📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 বিভিন্ন ঘটনাবলী

📄 বিভিন্ন ঘটনাবলী


সাঈদ বিন মানসুর (রহ.) স্বরচিত সুনান গ্রন্থে রেওয়ায়েত করেছেন, হযরত আলী (রা.) বলেন, ঐ আল্লাহর কসম, যিনি আমার দুশনদের আমার নিকট মাসয়ালা জিজ্ঞেস করার তৌফিক দিয়েছেন। হযরত মুআবিয়া (রা.) হিজড়ার মিরাছ সম্পর্কে আমার নিকট জানতে চেয়েছিলেন, আমি লিখেছিলাম, তাদের লজ্জাস্থানের আকৃতির উপর উত্তরাধিকারের আইন প্রযোজ্য হবে। হাশেম শা'বী থেকে এ ধরনের রেওয়ায়েতই বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আসাকির (রহ.) হযরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আলী (রা.) বসরা যাবার প্রাক্কালে ইবনুল কাওয়া এবং কায়েস বিন উবাদ (রা.) হযরত আলীকে বললেন, বলুন, আপনি উম্মতে মেহাম্মদীয়ার কর্ণধার হয়ে লোকদের হত্যা করতে চলেছেন? রাসূলুল্লাহ (সা.) কি বলেছেন তাঁর পর আপনি খলীফা হবেন? এ কাজের জন্য আপনার চেয়ে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত আর কে রয়েছেন? এমন কথা কি আপনি রসূলের নিকট থেকে শুনেছেন? হযরত আলী (রা.) বললেন, তুমি ভুল বলেছ। রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার নিকট কোনো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। আমি সর্বপ্রথম তাঁকে সত্যায়িত করেছি। যদি তিনি আমার সাথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতেন তবে রসূলের মিম্বরে হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.) কে দাঁড়াতে দিব কেন? আমার সঙ্গে কেউ না থাকলেও আমি তাঁদেরকে হত্যা করে ফেলতাম। এর দ্বারা প্রমাণ হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) হঠাৎ নিহত হননি আবার সহসা ইন্তেকালও করেননি। তিনি (সা.) মুমূর্ষু অবস্থায় কয়েকদিন জীবিত ছিলেন। তখন নামাযের সময় হযরত আবু বকরকে ইমামতি করার নির্দেশ দেন। হযরত আয়েশা (রা.) এ ব্যাপারে আপত্তি জানালে তিনি তাঁর উপর ক্রোধান্বিত হয়ে পড়েন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর আমরা চিন্তা করলাম, রাসূলুল্লাহ (সা.) দ্বীনের জন্য কাকে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি হযরত আবু বকরকে নামাযের ইমাম মনোনীত করেছিলেন, আর নামায হলো দ্বীনের শিকড়। অতএব আমরা তাঁর হাতে বাইআত করলাম। সঠিক কথা হচ্ছে, তিনি খিলাফতের যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলেন বিধায় তাঁকে এবং তার খিলাফতকে নিয়ে কোনো মতবিরোধ হয়নি, কেউ কাউকে কষ্ট দেয়নি এবং তাঁর খিলাফতের প্রতি কেউ অসন্তুষ্টও ছিল না। এজন্য আমি তাঁর আনুগত্য করেছি, তাঁর সৈন্যদের সাথে মিলে কাফিরদের সাথে প্রাণখুলে যুদ্ধ করেছি। মৃত্যুর সময় তিনি হযরত উমরকে খলীফা মনোনীত করে যাওয়ায় আমরা তাঁর সাথেও হযরত আবু বকরের মতোই আচরণ করেছি। হযরত উমরের মৃত্যুর প্রাক্কালে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে আমার নিকটাত্মীয়তা, ইসলামে আমার প্রাচীনত্ব, আমার আমল ইত্যাদি গুণাবলীর বিষয় চিন্তা করে আমি ভাবলাম, অবশ্যই হযরত উমর তাঁর পর আমার খিলাফত প্রাপ্তির বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করবেন না। কিন্তু সর্বজনস্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য খলীফা মনোনীত করতে না পারলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কায় হযরত উমর (রা.) খলীফা নির্বাচন না করেই ইন্তেকাল করেন। এরপর (একজন খলীফা-অনুবাদক) নির্বাচনের জন্য কুরাইশ গোত্রের ছয়জন ব্যক্তির উপর দায়িত্ব অর্পিত হয়, তাদের মধ্যে আমি ছিলাম অন্যতম। একজনকে মনোনীত করার জন্য আমরা ছয়জন সমবেত হলে আমি বাবলাম, এরা আমাকে পত্যাখ্যান করতে পারেন না। আলোচনার এক পর্যায়ে হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) আমাদের সকলের নিকট থেকে এ শপথ নিলেন আমাদের মধ্য থেকে যাঁকে খলীফা মনোনীত করা হবে আমরা তাঁর আনুগত্য করব। অতঃপর হযরত আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) হযরত উসমান বিন আফফানের হাত ধরে বাইআত করে নেন। তখন আমি চিন্তা করলাম, আমার বাইআত আমার আনুগত্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করেছে এবং আমার নিকট থেকে অন্যের আনুগত্যের জন্য শপথ নেয়া হয়েছে। অতএব আমরা সবাই হযরত উসমানের হাতে বাইআত গ্রহণ করি। আমি হযরত আবু বকর এবং হযরত উমরের মতই হযরত উসমানের সাথে কাজ করেছি। হযরত উসমানের শাহাদাতের পর ভাবলাম, খিলাফতের জন্য নামায পড়ানোর নির্দেশ দানের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) যে দু'জনের ব্যাপারে আমাদের থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন এবং তাঁদের পর যাঁর জন্য আমার নিকট থেকে শপথ নেয়া হয়েছিল তাঁরা আজ গত হয়েছেন। এ চিন্তা করে আমি বাইআত নিতে শুরু করেছি। আমার নিকট হারামাইন শরীফাইনবাসী (মক্কা ও মদীনাবাসী-অনুবাদক) এবং ঐ দুই শহরবাসী (বসরা ও কুফাবাসী-অনুবাদক) বাইআত করেন। এ অবস্থায় খিলাফতে একজন (হযরত মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রা.)- অনুবাদক) আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন, যিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকটাত্মীয়তা, ইলম, ইসলাম গ্রহণের প্রাচীনত্ব কোনো দিক দিয়েই আমার সমকক্ষ নন। প্রত্যেক দিক থেকে আমি তাঁর চেয়ে বেশি খিলাফতের হকদার।

