📄 বনু উমাইয়ার খিলাফতকে ভীতিপ্রদ বর্ণনাকারী হাদীসসমূহ
ইমাম তিরমিযী (র.) বলেন, ইউসুফ বিন সাদ কর্তৃক বর্ণিত, ইমাম হাসান (রা.) মুআবিয়া (রা.)-এর নিকট বাইআতের সময় জনৈক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ইমাম হাসান (রা.)-কে বলল, আপনি মুসলমানদের লজ্জিত করলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন। আমাকে খারাপ বলো না। কারণ নবী (সা.) এক রাতে বনূ উমাইয়াকে মিম্বরের উপর দেখে বিহবলিত হয়ে পড়েছিলেন। সে সময়- إِنَّا أَعْطَيْنُكَ الْكَوْثَرَ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةُ الْقَدْرِ অবতীর্ণ হয়। অর্থাৎ, আমি সম্মনিত রাতে কুরআনকে নাযিল করলাম। আর আপনি কি জানেন সম্মানিত রাত কি? সম্মানিত রাত মানে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম রজনী। আপনার মৃত্যুর পর হে মুহাম্মদ (সা.)! বনু উমাইয়া হাজার মাসের মালিক হবে। কাসেম বলেন, আমি হিসাব করেছি আমির মুআবিয়ার বাইআত থেকে হাজার মাস তাদের রাজত্ব ছিল, একটুকুও কম-বেশি হয়নি।
ইমাম তিরমিযী (র.) বলেন, এ হাদীসটি গরীব। এটি কাসেম কর্তৃক বর্ণিত। তিন যদিও নির্ভরযোগ্য, কিন্তু তার উস্তাদ মাজহুল। এ হাদীসখানা হাকেম মুসতাদরাক গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন।
হাফেজ আবুল হুজ্জাজ (র.) বলেন, হাদীসখানা মুনকার (অস্বীকারকারী)। ইবনে কাসীরও একই অভিমত পেশ করেছেন। ইবনে জারীর স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে আব্বাস বিন সহলের দাদার বরাত দিয়ে লিখেছেন, নবীজী (সা.) বনূ হাকাম বিন আসকে (বনূ উমাইয়াকে) স্বপ্নে দেখেন- বাদুড়ের মত এক মজলিসে নাচছে। নবীজীর কাছে এটা খুব খারাপ মনে হলো। এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি কোন দিন মুখ খুলে হাসেননি। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়-
وَمَا جَعَلْنَا الرُّؤْيَا الَّتِي أَرَيْنَاكَ إِلَّا فِتْنَةَ لِلنَّاسِ -
এ হাদীসের সনদগুলো দুর্বল। তবে আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.), ইয়ালা বিন মাররা (রা.) এবং হোসাইন বিন আলী (রা.)-এর হাদীসগুলো এ হাদীসের সমর্থক। এ হাদীসটি আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে তাফসীর এবং মাসনাদ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। উপরন্তু আসবাবুন নুযূল গ্রন্থেও এ হাদীসের কিছুটা ইশারা করা হয়েছে।
📄 যেসব হাদীসে বনু আব্বাসিয়া খিলাফতের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে
ইমাম বায্যার সনদসহ আবূ হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস লিখেছেন। হুযূর (সা.) আব্বাস (রা.) কে বলেন, তোমার লোকদের মধ্যে নবুওয়ত এবং রাজত্ব উভয়টাই রয়েছে। এ হাদীসের সনদের মধ্যে আমেরী দুর্বল। কিন্তু আবু নুয়াঈম দালায়েলুন নবুওয়ত, ইবনে আদী কামেল এবং ইবনে আসাকির স্বীয় গ্রন্থে আমেরীর হাদীসখানা কয়েকভাবে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিযী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে রেওয়ায়েত করেন, হুযুর (সা.) আব্বাস (রা.)-কে বললেন, সোমবার সকালে আপনার ছেলেকে আমার নিকট নিয়ে আসবেন। আমি তার জন্য দো'আ করে দিব, যাতে আল্লাহ তা'আলা আপনার এবং আপনার আওলাদদের ভালো করেন। আব্বাস (রা.) সকালে ছেলেকে কাপড় পরিয়ে হযরতের খেদমতে নিয়ে আসেন। তিনি দো'আ করলেন, হে আল্লাহ! আব্বাস এবং তার ছেলেকে প্রকাশ্য ও গোপন গোনাহর মধ্যে বেঁধ না এবং তাঁদের ক্ষমা করো। হে আল্লাহ। তাকে এবং তার আওলাদকে রক্ষা করো।
ইমাম তিরমিযী স্বীয় জামে গ্রন্থে এতটুকুই লিখেছেন। তবে রাযীন আল-উবায়দী এ হাদীসটির শেষাংশে এতটুকু বৃদ্ধি করেছেন- তার বংশে আমার খিলাফত জারি রেখ। আমার নিকট এ হাদীসখানা অত্যন্ত চমৎকার। তাবারানী ছাওবান থেকে বর্ণনা করেন। রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমি বনু মারওয়ানকে বারবার মিম্বরে উঠতে দেখে খারাপ ভাবলাম। যখন বনু আব্বাসকে বার বার আসতে দেখলাম তখন আমার ভালো লাগল।
আবু নুয়াঈম আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীস সনদসহ হুলীয়া গ্রন্থে লিখেছেন, একদিন হুজুর (সা.) বাইরে এলে আব্বাস (রা.)-এর সাথে সাক্ষাত হয়। তখন তিনি (সা.) বললেন, হে আবু আল-ফজল! আমি আপনাকে একটি সংবাদ দিব? তিনি বললেন, অবশ্যই নবীজী (সা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা যে কাজ আমার দ্বারা শুরু করিয়েছেন সে কাজ আপনার সন্তানদের মাধ্যমে সমাপ্ত করাবেন।
এর সূত্রগুলো দুর্বল। হযরত আলী (রা.) এ হাদীসটি যে সূত্রে বর্ণনা করেছেন তা আরো দুর্বল।
