📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 ই'তিকাফের বৈধতা

📄 ই'তিকাফের বৈধতা


রামাযান ও রামাযানের বাইরে বছরের অন্যান্য দিনগুলো ই'তিকাফ করা সুন্নাত। এ ব্যাপারে মূল দলীল হল মহান আল্লাহ্র বাণী- وَأَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجد 'তোমরা মসজিদ সমূহে ই'তিকাফরত অবস্থায়...' (বাকারাহ ১৮৭)। সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ই'তিকাফের ব্যাপারে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ এবং এ সম্পর্কে সালাফে ছালেহীনের অনেক আছার এসেছে। ইবনু আবী শায়বা ও আব্দুর রায্যাকের 'আল-মুছান্নাফ' গ্রন্থে সেগুলো উল্লিখিত হয়েছে।
প্রমাণিত হয়েছে যে, শাওয়ালের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ই'তিকাফ করেছেন। আর এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে, উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলেছিলেন, كُنْتُ نَذَرْتُ فِي الْجَاهِلِيَّة أَنْ أَعْتَكفَ لَيْلَةً فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ، قَالَ : فَأَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَاعْتَكَفَ لَيْلَةً . 'আমি জাহেলী যুগে মসজিদুল হারামে এক রাত ই'তিকাফ করার মানত করেছিলাম। রাসূল (ছাঃ) বললেন, তাহলে তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো'। [অতঃপর তিনি এক রাত ই'তিকাফ করেন]।
রামাযান মাসে ই'তিকাফ করার ব্যাপারে সর্বাধিক তাগিদ রয়েছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, كَانَ رَسُوْلُ الله صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ فِي كُلِّ رَمَضَانَ عَشَرَةَ أَيَّامٍ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيْهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক রামাযানে দশ দিন ই'তিকাফ করতেন। তবে যে বছর তিনি মৃত্যুবরণ করেন, সে বছর বিশ দিন ই'তিকাফ করেছিলেন'।

টিকাঃ
৪৭. ই'তিকাফ শব্দের আভিধানিক অর্থ : .لزوم الشيء وحبس النفس عليه، خيرا كان أم شرا 'কোন জিনিসকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ও তার প্রতি মনকে আবদ্ধ রাখা। চাই সেটা ভাল হোক বা মন্দ'। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, إِذْ قَالَ لِأَبِيْهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُوْنَ 'যখন সে (ইবরাহীম) তার পিতা ও সম্প্রদায়কে বলল, এ মূর্তিগুলো কী, যেগুলোর পূজায় তোমরা রত রয়েছ' (আম্বিয়া ৫২)।
পারিভাষিক অর্থে ই'তিকাফ বলতে বুঝায়- لزوم المسجد والإقامة فيه بنية التقرب إلى الله تعالى 'আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য হাছিলের নিয়তে মসজিদকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং সেখানে অবস্থান করা' (ফিকহুস সুন্নাহ ১/৪১৬-১৭)।
ই'তিকাফে বসা ও বের হওয়ার সময় : ২০ রামাযান দিবাগত সন্ধ্যার পূর্বে ই'তিকাফের জন্য মসজিদে প্রবেশ করতে হবে (ফিক্বহুস সুন্নাহ)। নবী করীম (ছাঃ) রামাযানের শেষের দশকে ই'তিকাফ করতেন। আর শেষের দশক শুরু হয় ২০ রামাযান দিনের শেষ থেকে (ঐ)। শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেলে মাগরিবের পর ই'তিকাফ শেষ হবে (ঐ)।
ই'তিকাফরত অবস্থায় করণীয়: এ সম্পর্কে শায়খ উছায়মীন বলেন, 'ই'তিকাফকারীর উচিত আল্লাহ্ আনুগত্য তথা ছালাত, কুরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহ্ যিকিরে ব্যস্ত থাকা। কারণ এটাই ই'তিকাফের উদ্দেশ্য। সে তার সাথীদের সাথে সামান্য কথা বললে তাতে কোন সমস্যা নেই। বিশেষতঃ যদি তাতে ফায়েদা থাকে' (ফাতাওয়া উছায়মীন, 'ছিয়াম' অধ্যায়, প্রশ্নোত্তর নং ৪৫৫)।-অনুবাদক