আবু নুয়ায়েম দালায়েল গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন, একদা হযরত আলীর সমীপে একটি বিচার প্রার্থনা করা হয়। তিনি অভিযোগ শ্রবণের জন্য দেয়ালের নিচে বসে পড়লে জনৈক ব্যক্তি বলল, দেয়ালটি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বললেন, তুমি নিজের কাজ করো। আমাকে আল্লাহ তা'আলা হিফাজত করবেন। বিচারের রায় ঘোষণা করে তিনি স্থান ত্যাগ করলে দেয়ালটি ভেঙে পড়ে।

তৌরিয়াত গ্রন্থে জাফর বিন মুহাম্মদ তাঁর পিতার বরাত দিয়ে রেওয়ায়েত করেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত আলী (রা.) কে জিজ্ঞেস করেন, আপনি অধিকাংশ অভিভাষণে বলেছেন, হে আল্লাহ! আমাকে খোলাফায়ে রাশেদীনাল মাহদিয়ীনদের মতো গ্রহণযোগ্যতা দান করো-খোলাফায়ে রাশেদীন কারা? হযরত আলী (রা.)- এর নয়ন যুগল সিক্ত হয়ে উঠলো। তিনি বললেন, আমার বন্ধু হযরত আবু বকর (রা.) এবং হযরত উমর (রা.) হলেন ইমামুল মাহদী এবং শায়খুল ইসলাম। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পর তাঁরা কুরাইশদের পথপ্রদর্শক। যারা তাঁদের আনুগত্য করেছে তারা হিদায়াত এবং পরিত্রাণ পেয়েছেন, আর যারা তাঁদের প্রদর্শিত পথে চলেছে তারা আল্লাহর সৈনিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক হজর আল মাদরী (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, একদিন হযরত আলী (রা.) আমাকে বলেন, কেউ যদি আমার প্রতি অভিশাপ দেবার জন্য তোমাকে নির্দেশ দেয় তাহলে তুমি কি করবে? আমি জিজ্ঞেস করলাম, এমনটা কি হতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আমিও হবে। আমি বললাম, তাহলে এ অবস্থায় আমি কি করব? তিনি বললেন, তুমি অভিশাপ দিবে এবং আমাকে ছেড়ে যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, কয়েক বছর পর হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ভাই ইয়ামানের শাসনকর্তা মুহাম্মাদ হযরত আলীর প্রতি অভিশাপ করার নির্দেশ দিলে আমি বললাম, ইয়ামানের শাসনকর্তা হযরত আলীর উপর অভিশাপ করার আদেশ দিয়েছেন। অতএব আপনারও অভিশাপ করুন, কিন্তু একজন ছাড়া কেউ আমার কথায় কর্ণপাত করেনি।

