📄 কুরআন একত্রিত করার বিবরণ
সহীহ বুখারী শরীফে হযরত যায়েদ বিন সাবেত (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুসায়লামা কায্যাবের সাথে যুদ্ধের পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি এসে দেখলাম তাঁর নিকট হযরত উমর (রা.) নীরবে বসে আছেন। হযরত আবু বকর আমাকে বললেন, উমর আমাকে বলেছেন, ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক মুসলমান কারী শহীদ হয়েছেন। আমার ভয় হয় যদি এভাবে মুসলিম কারীগণ শহীদ হতে থাকেন তাহলে হাফেজদের সাথে কুরআন শরীফও উঠে যাবে। অতএব আমি কুরআনকে একত্রিত করতে চাই। আমি বললাম, আমি এ কাজ কিভাবে করতে পারি যা নবী করীম (সা.) স্বয়ং করেননি। হযরত উমর (রা.) বললেন, আল্লাহর কসম, এটা পুণ্যের কাজ, এতে কোনোই ক্ষতি নেই। তিনি বারবার অনমনীয়ভাবে একথা বলেছিলেন, অবশেষে বিষয়টি ভালোভাবে আমর বুঝে আসলো।
হযরত যায়েদ (রা.) বলেন, হযরত উমর (রা.) নীরবে শুনছিলেন। হযরত আবু বকর (রা.) আবার আমাকে বললেন, তুমি তরুণ এবং বুদ্ধিমান। তোমার ব্যাপারে কোনো অভিযোগও নেই। তুমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওহী লেখক। সুতরাং অনুসন্ধান করে তুমি কুরআন জমা করো।
হযরত যায়েদ (রা.) বলেন, এ কাজটি আমার নিকট অত্যন্ত দুঃসাধ্য মনে হলো। আমাকে যদি পর্বত উত্তোলনের নির্দেশ দেয়া হতো তাহলে আমি একে তার চেয়ে হালকা মনে করতাম। আমি আরয করলাম, আপনারা দু'জন কেন এ কাজ করতে চাইছেন, যা রাসূলুল্লাহ (সা.) করেননি। হযরত আবু বকর (রা.) বললেন, এ কাজে কোনোই ক্ষতি নেই। কিন্তু আমি দ্বিধান্বিত হয়ে পড়লাম এবং আমি নিজেকে এ কাজের অনুপযোক্ত মনে করলাম। অবশেষে আল্লাহ তা'আলা আমার অন্তর চক্ষু খুলে দিলেন এবং বিষয়টি অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুধাবন করলাম। আমি অনুসন্ধান শুরু করলাম এবং কাগজের টুকরো, উট এবং ছাগলের রানের হাড়, গাছের পাতা, হাফেজদের মুখস্থ জ্ঞান থেকে কুরআন সংগ্রহ করে জমা করলাম।
আর সূরা তওবার দু'টি আয়াত- 'লাকাদ জাআকুম রাসুলুম মিন আনফুসিকুম' হযরত খুযাইমা বিন সাবেত (রা.) ছাড়া অন্য কারো নিকট পাইনি। কুরআন জমা করে আমি তা হযরত আবু বকরের খেদমতে পেশ করলাম, যা মৃত্যু অবধি তাঁর কাছেই ছিল। অতঃপর তা হযরত উমরের হস্তগত হয়। তাঁর মৃত্যুর পর হযরত হাফসা বিনতে উমর (রা.) তা সংরক্ষণ করেন। আবু ইয়ালা হযরত আলীর বরাত দিয়ে বলেন, কুরআন শরীফ জমা করার সবচেয়ে বেশি সওয়াব হযরত আবু বকর সিদ্দীকের প্রাপ্য। কারণ তিনি সেই ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম কুরআন শরীফকে গ্রন্থাকারে রূপ দেন।
📄 সর্বপ্রথম তিনি যা করেছেন
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম কুরআন জমা করেছেন এবং কুরআনকে মাসহাফ নাম দিয়েছিলেন। তাঁকে সর্বপ্রথম খলীফা বলা হয়েছে।
আহমদ আবু বকর বিন আবু মালিকা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরকে আল্লাহর খলীফা বলা হলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলের খলীফা। আমি এতেই সন্তুষ্ট এবং এই আমার অহংকার। তিনি সর্বপ্রথম খলিফা যিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় খলীফা হন। তিনিই সর্বপ্রথম খলীফা যাঁর প্রজারা তাঁর জন্য ভাতা নির্ধারণ করেছিল।