খতীব ইতিহাস গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, নবীজী (সা.) বলেন, আপনাদের থেকেই এ কাজ আরম্ভ হয়েছে, আপনাদের দ্বারাই তা শেষ হবে। অচিরেই এ হাদীসের সনদসহ বিস্তারিত বিবরণ মুহতাদী বিল্লাহ অধ্যায়ে আলোচনা করব।
খতীব আম্মার বিন ইয়াসার (রা.)-এর আরেকখানা হাদীস সনদসহ বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াঈম হুলীয়া গ্রন্থে জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করীম (সা.) বলেন, আব্বাসের বংশোদ্ভূত বাদশাহগণ আমার উম্মতের আমীর হবে। এজন্য আল্লাহ তা'আলা তাদের দ্বীনকে জয়যুক্ত করবেন। (সনদ দুর্বল)
আবু নুয়াঈম দালায়েল গ্রন্থে লিখেছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, উম্মুল ফজল আমার নিকট এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি একদা নবী করীম (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হলে তিনি বললেন, তোমার গর্ভে পুত্র সন্তান রয়েছে। ভূমিষ্ট হলে তাকে নিয়ে আমার কাছে এস। জন্মগ্রহণ করলে আমি নবজাতককে নিয়ে তাঁর পবিত্র খেদমতে হাযির হলাম। তিনি সেই পুত্রের ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দিলেন। নিজের লালা মোবারক নবজাতককে মুখে দিলেন এবং নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। অতঃপর বললেন, খলীফাগণের পিতাকে নিয়ে যাও। আমি সমস্ত ঘটনা হযরত আব্বাসের নিকট বর্ণনা করলাম। তিনি নবী (সা.)-এর দরবারে এসে কারণ জিজ্ঞেস করলেন, হযরত নবী করীম (সা.) বললেন, আমি সত্যই বলেছি। সে খলীফাগণের পিতা। তার বংশ থেকে সাফফাহ এবং মাহদীর আবির্ভাব ঘটবে। হযরত ঈসা বিন মারইয়াম (আ.)- এর সাথে যিনি নামায আদায় করবেন।
দায়লিমা মুসনাদুল ফেরদৌস গ্রন্থে আয়েশা সিদ্দীকা (রা.)-এর একখানা মারফু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অচিরেই বনু আব্বাসিয়ার হাতে পতাকা আসবে। যতক্ষণ তারা সত্যের চর্চা করবে তাদের হাত থেকে পতাকা যাবে না। দারে কুতনী ইফরাদ গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের বর্ণনা সনদসহ লিপিবদ্ধ করেছেন। নবী করীম (সা.) হযরত আব্বাস (রা.)-কে বললেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনার সম্প্রদায় ইরাকে থাকবে, কালো কাপড় পরবে এবং খোরাসানবাসী তাদের সাহায্য করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের কাছেই ক্ষমতা থাকবে। এমতাবস্থায় ঈসা (আ.)-কে তাদের প্রদান করা হবে। এ হাদীস দুর্বল। তবে ইবনে জাওযী মাওযুআতের মধ্যে তা বর্ণনা করেছেন।
তাবারানী কাবীরে উম্মে সালমা (রা.)-এর মারফু হাদীস লিপিবদ্ধ করেছেন। নবী আকরাম (সা.) বলেন, আমার চাচার ছেলে এবং আমার বাবার পিতামহদের সন্তানদের মধ্যেই খিলাফত থাকবে।
আকেলী কিতাবুয যুআফায় সনদসহ আবু বকর (রা.)-এর মারফু হাদীস বর্ণনা করেছেন। বনূ উমাইয়ার এক দিনের পরিবর্তে বনূ আব্বাস দু'দিন এবং এক মাসের পরিবর্তে দু'মাস রাজত্ব করবে।
ইবনে জাওযী মাওযুআতে এ হাদীসখানা বর্ণনা করেন। কারণ এ হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে যে খারাপ, তাকে মুহতাম বলা হয়। বস্তুত খারাপ লোক মিথ্যা অথবা বর্ণিত হাদীসে মুহতাম নাও হতে পারে। ইবনে আদী এই বর্ণনাকারীকে দুর্বলদের মধ্যে গণ্য করেছেন। কিন্তু তিনি এও বলেছেন, এতে কোনো ক্ষতি নেই এবং হাদীসের অর্থ যুক্তিগ্রাহ্য নয়। কেননা বনু আব্বাসিয়ার যুগে শুধু স্পেন ছাড়া পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত তাদের রাজত্ব ছিল। তাদের শাসনামল ১৩০ হিজরী থেকে ২৯০ হিজরী। এরই মধ্যে মুকতাদার খিলাফতের তখতে আরোহন করেন। তাঁর প্রশাসনিক পদ্ধতিতে ভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে, পাশ্চাত্যের ভূখণ্ডগুলো হাতছাড়া হয়ে যায় এবং তারপর মুসলিম সাম্রাজ্যে দারুণ অরাজকতা, আত্মকলহ এবং মতানৈক্য দেখা দেয়, যার বিবরণ সামনে পেশ করা হবে। এ হিসাব মোতাবেক বন্ আব্বাসিয়ার শাসনামল ছিল ১৬০ বছর। আর বনু উমাইয়ার ২০ বছর। তন্মধ্যে ইবনে যুবায়েরের খিলাফতকাল নয় বছর বাদ দিলে তিরাশি বছর হলো। উমাইয়াদের যুগ, যা আব্বাসীয়দের শাসনকালের অর্ধেক সময়।
যুবায়ের বিন বাকার মুআফিকাত গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর রেওয়ায়েত নকল করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) মুআবিয়া (রা.)-কে বললেন, আপনারা যদি একদিন রাষ্ট্র চালান, তবে আমরা দু'দিন, আপনারা এক মাস চালালে আমরা দু'মাস, আপনারা এক বছর চালালে আমরা দু'বছর রাষ্ট্র চালাব।
যুবায়ের মুআফিকাতে লিখেছেন, ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, কালো পতাকা আমাদের পাশ্চাত্য থেকে শুরু হবে। তারীখে দামেশক গ্রন্থে ইবনে আসাকির লিখেছেন, রসূলুল্লাহ (সা.) তিনবার হযরত আব্বাসের জন্য এ দা'আ করেছেন, হে আল্লাহ! আব্বাস এবং তাঁর সন্তানদের সাহায্য করো। অতঃপর হযরত আব্বাসকে সম্বোধন করে বলেন, চাচা! আপনি জানেন না, আপনার বংশধরদের মধ্যে মাহদী মুওয়াফ্ফাক অত্যন্ত ভালো মানুষ হবেন।