তাবারানী আওসাত গ্রন্থে এবং আবু সাঈদ দালায়েল গ্রন্থে যাযান থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আলীর একটি বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জনৈক ব্যক্তি তাঁকে মিথ্যাবাদী আখ্যা দিলে তিনি বললেন, তুমি অসত্য বললে তোমাকে বদদোআ করব। সে বলল, করুন। তিনি তার জন্য বদদোআ করলেন, ফলে লোকটি স্থানচ্যুত হওয়ার আগেই অন্ধ হয়ে যায়।

যারিয়েন বিন জায়েশ বলেন, এক ভ্রমণে দু'জন লোক খানা খেতে বসে। একজনের নিকট পাঁচটি এবং অপর জনের নিকট ছিল তিনটি রুটি। ইত্যবসরে সেখানে তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটে। তারা আগুন্তককেও নিজেদের সাথে শরীক করে নেয়। তারা তিনজন মিলে আটটি রুটি ভাগাভাগি করে খায়। আহার্য গ্রহণ শেষে আগন্তুক বিদায়ের প্রাক্কালে আট দেরহাম দিয়ে বলল, আমি যা খেয়েছি এটা তার প্রতিদান। তারা দু'জন এ আট দেরহাম ভাগাভাগির ক্ষেত্রে গণ্ডগোল সৃষ্টি করে। পাঁচ রুটিওয়ালার বক্তব্য হলো, আমি পাঁচ দেরহাম নিব এবং তোমাকে দিব তিন দেরহাম। আর তিন রুটিওয়ালা বলল আট দেরহাম সমান করে ভাগ করতে হবে। অবশেষে এ ঘটনা খলীফার দরবার পর্যন্ত পৌছে যায়। হযরত আলী (রা.) তিন রুটিওয়ালাকে বললেন, সে যা দিতে চায় তুমি তাই গ্রহণ করো, কারণ তোমার রুটির পরিমাণ কম ছিল। সে বলল, আল্লাহর কসম, আমার প্রাপ্য যথাযথভাবে বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত আমি মানব না। হযরত আলী (রা.) বললেন, যদি বলি তুমি পাবে এক দেরহাম, আর সে পাবে অবশিষ্ট সাত দেরহাম তাহলে কি মানবে? সে বলল সুবহান আল্লাহ! এটা কি করে হতে পারে? আমাকে বুঝিয়ে দিন আমি মেনে নেব। হযরত আলী (রা.) বললেন, আটটি রুটি তিনজনে খেয়েছে। সমানভাগে আটকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় না। এজন্য আটকে তিন দিয়ে গুণ করলে আটটি রুটির চব্বিশটি টকুরা হবে। এটা বলা মুশকিল যে, কে কয় টুকরা খেয়েছে। এ কারণে ধরে নিতে হবে সকলে সমান খেয়েছে। তোমার তিনটি রুটির নয়টি টুকরার মধ্যে তুমি খেয়েছ আট টুকরা, বাকী থাকে এক টুকরা। আর সে তার পাঁচটি রুটির পনোরোটি টুকরার মধ্যে আট টুকরো খেলে অবশিষ্ট থাকে সাত টুকরা। আগুন্তক ব্যক্তি তোমার এক টুকরা এবং তার সাত টুকরা রুটি খেয়েছে। অতএব তুমি পাবে এক দেরহাম, আর সে পাবে সাত দেরহাম। এবার লোকটি বলল, এবার মেনে নিলাম।

ইবনে আবি শায়বা (রহ.) মুসান্নিফ গ্রন্থে আতা থেকে বর্ণনা করেন, দুজন লোক একজনের চুরির ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ায় হযরত আলী (রা.) বিষয়টি তদন্ত করে বললেন, আমি মিথ্যা সাক্ষীর কঠোর শাস্তি দিয়ে থাকি। অতঃপর তিনি সাক্ষীদ্বয়ের খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন তারা আগেই পালিয়ে গিয়েছে। ফলে তিনি চোরকে ছেড়ে দিলেন।

আব্দুর রাজ্জাক হযরত আলীর বরাত দিয়ে মুসান্নিফ গ্রন্থে লিখেছেন, জনৈক ব্যক্তি তার কাছে এসে বলল, অমুক ব্যক্তি স্বপ্নে আমার মায়ের সাথে যিনা করেছে, (এজন্য আমি অমুক ব্যক্তির বিচার কামনা করছি-অনুবাদক) হযরত আলী (রা.) বললেন, সেই ব্যক্তিকে রোদে দাঁড় করিয়ে দিয়ে তার ছায়াকে প্রহার করো।