৪৮. পূর্ববর্তী সংস্করণে এখানে ই'তিকাফের ফযীলত সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীছটি সন্নিবেশিত ছিল- مَنِ اعْتَكَفَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللهِ؛ جَعَلَ اللَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّارِ ثَلَاثَةَ خَنَادِقَ، كُلُّ خَنْدَقِ أَبْعَدُ مِمَّا بَيْنَ الْخَافِقَيْنِ 'যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সন্তুষ্টির নিমিত্তে একদিন ই'তিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের মাঝে তিনটি পরিখা তৈরি করবেন। প্রত্যেক পরিখার দূরত্ব পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্বের ন্যায়'।
(বর্তমান সংস্করণে) আমি তা বাদ দিয়েছি। কারণ তাখরীজ করার পরে আমার কাছে উহার দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। এ হাদীছের ব্যাপারে 'সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যঈফা'য় (হা/৫৩৪৫) আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার ও আমার পূর্বে হায়ছামীর নিকটে উহার যে ত্রুটি অজ্ঞাত ছিল, তাতে আমি তা খোলাসা করে দিয়েছি।
]ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, تَعْرِفُ فِي فَضْلِ الْاعْتِكَافِ شَيْئًا ؟ আপনি ই'তিকাফের ফযীলত সম্পর্কে কিছু জানেন'? তিনি বললেন, لا، إِلَّا شَيْئًا ضَعِيفًا. 'না। তবে কিছু যঈফ (হাদীছ) রয়েছে' (ফিকহুস সুন্নাহ ১/৪১৬)। যেমন- ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ই'তিকাফকারী সম্পর্কে বলেছেন, 'সে নিজেকে পাপ সমূহ থেকে বিরত রাখে এবং তার জন্য নেকীসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয় ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে যাবতীয় সৎ কাজ সম্পাদন করে' (ইবনু মাজাহ, হা/১৭১৮; মিশকাত, হা/২১০৮)। হাদীছটি যঈফ]-অনুবাদক
৪৯. বুখারী, হা/২০৪১, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়-৩৩, 'শাওয়াল মাসে ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-১৪; মুসলিম, হা/১১৭৩, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়-১৪, 'ই'তিকাফ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কখন ই'তিকাফের স্থানে প্রবেশ করবে' অনুচ্ছেদ-২; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২২৪, অনুচ্ছেদ- ২৫৬।
৫০. বুখারী, হা/২০৩২, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়-৩৩, 'রাত্রিতে ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-৫, হা/২০৪২। বন্ধনীর মধ্যে উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটুকু বুখারীর। মুসলিম, হা/১৬৫৬, 'শপথ' অধ্যায়-২৭, অনুচ্ছেদ-৭; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২২৮-২৯, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ- ২৫৮, হা/২২৩৯, অনুচ্ছেদ-২৬৮।
৫১. বুখারী, হা/২০৪৪, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, 'রামাযানের মধ্য দশকে ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ- ১৭; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২২১, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৫৩।

📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 ই'তিকাফের শর্তসমূহ

📄 ই'তিকাফের শর্তসমূহ


রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করা সর্বোত্তম। কেননা আমৃত্যু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন।
মসজিদসমূহে ছাড়া ই'তিকাফ শরী'আতসম্মত নয়। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُوْنَ فِي الْمَسَاجِدِ (তোমরা ই'তিকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) প্রতি সংগত হয়ো না (বাক্বারাহ ১৮৭)। আয়েশা (রাঃ) বলেন,
اَلسُّنَّةُ فِي الْمُعْتَكِفِ أَنْ لَا يَخْرُجَ إِلَّا لِحَاجَتِهِ الَّتِي لَا بُدَّ لَهُ مِنْهَا، وَلَا يَعُوْدَ مَرِيضًا، وَلَا يَمَسَّ امْرَأَتَهُ، وَلَا يُبَاشِرَهَا، وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا فِي مَسْجِدِ جَمَاعَةٍ، وَالسُّنَّةُ فِيْمَنِ اعْتَكَفَ أَنْ يَصُوْمَ.