বুখারী শরীফে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমার সম্প্রদায় অবগত যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের খরচ যোগাতে সমর্থ নয়। আবার আমি খিলাফতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, ফলে আমার কোনো উপার্জন নেই। সুতরাং আমার পরিবারকে আমি বাইতুল মাল থেকে খাদ্য দিব।
ইবনে সাদ আতা বিন সায়েব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর (রা.) বাইআতের দ্বিতীয় দিবসে কিছু চাদর নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। হযরত উমর (রা.) আরয করলেন, কোথায় চলেছেন? তিনি বললেন, বাজারে। হযরত উমর (রা.) বললেন, আপনি এগুলোর (ব্যবসা) ছেড়ে দিন। আপনি জনগণের খলীফা। তিনি বললেন, আমার পরিবার কি খাবে? হযরত উমর (রা.) বললেন, আপনি চলুন, আপনার জন্য আবু উবায়দা (ভাতা) নির্ধারণ করবেন। তাঁরা হযরত আবু উবায়দার নিকট গমন করে বললেন, আমরা আপনার নিকট হযরত আবু বকর (রা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্যে একজন মধ্যম মানের মুহাজিরের খোরাকী নির্ধারণ করে নিত্যদিনের খোরাকী এবং শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক নির্ধারণ করুন। কিন্তু যখন এগুলো পুরাতন হয়ে যাবে তখন এগুলোর পরিবর্তে নতুন কাপড় নিয়ে নিবে। তিনি হযরত আবু বকরের জন্য প্রতিদিনকার খাবার হিসেবে অর্ধেক ছাগলের গোস্ত শরীর ঢাকা উপযোগী কাপড় এবং পেট ভর্তি রুটি নির্ধারণ করলেন।
ইবনে সাদ মাইমুন থেকে রেওয়ায়েত করেন, হযরত আবু বকর খলীফা নির্বাচিত হওয়ার সময় তাঁর জন্য বার্ষিক দু'হাজার দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করা হয়। ফলে তিনি বলেন, আমার পারিবারিক পরিসর বৃহৎ। এতে আমার চলবে না। তোমাদের প্রদত্ত খিলাফতের দায়িত্ব আমাকে ব্যবসা করতে বাধা দিচ্ছে- কিছু বাড়িয়ে দাও। ফলে পাঁচশ দিরহাম বৃদ্ধি করা হলো।
তাবারানী স্বরচিত মুসনাদ গ্রন্থে হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর মৃত্যুর সময় আয়েশা সিদ্দীকাকে বলেন, যতক্ষণ মুসলমানদের কাজ করব যে উটনীর দুধ আমি পান করি, যে পেয়ালা এবং চাদর আমি ব্যবহার করি তা আমার জন্য বৈধ। আমার মৃত্যুর পর সেগুলো উমরকে দিয়ে দিবে। কারণ সেগুলো বাইতুল মাল থেকে নেয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর সময় সেগুলো হযরত আয়েশা (রা.) হযরত উমরের নিকট পাঠিয়ে দেন। হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত আবু বকরের প্রতি রহম করুন। তিনি তাঁর এ সকল কষ্ট আমার কারণে সহ্য করেছেন।
ইবনে আবিদ দুনিয়ার আবু বিন হাফস থেকে বর্ণনা করেন, মৃত্যুর সময় হযরত আবু বকর (রা.) আয়েশা সিদ্দীকাকে বলেন, হে আমার কন্যা! যদিও আমি মুসলমানদের খলীফা ছিলাম, কিন্তু আমি কখনই অর্থ-সম্পদ অর্জন করিনি। খুব সাধারণভাবে খানা-পিনা করেছি। হাবশী গোলাম, উটনী এবং পুরাতন চাদর ছাড়া বাইতুল মাল থেকে আমি আর কিছু গ্রহণ করিনি। আমার মৃত্যুর পর এগুলো উমরের নিকট পাঠিয়ে দিও।