ইবনে আসাকির জাফার বিন মুহাম্মাদের পিতার বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, হযরত আলীর আংটিতে নকশা করা এ কথাগুলো লিখা ছিল- نِعْمَ الْقَادِرُ الله
الملك لله আমর বিন উসমান বিন আফফান বলেন, তাঁর মোহরে লিখা ছিল মাদায়েনী বলেন, হযরত আলী (রা.) কুফা গমনের প্রাক্কালে আরবের জনৈক গভর্নর বললেন, ইয়া আমিরুল মোমেনীন! আপনি খিলাফতের পদকে আলোকিত করেছেন। খিলাফত আপনাকে আলোকিত করেনি। মসনদ আপনার পদপ্রার্থী ছিল। মাজমা কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বাইতুল মালের সম্পদ দান করে নামাযে পড়তে যাওয়ার কারণে বাইতুল মাল আল্লাহর কাছে সাক্ষ্য দিবে তিনি মুসলমানদের সম্পদ কুক্ষিগত করে রাখতেন না।

আবুল কাসিম যাজাজী আমালীয়া গ্রন্থে লিখেছেন, আবুল আসওয়াদ দুয়ালী (রহ.) বলেন, একদা আমি হযরত আলীকে চিন্তামগ্ন দেখে কারণ জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, আমি শুনেছি তোমাদের শহরে ভাষা পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এজন্য শব্দপতন রোধকল্পে আরবী সাহিত্যে ভাষা ব্যবহারের নীতিরীতি প্রণয়নের কথা ভাবছি। আমি বললাম, এমনটা করলে আমাদের প্রতি দারুণ করুণা করা হবে, আমরা স্থায়ীভাবে প্রাণ ফিরে পাব এবং আপনার পরও এ রীতি অটুট থাকবে। তিনদিন পর আমি পুনরায় উপস্থিত হলে তিনি আমার সামনে এক ফালি কাগজ তুলে ধরলেন। এতে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীমের পর লিখা ছিল, বাক্য তিন প্রকার। ইসিম, ফেল এবং হরফ। ইসিম বলা হয়, যে তার মুসাম্মার খবর বহন করে; ফেল বলা হয়, যে স্বীয় মুসাম্মার হরকত দেয় এবং বর্ণিত দুই গুণ শূন্যকে হরফ বলে। আমি লিখাগুলো মনোযোগসহ পড়ছিলাম। এমন সময় তিনি বললেন, এ ব্যাপারে আরো কিছু জানা থাকলে বিষয়টি তুমি আরেকটু সম্প্রসারিত করতে পারো। অতঃপর তিনি বললেন, আশিয়া তিন প্রকার। যাহের, মাযহার এবং তৃতীয় নম্বরটি যাহেরও না মাযহারও না। আবুল আসওয়াদ বলেন, ان-ان-لیت-লেআল-কান এই হরুফে নাসেবাগুলো লিখে কয়েকদিন পর দিয়ে তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি বললেন, لکن এটাও হরফে নাসেবা, কেন এখানে তার উল্লেখ করনি? আমি বললাম, আমি এ শব্দকে হরুফে নাসেবা মনে করি না। তিনি বলেন, না এটাও হুরুফে নাসেবা, এ শব্দটিও এগুলো অন্তর্ভুক্ত করে নাও।

ইবনে আসাকির রাবিআ বিন নাজাদ থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আলী (রা.) বলেন, লোক সকল! তোমরা মৌমাছির মতো হয়ে যাও। সে অতিশয় ক্ষুদ্রতম পক্ষীর মতো আকৃতি হলেও সে কিন্তু পক্ষী নয়। সে জানে না তার মধ্যে কত গুণের সমাহার রয়েছে। হে জনমণ্ডলী! তোমরা লোকদের সাথে মৌখিক এবং আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করো। কারণ কিয়ামত দিবসে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে এবং দুনিয়ায় যে যাকে ভালোবাসবে তার সাথে উত্থিত হবে। তিনি আরো বলেন, আমল কবুল হওয়ার জন্য বেশি বেশি চেষ্টা করো। আর তাকওয়া ছাড়া আমল কবুল হয় না।

