📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 কুরআনের তাফসীর

📄 কুরআনের তাফসীর


ইবনে সাদ কর্তৃক বর্ণিত, হযরত আলী (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! প্রতিটি আয়াতের শানে নূযুল (আয়ত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট), আয়াতটি কোথায় এবং কার ব্যাপারে নাযিল হয়েছে তা আমার জানা রয়েছে। আমার প্রতিপালক আমাকে প্রজ্ঞা এবং ভাষা দান করেছেন।

ইবনে সাদ প্রমুখ আবু তোফায়েলের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, হযরত আলী (রা.) বলেন, কুরআন শরীফ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জিজ্ঞেস করো। আমার অবগতির বাইরে এমন কোনো আয়াত নেই। আমি বলতে পারবো আয়াতটি রাতে না দিনে, ময়দানে না পাহাড়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

ইবনে আবু দাউদ মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী (রা.) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর বাইআত গ্রহণে বিলম্ব করায় হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, তুমি কি আমার বাইআত সম্পর্কে সংশয়ের মধ্যে আছো? হযরত আলী (রা.) বললেন না তবে কুরআন শরীফকে জমা না করা পর্যন্ত নামায ছাড়া কোনো সময় চাদর পরব না বলে কসম করেছি। কুরআন শরীফ যে ক্রমধারায় অবতীর্ণ হয়েছে সে ধারাবাহিকতায় আপনি কুরআন শরীফের বিন্যাস করবেন বলে লোকদের ধারণা।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 বিচ্ছচিত উক্তি ও বাণী

📄 বিচ্ছচিত উক্তি ও বাণী


হযরত আলী (রা.) বলেন, বেশি হুঁশিয়ারী খারাপ ধারণার জন্ম দেয়। (ইবনে হাব্বান)

তিনি বলেন, ভালোবাসা দূরের মানুষকে কাছে টেনে নেয়। আর শত্রুতা আপনকে পর করে দেয়। হাত শরীরের সবচেয়ে নিকটবর্তী অঙ্গ। তবে হাতে পচন ধরলে তা কেটে শরীর থেকে পৃথক করে দিতে হয়। (আবু নুয়াঈম)

তিনি বলেন, আমার পাঁচটি কথা স্মরণ রাখবে- ১। মানুষকে গুনাহ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভয় দেখাবে না। ২। আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট কোন প্রত্যাশা করবে না। ৩। অজানা বিষয়ে শিক্ষা লাভের জন্য লজ্জাবোধ করবে না। ৪। কোনো আলেম ব্যক্তি তার অজানা মাসয়ালা জেনে নিতে ইতস্তত করবে না। আর কেউ যদি অজ্ঞাত মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাহলে বলবে, এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে বেশি অবগত। ৫। ধৈর্য এবং বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে মাথা ও শরীরের অনুরূপ। যখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন তখন বিশ্বাসের মধ্যে কমতি আসবে। আর মাথা চলে গেলে শরীরের কি মূল্য। (ইবনে মানসুর)

তিনি বলেন, ফকীহে কামেল (শরীয়তের আইন বিশেষজ্ঞ) সেই ব্যক্তি যিনি লোকদের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, লোকদের গুনাহ করার অবকাশ দেয় না, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, লোকদের গুনাহ করার অবকাশ দেয় না, আল্লাহর শাস্তির কথা ভুলে যায় না এবং কুরআন শরীফের প্রতি লোকদের বিরুক্তি জন্ম দেয় না। যে জ্ঞানকে ভালোভাবে অনুধাবন করবে না সে জ্ঞানের বাতায়ন উন্মোচিত করতে পারবে না, আর যে চিন্তার জগতে বিচরণ করে না তার সামনে লেখাপড়ার তোরণ অবারিত হয় না। (আবুস সারীস)

তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি আমার নিকট অধিক প্রিয়তম, যে আমাকে ঐ প্রশ্ন করবে যা আমার জানা নেই, আর সে প্রেক্ষিতে আমি বলবো, আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। (ইবনে আসাকির)

তিনি বলেন, যে লোকদের সাথে ন্যায় ও সততাপূর্ণ আচরণ করতে চায় সে যেন নিজের জন্য যা কল্যাণকর তা অপরের জন্যও ভালো মনে করে। (ইবনে আসাকির)

তিনি বলেন, সাতটি বিষয় শয়তানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট- ১। অত্যধিক ক্রোধ। ২। বেশি বেশি হাঁচি দেয়া। ৩। ঘনঘন হাই তোলন। ৪। অতিরিক্ত বমন করা। ৫। গ্রীষ্মকালে নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ। ৬। অতিরিক্ত পেশাব-পায়খানা হওয়া। ৭। আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়া।

তিনি বলেন, ডালিমের ভেতরের দানার সাথে যুক্ত জালীটি খেয়ে ফেলবে। কারণ তা পাকস্থলির জন্য শক্তিদায়ক। (আব্দুল্লাহ বিন আহমদ)

তিনি বলেন, এমন যুগ আসবে যখন গোলামের চেয়েও মোমেনের মর্যাদা কম হবে। (সাদ বিন মানসুর)

তিনি বলেন, তুমি আলেমকে শোনাবে অথবা শুনবে-উভয়টি সমান। (হাকেম, তারীখ)

হযরত আলীর খিলাফতকালে হুযাইফা বিন ইয়ামন, যুবায়ের বিন আওয়াম, তলহা, যায়েদ বিন সুহান, সালমান ফারফী, হিন্দ বিন আবু হালা, ওয়াইস কারনী, জনাব বিন আল আরত, আম্মার বিন ইয়াসার, সহল বিন হানীফ, তামীম দারমী, খাওয়াত বিন জাবীর, শারজীল বিন আস-সমত, আবু মায়াসারা আল বদরী, সাফওয়ান বিন উসাল, আমর বিন আবনাস, হিশাম বিন হাকীম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্তদাস আবু রাফে প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইন্তেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00