'ই'তিকাফকারীর ক্ষেত্রে সুন্নাত হল (১) সে যেন আবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া (মসজিদ থেকে) বাইরে বের না হয় (২) রোগীর শুশ্রূষা না করে (৩) তার স্ত্রীকে স্পর্শ না করে (৪) তার সাথে মিলন না করে। আর জামা'আত অনুষ্ঠিত হয় এমন মসজিদ ছাড়া ই'তিকাফ হয় না। আর যে ব্যক্তি ই'তিকাফ করবে তার ছিয়াম রাখা সুন্নাত'।
ই'তিকাফের জন্য জামে মসজিদ হওয়া বাঞ্ছনীয়। যাতে ই'তিকাফকারী জুম'আর ছালাতের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে বাধ্য না হয়। কারণ জুম'আর ছালাতের জন্য বের হওয়া তার উপর ওয়াজিব। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীছের একটি বর্ণনায় এসেছে- وَلَا اعْتِكَافَ إِلَّا فِي مَسْجِدِ جَام 'জামে মসজিদ ব্যতীত ই'তিকাফ হয় না'।
অতঃপর আমি একটি সুস্পষ্ট ছহীহ হাদীছ সম্পর্কে অবগত হয়েছি, যেটি আয়াতে (বাকারাহ ১৮৭) উল্লিখিত মসজিদগুলোকে তিনটি মসজিদ- মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববী ও মসজিদুল আকছা দ্বারা খাছ বা নির্দিষ্ট করে। হাদীছটি হল- لَاَ اعْتِكَافَ إِلَّا فِي الْمَسَاجِدِ الثَّلاثَةِ - 'তিনটি মসজিদ ব্যতীত ই'তিকাফ হয় না'।
আমার জানা মতে পূর্ববর্তী বিদ্বানদের মধ্যে হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব ও আতা প্রমুখ এ মতের প্রবক্তা। তবে আতা মসজিদুল আকছার কথা উল্লেখ করেননি। অন্যরা সাধারণভাবে জামে মসজিদের কথা বলেছেন। কেউ কেউ এ মতের বিরোধিতা করে বলেছেন, ওয়াক্তিয়া মসজিদে হলেও চলবে। তবে এটা সুস্পষ্ট যে, এ সকল মতের মধ্যে যেটি হাদীছের অনুকূলে সেটি গ্রহণ করা ও সেদিকে প্রত্যাবর্তন করাই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক অবগত।

টিকাঃ
৫২. বুখারী, হা/২০২৬, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, 'রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ এবং সব মসজিদেই ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, হা/১১৭২, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়-১৪, 'রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-১; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২২৩, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৫৫; ইরওয়াউল গালীল, হা/৯৬৬ ।
৫৩. .وَلَا تُبَاشِرُوْهُنَّ : أَيْ لَا تُجَامِعُوْهُنَّ অর্থাৎ 'তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো না'। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, الْمُبَاشَرَةُ وَالْمُلَامَسَةُ وَالْمَسُّ حِمَاعٌ كُلُّهُ، وَلَكِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَكْنِي مَا شَاءَ بِمَا شَاءَ 'আল-মুবাশারাহ, আল-মুলামাসাহ ও আল-মাসু সবই সহবাস অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা যখন যে শব্দ দ্বারা যা ইচ্ছা ইঙ্গিত করেন' (বায়হাকী ৪/৩২১, হা/৮৫৯৭, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪৪, এটি এমন সনদে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
৫৪. আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে ইমাম বুখারীও এই আয়াত দ্বারা দলীল সাব্যস্ত করেছেন। হাফেয ইবনু হাজার আসক্বালানী বলেন,