ইয়াহয়া বিন জাআদা বলেন, হযরত আলী বিন আবু তালিব (রা.) বলেছেন, হে কুরআন বহনকারীগণ! কুরআনের উপর আমল করো। যে কুরআনের উপর আমল করবে সেই আলেম। ইলম অনুযায়ী আমল করবে। অচিরেই এমন লোকের জন্ম হবে যে ইলম অর্জন করবে, কিন্তু তার ইলম গলা থেকে বের হবে না। তার অভ্যন্তররূপ বাহিরের দৃশ্যের বিপরীত হবে। তার আমল তার ইলমের বিপরীত হবে। দলবদ্ধভাবে বসে নিজেরা গর্ব করবে- এ ধরনের লোকদের আমল আল্লাহর কাছে গিয়ে পৌছুবে না। তিনি বলেন, বলদের কাজ আকর্ষণীয়, সুন্দর অভ্যাস হলো অনন্য বন্ধু, বিবেক হচ্ছে শ্রেষ্ঠ সহচর, শিষ্টাচার হলো উত্তরাধিকার এবং ভীরুতা গর্ব ও অহংকারের চেয়েও জঘন্য।

হারিছ বলেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত আলীর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, ভাগ্য কি? আমাকে বুঝিয়ে বলুন। তিনি বললেন, এটা অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ, এ পথে চলো না। সে আবার জানতে চাইল। তিনি বললেন, এটা গভীর সমুদ্র, এতে সাঁতার দিয়ো না। সে আবার প্রশ্ন করলো। তিনি বললেন, এটা আল্লাহর এক গোপন রহস্য, যা তোমাদের থেকে আড়াল করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করো না। কিন্তু সে পুনরায় একই প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হে প্রশ্নকারী! বল আসমান এবং যমীনের সৃষ্টিকর্তা তোমার না তাঁর মর্জী মতো তোমাকে সৃষ্টি করেছেন? সে বলল, তাঁর। তিনি বললেন, তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি তোমাকে ব্যবহার করেন (এটাই ভাগ্য-অনুবাদক)

তিনি আরো বলেন, প্রত্যেক দুঃখ-কষ্টের একটি সীমা রয়েছে। কারো উপর দুঃখ আসলে তা নির্দিষ্ট সীমানা পর্যন্ত গড়াবে। এজন্য খেয়াল করা আবশ্যক যে, কোনো মুসিবত আসলে তাকে নিরসনের চেষ্টা না করা, এমতাবস্থায় তার মুসিবত তার সময়-সীমা অতিক্রম করবে। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে এর অবসান হলে দুঃখ-কষ্ট বাড়বে।

জনৈক ব্যক্তি হযরত আলী (রা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, দানশীলতা কি? তিনি বললেন, প্রার্থনা করার পূর্বে যা প্রদান করা হয় তা হলো দানশীলতা। আর প্রার্থনার পর প্রদত্ত দানকে বলা হয় বখশিশ ও উপহার। জনৈক ব্যক্তি হযরত আলীর সমালোচনা করে। হযরত আলীর নিকট সংবাদটি পৌঁছে যায়। একদা সেই ব্যক্তি হযরত আলীর দরবারে উপস্থিত হয়ে তার প্রশংসা করলে তিনি বলেন, তুমি যা বলেছ তা এমন নয়। তোমার অন্তরে যা আছে আমি তার চেয়েও বেশি কিছু। তিনি বলেন, আদেশ অমান্য করনের শাস্তি হলো ইবাদতে অলসতা, জীবিকা নির্বাহের জন্য দৈনন্দিন খাদ্যে সংকীর্ণতা এবং স্বাদে গন্ধে স্বল্পতা আসবে।

আলী বিন রাবীআ বলেন, জনৈক ব্যক্তি তাঁকে বললেন, আল্লাহ আপনাকে অটল রাখুন। কিন্তু সে মনে মনে তাঁর শত্রুতা পোষণ করত। তিনি বললেন, আমি যেন তোমার বক্ষস্থলের উপর দৃঢ়পদ থাকতে পারি।

শা'বী বলেন, হযরত আবু বকর (রা.) কবিতা আবৃত্তি করতেন। হযরত উমর (রা.) কবি ছিলেন। হযরত উসমান (রা.) কাব্য রচনা করতেন। তবে হযরত আলী (রা.) কবিত্বের প্রতিভা ছিল সবচেয়ে বেশি প্রকার। নাবীত আশজায়ী থেকে বর্ণিত তাঁর কাব্যগুলোর বঙ্গানুবাদ নিম্নে প্রদত্ত হলো, "অন্তরে যখন নৈরাশ্যের সৃষ্টি হবে, বদান্যতা যখন সংকীর্ণ হয়ে পড়ে, সমাজের কুসংস্কার যখন প্রাধান্য পাবে, উদ্যোমতা যখন বাধাগ্রস্ত হয় এবং এগুলো থেকে পরিত্রাণের উপায় হ্রাস পায় তখন নিজেই নিজেকে বলবে, একদিন গ্রহণযোগ্য পথের সন্ধান মিলবেই। কারণ প্রতিটি ঘটনাবলীর শেষে সুখ ও সমৃদ্ধি অর্জিত হয়।"

