📄 লায়লাতুল কদর ও উহার দিনক্ষণ
রামাযান মাসের রাত্রিগুলোর মধ্যে 'লায়লাতুল কদর' (মহিমান্বিত রজনী) হল সর্বশ্রেষ্ঠ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ সম্পর্কে বলেছেন, مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ وُفْقَتْ لَهُ ، إِيْمَانًا وَاحْتِسَابًا، غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ. ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় ছালাতে রত থাকবে, [অতঃপর ঐ রাত্রি তার অনুকূলে হবে] তার বিগত সকল (ছাগীরা) গুনাহ ক্ষমা করা হবে'।
সর্বাগ্রগণ্য মত অনুযায়ী ২৭শে রামাযানের রাত্রিই লায়লাতুল কদর। অধিকাংশ হাদীছ এ ব্যাপারেই বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে যির বিন হুবাইশের হাদীছ অন্যতম। তিনি বলেন,
سَمِعْتُ أَبَيَّ بْنَ كَعْب يَقُوْلُ - وَقِيلَ لَهُ : إِنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُوْدٍ يَقُوْلُ : مَنْ قَامَ السَّنَةَ أَصَابَ لَيْلَةَ الْقَدْر - فَقَالَ أُبَيٍّ : رَحمَهُ اللَّهُ، أَرَادَ أَنْ لَا يَتَكَلَ النَّاسُ، وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، إِنَّهَا لَفِي رَمَضَانَ - يَحْلِفُ مَا يَسْتَثْنِي وَوَاللَّهِ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَيُّ لَيْلَةِ هِيَ ؟ هِيَ اللَّيْلَةُ الَّتِي أَمَرَنَا بِهَا رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقِيَامِهَا هِيَ لَيْلَةُ صَيْحَةِ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ، وَأَمَارَتُهَا أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فِي صَيْحَةِ يَوْمِهَا بَيْضَاءَ لَا شُعَاعَ لَهَا .
'আমি উবাই বিন কা'ব (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি। তাকে বলা হল, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছর রাত্রির ছালাত আদায় করবে, সে লায়লাতুল কদর পাবে। একথা শুনে উবাই (রাঃ) বললেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন! তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ যেন উহার উপর ভরসা করে বসে না থাকে। যিনি ছাড়া (প্রকৃত) কোন উপাস্য নেই সেই সত্তার কসম, উহা রামাযান মাসেই (লুক্কায়িত রয়েছে)। (এ কথা বলার সময়) তিনি ইনশাআল্লাহ না বলে শপথ করলেন। তারপর বললেন, আল্লাহ্র কসম! সেটি কোন রাত? আমি অবশ্যই তা জানি। সেটি ঐ রাত, যে রাতে ছালাত আদায় করার জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছেন। উহা ২৭শে রামাযানের রাত্রি। আর উহার নিদর্শন হল, ঐ রাত শেষে সকালে সূর্য এমন পরিষ্কারভাবে উঠবে যে, তার কোন কিরণ থাকবে না'।
অন্য একটি বর্ণনায় এটিকে তিনি রাসূল (ছাঃ) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
৪. ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২২১২, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৪৪; ছহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৩৪৩৮, 'রামাযানের ফযীলত' অনুচ্ছেদ। সনদ ছহীহ। দ্রঃ ইবনু খুযায়মার উপর আমার (আলবানী) টীকা ৩/৩৪০; ছহীহ তারগীব ১/৪১৯, হা/৭৪৯।
৫. বুখারী, হা/২০১৪, 'লায়লাতুল কদরের ফযীলত' অধ্যায়-৩২, অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, হা/৭৬০, 'মুসাফিরদের ছালাত' অধ্যায়-৬, অনুচ্ছেদ-২৫। ইমাম বুখারী, মুসলিম ও অন্যরা আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে এবং আহমাদ (৫/৩১৮, হা/২২৭৬৫) উবাদাহ বিন ছামিত (রাঃ) থেকে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে উল্লিখিত অতিরিক্ত অংশটি আহমাদ ও মুসলিমের (হা/৭৬০)।