وَوَجْهُ الدَّلَالَةِ مِنَ الْآيَةِ أَنَّهُ لَوْ صَحَّ فِي غَيْرِ الْمَسْجِدِ لَمْ يُخْتَصَّ تَحْرِيمُ الْمُبَاشَرَةِ بِهِ، لِأَنَّ الْحِمَاعَ مُنَافِ لِلْاعْتِكَافِ بِالْإِجْمَاعِ، فَعَلِمَ مِنْ ذِكْرِ الْمَسَاجِدِ أَنَّ الْمُرَادَ أَنَّ الْاعْتِكَافَ لَا يَكُوْنُ إِلَّا فِيهَا -
'আয়াত থেকে দলীল গ্রহণের যুক্তি হল-যদি মসজিদ ছাড়া অন্যত্র ই'তিকাফ শুদ্ধ হত, তাহলে স্ত্রী সহবাস হারাম হওয়াকে মসজিদের সাথে নির্দিষ্ট করা হত না। কেননা সকলের ঐক্যমতে সহবাস ই'তিকাফের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তাই (আয়াতে) মসজিদসমূহের উল্লেখের দ্বারা বুঝা গেল যে, উদ্দেশ্য হল মসজিদ ছাড়া ই'তিকাফ হবে না' (ফাতহুল বারী, ৪/৩৪৫)।
৫৫. বায়হাকী ছহীহ সনদে, হা/৮৫৯৩, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪৪; আবূ দাউদ হাসান সনদে, হা/২৪৭৩, 'ছিয়াম' অধ্যায়-৮, অনুচ্ছেদ-৮০। [আবু দাউদে وَلَا يَشْهَدَ جَنَازَةً 'জানাযায় অংশগ্রহণ করবে না' অংশটুকুও রয়েছে]-অনুবাদক
৫৬. আবূ দাউদ, হা/২৪৭৩, আয়েশা (রাঃ) হতে হাসান সনদে। ইমাম বায়হাকী ইবনু আব্বাস )রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন, إِنَّ أَبْغَضَ الْأُمُوْرِ إِلَى اللَّهِ الْبَدَعُ، وَإِنَّ مِنَ الْبَدَعِ الاعْتِكَافَ فِي الْمَسَاجِدِ الَّتِي فِي الدُّوَرِ. 'আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় বস্তু হচ্ছে বিদ'আত। আর ওয়াক্তিয়া মসজিদ সমূহে ই'তিকাফ করাও বিদ'আতের শামিল' (বায়হাকী, হা/৮৫৭৩ 'ছিয়াম' অধ্যায়, 'মসজিদে ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-১৩৯)।
৫৭. তাহাবী, হা/২৩২৭; ইসমাঈলী, হা/৩৪৫; বায়হাকী, হা/৮৫৭৪, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ- ۱۳۹, হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান হতে ছহীহ সনদে। সিলসিলা ছহীহা, হা/২৭৮৬। আমরা উপরে যা উল্লেখ করেছি তার অনুকূলের আছারগুলো এতে তাখরীজ করা হয়েছে। যার সবগুলোই ছহীহ।

📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 ই'তিকাফকারীর জন্য যা বৈধ

📄 ই'তিকাফকারীর জন্য যা বৈধ


ই'তিকাফকারীর জন্য ছিয়াম রাখা সুন্নাত। যেমনটি পূর্বোল্লিখিত আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এসেছে।
পেশাব-পায়খানা করার জন্য ই'তিকাফকারীর মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয। অনুরূপভাবে মাথা ধৌত করানো ও চুল সিঁথি করানোর উদ্দেশ্যেও সে মসজিদ থেকে তার মাথা বের করতে পারবে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, وَإِنْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَيُدْخِلُ عَلَيَّ رَأْسَهُ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ فِي الْمَسْجِدِ، وَأَنَا فِي حُجْرَتِي فَأَرَجَلُهُ، وفي رواية: فَأَغْسِلُهُ وَإِنَّ بَيْنِي وَبَيْنَهُ لَعَتَبَةُ الْبَابِ وَأَنَا حَائِضُ، وَكَانَ لَا يَدْخُلُ الْبَيْتَ إِلَّا لِحَاجَةِ [الْإِنْسَانِ، إِذَا كَانَ مُعْتَكُفًا 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মসজিদে [ই'তিকাফরত অবস্থায়] আমার দিকে তাঁর মাথা বাড়িতে দিতেন, [আর আমি আমার কক্ষে থাকা অবস্থায়] তাঁর মাথা আঁচড়িয়ে দিতাম। [একটি বর্ণনায় রয়েছে, আমি ঋতুবতী অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম। আর তখন আমার ও তাঁর মাঝে দরজার চৌকাঠ পরিমাণ দূরত্ব বজায় থাকত]। আর তিনি যখন ই'তিকাফরত থাকতেন, তখন [মানবীয়] প্রয়োজন ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ করতেন না'।