শা'বী কর্তৃক বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি হযরত আলীকে নিজের কাছে বসানোর উপযুক্ত মনে না করায় তিনি এ কবিতাটি আবৃত্তি করেন, "অজ্ঞ ও অশিক্ষিতদের সহচরত্ব গ্রহণ করবে না এবং তাদের থেকে দূরে থাকবে। কারণ তারা সুসভ্য ও জ্ঞানবান ব্যক্তিদের ধ্বংস করে ফেলে।" মুবাররদ বলেন, হযরত আলীর তলোয়ারে তার স্বরচিত এ কবিতাটি খোদাই করে লিখা ছিল “দুনিয়া লোভ ও লালসার মোড়কে মানুষের সামনে উপস্থাপিত হয়। একে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলে সে তোমাকে বিষণ্ণ করে তুলবে। পৃথিবীতে অনেক ঝগড়াটে লোক রয়েছে পৃথিবী যাদেরকে কোনো দিন ছেড়ে যাবে না। আর এমন হতদরিদ্র লোক রয়েছে দুনিয়া যাদেরকে সংকীর্ণতায় ভরে দিয়েছে। আকল দ্বারা রিযিক অর্জিত হয় না। রিযিক না দিলেও রুজির সন্ধান দেয়া হয়। আর যদি রুজি পেশীশক্তি দ্বারা অর্জিত হতো তাহলে পক্ষীকুল রুজি-রোজগার করে আকাশেই উড়ত।"

আরেক কবিতায় তিনি উল্লেখ করেন, "নিজের গোপন রহস্য কারো কাছে ফাঁস করতে নেই। কারণ প্রতিটি ভালো ইচ্ছার জন্য রয়েছে উচ্চাভিলাষ। আর আমি অনেক পথভ্রষ্টকে দেখেছি যারা চামড়া যথাযথ রাখে না।"

উকবা বিন আবী সবহা বর্ণনা করেন, ইবনে বালহাম কর্তৃক হযরত আলী (রা.) গুরুতর আহত হলে খবর পেয়ে হযরত হাসান (রা.) কাঁদতে কাঁদতে এলে তিনি বললেন, বৎস! আটটি বিষয় খুব ভালো করে স্মরণ রাখবে। হযরত হাসান (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, বিষয়গুলো কি? তিনি বললেন - ১। তুমি সবচেয়ে বড় বিজ্ঞ। ২। তুমি সবচেয়ে বড় হতদরিদ্র। ৩। তুমি সবচেয়ে বেশি কঠোর। ৪। তুমি সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী। হযরত হাসান (রা.) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, আর চারটি বিষয় কি? তিনি বললেন-
১। নির্বোধ থেকে দূরে থাকবে। কারণ তার কাছ থেকে লাভের আসা করলে সে তোমার অনিষ্ট করবে।
২। মিথ্যা বর্জন করবে। কারণ মিথ্যা শত্রুকে মিত্রে এবং মিত্রকে শত্রুতে পরিণত করে।
৩। কৃপণতা থেকে পলায়ন করবে। কারণ প্রয়োজনের সময় সে তোমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
৪। অসৎ লোকদের থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ সে তোমার সর্বস্ব বিক্রয় করে দিবে।

ইবনে আসাকির (রহ.) বর্ণনা করেন, আমাদের প্রতিপালক কখন থেকে আছেন- জনৈক ইহুদীর এ প্রশ্ন শুনে ক্রোধে হযরত আলীর চেহারা রক্তিম হয়ে যায়। তিনি বললেন, আমাদের প্রতিপালক এমন সত্তা নন, যিনি পূর্বে ছিলেন না, অথচ আবির্ভূত হয়েছেন। তিনি এমন এক পবিত্র সত্তা যিনি সর্বদা বিরাজমান। তিনি অদৃশ্য ও নিরাকার। তাঁর কোনো শুরু নেই, শেষও নেই। সকল শেষ তাঁর পূর্বেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি সকল সমাপ্তির পরিসমাপ্তি। একথা শুনে ইহুদী মুসলমান হয়ে যায়।