তিনি সর্বপ্রথম বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠিত করেন। ইবনে সাদ সহল বিন আবী খাইছামা থেকে বর্ণনা করেন, সিদ্দীকে আকবরের যুগে বাইতুল মালে কোনো পাহারাদার ছিল না। লোকেরা বলল, আপনি বাইতুল মালে কেন পাহারাদার নিয়োগ করেননি? তিনি বলনে, তালা লাগিয়ে রাখার পরও পাহারাদারের প্রয়োজন কি? বস্তুত বাইতুল মালে কিছু এলেই তা মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো এবং বাইতুল মাল শূন্য হয়ে থাকত। এক বছর পর বাইতুল মাল হযরত আবু বকর তার বাড়িতে স্থানান্তরিত করে নিয়ে যান। যখনই মাল আসত তিনি তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং কখনও উট, ঘোড়া, অস্ত্র কিনে আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিতেন। একবার তিনি চাদর কিনে মদীনায় বিধবাদের মধ্যে বিতরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সমাহিত করে হযরত উমর কয়েকজন সম্মানিত সাহাবী যাঁদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন আউফ এবং উসমান বিন আফফান ছিলেন। তাঁদের নিয়ে হিসাব পরীক্ষা করার জন্য বাইতুল মালে গিয়ে দেখেন আল্লাহর নাম ছাড়া সেখানে আর কিছু নেই।
গ্রন্থকার বলেন, উক্ত রেওয়ায়েত দ্বারা রাওয়েলে আসকারীদের মতামত খণ্ডিত হয়েছে। তাদের মতে বাইতুল মালের প্রতিষ্ঠাতা হযরত উমর (রা.) তাদের এ অভিমতটি আমি তাদের এক গ্রন্থে দেখেছি। তাদের আরেক রচনায় আমি এও দেখেছি যে, হযরত আবু বকরের বাইতুল মালের সর্বপ্রথম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন হযরত আবু উবায়দা। হাকেম বলেন, হযরত আবু বকর ইসলামের প্রাথমিক যুগে আতীক উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
বুখারী এবং মুসলিম শরীফে জাবের (রা.) বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যদি বাহরাইন থেকে মালে গনীমত আসে তবে আমি তোমাকে এই এই দিব। তাঁর ইন্তেকালের পর বাহরাইন থেকে মালে গনীমত এলে সিদ্দীকে আকবর ঘোষণা দিলেন যে, এমন কেউ আছ যে নবীজীর কাছে কিছু পাবে, অথবা তিনি তোমাদের কাউকে কিছু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? আমি উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, এখান থেকে গ্রহণ করো। আমি গ্রহণ করলাম, যা গণনা করে পাঁচশত মুদ্রা হলো, কিন্তু তিনি আমাকে দেড় হাজার মুদ্রা দিলেন।
📄 দয়া ও নম্রতা
ইবনে আসাকির উনাইসা থেকে রেওয়ায়েত করেন। তিনি বলেন, হযরত আবু বকর খিলাফতের পূর্বে তিন বছর এবং খিলাফতের পর এক বছর আমার সঙ্গে ছিলেন। যখন পাড়ার মেয়েরা ছাগল নিয়ে আসতেন তখন তিনি দুধ দোহন করে দিতেন।
হযরত মাইমুনা (রা.) বলেন, হযরত আবু বকরের নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূলের খলীফা, আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেন, সকল মুসলমানের প্রতিও। (আহমদ)
ইবনে আসাকির আবু সালিম গিফারী থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) জনৈক পঙ্গু ও অন্ধ বৃদ্ধার সেবা করতেন। সে মদীনার পার্শ্বে বসবাস করত। তিনি তাঁকে খাওয়াতেন। একদা তিনি তাঁর কাছে গেলে বৃদ্ধা বলল, আপনি আসার পূর্বে কে যেন এসে প্রতিদিন আমার সেবা করে যান। তিনি আশ্চর্য হন। ইত্যবসরে হযরত আবু বকর বেরিয়ে আসেন। সে সময় তিনি খলীফা। তাঁকে দেখে হযরত উমর বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি ছাড়া সেই ব্যক্তি কেউ হতে পারেন না।
আবু নুয়াঈম প্রমুখ আব্দুর রহমান আসবাহানী থেকে বর্ণনা করেন, একদা হযরত আবু বকর মিম্বরে আরোহণ করেছিলেন। ইত্যবসরে ইমাম হাসান বিন আলী এসে পড়লেন। সে সময় তিনি কিশোর। বললেন, এ মিম্বর আমার বাবার, আপনি নেমে যান। তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ, এ মিম্বর তোমার বাবার। এই বলে তিনি তাঁকে কোলে তুলে নিলেন এবং ডুকরে কেঁদে উঠলেন। হযরত আলী (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি এ সম্বন্ধে তাকে কিছুই বলিনি। তিনি বললেন, তুমি সত্যই বলেছ, আমি তোমাকে সন্দেহ করছি না।