ই'তিকাফকারী ও অন্যদের জন্য মসজিদে ওযু করা জায়েয। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর জনৈক খাদেম বলেন, تَوَضَّأَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم في الْمَسْجِدِ وَضُوْءًا خَفِيْفًا নবী (ছাঃ) মসজিদে হালকাভাবে ওযু করেছিলেন'।
মসজিদের পিছন দিকে ই'তিকাফকারী ছোট্ট তাঁবু টানিয়ে সেখানে ই'তিকাফ করতে পারবে। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন ই'তিকাফ করতেন, তখন আয়েশা (রাঃ) তাঁর জন্য একটি তাঁবু )خبء( তৈরি করে দিতেন। আর এটি তিনি রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশেই করতেন।

টিকাঃ
৫৮. বায়হাকী ছহীহ সনদে, হা/৮৫৯৩; আবূ দাউদ হাসান সনদে, হা/২৪৭৩।
ইমাম ইবনুল কাইয়িম 'যাদুল মা'আদ' গ্রন্থে বলেছেন, وَلَمْ يُنْقَلْ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ اعْتَكَفَ مُفْطِرًا، بَلْ قَدْ قَالَتْ عَائِشَةُ : لَا اعْتِكَافَ إِلَّا بِصَوْمٍ وَلَمْ يَذْكُرْ سُبْحَانَهُ الاعْتِكَافَ إِلَّا مَعَ الصَّوْمِ ، وَلَا فَعَلَهُ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا مَعَ الصَّوْمِ، فَالْقَوْلُ الرَّاجِحُ فِي الدَّلِيلِ الَّذِي عَلَيْهِ جُمْهُورُ السَّلَفِ أَنَّ الصَّوْمَ شَرْطٌ فِي الْاعْتِكَافِ وَهُوَ الَّذِي كَانَ يُرَجِّحُهُ شَيْخُ الْإِسْلَامِ أَبُو الْعَبَّاسِ ابْنُ تَيْمِيَةَ 'ছিয়াম ব্যতীত নবী (ছাঃ) ই'তিকাফ করেছেন মর্মে কোন বর্ণনা আসেনি। বরং আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, 'ছওম ব্যতীত ই'তিকাফ হয় না'। আল্লাহ তা'আলা ছওমের সাথে ব্যতীত ই'তিকাফের কথা উল্লেখ করেননি। আর রাসূল (ছাঃ)ও ছওম ব্যতীত ই'তিকাফ করেননি। সুতরাং দলীলের দিক দিয়ে প্রাধান্যযোগ্য মত হল, ই'তিকাফের জন্য ছওম শর্ত। অধিকাংশ পূর্ববর্তী বিদ্বান এ মতের উপরই রয়েছেন। শায়খুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনু তায়মিয়াও এ মতকেই প্রাধান্য দিতেন'।
(আলবানী বলেন) আমার বক্তব্য হল, এর আলোকে এটাও সাব্যস্ত হয় যে, যে ব্যক্তি মসজিদে ছালাত আদায় অথবা এতদ্ব্যতীত অন্য কোন কারণে গিয়ে সেখানে তার অবস্থানকালীন সময়টুকু ই'তিকাফ করার সংকল্প করবে, এটা তার জন্য শরী'আতসম্মত হবে না। শায়খুল ইসলাম 'আল-ইখতিয়ারাত' গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে এ মতই প্রকাশ করেছেন।
৫৯. ই'তিকাফকারীর খাদ্য সরবরাহের লোক না থাকলে খাওয়ার জন্য সে বাড়িতে আসতে পারবে। তবে খাদ্য সরবরাহের লোক থাকলে মসজিদ থেকে বের হবে না। কেননা ই'তিকাফরত ব্যক্তি আবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে পারবে না। যদি ই'তিকাফরত ব্যক্তি অপবিত্র হয়ে যায় তাহলে পবিত্রতা অর্জনের জন্য গোসলের উদ্দেশ্যে মসজিদ থেকে বাইরে বের হওয়া তার জন্য আবশ্যক (যদি মসজিদে গোসলের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে)। কেননা এমতাবস্থায় তাকে গোসল করতেই হবে। কিন্তু যদি শরীর শীতল করার জন্য গোসল উদ্দেশ্য হয়, তাহলে মসজিদ থেকে বের হবে না। আর যদি শরীরের অসহনীয় দুর্গন্ধ দূর করার জন্য গোসল করার প্রয়োজন পড়ে, তাহলে মসজিদ থেকে বাইরে বের হওয়া জায়েয (ফাতাওয়া উছায়মীন, 'ছিয়াম' অধ্যায়, প্রশ্নোত্তর ৪৭৬ ও ৪৮২)। ই'তিকাফরত ব্যক্তি প্রয়োজনবোধে মোবাইলে প্রয়োজনীয় কথাও বলতে পারবে (ঐ, প্রশ্নোত্তর নং ৪৭৯)।
