহাম্মাদের পিতার বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন যে, একদা হযরত আকীল (রা.) আমীর মুআবিয়ার নিকট গেলে তিনি বললেন, এ তো সেই আকীল যার চাচা আবু লাহাব। হযরত আকীল (রা.) বললেন, এ তো সেই মুআবিয়া যার ফুফু হামালাতুল হতব (আবু লাহাবের স্ত্রীর নাম-অনুবাদক)।

ইবনে আসাকির (রহঃ) আওযায়ী (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, একদা হুযায়েম বিন ফাতাক আমীর মুআবিয়ার নিকট গেলেন। হুযায়েমের পায়ের গোছা ছিল অত্যন্ত সুদর্শন, তা দেখে আমীর মুআবিয়া (রা.) বললেন, এ পায়ের গোছা কোন্ নারীর? হুযায়েম বললেন, হে আমিরুল মুমেনীন, আপনার পত্নীর।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00