সপ্তম পরিচ্ছেদ
ইবনে সাদ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, ইসলামে সর্বপ্রথম যে হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় নবী করীম (সা.) সেখানে হযরত আবু বকরকে পাঠিয়েছিলেন। এরপরের বছর নবী করীম (সা.) হজ্জ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) খলীফা হলে তিনি সর্বপ্রথম হযরত উমরকে হজ্জ করার জন্য প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি হজ্জ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর হযরত উমর (রা.) খলীফা হলে তিনি সর্বপ্রথম আব্দুর রহমান বিন আউফকে হজ্জের জন্য প্রেরণ করেন। আর হযরত উমর (রা.) পরের বছর থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিবার হজ্জ করেছেন। হযরত উসমান খলীফা হয়েও তিনি সর্বপ্রথম আব্দুর রহমান বিন আউফকেই হজ্জ করার জন্য পাঠান।
📄 অসুস্থতা, মৃত্যু, উপদেশ এবং উমরকে খলীফা নির্ধারণ
সাঈফ এবং হাকেম (রহ.) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সিদ্দীকে আকবরের মৃত্যুর কারণ ছিল এক ও অভিন্ন। তাঁর জীবন বিপন্ন হয় এবং সর্বদা দুর্বল হতে থাকেন। অবশেষে তিনি পরপারে যাত্রা করেন। ইবনে সাদ (রহ.) এবং হাকেম (রহ.) ইবনে শিহাব থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে লিখেছেন, একদা হযরত আবু বকর সিদ্দীকের নিকট হাদিয়ার গোশত আসে। তিনি হারেছ বিন কিলদাহর সাথে তা আহার করেন। হঠাৎ হারেছ বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনি আহার করবেন না। আল্লাহর কসম, আমার মনে হয় এতে বিষ মিশানো আছে। আপনি দেখে নিবেন আমরা উভয়ে একই বছর একই দিনে ইন্তেকাল করব। হযরত আবু বকর খানা থেকে হাত সংকুচিত করলেন। সেদিন থেকে তারা দু'জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে এক বছর পর উভয়ে এক দিনেই পরলোক গমন করেন।
শা'বী বলেন, এ দুনিয়ায় আমরা আর কি আশা করতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং হযরত আবু বকর উভয়েকে বিষ খাওয়ানো হয়। ওকেদী এবং হাকেম (রহ.) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের অসুস্থতা এভাবে শুরু হয়েছিল যে, তিনি জমাদিউল আখের মাসের ৭ তারিখ সোমবারে গোসল করেন। সেদিন ঠাণ্ডা পড়েছিল। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। পনেরো দিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি বাইরে এসে নামায পড়তে পারেননি। অবশেষে ১৩ হিজরীর জমাউদিউল আখের মাসের ২২ তারিখ মঙ্গলবার রাতে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ইবনে সাদ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আবুস সফর থেকে বর্ণনা করেন, সাহাবাগণ হযরত আবু বকরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি অনুমতি দিলে আমরা কোন ডাক্তার দেখাই! তিনি বললেন, আমাকে ডাক্তার দেখেছে। তারা বললেন, ডাক্তার কি বলেছেন? তিনি বললেন, বলেছেন 'ইন্নি ফায়্যালুল লিমা উরিদুল' (অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, আমি যা চাই তাই করি)।