ইবনে সাদ তবকাত গ্রন্থে ইবনে আব্বাসের রেওয়ায়েত লিখেছেন, একদিন হযরত আব্বাস আব্দুল মোত্তালিবের বংশধরকে একত্রিত করেন। তিনি আলী (রা.)-কে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। এজন্য তিনি তাকে বলেন, আমি তোমার সাথে একটি পরামর্শ করতে চাই, তবে প্রথমে তোমার পরামর্শ ছাড়া চূড়ান্ত ফয়সালা নিতে চাই না। তুমি নবী আকরাম (সা.)-এর খেদমতে গিয়ে আরয করো, যদি খিলাফত আমাদের জন্য না হয়, তবে আমরা আজ থেকেই তাকে কোনো পাত্তা দিব না। হযরত আলী (রা.) বললেন, হে চাচা! নিশ্চয় খিলাফত আপনার জন্যই, কারো শক্তি নেই আপনার থেকে তা কেড়ে নিবে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ
দাইলামী মুসনাদুল ফেরদৌস গ্রন্থে লিখেছেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তা'আলা বাদশাহীর জন্য যে জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তিনি সে জাতির কপালে হস্ত সঞ্চালন করে দিয়েছেন। এ হাদীসের একজন বর্ণনাকারী মাইসারা তিনি পরিত্যক্ত। দাইলামী এই হাদীসটি তিন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। হাকেম মুসতাদরাকে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
📄 রাসূলে আকরাম (সা.)-এর চাদর যা সর্বশেষ খলীফা পর্যন্ত হস্তান্তরিত হয়েছে
সলফী ত্বওরিয়াতে লিখেছেন, কা'ব বিন যুবাইর (রা.) স্বরচিত কবিতা রসূলুল্লাহ (সা.)-এর শানে আবৃত্তি করলে তিনি পরনের চাদরখানা কা'বের প্রতি এ মর্মে পত্র লিখেন যে, রসূলুল্লাহ (সা.)-এর চাদরটি দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে আমাকে দিয়ে দাও। কিন্তু তিনি তা দেননি। কা'বের মৃত্যুর পর হযরত মুআবিয়া তাঁর সন্তানদের কাছ থেকে বিশ হাজার দিরহামে চাদরটি কিনে নেন। অতঃপর সে চাদরটি বনু আব্বাসিয়ার খলীফাদের নিকট হস্তান্তরিত হয়।
সলফী ছাড়াও অন্য লোকেরা এমনই বলেছে।
যাহাবী স্বরচিত ইতিহাস গ্রন্থে এও লিখেছেন, খলীফাদের চাদরটি হযরত মুআবিয়ার খরিদকৃত চাদর নয়; বরং সেটি ঐ চাদর যা রসূলূল্লাহ (সা.) তাবুক যুদ্ধে শান্তির প্রতীকস্বরূপ নিজের পত্রসহ আয়লাবাসীর প্রতি প্রেরণ করেন। অতঃপর সাফফাহ তিন'শ দিনারে চাদরখানা কিনে নেন। আমার মতে, হযরত মুআবিয়া যে চাদর ক্রয় করেছিলেন তা আব্বাসীয় যুগে চুরি হয়ে যায়। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) যুহৃদ গ্রন্থে লিখেছেন, রসূলুল্লাহ (সা.) যে চাদর পরে প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাত করতেন তা মোতি-মুক্তা খচিত ছিল। চার হাত লম্বা, দু'হাত প্রস্থ এ চাদরটি খলীফাদের নিকট ক্রমান্বয়ে হস্তান্তরিত হয়। চাদরটি অত্যধিক পুরাতন হওয়ায় তা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। খলীফাগণ দুই ঈদে চাদরটি পরতেন। উত্তরাধিকার সূত্রে চাদরটি এক খলীফা থেকে অপর খলীফার হাতে চলে যেতো। বড় বড় অনুষ্ঠানে তাঁরা চাদরখানা বরকতের জন্য পরতেন।
কথিত আছে, যখন মুকতাদার ফিত্নায় আক্রান্ত হয়ে নিহত হন তখন এ চাদরটি তিনি পরে ছিলেন। তাঁর রক্তে চাদরটি অপবিত্র হয় এবং সেখানেই তা নষ্ট হয়ে যায়।
কতিপয় ফাওয়ায়েদ: বর্ণিত আছে যে, আব্বাসীয় বংশের খলীফাগণের মধ্যে একজন শুরু করেছেন, একজন মধ্যবর্তীতে রয়েছেন এবং একজন শেষ করেছেন। মনসুর প্রবর্তনকারী, মামুন মধ্যবর্তীতে অবস্থানকারী এবং মুতাদার সর্বকনিষ্ঠ। আব্বাসীয় বংশের খলীফাদের মধ্যে সাফ্ফাহ, মাহদী এবং আমীন ছাড়া বাকী সকলেই দাসীর গর্ভজাত সন্তান। হযরত আলী বিন আবু তালিব, হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব এবং আমীন বিন রশীদ ছাড়া হাশেমী বংশীয় খলীফা হাশেমী মায়ের গর্ভজাত নন। এ রেওয়ায়েতটি সুলী বর্ণনা করেছেন।
যাহাবী বলেন, হযরত আলী বিন আবু তালিব এবং আলী আল মুকতাফী ছাড়া কোন খলীফার নাম আলী ছিল না। আমি বলছি, অধিকাংশ খলীফার নাম একক, নকল অনেক কম। আব্দুল্লাহ, আহমদ, মুহাম্মদ এই নামগুলো অনেকের ছিল।
বাগদাদের সর্বশেষ খলীফা মুতাসিম পর্যন্ত সকলেই পৃথক উপাধি ধারণ করেছিলেন। মিসরে খলীফাগণ পূর্বের খলীফাদের উপাধি অনুসরণ করে নিজেদের উপাধি ধারণ করেন। যেমন- মুসতানসির, মুসতাকফী, ওয়াছেক, হাকেম, মুতাদাত, মুতাওয়াক্কিল, মুসতাসিম, মুসতাইন, কায়িম, মুসতানজিদ। এর মধ্যে থেকে মুসতাকফী এবং মুসতানসির তিনজনের উপাধি ছিল। বাকীগুলো দু'জনের। বনু আব্বাসিয়ার খলীফাগণের মধ্যে কেউ বনু উবাইদীর খলীফাদের উপাধি গ্রহণ করেননি। কায়িম, হাকেম, তাহের এবং মুসতানসির ব্যতীত। মাহদী এবং মনসুর আগে থেকেই উবাইদীদের উপাধি ছিল। বনু আব্বাসিয়ার মধ্যেও সে উপাধি ছিল।
