📄 হাদীসের দৃষ্টিতে হযরত উসমান (রা.) এর মর্যাদা
ইমাম বুখারী এবং ইমাম মুসলিম হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উসমান (রা.) ঘরে প্রবেশের সময় হুযূর (সা.) বসন সংযত করে বলেন, যাকে দেখে ফেরেশতাগণ লজ্জা পায়, আমি কেন পাব না?
ইমাম বুখারী আব্দুর রহমান বিন সালাম থেকে বর্ণনা করেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় হযরত উসমান (রা.) অবরোধকারীদের উদ্দেশ্যে আসহাবে নবী (সা.)-এর কসম করে বলেন, আমি জিজ্ঞেস করতে চাই রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বলেছিলেন, কে আছ যে সংকটময় মুহূর্তে সামরিক বাহিনীকে সাহায্য করবে সে জান্নাত পাবে। আমি তখন সাহায্য করেছিলাম। তোমরা জানো না রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন বলেছিলেন, যে রুমার কূপ খনন করবে সে জান্নাতে যাবে। আমি তখন রুমার কূপ খনন করেছিলাম। সকল সাহাবা তাঁর কথাকে সত্যায়িত করেন।
ইমাম তিরমিযী (রা.) আব্দুর রহমান বিন খাবাব থেকে বর্ণনা করেন, একদা আমি নবী আকরাম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। তিনি কোনো এক যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য সাহাবীদের তাগীদ দিচ্ছিলেন। সে সময় হযরত উসমান আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি একশ' উটসহ একশ উট বোঝাই রসদের জিম্মা নিচ্ছি। হুযুর (সা.) আবার তাগাদা দিলেন। তিনি বললেন, দুইশ' উটসহ দুইশ' উট বোঝাই রসদের জিম্মা আমার। নবীজী পুনরায় তা ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, তিন শ' উট আমার দায়িত্বে। রাসূলুল্লাহ (সা.) মিম্বর থেকে অবতরণ করতে করতে বললেন, উসমানের নফল ইবাদতের আর প্রয়োজন নেই।
ইমাম তিরমিযী আব্দুর রহমান বিন সামুরা থেকে বর্ণনা করেন, যুদ্ধের জন্য সামরিক বাহিনী গঠনের সময় হযরত উসমান গনী এক হাজার দিনার (স্বর্ণ মুদ্রা) নিয়ে এলে হুযূর (সা.)-এর জামার আঁচলে রেখে বলেন, উসমান যদি আর কোনো নফল ইবাদত না করে তথাপি কোনো ক্ষতি নেই।
ইমাম তিরমিযী হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বাইআতে রিদওয়ানের সময় হযরত উসমান (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর নিকট বাইআত করছিলেন। সে সময় তিনি (সা.) বলেন, উসমান আল্লাহ এবং তাঁর নবীর কাজে রত আছেন। আমি তার পক্ষ থেকে স্বীয় হাতের উপর অপর হাত দ্বারা বাইআত করছি। সুতরাং এভাবে তিনি তার পক্ষ থেকে বাইআত করেন। সে দিন তাঁর একখানা হস্ত মোবারক হযরত উসমানের পক্ষ থেকে বাইআত গ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছিল, যা অন্যান্য সাহাবীদের হাতের তুলনায় সে হাত কতই না উত্তম ছিল। আর এতেই হযরত উসমানের মর্যাদা প্রতিভাত হয়।
ইমাম তিরমিযী ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, একবার হুযূর (সা.) এক ফিতনার ভবিষ্যদ্বাণী করে হযরত উসমানের দিকে ইশারা করে বললেন, উসমান সে ফিতনায় মজলুমভাবে শহীদ হবে।
তিরমিযী, হাকেম এবং ইবনে মাজা মুররা বিন কাব থেকে বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা.) নিকটবর্তী এক বিশৃঙ্খলার বিবরণ দানকালে এক ব্যক্তি চাদর দিয়ে মাথা মুড়িয়ে হেঁটে গেলে নবী করীম (সা.) তাঁকে লক্ষ্য করে বললেন, এ ব্যক্তি সে দিন হিদায়াতের উপর অটল থাকবে। আমি দাঁড়িয়ে দেখলাম, তিনি হলেন হযরত উসমান গনী (রা.)। তাঁর চেহারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ফিরালে আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলাম, ইনিই কি হিদায়াতের প্রতি অবিচল থাকবেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ!
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, হে উসমান! আল্লাহ তা'আলা তোমাকে যে খিলাফত দান করেছেন সেখান থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা তোমাকে উৎখ্যাত করতে চাইলে তুমি সরে পড়বে না; বরং আমার নিকট আসবে। এজন্য কুচক্রী কর্তৃক অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) আমার কাছ থেকে ওয়াদা নিয়েছেন, আমি এখান থেকে বিন্দুমাত্র নড়ব না। (তিরমিযী)
হাকেম হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উসমান (রা.) দু'বার জান্নাত ক্রয় করেছেন। এক রুমার কূপ খনন করে এবং দুই সৈন্যদের সাহায্য করে। আবু হুরায়রা কর্তৃক বর্ণিত, নবী আকরাম (সা.) বলেন, আমার সাহাবীদের মধ্যে অভ্যাসের দিক দিয়ে উসমান আমার মত।
তাবারানী আসমাত বিন মালিক থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দ্বিতীয় মেয়ে উম্মে কুলসুম ইন্তেকাল করলে তিনি বলেন, আমার তৃতীয় মেয়ে থাকলে উসমানকে তার সাথেও বিয়ে দিতাম। ওহী মোতাবেক তার সাথে আমার কন্যাদ্বয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম।
ইবনে আসাকির হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত উসমান (রা.) সম্পর্কে বলেন, আমার চল্লিশজন মেয়ে থাকলে পরপর আমি তাদেরকে তার সঙ্গে বিয়ে দিতাম।
ইবনে আসাকির যায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, উসমান আমার সামনে দিয়ে যাবার সময় এক ফেরেশতা আমার নিকট বসে ছিলো। তিনি আমাকে বলেন, ইনি শহীদ হবেন। স্বজাতি কর্তৃক তাঁর নিহত হবার সংবাদ পেয়ে আমি লজ্জিত হলাম।
আবু ইয়ালা ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নিকট ফেরেশতাগণ যেভাবে লজ্জাবোধ করেন উসমানের সামনেও তাঁরা একইভাবে লজ্জিত হন।
ইবনে আসাকির হযরত হাসান (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, জনৈক ব্যক্তি হযরত উসমান সম্পর্কে হযরত হাসানকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, গোসল করার সময় শরীরের কাপড় নির্জন কক্ষে খুলতেও তিনি ভীষণ লজ্জাবোধ করতেন।