দারাজ শুরাইহ্ কাজী থেকে বর্ণনা করেন, জঙ্গে সিফফিনের যাত্রার সময় হযরত আলীর বর্শাখানা হারিয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে কুফায় এসে এক ইহুদীর হাতে হারিয়ে যাওয়া বর্শাটি দেখে তিনি বললেন, এ বর্শাখানা আমার। আমি এটি বিক্রি করিনি এবং কাউকে দানও করেনি। তাহলে বর্শাটি তোমার হস্তগত হল কিভাবে? ইহুদী বলল, এটি আমার এবং আমার হিফাজতেই আছে। তিনি বললেন, আমি বিচারপতির নিকট এর বিচার প্রার্থনা করব। এজন্য হযরত আলী (রা.) বিচারপতি শুরাইহ্ এর নিকট গিয়ে বসলেন এবং বললেন, যদি আমার বিরোধী ইহুদী না হতো তবে আমি তাঁর মতোই আদালতে গিয়ে দাঁড়াতাম। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, তিনি ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা ইহুদীদের নিকৃষ্ট মনে করেন। অতএব তোমরাও তাদেরকে জঘন্য মনে করবে। বিচারপতি বললেন, আপনার অভিযোগ কি? তিনি বিষয়টি বললেন, বিচারপতি হযরত আলী (রা.) কর্তৃক উত্থাপিত বিষয়টির প্রেক্ষিতে ইহুদীকে তার বক্তব্য তুলে ধরতে বললেন। ইহুদী পূর্বের কথাই পুনর্ব্যক্ত করল। বিচারপতি বললেন, আমিরুল মোমেনীন! আপনার সাক্ষী কে? তিনি স্বীয় গোলাম কিনবার এবং পুত্র হযরত হাসানকে পেশ করলেন। বিচারপতি বললেন, পিতার জন্য ছেলের সাক্ষ্য বৈধ নয়। হযরত আলী (রা.) বললেন, জান্নাতবাসীর সাক্ষ্যও কি অবৈধ? অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, হাসান এবং হোসাইন জান্নাতী যুবকদের সরদার। এ পর্যন্ত ন্যায় বিচারের অনুপম দৃষ্টান্ত অবলোকনে চিৎকার করে ইহুদী বলে উঠল, হে আমিরুল মোমেনীন! নিশ্চয়ই আপনি মুসলিম সাম্রাজ্যের অধিপতি। এরপরও আপনি আমাকে বিচারকের নিকট এনেছেন। বিচার চলাকালে বিচারপতিকে সাধারণ জনগণের মতোই আপনার সাথে অভিন্ন আচরণ করতে দেখে আমি বিমোহিত। আপনার ইসলাম সত্যের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এটা আপনার বর্ণনা। আমি মুসলমান হয়ে যাব।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 কুরআনের তাফসীর

📄 কুরআনের তাফসীর


ইবনে সাদ কর্তৃক বর্ণিত, হযরত আলী (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! প্রতিটি আয়াতের শানে নূযুল (আয়ত অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট), আয়াতটি কোথায় এবং কার ব্যাপারে নাযিল হয়েছে তা আমার জানা রয়েছে। আমার প্রতিপালক আমাকে প্রজ্ঞা এবং ভাষা দান করেছেন।

ইবনে সাদ প্রমুখ আবু তোফায়েলের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, হযরত আলী (রা.) বলেন, কুরআন শরীফ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে জিজ্ঞেস করো। আমার অবগতির বাইরে এমন কোনো আয়াত নেই। আমি বলতে পারবো আয়াতটি রাতে না দিনে, ময়দানে না পাহাড়ে অবতীর্ণ হয়েছে।

ইবনে আবু দাউদ মুহাম্মাদ বিন সিরীন থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)- এর ইন্তেকালের পর হযরত আলী (রা.) হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.)-এর বাইআত গ্রহণে বিলম্ব করায় হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) তাঁর নিকট গিয়ে বললেন, তুমি কি আমার বাইআত সম্পর্কে সংশয়ের মধ্যে আছো? হযরত আলী (রা.) বললেন না তবে কুরআন শরীফকে জমা না করা পর্যন্ত নামায ছাড়া কোনো সময় চাদর পরব না বলে কসম করেছি। কুরআন শরীফ যে ক্রমধারায় অবতীর্ণ হয়েছে সে ধারাবাহিকতায় আপনি কুরআন শরীফের বিন্যাস করবেন বলে লোকদের ধারণা।

📘 তারীখুল খুলাফা > 📄 বিচ্ছচিত উক্তি ও বাণী

📄 বিচ্ছচিত উক্তি ও বাণী


হযরত আলী (রা.) বলেন, বেশি হুঁশিয়ারী খারাপ ধারণার জন্ম দেয়। (ইবনে হাব্বান)