কেউ কেউ বলেন, কাহের উপাধি ধারণকৃত খলীফা বা বাদশাহ সফলকাম হতে পারেন না। আমার মতে মুসতাকফী এবং মুসতাইন উপাধি ধারণকারীর একই অবস্থা। দেখুন আব্বাসীয়দের মধ্যে দু'জন খলীফার উপাধি ছিল অনুরূপ। তাঁদের পতন হয়েছে। তবে মুতাযদ অত্যন্ত সুন্দর উপাধি।
ভাতিজার স্থানে মুকতাদা এবং মুসতানসির ছাড়া আর কেউ বসেননি। মুকতাদা রাশেদের পর এবং মুসতানসির মুতাসিমের পর খলীফা হন। (যাহাবী) একই পিতার তিন পুত্র আমীন, মামুন, মুতাসিম ছাড়া হারুন রশীদের বংশে মুসতানসির, মুতায ছাড়া, মুতাওয়াক্কিলের বংশে রাযী, মুকতাদা এবং মতী ছাড়া মুকতাদার বংশে কেউ খিলাফতের তখতে বসেনি।
আব্দুল মালিকের চার সন্তান খিলাফতের তখতে বসেছেন, যার দৃষ্টান্ত খলীফাদের মধ্যে নেই। তবে এ দৃষ্টান্ত রাজা-বাদশাহদের মধ্যে বিদ্যমান। আমি বলেছি এ দৃষ্টান্ত খলীফাদের মধ্যে নেই মুতাওয়াক্কিলের পাঁচ সন্তান ছিল। মুসতাইন, মুতাযদ, মুসতাকফী, কায়িম এবং মুসতানজিদ। পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় হযরত আবু বকর (রা.) এবং বকর আল-তায়ী' বিন মতী' ছাড়া কেউ খলীফা হননি। আবু বকর আল-তায়ী'র পিতার প্যারালাইসিস হওয়ায় তিনি ছেলেকে খলীফা মনোনীত করেন।
ওলামায়ে কেরাম বলেন, যিনি পিতার জীবদ্দশায় খিলাফতের কর্ণধার হয়েছেন তিনি আবু বকর (রা.)। তিনি যুবরাজ নির্ধারিত করেছিলেন, সর্বপ্রথশ বাইতুলমাল গঠন করেন এবং কুরআন শরীফকে গ্রন্থকার রূপ দেন।
যিনি সর্বপ্রথম আমিরুল মোমেনিন বলেছেন, চাবুক মারার প্রথা প্রবর্তন করেছেন, হিজরী সনের সূচনা করেছেন, ইতিহাস অধ্যয়নের নির্দেশ দিয়েছেন এবং বিচারালয়ে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি হলেন হযরত উমর ফারুক (রা.)।
হযরত উসমান গনী (রা.) সর্বপ্রথম চারণভূমি নির্ধারণ করেন, জায়গীর দেন, জুমআর প্রথম আযান এবং মুআযয্যিনদের ভাতা নির্ধারণ করেন, খুৎবায় কম্পন সৃষ্টি না করা এবং পুলিশ নিয়োগ দেন।
যিনি সর্বপ্রথশ নিজের জীবদ্দশায় স্বীয় পুত্রকে যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা দেন এবং নিজ সেবার জন্য লোক নিয়োগ করেন হযরত মুআবিয়া (রা.)।
যাঁর দরবারে সর্বপ্রথম শত্রুর কর্তিত মস্তক এসেছিল তিনি হযরত যুবায়ের (রা.)। সর্বপ্রথম মুদ্রায় নিজের নাম অঙ্কন করেন আব্দুল মাীলক বিন মারওয়ান। সর্বপ্রথম নিজের নাম ঘোষণা করতে নিষেধ করেছিলেন ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক। বনু আব্বাসিয়ার খলীফাগণ সর্বপ্রথম নতুন নতুন উপাধি আবিষ্কার করেন।
ইবনে ফাজলুল্লাহ বলেন, কেউ কেউ বলেছেন, বনূ আব্বাসিয়ার মত বন্ উমাইয়াও উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। আমার মতে কতিপয় ঐতিহাসিক লিখেছেন, মুআবিয়া (রা.) আন-নাসিরুদ্দীনিল্লাহ, ইয়াযিন আল-মুসতানসিরি, মুআবিয়া বিন ইয়াযিদ আর-রাজে ইলাল হাক, মারওয়ার আল-মুতামিন বিল্লাহ, আব্দুল মালিক আল-মুওয়াফিক আমরিল্লাহ, তার ছেলে ওয়ালিদ আল-মুনতাকসিম বিল্লাহ, উমর বিন আব্দুল আযীয আল-মাসুম বিল্লাহ, ইয়াযিদ বিন আব্দুল মালিক আল-কাদির বি সুনাআল্লাহ এবং ইয়াযিদ নাকেস আল শাকির বিন আন'আমিল্লাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
যার প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিভিন্ন কথা হয়েছিল তিনি সাফফাহ। যিনি সর্বপ্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ডেকে তাদের কথা মত কাজ করতেন এবং নিজের গোলামদের বিচারক পদে অধিষ্ঠিত করেন এবং আরবদের চেয়ে তাদের প্রাধান্য দিতেন তিনি মানসুর। মাহদী সর্বপ্রথম ভিন্ন মতাবলম্বীদের মতবাদ খণ্ডনের জন্য গ্রন্থ রচনা করান।
যিনি সর্বপ্রথম লাগামের মধ্যে অসি, বল্লম প্রভৃতি নিয়ে সৈন্য পরিচালনা করেন তিনি হাদী। যিনি সর্বপ্রথম হকি খেলেছেন তিনি হারুন-অর রশীদ। যে খলীফাকে সর্বপ্রথম উপাধিসহ ডাকা হয় এবং যিনি সর্বপ্রথম উপাধিসহ নিজের নাম লিখেছেন তিনি আমীন। মুতাওয়াক্কিল সর্বপ্রথম অমুসলমান বন্দীদের পোশাক নির্দিষ্ট করেন। মুতাওয়াক্কিলকে সর্বপ্রথম তুর্কীরা শহীদ করে দেয়। এ ঘটনা নবী আকরাম (সা.)- এর একখানা হাদীসের সমর্থক, যা তাবারানী ইবনে মাসউদ থেকে নকল করে বর্ণনা করেছেন। নবী আকরাম (সা.) বলেছেন, তুর্কীরা যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের অবকাশ দিবে তার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তোমরা তাদরে অবকাশ দিবে। কারণ সর্বপ্রথম তারাই আমার উম্মতের বাদশাহী এবং খোদার নিয়ামত কেড়ে নিবে।