ওকেদী ভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, হযরত আবু বকরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি আব্দুর রহমান বিন আউফকে ডেকে বললেন, তুমি উমর ফারুককে কেমন মনে করো? আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বললেন, তিনি আমার চেয়ে জ্ঞানী। তিনি বললেন, এরপরও তোমার কোনো মতামত থাকলে বল। আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বললেন, আমার মতে এরচেয়েও তিনি বেশি উত্তম। অতঃপর তিনি হযরত উসমানকে ডেকে একই প্রশ্ন করলেন এবং জবাবে হযরত উসমান (রা.) বললেন, তিনি আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী। তিনি বললেন, তবুও তোমার মতামত পেশ করো। হযরত উসমান (রা.) বললেন, তাঁর আভ্যন্তরীণ রূপ বাহ্যিক রূপের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী। আমাদের মধ্যে তাঁর মত আর কেউ নেই। তিনি সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এবং উসাইদ বিন হুযায়ের (রা.)-এর সাথেও এ নিয়ে পরামর্শ করেন। উসাইদ (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা অবগত আছেন যে, আপনার পর হযরত ওমরই সে ব্যক্তি যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে স্বীয় সন্তুষ্টি মনে করেন এবং আল্লাহ যে কাজে অসন্তুষ্ট তিনিও সে কাজে অসন্তুষ্ট হন। তাঁর ভেতরটা বাইরের চেয়েও উত্তম। এ কাজের জন্য তাঁর চেয়ে দক্ষ ও প্রতাপান্বিত আর কেউ নেই। তারপর অন্যান্য সাহাবাগণ এলেন। তাদের মধ্যে থেকে একজন বললেন, আপনি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল কঠোর মেযাজের এক ব্যক্তিকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন। আল্লাহর দরবারে এর কি জবাব দিবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তোমরা আমকে ভীতগ্রস্ত করে ফেললে। তবে আমাকে প্রশ্ন করলে বলব, হে আল্লাহ! আমি মুসলমানদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে খলীফা নির্বাচন করেছি। আমি যা বলছি তিনি তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ।
এরপর তিনি হযরত উসমানকে ডেকে বললেন, লিখ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এ ওসীয়তনামা আবু বকর বিন আবু কুহাফা দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং পরপারে যাত্রার প্রাক্কালে লিপিবদ্ধ করায়েছেন, যখন অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাস স্থাপন, দুশ্চরিত্রগণ চরিত্রবান এবং মিথ্যুকরা সত্যবাদী হয়ে যেতে চায়। হে জনতা! আমি তোমাদের জন্য আমার পর উমরকে খলীফা নির্বাচন করলাম। তাঁর কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে। আমি আল্লাহতাআলা, তাঁর রাসূল, দ্বীন ইসলাম, নিজের এবং তোমাদের সেবায় ত্রুটি করিনি। আমার বিশ্বাস উমর ইনসাফ করবে। যদি এমন হয় তবে আমার অভিব্যক্তি এ অভিমত উপযুক্ত বলে গৃহীত হবে। আর যদি তিনি পরিবর্তন হয়ে যান তাহলে প্রত্যেক লোকের জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। আমি তোমাদের নিকট থেকে মঙ্গলময় কাজের আশাবাদী। আমি অদৃশ্যের বার্তা বাহক নই। অত্যাচারী অচিরেই জেনে যাবে যে, সে কোথায় শায়িত হয়েছে। আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
