📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 দু'আ কুনূত ও তা পাঠের স্থান

📄 দু'আ কুনূত ও তা পাঠের স্থান


তিন রাক'আত বিতরের প্রথম রাক'আতে সূরা আ'লা, দ্বিতীয় রাক'আতে সূরা কাফিরূন এবং তৃতীয় রাক'আতে সূরা ইখলাছ পড়া সুন্নাত। কখনো কখনো এর সাথে সূরা ফালাক ও নাস যোগ করবে।
কিরাআত শেষ করে রুকূর পূর্বে কখনো কখনো ঐ দু'আর মাধ্যমে কুনূত পড়বে, যেটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর নাতী হাসান বিন আলী (রাঃ)-কে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। দু'আটি হল-
اَللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ، فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلَا يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإِنَّهُ لَا يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ، وَلَا يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ -
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মাদিনী ফীমান হাদায়তা, ওয়া 'আ-ফিনী ফীমান 'আ- ফায়তা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লায়তা, ওয়া বা-রিকলী ফীমা 'আ'ত্বায়তা, ওয়া ক্বিনী শারা মা ক্বাযায়তা; ফাইন্নাকা তাক্বযী ওয়া লা ইয়ুক্তযা 'আলায়কা, ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিলু মাঁও ওয়া-লায়তা, ওয়া লা ইয়া‘ইষ্ণু মান ‘আ-দায়তা, তাবা-রকতা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লায়তা।
অনুবাদ : 'হে আল্লাহ! তুমি যাদেরকে সুপথ দেখিয়েছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে সুপথ দেখাও। যাদেরকে তুমি ক্ষমা করেছ, আমাকে তাদের মধ্যে গণ্য করে ক্ষমা করে দাও। তুমি যাদের অভিভাবক হয়েছ, তাদের মধ্যে গণ্য করে আমার অভিভাবক হয়ে যাও। তুমি আমাকে যা দান করেছ, তাতে বরকত দাও। তুমি যে ফায়ছালা করে রেখেছ, তার অনিষ্ট হতে আমাকে বাঁচাও। কেননা তুমি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাক, তোমার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তুমি যার সাথে বন্ধুত্ব রাখ, সে কোনদিন অপমানিত হতে পারে না। আর তুমি যার সাথে শত্রুতা পোষণ কর, সে কোনদিন সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি বরকতময় ও সর্বোচ্চ'।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে ছহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার বিতরের এক রাক'আতে সূরা নিসার একশ আয়াত পড়েছিলেন।
কখনো কখনো রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ করবে। যেমনটি পরে আসছে।
রুকুর পরে কুনূত পড়া এবং রামাযানের দ্বিতীয়ার্ধে কুনূতের দু'আর সাথে কাফেরদের প্রতি লা'নত (অভিসম্পাত), রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠ এবং মুসলমানদের জন্য দু'আ বৃদ্ধি করাতে কোন সমস্যা নেই। উমার (রাঃ)-এর যুগে এরূপ করা ইমামগণ থেকে প্রমাণিত রয়েছে। পূর্বোল্লিখিত আব্দুর রহমান বিন আব্দুল কারী বর্ণিত হাদীছের শেষাংশে এসেছে- তারা রামাযানের দ্বিতীয়ার্ধে কাফেরদেরকে লা'নত করতো এ দু'আ বলে-
اَللَّهُمَّ قَاتل الْكَفَرَةَ الَّذِيْنَ يَصُدُّوْنَ عَنْ سَبِيْلِكَ، وَيُكَذِّبُوْنَ رُسُلَكَ، وَلَا يُؤْمِنُوْنَ بِوَعْدِكَ، وَخَالِفْ بَيْنَ كَلِمَتِهِمْ، وَأَلْقِ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبَ، وَأَلْقِ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ، إِلَهَ الْحَقِّ.
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা কাতিলিল কাফারাতাল্লাযীনা ইয়াছুদ্দুনা 'আন সাবীলিকা, ওয়া ইয়ুকায্যিবৃনা রুসুলাকা, ওয়ালা ইয়ুমিনূনা বিওয়া'দিকা ওয়া খা-লিফ বায়না কালিমাতিহিম, ওয়া আলকি ফী কুলুবিহিমুর রু'বা, ওয়া আলকি আলায়হিম রিজযাকা ওয়া আযাবাকা ইলাহাল হাক।
অনুবাদ : 'হে আল্লাহ! আপনি কাফেরদেরকে ধ্বংস করুন। যারা আপনার রাস্তা বন্ধ করে, আপনার প্রেরিত রাসূলগণকে অবিশ্বাস করে এবং আপনার অঙ্গীকারের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না। আপনি তাদের দলের মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি করে দিন, তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করুন এবং হে সত্যের উপাস্য! তাদের প্রতি আপনার শাস্তিকে অবধারিত করে দিন'। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করতেন এবং সাধ্যানুযায়ী মুসলমানদের জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করতেন। অতঃপর মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।
বর্ণনাকারী বলেন, কাফেরদের প্রতি লা'নত, নবী (ছাঃ)-এর প্রতি দরূদ পাঠ, মুমিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং নিজের জন্য চাওয়ার পর তিনি (উবাই বিন কা'ব) বলতেন,
اَللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ ، وَلكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ رَبَّنَا، وَنَخَافُ عَذَابَكَ الْجِدَّ ، إِنَّ عَذَابَكَ لِمَنْ عَادَيْتَ مُلْحَقِّ.
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইয়্যা-কা না'বুদু, ওয়ালাকা নুছল্লী ওয়া নাজ্জুদু, ওয়া ইলায়কা নাস্'আ ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রহমাতাকা রব্বানা, ওয়া নাখা-ফু 'আযা-বাকাল জিদ্দা, ইন্না 'আযা-বাকা লিমান 'আদায়তা মুলহাক্ব।
অনুবাদ : 'হে আল্লাহ! আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, আপনার জন্যই ছালাত আদায় করি ও সিজদা করি। আমরা আপনার নিকটে ফিরে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। হে আমাদের প্রভু! আমরা আপনার রহমত কামনা করি এবং আপনার কঠিন শাস্তিকে ভয় করি। আপনার সাথে যে শত্রুতা পোষণ করেছে, আপনার আযাব তার প্রতি অর্পিত হৌক'। অতঃপর তিনি তাকবীর দিয়ে সিজদায় চলে যেতেন।