যিনি সর্বপ্রথম জরির পাড়যুক্ত পোশাক এবং ছোট টুপি ব্যবহার করেছেন তিনি মুসতাইন। মুতায সর্বপ্রথম ঘোড়াকে স্বর্ণের অলংকারাদি পরান। যার উপর সর্বপ্রথম অত্যাচার এবং প্রতিশোধ গ্রহণ করা হয় তিনি মুতামাদ। তাঁর সকল খরচ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এবং তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।
যিনি সর্বপ্রথম বিচলিত অবস্থায় খলীফা মনোনীত করেছিলেন, তিনি মুকতাদার।
রাযী হলেন- শেষ খলীফা যাঁকে অর্থ এবং সৈন্য থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। তিনি কবিতা আকারে খুৎবা দিতেন। সর্বদা নামাযের ইমামতি করেন, সভাষদের নিজের সামনে বসিয়ে পরামর্শ করেন, খোলাফায়ে রাশেদীনদের চালচলন মেনে চলতেন। মুসতানসির সর্বপ্রথম ব্যবহৃত উপাধি গ্রহণ করেন, যিনি মুসতানসিনের পর খলীফা হন।
আওয়ায়েল আসকারী গ্রন্থে রয়েছে, যিনি সর্বপ্রথম মায়ের জীবদ্দশায় খলীফা তিনি হলেন হযরত উসমান গনী (রা.)। অতঃপর হাদী, রশীদ, আমীন, মুতাওয়াক্কিল, মুসতানসির, মুসতাইন, মুতায, মুতাযদ এবং মতী'। আবু বকর (রা.) এবং আল তায়ী ব্যতীত কেউ পিতার জীবদ্দশায় খিলাফতের তখতে আরোহন করেননি।
সুলী বলেন, আব্দুল মালিকের দুই পুত্র ওয়ালিদ এবং সুলাইমানের জননী ইয়াযিদ নাকেয এবং ইব্রাহীমের জননী শাহীন এবং হাদী এবং রশীদের জননী খিযরান ব্যতীত কোন নারী দু'জন খলীফা প্রসব করেন নি। তবে আমার মতে এক্ষেত্রে আব্বাস ও হামযার জননী এবং দাউদ এবং সুলাইমানের জননীকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। দাউদ এবং সুলাইমান মুতাওয়াক্কিলের শেষ দু'সন্তান।
ফায়দা-১: বনূ উবাইদের চৌদ্দজন খলীফা উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা হলেন মাহদী, কায়িম, মনসুর, মুআয, আযীয, হাকিম, তাহের, মুসতানসির, মুসতালা, আমর, হাফিয, জাফর, কায়েম, আসেদ মিসর। তাঁদের বাদশাহীর সূচনা ২৯০ হিজরীতে এবং পতন ৫৬৭ হিজরীতে।
ফায়দা-২: যাহাবী বলেন, তাদের রাজত্ব অগ্নি উপাসক এবং ইহুদীদের রাজত্বের অনুরূপ ছিল। সুতরাং তাদের রাজত্বকে খিলাফত বলা যেতে পারে না।
ফায়দা-৩: পাশ্চাত্যে বনূ উমাইয়ার মধ্য থেকে যাঁরা খিলাফত প্রাপ্ত হয়েছিলেন তাঁরা উবাইদীদের তুলনায় শরীয়ত, সুন্নত, ইনসাফ, দয়া, জ্ঞান, জিহাদ প্রভৃতি থেকে উত্তম। তাঁরা সংখ্যায় বেশি ছিল এবং স্পেনে একই সময়ে পাঁচজন খলীফা দাবী করেন।
অনেক প্রবীণ ওলামায়ে কেরাম খলীফাদের ইতিহাস লিখেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে লাফজুয়া নাহবী দু'খন্ডে একখানা ইতিহাস গ্রন্থ রচনা করেছেন। এতে তিনি কাহেরের যুগ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেছেন। সুলী শুধু বনু আব্বাসিয়ার ইতিহাস সম্বলিত একখানা ইতিহাস প্রণয়ন করেছেন। এটি আমি দেখেছি। তিনিও কাহেরের যুগ পর্যন্ত লিখেছেন। ইবনে জাওযী শুধু আব্বাসীয়দের ইতিহাস লিখেছেন। এতে নাসিরের যুগের ঘটনাবলী স্থান পেয়েছে। এ বইটিও আমি অধ্যায়ন করেছি। আবুল ফজল আহমদ বিন আবু তাহের আল মুরুযী ২৮০ হিজ রীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি বড় মাপের কবি এবং সুলেখক ছিলেন। তিনিও আব্বাসীয়দের ইতিহাসনির্ভর একটি গ্রন্থ লিখেছেন। এতে বনূ আব্বাসিয়ার আমীর আবূ হারুন বিন মুহাম্মদ আল আব্বাসীয়ার যুগ পর্যন্ত উল্লেখ রয়েছে।
ফায়দা-৪ঃ খতীব লিখেছেন, হযরত উসমান বিন আফফান (রা.) এবং মামুন ছাড়া কোন খলীফা কুরআনের হাফেজ ছিলেন না। আমার মতে এটি ভুল; বরং বিশুদ্ধ অভিমত হলো আবু বকর সিদ্দীক (রা.)ও কুরআনের হাফেজ ছিলেন। একদল ঐতিহাসিক এ অভিমতের সমর্থক। নববী তাহযীব গ্রন্থে লিখেছেন, আলী (রা.) নবী আকরাম (সা.)-এর মৃত্যুর পর কুরআন হিফজ করেছেন।
ফায়দা-৫: ইবনুস সায়ী বলেন, খলীফা তাহেরের বাইআত গ্রহণের সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাহের সাদা কাপড় পরে ছাতার নীচে উপবেসন করেছিলেন। তিনি নিজের চাদর পরে ছিলেন এবং নবী (সা.)-এর চাদরখানা কাঁধের উপর রেখেছিলেন। মন্ত্রী পরিষদ মিম্বরে এবং সেনাপতিগণ সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে ছিলেন। লোকদের থেকে একথা বলে তিনি বাইআত গ্রহণ করাচ্ছিলেন- আমি আপনাদের নেতা ও ইমাম, যার অনুসরণ ও আনুগত্য করা পৃথিবীর সকলের জন্য ফরয। তাঁর পবিত্র নাম শরীফ, সুন্নতে রসূল এবং আমিরুল মোমিনীনের ইজ তিহাদের জন্য বাইত করছি। তিনি ছাড়া আর কোন খলীফা নাই।
📄 ইয়াযিদ বিন মুআবিয়া
ইয়াযিদ বিন মুআবিয়া আবু খালিদ আল উমুয়ী ২৫ অথবা ২৬ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। স্থূল শরীরের অধিকারী ইয়াযিদের গোটা শরীরে পশম ছিল। তার মা মাইসুন বিনতে বহদে কালবীয়া। তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, আর তার রেওয়ায়েতগুলো তার ছেলে খালিদ এবং আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান বর্ণনা করেছেন। তিনি আগে থেকেই উত্তরাধিকার নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং লোকদের বাধ্য করে বাইআত গ্রহণ করেছেন।