এরপর ওসীয়তনামা ভাঁজ করে হযরত উসমানকে দিলেন। তিনি তা নিয়ে চলে এলেন। লোকেরা স্বেচ্ছায় হযরত উমরের নিকট বাইআত করলেন। এরপর হযরত আবু বকর হযরত উমরকে নির্জনে ডেকে যা বলার তা বললেন। হযরত উমর চলে আসার পর হযরত আবু বকর আল্লাহর দরবারে হাত উঠিয়ে দু'আ করলেন, হে আল্লাহ, আমি মুসলমানদের কল্যাণের জন্য এ কাজ করেছি। আমি ফিতনাকে ভয় পেয়ে যা কিছু করলাম তুমি সে ব্যাপারে অবগত। আমি এ সম্বন্ধে ইজতেহাদ (গবেষণা) করেছি এবং আমার মতে, মুসলমানদের জন্য এমন খলীফা নির্বাচন করেছি যিনি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম, প্রতাবশালী এবং সৎ কাজ প্রত্যাশী। আমি তোমার হুকুমে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে তোমরই সান্নিধ্যে উপস্থিত হচ্ছি। হে আল্লাহ! আপনিই স্বীয় বান্দাদের মালিক। বাগডোর আপনারই হাতে। হে আল্লাহ! মুসলিম শাসকদের যোগ্যতা দাও, উমরকে খোলাফায়ে রাশেদার অন্তর্ভুক্ত করো এবং প্রজা সাধারণের উত্তম জীবনযাপন করার তাওফিক দাও।
ইবনে সাদ এবং হাকেম (রহ.) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বুদ্ধি মানদের মধ্যে তিনজন অধিক বুদ্ধিমান। প্রথমজন হযরত আবু বকর সিদ্দীক। তিনি হযরত উমরকে খলীফা নির্বাচন করেছেন। দ্বিতীয়জন মুসা (আ.)-এর স্ত্রী। তিনি বলেছিলেন - তাকে ভৃত্য বানিয়ে নাও। তৃতীয় জন আযীযে মিসর। তিনি ইউসুফ (আ.)-এর অনুকূলে অভিমত পেশ করে তার স্ত্রীকে বলেছিলেন - তাকে সুন্দর ভালো স্থানে রাখ।
ইবনে আসাকির ইয়াসার বিন হামযা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তিনি জানালায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনতা! আমি তোমাদের জন্য একজনকে খলীফা মনোনীত করেছি, এতে কি তোমরা রাজি আছ? জনতার দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আমরা সম্পূর্ণভাবে রাজি। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে হযরত আলী বললেন, যদি সেই ব্যক্তি উমর হন তবে আমরা রাজি আছি। তিনি বললেন, না তিনি উমর-ই।
আহমদ হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর (রা.) মৃত্যুর সময় জিজ্ঞেস করেন, আজ কি বার? লোকেরা বলল মঙ্গলবার। তিনি বললেন, যদি আজ রাতে আমার মৃত্যু হয় তবে সমাহিত করতে কালকের অপেক্ষা করবে না। নবী (সা.)-এর কাছে যত তাড়াতাড়ি পৌঁছতে পারি ততই মঙ্গল।
ইমাম মালেক (রহ.) আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বাগানের বিশ ওস্ক (এক উটের বোঝা সমপরিমাণ এক ওস্ক) খেজুর দিয়ে তিনি মৃত্যুর সময় বললেন, মা! আল্লাহর কসম, আমি সর্ব অবস্থায় তোমাকে খুশী দেখতে চাই। তোমার চেয়ে বেশি ধনী আমি কাউকে পছন্দ করি না। তোমার দুস্থতা আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আমি তোমাকে যে খেজুর দিলাম তা যদি গ্রহণ করো তবে ভালো। অন্যথায় আমার মৃত্যুর পর তা পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। তোমার অপর দু'বোন এবং ভাই রয়েছে। তাদেরকে কুরআনের বণ্টন নীতি অনুযায়ী ভাগ দিবে। আমি বলাম, বাবা, তাই হবে। যদি এর চেয়েও বেশি সম্পদ তার নিকট থাকত তিনি আমাদের দিয়ে যেতেন। আসমা নামে আমার এক বোন ছিল, কিন্তু তিনি দু'বোনের কথা বলেছিলেন। তিনি বললেন, তোমার সৎ মা হাবীবা বিনতে খারিজা গর্ভবতী, আমার মনে হয় তার পেটে কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ রেওয়ায়েতটি ইবনে সাদও বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাতে এতটুকু বৃদ্ধি করেন যে, হযরত আবু বকর হযরত আয়েশাকে বলেন, খারিজার কন্যা গর্ভবতী। আমার ধারণা তার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে। আমি তার ব্যাপারেও তোমাকে ওসীয়ত করছি। তাঁর ইন্তেকালের পর উম্মে হাবীবা বিনতে খরিজার গর্ভ থেকে উম্মে কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।