সতর্কীকরণ : মুনযিরী, ইবনু হাজার আসক্বালানী ও অন্যদের বিশুদ্ধতা নিরূপণের উপর নির্ভরশীল হয়ে (এ গ্রন্থের) প্রথম সংস্করণে হাদীছটির শেষাংশে وَمَا تَأَخَّرَ )এবং পরবর্তী সকল ছাগীরা গুনাহ) শব্দটি উল্লেখ করেছিলাম। অতঃপর হাদীছটির সূত্রসমূহ এবং আবূ হুরায়রা ও উবাদাহ বিন ছামিত (রাঃ) থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো ব্যাপক অনুসন্ধান করা আল্লাহ আমার জন্য সহজ করে দেন। আমি ব্যতীত অন্য কাউকে এতো অনুসন্ধান করতে দেখিনি। অতঃপর আমার নিকট প্রতিভাত হয়েছে যে, ঐ অতিরিক্ত শব্দটি আবূ হুরায়রা থেকে শায বা দুর্বল এবং উবাদাহ থেকে মুনকার বা অগ্রহণযোগ্য। যিনি এটিকে হাসান এবং ঐটিকে ছহীহ বলেছেন তিনি বর্ণনাগুলোর ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান না চালিয়ে (শুধু) সনদের বর্ণনাকারীদের বাহ্যিক অবস্থা অবগত হওয়ার কারণে ভ্রমে পতিত হয়েছেন। সুদীর্ঘ গবেষণায় আমরা তা প্রমাণ করেছি এবং 'সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যঈফা'র ৫০৮৩ নম্বর হাদীছে তা সংকলন করেছি। এজন্য 'ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব' (হা/৯৯২) গ্রন্থে আমি যখন আবূ হুরায়রা বর্ণিত হাদীছটি এনেছি, তখন এই অতিরিক্ত অংশটুকু উল্লেখ করিনি এবং উহার সাথে উবাদাহ বিন ছামিতের হাদীছটিও উল্লেখ করিনি। যা মূল 'তারগীব' গ্রন্থের বিপরীত। আল্লাহই তাওফীক দাতা।
৬. (ক) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, 'তোমরা শেষ দশকে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো। তোমাদের কেউ যদি দুর্বল অথবা অপারগ হয়ে পড়ে, তবে সে যেন শেষের সাত রাতে অলসতা না করে' (মুসলিম, হা/১১৬৫, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪০; ছহীহ ইবনে খুযায়মা, হা/২১৮৩, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২১৯)।
(খ) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, 'তোমরা রামাযানের শেষ দশকের বেজোড় রাত্রিগুলোতে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো' (বুখারী, হা/২০১৭, 'লায়লাতুল কদরের ফযীলত' অধ্যায়-৩২, অনুচ্ছেদ-৩; মিশকাত, হা/২০৮৩, 'ছওম' অধ্যায়)।
(গ) ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, 'তোমরা রামাযানের শেষ দশকে লায়লাতুল কদর অনুসন্ধান করো। লায়লাতুল কদর মাসের নয় দিন বাকী থাকতে (অর্থাৎ ২১শের রাত্রি), সাত দিন বাকী থাকতে (অর্থাৎ ২৩শের রাত্রি), পাঁচ দিন বাকী থাকতে (অর্থাৎ ২৫শের রাত্রি)' (বুখারী, হা/২০২১, 'লায়লাতুল কদরের ফযীলত অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩)। মুসলিম শরীফে ২১ ও ২৩ রামাযানের কথা এসেছে (মুসলিম, হা/১১৬৭ ও ১১৬৮, 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪০; মিশকাত হা/২০৮১ ও ২০৮৭, 'লায়লাতুল কদর' অনুচ্ছেদ)।
(ঘ) ওবাদাহ বিন ছামেত (রাঃ) হ'তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাদেরকে লায়লাতুল কদর সম্পর্কে খবর দেবার জন্য বের হলেন। (তখন তিনি দেখলেন যে,) দু'জন ব্যক্তি এ বিষয়ে ঝগড়া করছে। তিনি বললেন, আমি তোমাদেরকে কদরের রাত্রি সম্পর্কে খবর দেবার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু অমুক অমুকের সাথে দেখা হয়ে গেল। ফলে সেটা আমার থেকে উঠিয়ে নেওয়া হল (অর্থাৎ নির্দিষ্ট দিন-ক্ষণের কথাটা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হল)। সম্ভবতঃ এটা তোমাদের জন্য ভাল হল। অতএব তোমরা এটা অনুসন্ধান কর ২৯, ২৭ ও ২৫ শের রাতে' (বুখারী হা/২০২৩; মিশকাত হা/২০৯৫ 'ছওม' অধ্যায়)।
লায়লাতুল কদরে এ দু'আটি পড়তে হয়-
.اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুব্বুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নী। অনুবাদ: 'হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল! তুমি ক্ষমা করতে ভালবাস। অতএব আমাকে ক্ষমা করো' (ইবনু মাজাহ, হা/৩৮৫০, 'দু'আ' অধ্যায়-৩৪, অনুচ্ছেদ-৫; তিরমিযী, হা/৩৫১৩, 'দু'আ' অধ্যায়-৪৫, অনুচ্ছেদ-৮৫; মিশকাত, হা/২০৯১, 'ছওম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৮)।-অনুবাদক