৬০. বুখারী, হা/২০২৯, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, '(প্রাকৃতিক) প্রয়োজন ছাড়া ই'তিকাফকারী তার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবে না' অনুচ্ছেদ-৩, হা/২০২৮, ২০৩০, ২০৩১; মুসলিম, হা/২৯৭, 'হায়েয' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩; মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, হা/৯৭৯০, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৮৫; আহমাদ, হা/২৬০২৬।
৬১. বায়হাকী উত্তম সনদে, হা/৮৫৯৯, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৪৬।
৬২. الخباء أحد بيوت العرب من وبر أو صوف ولا يكون من شعر ويكون على عمودين أو ثلاثة 'পশম বা পালকের তৈরি আরবের এক ধরনের গৃহকে 'খিবা' বা তাঁবু বলা হয়। এটি চুলের তৈরি হয় না। এটি দুই বা তিন খুঁটি বিশিষ্ট হয়' (আন-নিহায়া ফী গারীবিল হাদীছ ওয়াল আছার)।
৬৩. বুখারী, হা/২০৩৩, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, 'মহিলাদের ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-৬, মুসলিম, হা/১১৭৩, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়-১৪, 'ই'তিকাফ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কখন ই'তিকাফের স্থানে প্রবেশ করবে' অনুচ্ছেদ-২। আয়েশা (রাঃ)-এর কর্মটি বুখারীতে এবং রাসূলের নির্দেশ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 মহিলার ই'তিকাফ করা ও মসজিদে স্বামীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার বৈধতা

📄 মহিলার ই'তিকাফ করা ও মসজিদে স্বামীর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার বৈধতা


তিনি (ছাঃ) একবার একটি তুর্কী তাঁবুতে (في قبة تركية) ই'তিকাফ করেছিলেন। যার দরজায় একটি চাটাই ঝুলানো ছিল (عَلَى سُدَّتِهَا حَصِيرٌ)
স্বামী মসজিদে ই'তিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা এবং মসজিদের দরজা পর্যন্ত এগিয়ে এসে স্ত্রীকে বিদায় জানানো জায়েয। ছাফিয়্যা (রাঃ) বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعْتَكِفًا فِي الْمَسْجِدِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَأَتَيْتُهُ أَزُورُهُ لَيْلًا، وَعِنْدَهُ أَزْوَاجَهُ، فَرُحْنَا، فَحَدَّثْتُهُ سَاعَةً، ثُمَّ قُمْتُ لِأَنْقَلِبَ، فَقَالَ: لَا تَعْجَلِي حَتَّى أَنْصَرِفَ مَعَكَ، فَقَامَ مَعِيَ لِيَقْلِبَنِي، وَكَانَ مَسْكَنُهَا فِي دَارِ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ حَتَّى إِذَا كَانَ عِنْدَ بَابِ الْمَسْجِدِ الَّذِي عِنْدَ بَاب أُمِّ سَلَمَةَ ، فَمَرَّ رَجُلَانِ مِنْ الْأَنْصَارِ، فَلَمَّا رَأَيَا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْرَعَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَى رِسْلِكُمَا؛ إِنَّهَا صَفِيَّةً بنْتُ حُيَيٍّ. فَقَالَا : سُبْحَانَ اللَّهِ! يَا رَسُولَ اللَّهِ! قَالَ : إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الْإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّم، وَإِنِّي خَشَيْتُ أَنْ يَقْذِفَ فِي قُلُوْبِكُمَا شَرًّا أَوْ قَالَ: شَيْئًا.