হাসান বসরী (রহ:) বলেন, ইয়াযিদ আগেই উত্তরাধিকার মনোনীত হওয়ায় কিয়ামত পর্যন্ত এ প্রথা অব্যাহত থাকবে। অন্যথায় পরামর্শ সাপেক্ষে মুসলমানগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেই থাকতেন।
ইবনে সিরীন (রহ:) বলেন, আমর বিন হাযাম মুআবিয়ার নিকট গিয়ে বললেন, আমি আপনাকে আল্লাহর ভয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আপনি উম্মতে মুহাম্মাদীয়ার মধ্য থেকে কাকে খলীফা মনোনীত করতে চাইছেন। হযরত মুআবিয়া (রা.) বললেন, তোমার উপদেশে আমি কৃতজ্ঞ। বর্তমানে অনেকের অনেক ছেলে রয়েছে, তাদের মধ্যে আমার ছেলে বেশি হকদার। এজন্য তাকে উত্তরাধিকার বানাতে চাইছি।
আতীয়া বিন কায়েস বলেন, একদিন হযরত মুআবিয়া (রা.) খুতবার সময় বলেন, হে আল্লাহ! যদি ইয়াযিদকে তার মর্যাদার কারণে উত্তরাধিকার মনোনীত করি তবে তুমি তাকে সাহায্য ও রক্ষা করো। আর যদি দয়ার্দ্র পিতা হিসেবে করে থাকি এবং যদি সে খিলাফতের যোগ্য না হয় তাহলে সে যেন মসনদে আরোহণের পূর্বেই মৃত্যু বরণ করে।
হযরত আমীর মুআবিয়ার ইন্তেকালের পর সিরিয়াবাসী ইয়াযিদের নিকট বাইআত গ্রহণ করে। অতঃপর তিনি মদীনাবাসীর বাইআত গ্রহণের ফরমান জারি করলে হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং হযরত ইবনে যুবায়ের (রা.) তা প্রত্যাখ্যান করে সে রাতেই তাঁরা মক্কা শরীফে গমন করেন। হযরত ইবনে যুবায়ের (রা.) ইয়াযদের বাইয়াত গ্রহণ করেননি এবং নিজের জন্যও বাইআত করাতে সম্মত ছিলেন না। কিন্তু হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) কে কুফাবাসী হযরত মুআবিয়ার আমল থেকেই বলে রেখেছিল এবং তারা ইমাম হোসাইন (রা.)-এর বাইআত গ্রহণ করতে প্রস্তুত ছিল। তবে তিনি কোনো সময় রাজী হননি। যখন ইয়াযিদ বাইআত করায়ে নিল তখন প্রথমে তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় থাকার চেষ্টা করেন। অতঃপর কুফা যাওয়ার ইচ্ছা করেন, হযরত ইবনে যুবায়ের (রা.) তাঁকে এ পরামর্শই দেন, কিন্তু ইবনে আব্বাস (রা.) তাঁকে নিষেধ করেন। ইবনে উমর (রা.) বের হতে নিষেধ করে বললেন, আল্লাহ তা'আলা দুনিয়া এবং আখেরাত দু-এর মধ্যে যে কোনো একটি গ্রহণের জন্য রাসুলুল্লাহকে অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি আখেরাতকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। আপনি তো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কলিজা। আপনি আখেরাতকে কবুল করুন, দুনিয়া আপনার জন্য নয়। ইমাম হোসাইন (রা.) নিজ সিদ্ধান্তে অটল থাকায় ইবনে উমর (রা.) কেঁদে ফেলেন, গলায় জড়িয়ে ধরে অবশেষে বিদায় দেন।
হযরত ইবনে উমর (রা.) বলেন, হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) আমার নিষেধ উপেক্ষা করে যাত্রা করলেন। ফলে তাঁর পিতা এবং ভ্রাতার মতোই পরীক্ষিত কুফাবাসীর নিকট তাঁকে একই পরিণাম ভোগ করতে হয়।
জাবের বিন আব্দুল্লাহ, আবু সাঈদ এবং আবু ওয়াকেদী আল লাইছীও ইমাম হোসাইনকে নিষেধ করেন, কিন্তু তিনি নিজ সিদ্ধান্তে অটল থেকে ইরাক গমনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। যাত্রার প্রাক্কালে ইবনে আব্বাস (রা.) বললেন, আমার মন বলছে, বিবি বাচ্চাদের সামনে হযরত উসমান গনী (রা.)-এর মতো আপনাকেও শহীদ করে দেবে। অতঃপর তিনি নিজেই কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, আপনি ইবনে যুবায়েরের চক্ষুযুগল শীতল করছেন। এরপর তিনি ইবনে যুবায়ের (রা.) কে বললেন, তুমি যা চাইছ তাই হতে চলেছে। ইমাম হোসাইন (রা.) যাত্রা করছেন। আর তুমিও হিজায ছেড়ে যাত্রা করছ। অতঃপর তিনি এ কবিতাটি আবৃত্তি করলেন, "হে উড়ন্ত প্রাণী! শূন্য চারণভূমির যেখানে খুশি চরবে যেখানে খুশি ডিম দিবে।"
ইরাকবাসীর দূত এবং পত্রসম্বলিত আহ্বানের প্রেক্ষিতে ইমাম হোসাইন (রা.) যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে পরিবার পরিজন যাঁদের মধ্যে নারী এবং শিশু ছিল মক্কা থেকে ইরাক গমন করেন। এদিকে ইয়াযিদ ইরাক শাসনকর্তা উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদকে ইমাম হোসাইনের সাথে যুদ্ধ করার লিখিত আদেশ দেন এবং আমর বিন সাদ বিন আবী ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে ইমাম হোসাইনের গতিপথ রুদ্ধ করতে চার হাজার সৈন্য প্রেরণ করেন। কুফাবাসী নিজেদের পুরাতন অভ্যাস অনুযায়ী হযরত আলী (রা.) প্রমুখদের সাথে যেমন আচরণ করেছিল, তদ্রুপ ইমাম হোসাইন (রা.) কে একা ফেলে তারা চলে যায়। ইয়াযিদ বাহিনী বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে ইমাম হোসাইন (রা.) সন্ধি, প্রত্যাবর্তন অথবা ইয়াযিদের নিকট গমন এ তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন। অথচ তারা সবগুলোই পত্যাখ্যান করে এবং ইমাম হোসাইন (রা.) কে শহীদ করে তাঁর মস্তক মোবারক এক ট্রেতে করে ইবনে যিয়াদের সামনে পেশ করা হয়। আল্লাহ তা'আলা ইমাম হোসাইন (রা.)-এর হত্যাকারী ইবনে যিয়াদ এবং ইয়াযিদের প্রতি অভিশাপ বর্ষন করুন।
ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াওমে আশুরায় শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি অনেক দীর্ঘ এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাঁর সাথে পরিবারের ষোলোজন শহীদ হন। তিনি শহীদ হওয়ার মুহূর্তে সাতদিন পর্যন্ত দুনিয়া অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সূর্যের রং বিকৃত হয়ে যায়। তারকারাজি ভেঙে ভেঙে নিচে পতিত হয়, সেদিন সূর্যগ্রহণ লেগেছিল এবং ছয় মাস পর্যন্ত আকাশের এক কোণে সর্বদা একটি লাল রেখা উদ্ভাসিত ছিল, যা এ মর্মান্তিক ঘটনার পূর্বে আর কোনোদিন দেখা যায়নি।
এ রেওয়ায়েতটিও বর্ণিত রয়েছে যে, সেদিন বাইতুল মুকাদ্দাসের যে পাথর উঠানো হয়েছে তার নিচ দিয়েই রক্ত প্রবাহিত হয়েছে। বিরোধী শিবিরে সেদিনের হর্ষ কেন জানি বিষাদে পরিণত হয়েছিল তাদের যবেহকৃত উটের গোশত আগুনের মতো জ্বলছিল। পাকানোর সময় তা কয়লার মতো কালো হয়ে যায় এবং এর স্বাদ আলকাম বৃক্ষের মতো তিক্ত হয়।
জনৈক ব্যক্তি হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শানে কটূক্তি করায় আল্লাহ তা'আলা আকাশ থেকে তারা নিক্ষেপ করে তার চক্ষুদ্বয় নষ্ট করে দেন। ছালাবী আব্দুল মালিক বিন উমায়ের আল লাইছী থেকে বর্ণনা করেন, আমি এ প্রাসাদে (কুফার প্রশাসনিক ভবনে) হযরত হোসাইন বিন আলী (রা.)-এর ছিন্ন মস্তক উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের সামনে ঢালের উপর প্রতিস্থাপিত অবস্থায় দেখেছি। এর কিছুদিন পর এ প্রসাদেই উবায়দুল্লাহ বিন যিয়াদের কর্তিত মাথা মুখতার বিন আবু উবায়েদের সামনে দেখেছি। অতঃপর মুখতার বিন আবু উবায়েদের মাথা মুসআব বিন যুবায়েরের সামনে, আবার এর কিছুদিন পর মুসআব বিন যুবায়েরের বিচ্ছিন্ন মস্তক আব্দুল মালিকের সামনে রাখা অবস্থায় দেখেছি। আমি এ ঘটনা আব্দুল মালিকের নিকট বিবৃত করলে তিনি এ প্রাসাদকে অমঙ্গলজনক ভেবে তা বর্জন করেন।
ইমাম তিরমিযী (রা.) সালামা থেকে রেওয়ায়েত করেন, আমি হযরত উম্মে সালমা (রা.)-এর নিকট গিয়ে তাঁকে কাঁদতে দেখে কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মস্তক এবং দাড়ি ধুলায় ধূসরিত দেখে আরয করলাম, আমি আল্লাহর রসূলের একি অবস্থায় দেখছি? তিনি বললেন, আমি এ মুহূর্তে শহীদ হোসাইনকে দেখে ফিরছি।
বায়হাকী 'দালায়েল' গ্রন্থে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে দুপুরের সময় স্বপ্নে দেখলাম, তিনি ধুলাময় অবস্থায় হেঁটে চলছেন। তাঁর হাতে এক বোতল রক্ত। আমি আরয করলাম, আমার পিতা মাতা আপনার জন্য কুরবান। ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার হাতে এটা কি? তিলি বললেন, এগুলো হাসাইন এবং তাঁর সাথীদের রক্ত। আমি আজ সারা দিন এগুলো সঞ্চয় করেছি। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সে দিনটি ইমাম হোসাইনের শাহাদাতের দিন ছিল।
আবু নুয়াইম 'দালায়েল' গ্রন্থে উম্মে সালমা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, আমি হোসাইনের মর্মান্তিক ঘটনার জন্য প্রাণিকুলের বিলাপ শুনেছি। ছাআলাবা স্বরচিত 'আমালী' গ্রন্থে লিখেছেন, জনাব কালবী বলেছেন, আমি কারবালার প্রান্তে আরবের এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি পশুদের বিলাপ শুনছেন? তিনি বললেন, তুমি এ ব্যাপারে যাকেই জিজ্ঞেস করবে তিনিই বলবেন, শুনেছি। আমি বললাম, আপনি স্বকর্ণে গোচর করেছেন কি? তিনি বললেন, আমি এ কবিতা শুনেছি, (অর্থ) "রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর চেহারার উপর হস্ত সঞ্চালন করেছেন। তাঁর গণ্ডদেশ দীপ্তি ছড়াত। তাঁর পিতা-মাতা কুরাইশদের অভিজাত গোত্রের সন্তান। তাঁর দাদা সকল দাদা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতম।"
ইবনে যিয়াদ হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) সহ তাঁর সাথীদের শহীদ করে তাদের ছিন্ন মস্তকগুলো ইয়াযিদের নিকট পাঠিয়ে দেয়। ইয়াযিদ প্রাথমিক অবস্থায় এ মর্মান্তি ঘটনায় আনন্দিত হন, কিন্তু মুসলমানগণ তার প্রতি অসন্তুষ্ট এবং কাজকে ঘৃণ্য বলে অভিহিত করায় তিনি অনুতপ্ত হন।
আবু ইয়ালা 'মুসনাদ' গ্রন্থে দুর্বল সূত্রে আবু উবায়দের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, আমার উম্মত সর্বদা ইনসাফের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। কিন্তু বনূ উমাইয়্যার ইয়াযিদ নামক এক ব্যক্তি ইনসাফের পথে বাধা সৃষ্টি করবে।