৭. মুসলিম, হা/৭৬২, 'মুসাফিরদের ছালাত' অধ্যায়-৬, অনুচ্ছেদ-২৫; 'ছিয়াম' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ- ৪০; আবূ দাউদ, হা/১৩৭৮, 'ছালাত' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩১৯; ছহীহ আবূ দাঊদ (বিস্তারিত তাখরীজ সহ), হা/১২৪৭; মিশকাত, হা/২০৮৮ 'ছওম' অধ্যায়, 'লায়লাতুল কদর' অনুচ্ছেদ-৮।
📄 জামা'আতে তারাবীহ্ ছালাত আদায়ের বৈধতা
তারাবীহ্ ছালাত জামা'আতে আদায় করা শরী'আতসম্মত। বরং একাকী আদায়ের চেয়ে উহা জামা'আতে আদায় করা উত্তম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিজে তারাবীহ্ জামা'আত কায়েম করেছেন এবং তাঁর মুখনিঃসৃত বাণী দ্বারা উহার ফযীলত বর্ণনা করেছেন। যেমনটি আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, তিনি বলেন,
صُمْنَا مَعَ رَسُوْلِ الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَضَانَ، فَلَمْ يَقُمْ بِنَا شَيْئًا مِنَ الشَّهْرِ، حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ، فَلَمَّا كَانَتِ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا، فَلَمَّا كَانَتِ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ! لَوْ نَفَلْتَنَا قِيَامَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ. فَقَالَ : إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرَفَ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَةِ. فَلَمَّا كَانَتِ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ، فَلَمَّا كَانَتِ الثالثةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ، فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِيْنَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ. قَالَ: قُلْتُ: وَمَا الْفَلَاحُ؟ قَالَ : السُّحُوْرُ، ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ.
'আমরা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে রামাযানের ছিয়াম (রোযা) রাখলাম। তিনি প্রায় পুরা মাসটাই আমাদেরকে নিয়ে ছালাত আদায় করেননি। শেষ পর্যন্ত যখন মাত্র সাত দিন অবশিষ্ট থাকল, তখন তিনি আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়ালেন এমনকি রাতের এক-তৃতীয়াংশ ছালাতে অতিবাহিত হল। অতঃপর ষষ্ঠ রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়ালেন না। তারপর পঞ্চম রাতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়ালেন এবং অর্ধরাত্রি অতিবাহিত হল। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি যদি এ রাত্রির ছালাতকে আমাদের জন্য নফল করে দিতেন (তাহলে কতইনা ভাল হত!)। তিনি বললেন, 'কোন ব্যক্তি যখন ইমাম ছালাত শেষ করা পর্যন্ত তার সাথে ছালাত আদায় করবে, তখন তার জন্য পুরা রাতটাই ছালাত আদায় করা হিসেবে গণ্য হবে (অর্থাৎ পুরা রাত ছালাত আদায়ের নেকী তার জন্য লিপিবদ্ধ করা হবে)।
বর্ণনাকারী বলেন, আবার যখন চতুর্থ রাত হল, তিনি ছালাত আদায় করলেন না। অতঃপর যখন তৃতীয় রাত হল, তখন তিনি তাঁর পরিবার-পরিজন, স্ত্রীগণ ও অন্যান্য লোকদেরকে একত্রিত করে আমাদেরকে নিয়ে এত দীর্ঘ সময় ছালাত আদায় করলেন যে, আমরা 'ফালাহ' ছুটে যাওয়ার আশংকা করলাম। জুবাইর বিন নুফাইর বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, 'ফালাহ' কি? তিনি (আবূ যার) বললেন, সাহারী। অতঃপর মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে তিনি আমাদেরকে নিয়ে ছালাতে দাঁড়াননি'।
টিকাঃ
৮. অর্থাৎ ২৭শের রাত্রি। সর্বাগ্রগণ্য মত অনুযায়ী এটিই লায়লাতুল কদর। যেমনটি পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এজন্যই এ রাত্রিতে নবী (ছাঃ) তাঁর পরিবার-পরিজন ও স্ত্রীদেরকে একত্রিত করেছিলেন। এতে এই রাত্রিতে মহিলাদের উপস্থিতি মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