টিকাঃ
৩৬. নাসাঈ, হা/১৭২৯-৩১, 'রাত ও দিনের নফল ছালাত' অধ্যায়-২০, অনুচ্ছেদ-৪৭; হাকেম, হা/১১৪৪ 'বিতর' অধ্যায়। হাকেম হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন।
৩৭. তিরমিযী, হা/৪৬৩, 'বিতর' অধ্যায়-৩, 'বিতরের কিরাআত' অনুচ্ছেদ-৯; হাকেম, হা/১১৪৪। হাকেম হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাঁকে সমর্থন করেছেন।
৩৮. নাসাঈ, হা/১৭২৮, 'রাত ও দিনের নফল ছালাত' অধ্যায়-২০, 'বিতরের কিরাআত' অনুচ্ছেদ-৪৬; আহমাদ, হা/১৯৭৭৫, সনদ ছহীহ।
৩৯. আবূ দাউদ, হা/১৪২৫, 'ছালাত' অধ্যায়-২, 'বিতরের কুনূত' অনুচ্ছেদ-৩৪০; তিরমিযী, হা/৪৬৪, 'বিতর' অধ্যায়-৩, অনুচ্ছেদ-১০; নাসাঈ, হা/১৭৪৫, 'রাত ও দিনের নফল ছালাত' অধ্যায়-২০, 'বিতরের দু'আ' অনুচ্ছেদ-৫১; ইবনু মাজাহ, হা/১১৭৮, অধ্যায়-৫, 'বিতরের কুনূত' অনুচ্ছেদ-১১৭; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১০৯৫; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪২৯, সনদ ছহীহ। দ্রঃ ছিফাতু ছালাতিন নাবী (৭ম সংস্করণ), পৃঃ ৯৫-৯৬।
৪০. ইসমাঈল বিন ইসহাক আল-কাযী, ফাযলুল ছালাত আলান নাবী, পৃঃ ৩৩, তা'লীক আলবানী; ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃঃ ৪৫।
৪১. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, ২/১৫৫-১৫৬, হা/১১০০।

📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 বিতরের শেষে পঠিতব্য দু'আ

📄 বিতরের শেষে পঠিতব্য দু'আ


বিতরের শেষে (সালামের পূর্বে বা পরে) এই দু'আটি পড়া সুন্নাত-
اَللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ برضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ منْكَ، لَا أُحْصِيْ ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ.
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ'ঊযুবিকা বিরিযাকা মিন সাখাত্বিকা, ওয়া বিমু'আফাতিকা মিন উকূবাতিকা, ওয়া আ'উযু বিকা মিনকা, লা উহছী ছানাআন আলায়কা, আনতা কামা আছনায়তা ‘আলা নাফসিকা।
অনুবাদ : 'হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার মাধ্যমে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার প্রশংসাকে গণনা করতে পারব না। আপনি আপনার যেভাবে প্রশংসা করেছেন, তেমনটিই আপনার জন্য প্রযোজ্য'।
বিতরের সালাম ফিরানোর পর (তিনবার) সরবে سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস বলবে এবং তৃতীয়বার দীর্ঘ টানে বলবে।