রুয়ানী 'মুসনাদ' গ্রন্থে আবু দ্দারদাহ থেকে বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে প্রথম আমার সুন্নতের মধ্যে পরিবর্তন করবে সে বন্ উমাইয়্যার ইয়াযিদ।
নওফেল বিন আবুল ফারাত বলেন, একদা আমি খলীফা উমর বিন আব্দুল আযীযের নিকট বসেছিলাম। প্রসঙ্গক্রমে ইয়াযিদের বিষয় এসে গেলে জনৈক ব্যক্তি আমিরুল মুমেনীন ইয়াযিদ বিন মুআবিয়া বলে তার নাম নিলে খলীফা উমর বিন আব্দুল আযীয (রহ.) বললেন, তুমি একে আমিরুল মুমেনীন বলছো? এ বলে তিনি এ অপরাধের জন্য তাকে বিশটি বেত্রাঘাতের আদেশ দিলেন।
৬৩ হিজরীতে মদীনাবাসীর বিদ্রোহের সংবাদ অবগত হয়ে ইয়াযিদ বিশাল সৈন্য বাহিনী পাঠালেন। রসূলের স্মৃতি বিজড়িত পবিত্র মদীনা নগরী ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে ইয়াযিদ মক্কা শরীফে ইবনে যুবায়েরকে অবরুদ্ধ করার জন্য সেনাবাহিনীপারি পরবর্তী নিদের্শ দেন। হযরত হাসান বসরী (রা.) ইয়াযিদ বাহিনীর বর্বরতার বিবরণ দিতে গিয়ে বলেছেন, সেদিন ইয়াযিদ বাহিনীর নির্যাতন থেকে মদীনাবাসীর একজনও পরিত্রাণ পায়নি। সহস্রাধিক সাহাবায়ে কেরাম শহীদ হন। মদীনা শরীফ লুণ্ঠিত হয়। হাজার হাজার তরুণী ধর্ষিত হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে মদীনাবাসীকে ভতিসন্ত্রস্ত করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে প্রকম্পিত করে রাখবেন এবং আল্লাহ তা'আলা, ফেরেশতা ও লোকেরা তাকে অভিশাপ দিবে। (মুসলিম)
ইয়াযিদ পাপাচারে নিমগ্ন হয়ে পড়ায় মদীনাবাসী তার বাইআত প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওয়াকেদী আব্দুল্লাহ বিন হানযালা আল গাসীল থেকে রেওয়ায়েত করেন, আল্লাহর কসম! যতক্ষণ পর্যন্ত আমি ইয়াযিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করব ততক্ষণ পর্যন্ত আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ হতেই থাকবে (রা.) এ আমার বিশ্বাস। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সে সময় লোকেরা (শিয়ারা-অনুবাদক) মা, মেয়ে এবং বোনদের বিবাহ করত এবং তারা প্রকাশ্যে শরাব পান করত, আর নামায ছেড়ে দিয়েছিল।
যাহাবী (রহ.) বলেন, মদীনাবাসীর সাথে এহেন আচরণ, মদ পান ইত্যাদি মন্দ কাজের সাথে জড়িত থাকার কারণে ইয়াযিদের প্রতি জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। এদিকে আল্লাহ তা'আলা তার জীবনকে দীর্ঘ করে দিলেন। তিনি ইবনে যুবায়ের (রা.) এবং মক্কাবাসীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য সেনাবাহিনী পাঠালেন। পথিমধ্যে সেনাপতি মারা গেলে তদস্থলে আরেকজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ইয়াযিদ বাহিনীর সাথে ইবনে যুবায়েরের যুদ্ধ হয়। তারা ইবনে যুবায়েরকে অবরোধ করে এবং অবরোধ চলাকালীন সময়ে ইয়াযিদ বাহিনী মিনযানিক থেকে আগুন ও পাথর নিক্ষেপ করে। ফলে আগুনের গোলায় কাবা শরীফের দেয়াল, ছাদ এবং হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর নিকট ফিদয়া হিসেবে প্রেরিত সেই দুম্বার ঐতিহাসিক শিং যা আজ পর্যন্ত কাবার ছাদে লটকানো আছে সব ভস্মীভূত হয়ে যায়। ৬৪ হিজরীর সফর মাসে এ ঘটনা সংঘটিত হয়। লড়াইরত অবস্থায় তার মৃত্যু সংবাদ মক্কায় পৌছুলে আব্দুল্লাহ বিন যুবায়ের (রা.) ঘোষণা দিয়ে বললেন, হে সিরিয়াবাসী, তোমাদের পথভ্রষ্টকারী সেই লোকটির মৃত্যু হয়েছে। এ কথা শুনে সৈন্যগণ প্রস্থান করে এবং লোকেরা তাদের পশ্চাদ্বাবন করে। অতঃপর ইবনে যুবায়ের (রা.) লোকদের নিকট বাইআত গ্রহণ করেন এবং খলীফা বলে নিজেকে ঘোষণা দেন। ওদিকে সিরিয়াবাসী মুআবিয়া বিন ইয়াযিদের আসক্তি ছিল। তার অনেক কবিতার চারণ মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ইবনে আসাকির ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তোমরা আবু বকর এবং উমরের নাম ঠিক রেখেছ। উসমান বিন আফফান (রা.) শহীদ হয়েছে। মুআবিয়া তার ছেলে ইয়াযিদ, সাফাহ, সালাম, মানসুর, জাবের এবং মাহদী হলেন বাদশাহ। অভিশপ্ত শাসনকর্তা সকলেই কা'ব বিন লুয়াই-এর বংশধর। যাহাবী বলেন, ইবনে উমরের এ বর্ণনাটি কয়েক পদ্ধতিতে বর্ণিত। কিন্তু কেউ একে মারফু বলেননি।
ওয়াকেদী আবু জাফর আল বাকের থেকে বর্ণনা করেন, ইয়াযিদ সর্বপ্রথম কাবা শরীফকে রেশমী গেলাফে আচ্ছাদন করেন। কারবালা এবং মদীনার হত্যাযজ্ঞ ছাড়া ইয়াযিদের আমলে যেসব ওলামা ইন্তেকাল করেছেন, তাঁরা হলেন, উন্মুল মুমেনীন উম্মে সালাম, খালিদ বিন আরফাতা, জরহদ আল আসলামী, জাবের বিন আতীক, বুরায়দা বিন হাসীব, মাসলামা বিন মুখাল্লাদ, আলকামা বিন কায়েস, মাসরুক, মাসুর বিন মুখরিমা প্রমুখ। আর মদীনার হত্যাযজ্ঞে তিন শত কুরাইশ মুহাজির এবং আনসার শাহাদাত বরণ করেন।