৯. আবূ দাউদ, হা/১৩৭৫, 'ছালাত' অধ্যায়, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ-৩১৮; তিরমিযী, হা/৮০৬, 'ছওম' অধ্যায়-৬, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ-৮১; ইবনু মাজাহ, হা/১৩২৭, 'ছালাত প্রতিষ্ঠা করা' অধ্যায়-৫, অনুচ্ছেদ-১৭৩; নাসাঈ, হা/১৬০৫, 'রাত ও দিনের নফল ছালাত' অধ্যায়-২০, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ-৪; ইরওয়াউল গালীল, হা/৪৪৭; হাদীছ ছহীহ।
📄 রামাযানে নবী (ছাঃ) কর্তৃক তারাবীহ্ জামা'আত অব্যাহত না রাখার কারণ
রামাযান মাসে ছাহাবীদের উপরে তারাবীহ্ ছালাত ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকায় মাসের অবশিষ্ট দিনগুলোতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদেরকে নিয়ে জামা'আতে তারাবীহ আদায় করেননি। (কারণ যদি ফরয হয়েই যেত) তাহলে তারা তা পালন করতে পারত না। যেমনটি বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীছে এসেছে। আল্লাহ তা'আলা শরী'আতের পূর্ণতা দানের পর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মৃত্যুর মাধ্যমে এই আশংকা দূরীভূত হয়ে গেছে। এর ফলে তারাবীহ্ জামা'আত পরিত্যাগের কারণও দূর হয়ে গেছে এবং পূর্ববর্তী হুকুম তথা জামা'আতে তারাবীহ্ ছালাত আদায় শরী'আতসম্মত হওয়া বহাল রয়েছে। এজন্যই উমার (রাঃ) তারাবীহ্ জামা'আতকে পুনর্জীবিত করেছিলেন। যেমনটি ছহীহ বুখারী ও অন্যান্য হাদীছগ্রন্থে বিবৃত হয়েছে।
টিকাঃ
১০. বুখারী, হা/২০১২, 'তারাবীহ্ ছালাত' অধ্যায়-৩১, অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, হা/৭৬১, 'মুসাফিরদের ছালাত' অধ্যায়-৬, অনুচ্ছেদ-২৫; আবু দাউদ, হা/১৩৭৩, 'ছালাত' অধ্যায়, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ-৩১৮; নাসাঈ, হা/১৬০৪, অধ্যায়-২০, অনুচ্ছেদ-৪; আহমাদ, হা/২৫৪০১।
১১. মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৩৭৮, 'তারাবীহ্ বর্ণনা' অনুচ্ছেদ-২; বুখারী, হা/২০১০, 'তারাবীহ্ ছালাত' অধ্যায়-৩১, অনুচ্ছেদ-১।
📄 মহিলাদের জন্য তারাবীহ্র জামা'আতের বৈধতা
তারাবীহ্ জামা'আতে মহিলাদের উপস্থিত হওয়া শরী'আতসম্মত। যেমনটি পূর্বোল্লিখিত আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে এসেছে। এমনকি পুরুষদের ইমাম ব্যতীত তাদের জন্য নির্দিষ্ট ইমাম নিযুক্ত করাও জায়েয। প্রমাণিত হয়েছে যে, উমার (রাঃ) যখন তারাবীহ্ জামা'আতে লোকদেরকে একত্রিত করেছিলেন, তখন পুরুষদের জন্য উবাই বিন কা'ব (রাঃ) এবং মহিলাদের জন্য সুলায়মান বিন আবী হাছমাকে )حَثْمة( ইমাম নিযুক্ত করেছিলেন। আরফাজাহ আছ-ছাকাফী )عرفجة الثقفي( হতে বর্ণিত তিনি বলেন, كَانَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَأْمُرُ النَّاسَ بِقِيَامِ شَهْرِ رَمَضَانَ وَيَجْعَلُ للرِّجَالِ إِمَامًا وَلِلنِّسَاءِ إِمَامًا ، قَالَ عَرْفَجَةُ: فَكُنْتُ أَنَا إِمَامَ النِّسَاءِ. আবূ তালিব (রাঃ) রামাযান মাসে তারাবীহ্ ছালাত আদায়ের জন্য মানুষদেরকে নির্দেশ দিতেন এবং পুরুষদের জন্য একজন ইমাম ও মহিলাদের জন্য একজন ইমাম নির্ধারণ করতেন। আরফাজাহ বলেন, আমিই মহিলাদের ইমাম ছিলাম'।
মসজিদ প্রশস্ত হলে মহিলাদের জন্য পৃথক ইমাম নিযুক্ত করা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। যাতে এক ইমাম আরেক ইমামের কিরাআতে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।
টিকাঃ
১২. বায়হাকী ২/৪৯৪, হা/৪৬০৫, 'ছালাত' অধ্যায়, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ-৫৮৫; ইবনু নাছর, কিয়ামু রামাযান, পৃঃ ৯৩।
১৩. বায়হাকী ২/৪৯৪, হা/৪৬০৬, 'রামাযান মাসের কিয়াম' অনুচ্ছেদ; মুছান্নাফ আব্দুর রায্যাক ৪/২৫৮, হা/৮৭২২; কিয়ামু রামাযান, পৃঃ ৯৩। আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে ইবনু নাছর উক্ত দু'টি আছার দ্বারাই দলীল পেশ করেছেন। দ্রঃ ঐ, পৃঃ ৯৫।