ইবনে সাদ এটাও বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক তার সম্পদ পাঁচ ভাগে ভাগ করেছিলেন, যেভাবে মুসলমানদের সম্পদ এক পঞ্চামাংশ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হয়।
ইবনে সাদ বর্ণনা করেন, সিদ্দীকে আকবর বলেন, এক পঞ্চমাংশের চেয়ে আমার নিকট পছন্দনীয় হলো এক চতুর্থাংশ, যা এক তৃতীয়াংশের চেয়ে উত্তম। সাঈদ বিন মানসুর স্বরচিত সুনান গ্রন্থে যাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর এবং হযরত আলী এক পঞ্চমাংশের ওসীয়ত করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ায়িদুয যুহদ গ্রন্থে আয়েশা সিদ্দীকার বেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কসম, তিনি এক দেরহামও রেখে যাননি। সবকিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করে দিয়েছেন।
ইবনে সাদ প্রমুখ লিখেছেন, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, সিদ্দীকে আকবরের যন্ত্রণা তীব্র হলে আমি এ কবিতাটি আবৃত্তি করলাম, (অর্থ) আপনার বয়সের শপথ, মৃত্যুর হেচকি যখন এসে গেছে এবং অন্তর সংকুচিত হয়ে গেছে তখনও কোনো সম্পদ দিয়ে গেলেন না। তিনি চাদর থেকে মুখ সরিয়ে বললেন, এ কথা বলো না; বরং বলো- 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি বিল হাক্কি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'। দেখ আমার এ দু'টি কাপড় ধুয়ে আমাকে কাফন পরাবে। কারণ নতুন কাপড় মৃত ব্যক্তির চেয়ে জীবিত ব্যক্তির বেশি প্রয়োজন।
আবু ইয়ালা হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, অন্তিম মুহূর্তে আমি হযরত আবু বকরের নিকট গিয়ে এ কবিতা আবৃত্তি করলাম, (অর্থ) যার অশ্রু সর্বদা প্রবাহিত হয় তার অশ্রু যখন থেমে যায় না। তিনি বললেন, এ কথা বলো না; বরং বলো : 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'। বললেন, মনে হয় আমি এ রাতেই ইন্তেকাল করব। তিনি মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং সকাল হওয়ার আগেই তাঁকে দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ায়িদুল যুহাদ গ্রন্থে বাকার বিন আব্দুল্লাহ মাযানী থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের ইন্তেকালের সময় হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর শিয়রে বসে এ কবিতা পড়েন, (অর্থ) প্রত্যেক আরোহীর একটি মঞ্জিল রয়েছে, আর প্রত্যেক কাপড় পরিধানকারীর একটি করে হলেও কাপড় রয়েছে। তিনি বিষয়টিও বুঝতে পেরে বললেন, এভাবে নয় মা! বরং আল্লাহ তা'আলা 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি বিল হাক্কি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'।
আহমদ হযরত আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এ কবিতা পাঠ করেন, (অর্থ) সেই শ্বেত অবয়বে মেঘের বর্ষণ শুরু হয়েছে। তিনি ছিলেন এতিমদের আশ্রয় এবং বিধবাদের সহায়। তিনি এ কবিতা শুনে বললেন, এ পঙক্তি তো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ারিদুয যুহাদ গ্রন্থে উবাদা বিন কায়েস থেকে রেওয়ায়েত করেন, হযরত আবু বকর মৃত্যুর সময় বলেন, হে আয়েশা! আমার ব্যবহৃত দু'টি কাপড় পরিষ্কার করে আমার কাফন পরাবে। আমি তোমার বাবা। তোমাকে বলে যাচ্ছি যে, যদি আমাকে নতুন কাপড়ে কাফন দেয়া হয় তবে নিষেধ করবে।