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) [রামাযানের শেষ দশকে মসজিদে] ই'তিকাফরত ছিলেন। আমি রাত্রি বেলায় তাঁর সাথে দেখা করতে এলাম। [তখন তাঁর নিকট তাঁর স্ত্রীগণ ছিলেন। (আমাকে দেখে) তারা চলে গেলেন।] অতঃপর আমি তাঁর সাথে [কিছুক্ষণ] কথাবার্তা বললাম। অতঃপর আমি ফিরে যাবার জন্য উঠে দাঁড়ালাম। [তখন তিনি বললেন, তাড়াহুড়া করো না। যাতে আমি তোমার সাথে ফিরতে পারি।] অতঃপর আমাকে পৌঁছিয়ে দেয়ার জন্য তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর (ছাফিয়্যা) বাসস্থান ছিল উসামা বিন যায়েদের বাড়িতে। [যখন তিনি উম্মে সালামাহ (রাঃ)-এর গৃহসংলগ্ন মসজিদের দরজা পর্যন্ত পৌঁছলেন], তখন দু'জন আনছারী সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে দেখে দ্রুততা অবলম্বন করল। তখন নবী (ছাঃ) বললেন, তোমরা দু'জন থাম। ইনি হলেন ছাফিয়্যা বিনতু হুওয়াই। তখন তারা বলল, সুবহানাল্লাহ! হে আল্লাহ্র রাসূল! তিনি বললেন, 'শয়তান মানুষের রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাফেরা করে। আমি ভয় করলাম যে, সে তোমাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে'। অথবা আরো কিছু বললেন।
এমনকি স্বামীর সাথে স্ত্রীর বা স্ত্রীর একাকী ই'তিকাফ করা জায়েয। আয়েশা (রাঃ) বলেন, اعْتَكَفَتْ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم امرأة (وفي رواية انها أم سلمة مِنْ أَزْوَاجه مُسْتَحَاضَةٌ، فَكَانَتْ تَرَى الْحُمْرَةَ وَالصُّفْرَةَ، فَرُبَّمَا وَضَعْنَا الطَّسْتَ تَحْتَهَا وَهِيَ تُصَلِّي 'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে তাঁর এক মুস্তাহাযা স্ত্রী (অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তিনি হলেন উম্মে সালামাহ) ই'তিকাফ করেন। তিনি লাল ও হলুদ রংয়ের স্রাব নির্গত হতে দেখতে পেতেন। অনেক সময় আমরা তাঁর নিচে একটি গামলা রেখে দিতাম আর এমতাবস্থায় তিনি ছালাত আদায় করতেন'।
তিনি আরো বলেন, كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللهُ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ.
'রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমৃত্যু রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীগণ ই'তিকাফ করেছেন'।
স্ত্রী সহবাস করলে ই'তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে। মহান আল্লাহ বলেন, 'তোমরা মসজিদসমূহে ই'তিকাফরত অবস্থায় তাদের প্রতি সংগত হয়ো না' (বাকারাহ ১৮৭)।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন,إِذَا جَامَعَ الْمُعْتَكِكفُ، بَطَلَ اعْتِكَافُهُ وَاسْتَأْنَفَ 'ই'তিকাফকারী স্ত্রী-সহবাস করলে তার ই'তিকাফ বাতিল হয়ে যাবে এবং তাকে নতুনভাবে ই'তিকাফ শুরু করতে হবে'।
নবী (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণ থেকে কিছু বর্ণিত না হওয়ার কারণে তার উপর কাফফারা বর্তাবে না।

টিকাঃ
৬৪. অর্থাৎ ছোট্ট তাঁবুতে )أى قبة صغيرة( | দরজাকে বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য দরজার উপর ঝুলানো চাটাইকে (পর্দা( السدة বলা হয়। উদ্দেশ্য হল তিনি তাঁবুর দরজার উপর একখণ্ড মাদুর বা চাটাই স্থাপন করেন। যাতে তার ভিতরে কারো দৃষ্টি না পড়ে। যেমনটি সিন্ধী বলেছেন। তবে এটা বলা আরো ভাল হবে যে, ই'তিকাফকারীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীর মাধ্যমে যেন তার মনোযোগে বিঘ্ন না ঘটে। যাতে ই'তিকাফের উদ্দেশ্য ও তার চেতনাকে অর্জন করা যায়। যেমন ইমাম ইবনুল কাইয়িম বলেছেন, عَكْسَ مَا يَفْعَلُهُ الْجُهَّالُ مِنِ اتخاذ الْمُعْتَكَفِ مَوْضِعَ عِشْرَةٍ وَمَجْلَبَةٍ لِلزَّائِرِينَ وَأَخْذِهِمْ بِأَطْرَافِ الْأَحَادِيثِ بَيْنَهُمْ، فَهَذَا لَوْنٌ، وَالْاعْتِكَافُ النَّبَوِيُّ لَوْنٌ، وَاللَّهُ الْمُوَفِّقُ 'মূর্খরা ই'তিকাফের স্থানকে পারস্পরিক মেলামেশার স্থান, দর্শনার্থীদের জড়ো হওয়ার স্থান এবং তাদের মধ্যে গল্প-গুজবের স্থান বানিয়ে নেয়ার বিপরীত। এটা এক ধরনের ই'তিকাফ। আর নবী (ছাঃ)-এর ই'তিকাফের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহই তাওফীক দাতা'।
৬৫. মুসলিম, হা/১১৬৭, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪০; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২১৭১, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২১১, হা/২২১৯, অনুচ্ছেদ-২৫১।
৬৬. বুখারী, হা/২০৩৫, অনুচ্ছেদ-৮, হা/২০৩৮, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, 'ই'তিকাফরত স্বামীর সঙ্গে স্ত্রীর দেখা করা' অনুচ্ছেদ-১১; মুসলিম, হা/২১৭৫ 'সালাম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৯; আবূ দাউদ, হা/২৪৭০, 'ছিয়াম' অধ্যায়-৮, 'ই'তিকাফকারী তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাড়িতে প্রবেশ করবে' অনুচ্ছেদ-৭৯; ইবনু মাজাহ, হা/১৭৭৯, ছিয়াম' অধ্যায়-৭, অনুচ্ছেদ-৬৫।
৬৭. মহিলাদের ই'তিকাফের স্থান : যদি ফিতনার আশংকা না থাকে তাহলে স্বামীর অনুমতিক্রমে মহিলারা মসজিদে ই'তিকাফ করবে (বুখারী হা/২০৩৩)। আর যদি ফিতনার আশংকা থাকে তাহলে তারা ই'তিকাফ করবে না (ফাতাওয়া উছায়মীন, 'ছিয়াম' অধ্যায়, প্রশ্নোত্তর নং ৪৬২; আশ-শারহুল মুমতি' ৬/৫১০)।-অনুবাদক
৬৮. বুখারী, হা/২০৩৭, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়, 'মুস্তাহাযা মহিলার ই'তিকাফ করা' অনুচ্ছেদ-১০; অন্য বর্ণনাটি সাঈদ ইবনে মানছুরের। যেমনটি ফাতহুল বারীতে (৪/২৮১) এসেছে। কিন্তু দারেমী (১/২২) তাঁর নাম যয়নাব বলেছেন। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
৬৯. বুখারী, হা/২০২৬, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়; মুসলিম, হা/১১৭২, 'ই'তিকাফ' অধ্যায়।
৭০. মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা ৩/৯২, হা/৯৭৭৩, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৯২; মুছান্নাফ আব্দুর রায্যাক ৪/৩৬৩, হা/৮০৮১; ইরওয়াউল গালীল, হা/৯৭৬, সনদ ছহীহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00