তিনি বলেন, ভালোবাসা দূরের মানুষকে কাছে টেনে নেয়। আর শত্রুতা আপনকে পর করে দেয়। হাত শরীরের সবচেয়ে নিকটবর্তী অঙ্গ। তবে হাতে পচন ধরলে তা কেটে শরীর থেকে পৃথক করে দিতে হয়। (আবু নুয়াঈম)

তিনি বলেন, আমার পাঁচটি কথা স্মরণ রাখবে- ১। মানুষকে গুনাহ ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ভয় দেখাবে না। ২। আল্লাহ ছাড়া কারো নিকট কোন প্রত্যাশা করবে না। ৩। অজানা বিষয়ে শিক্ষা লাভের জন্য লজ্জাবোধ করবে না। ৪। কোনো আলেম ব্যক্তি তার অজানা মাসয়ালা জেনে নিতে ইতস্তত করবে না। আর কেউ যদি অজ্ঞাত মাসয়ালা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে তাহলে বলবে, এ বিষয়ে আল্লাহ তা'আলাই সবচেয়ে বেশি অবগত। ৫। ধৈর্য এবং বিশ্বাসের দৃষ্টান্ত হলো যথাক্রমে মাথা ও শরীরের অনুরূপ। যখন ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন তখন বিশ্বাসের মধ্যে কমতি আসবে। আর মাথা চলে গেলে শরীরের কি মূল্য। (ইবনে মানসুর)

তিনি বলেন, ফকীহে কামেল (শরীয়তের আইন বিশেষজ্ঞ) সেই ব্যক্তি যিনি লোকদের আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, লোকদের গুনাহ করার অবকাশ দেয় না, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করে না, লোকদের গুনাহ করার অবকাশ দেয় না, আল্লাহর শাস্তির কথা ভুলে যায় না এবং কুরআন শরীফের প্রতি লোকদের বিরুক্তি জন্ম দেয় না। যে জ্ঞানকে ভালোভাবে অনুধাবন করবে না সে জ্ঞানের বাতায়ন উন্মোচিত করতে পারবে না, আর যে চিন্তার জগতে বিচরণ করে না তার সামনে লেখাপড়ার তোরণ অবারিত হয় না। (আবুস সারীস)

তিনি বলেন, সেই ব্যক্তি আমার নিকট অধিক প্রিয়তম, যে আমাকে ঐ প্রশ্ন করবে যা আমার জানা নেই, আর সে প্রেক্ষিতে আমি বলবো, আল্লাহ তা'আলাই ভালো জানেন। (ইবনে আসাকির)

তিনি বলেন, যে লোকদের সাথে ন্যায় ও সততাপূর্ণ আচরণ করতে চায় সে যেন নিজের জন্য যা কল্যাণকর তা অপরের জন্যও ভালো মনে করে। (ইবনে আসাকির)

তিনি বলেন, সাতটি বিষয় শয়তানের পক্ষ থেকে সৃষ্ট- ১। অত্যধিক ক্রোধ। ২। বেশি বেশি হাঁচি দেয়া। ৩। ঘনঘন হাই তোলন। ৪। অতিরিক্ত বমন করা। ৫। গ্রীষ্মকালে নাক দিয়ে রক্ত ক্ষরণ। ৬। অতিরিক্ত পেশাব-পায়খানা হওয়া। ৭। আল্লাহ তা'আলাকে স্মরণের সময় নিদ্রাচ্ছন্ন হওয়া।

তিনি বলেন, ডালিমের ভেতরের দানার সাথে যুক্ত জালীটি খেয়ে ফেলবে। কারণ তা পাকস্থলির জন্য শক্তিদায়ক। (আব্দুল্লাহ বিন আহমদ)

তিনি বলেন, এমন যুগ আসবে যখন গোলামের চেয়েও মোমেনের মর্যাদা কম হবে। (সাদ বিন মানসুর)

তিনি বলেন, তুমি আলেমকে শোনাবে অথবা শুনবে-উভয়টি সমান। (হাকেম, তারীখ)

হযরত আলীর খিলাফতকালে হুযাইফা বিন ইয়ামন, যুবায়ের বিন আওয়াম, তলহা, যায়েদ বিন সুহান, সালমান ফারফী, হিন্দ বিন আবু হালা, ওয়াইস কারনী, জনাব বিন আল আরত, আম্মার বিন ইয়াসার, সহল বিন হানীফ, তামীম দারমী, খাওয়াত বিন জাবীর, শারজীল বিন আস-সমত, আবু মায়াসারা আল বদরী, সাফওয়ান বিন উসাল, আমর বিন আবনাস, হিশাম বিন হাকীম, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুক্তদাস আবু রাফে প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইন্তেকাল করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00