ইবনে আবিদ দুনিয়া ইবনে আবু মালীকাহ থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর ওসীয়ত করেন যে, তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে আমীস তাকে গোসল দিবেন এবং আব্দুর রহমান বিন আবু বকর গোসলের কাজে মাকে সাহায্য করবেন।
ইবনে সাদ ইবনে সাঈদ বিন মুসায়্যাব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর ফারুক (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবেরর মধ্যবর্তী স্থানে হযরত আবু বকরের জানাযা পড়ান এবং তিনি চার তাকবীল বলেন।
উরওয়া এবং কাসিম বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর সিদ্দীকের কবর যেন নবী (সা.)-এর কবরের বরাবর হয় এজন্য তিনি হযরত আয়েশাকে ওসীয়ত করেন। ইন্তেকালের পর তাঁর কবর এমনভাবে খনন করা হয় যে, তাঁর মস্তক রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাঁধের বরাবর ছিল। আর উভয়ের কবর ছিল একই বরাবর।
হযরত ইবনে উমর কর্তৃক বর্ণিত, হযরত উমর, হযরত তালহা, হযরত উসমান, হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর হযরত সিদ্দীকে আকবরকে কবরে নামান। এ রেওয়ায়েতটি কয়েক পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আবু বকরকে রাতেই সমাহিত করা হয়। ইবনে মুসায়্যাব বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের ইস্তেকালে মক্কায় কান্নার রোল পড়লে তাঁর পিতা আবু কুহাফা জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? লোকেরা বলল, আপনার ছেলের ইন্তেকাল হয়েছে। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এটা কি ধরনের কষ্ট? অতঃপর বললেন, তার স্থলাভিষিক্ত কে হয়েছেন? বলা হলো, হযরত উমর। তিনি বললেন, মরহুমের সহচর অতি উত্তম।
মুজাহিদ বর্ণনা করেন, হযরত আবু কুহাফা শরীয়তের ফারায়েজ সূত্রে হযরত আবু বকরের যে পরিত্যক্ত সম্পদ পান তা তিনি নাতিদের নিকট ফিরিয়ে দেন। তিনি হযরত আবু বকরের ছয় মাস কয়েকদিন পর ১৪ হিজরীর মুহাররম মাসে ৯৭ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।
ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো, পিতার জীবদ্দশায় আবু বকর ছাড়া কেউ খিলাফত পরিচালনা করেন নি। আর কোনো খলীফার পিতা আবু কুহাফা ছাড়া খলীফার পরিত্যক্ত সম্পদ পাননি।
হাকেম ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দু'বছর সাত মাস খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তারীখে ইবনে আসাকির গ্রন্থে আসমাআয়ী সূত্রে বর্ণিত, খাফফাফ বিন মাযবাহ আসলামী হযরত আবু বকরের মৃত্যুতে এ শোক গাঁথা রচনা করেন, (অর্থ) কোন জীবন্ত প্রাণী অমর নয়। পৃথিবী ধ্বংসশীল। মানুষ এ বিশ্বচরাচরের তিমিরে আচ্ছন্ন। মানুষ চেষ্টা করলে মুক্তি পাবে। যদিও তারা সংগ্রাম করে, কিন্তু তারা শয়তানের ষড়যন্ত্রে আক্রান্ত। চোখের প্লাবন থেমে গেছে। প্রাণিকূল আজ বিপন্ন, বয়সের কারণে মৃত্যু, আকস্মিক নিহত অথবা অসুস্থতার কারণে মৃত্যু- সব মৃত্যুই মানুষকে পীড়া দেয়। তিনি ছিলেন প্রশান্তির মেঘমালা, তিনি সর্বদা শুষ্ক প্রান্তরে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরতেন। কসম আল্লাহর, আবাল বৃদ্ধবণিতা সবাই তার যুগে সুখ ভোগ করেছে।