টিকাঃ
৪২. আবূ দাউদ, হা/১৪২৭, 'বিতরের কুনূত' অনুচ্ছেদ-৩৪০; ইবনু মাজাহ, হা/১১৭৯, অধ্যায়- ৫, 'বিতরের কুনূত' অনুচ্ছেদ-১১৭; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪৩০, হাদীছ ছহীহ।
৪৩. আবূ দাউদ, হা/১৪৩০, 'বিতরের পরের দু'আ' অনুচ্ছেদ-৩৪১; নাসাঈ, হা/১৬৯৯,১৭০১, অধ্যায়-২০, অনুচ্ছেদ-৩৭, হাদীছ ছহীহ।

📘 তারাবীহ ও ইতিকাফ > 📄 বিতর পরবর্তী দু'রাক'আত ছালাত

📄 বিতর পরবর্তী দু'রাক'আত ছালাত


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কর্ম দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার কারণে বিতরের পরে মুছল্লী দু'রাক'আত নফল ছালাত আদায় করতে পারেন। (শুধু তাঁর কর্মই নয়) বরং উক্ত দু'রাক'আত ছালাত আদায় করার জন্য তিনি তাঁর উম্মতকে নির্দেশ প্রদান করে বলেছেন, ،إِنَّ هَذَا السَّفَرَ جُهْدٌ وَثِقَلٌ، فَإِذَا أَوْتَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ، فَإِنِ اسْتَيْقَظَ، وَإِلَّا كَانَتَا لَهُ 'এই সফর কষ্টসাধ্য ও ভারী । অতএব তোমাদের কেউ যখন বিতর পড়বে, তখন যেন সে দুই রাক'আত নফল ছালাত আদায় করে নেয়। অতঃপর যদি সে রাতে জাগতে পারে (তো ভাল কথা)। অন্যথায় এই দুই রাক'আত তার জন্য যথেষ্ট হবে'।
এই দুই রাক'আতে সূরা যিলযাল ও কাফিরূন পড়া সুন্নাত।

টিকাঃ
৪৪. মুসলিম, হা/৭৩৮, 'মুসাফিরদের ছালাত' অধ্যায়-৬, অনুচ্ছেদ-১৭; আবূ দাউদ, হা/১৩৪০, 'ছালাত' অধ্যায়, 'রাত্রির ছালাত' অনুচ্ছেদ-৩১৬; নাসাঈ, হা/১৭১৮, 'সাত রাক'আত বিতর কিভাবে পড়তে হবে' অনুচ্ছেদ-৪২; ইবনু মাজাহ, হা/১১৯১, অধ্যায়-৫, 'তিন, পাঁচ, সাত ও নয় রাক'আত বিতরের বর্ণনা' অনুচ্ছেদ-১২৩, সনদ ছহীহ।
৪৫. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১১০৬; দারেমী, হা/১৫৫৫, 'ছালাত' অধ্যায়, 'বিতরের পরে দুই রাক'আত ছালাত' অনুচ্ছেদ-২১৫; সিলসিলা ছহীহা, হা/১৯৯৩। দীর্ঘকাল এই দুই রাক'আতের ব্যাপারে আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। অতঃপর যখন নবী করীম (ছাঃ)-এর এই নির্দেশ সম্পর্কে অবগত হলাম, তখন দ্রুত তা বাস্তবায়ন করলাম। আর জানলাম যে, তাঁর (ছাঃ)-এর বাণী- اجْعَلُوا آخِرَ صَلَاتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْرًا 'তোমরা বিতরকে তোমাদের রাত্রির শেষ ছালাত হিসেবে নির্ধারণ করো' (বুখারী, হা/৯৯৮, 'বিতর' অধ্যায়-১৪, অনুচ্ছেদ-৪; মুসলিম, হা/৭৫১, 'মুসাফিরদের ছালাত' অধ্যায়-৬, অনুচ্ছেদ-২০) ঐচ্ছিক, আবশ্যিক নয় للتخيير لا للإيجاب)। এটি ইবনু নাছরের কথা। দ্রঃ কিয়ামু রামাযান, পৃঃ ১৩০।
৪৬. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/১১০৪, ১১০৫, আয়েশা ও আনাস (রাঃ) থেকে দু'টি সনদে, যার একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। ইবনু হিব্বান, হা/২৬৩৫ 'নফল ছালাত সমূহ' অনুচ্ছেদ; আহমাদ, হা/২২৩০০। দ্রঃ ছিফাতু ছালাতিন নাবী, পৃঃ ১২৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00