📄 অনুবাদকের কথা
তারাবীহ ও ই'তিকাফ আল্লাহ্র নৈকট্য হাছিলের অন্যতম মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) রামাযান মাসে তারাবীহ ছালাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন, এর ফযীলত বর্ণনা করেছেন এবং নিজে ২৩, ২৫ ও ২৭ শে রামাযান মোট তিন দিন জামা'আতে তারাবীহ্ ছালাত আদায় করেছেন। উম্মাতে মুহাম্মাদীর উপর ফরয হয়ে যাওয়ার আশংকায় তিনি রামাযানের বাকী দিনগুলোতে জামা'আতে তারাবীহ্ ছালাত আদায় করেননি। তাঁর মৃত্যুর পর এই আশংকা সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয়ে গেছে। সুতরাং জামা'আতে তারাবীহ্ ছালাত আদায় করা বিদ'আত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং এটি তাঁর সুন্নাত। ১৪ হিজরীতে উমার (রাঃ) এ সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করে একে আভিধানিক অর্থে 'সুন্দর বিদ'আত' )نِعْمَتِ الْبَدْعَةُ هَذه( বলেছিলেন; শারঈ অর্থে নয় (আলবানী, ছালাতুত তারাবীহ, রিয়াদ : ২০১০, পৃঃ ৫০-৫১)। কেননা শারঈ বিদ'আত সম্পূর্ণরূপে ভ্রষ্টতা (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ; মিশকাত, হা/১৬৫)। যার পরিণাম জাহান্নাম (নাসাঈ, হা/১৫৭৮)।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বিতরসহ এগারো রাক'আত তারাবীহ্ ছালাত আদায় করেছেন। বিশ রাক'আত তারাবীহ্ হাদীছটি অত্যন্ত দুর্বল )ضعيف جدا( বিধায় আমলযোগ্য নয়। বরং ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত হয়েছে যে, উমার (রাঃ) উবাই বিন কা'ব ও তামীম আদ-দারীকে রামাযান মাসে এগারো রাক'আত তারাবীহ্ ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন (মুওয়াত্তা ইমাম মালেক; মিশকাত হা/১৩০২। অন্য কোন ছাহাবীও বিশ রাক'আত পড়েছিলেন বলে বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত নয় (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুত তারাবীহ, পৃঃ ৭৬-৮২)। সুতরাং বিশ রাক'আতের উপরে ইজমা হওয়ার দাবী একেবারেই ভিত্তিহীন (তুহফাতুল আহওয়াযী, ৩/৫১৩)।
ই'তিকাফ আল্লাহ্ ইবাদতে নিরবচ্ছিন্ন সময় কাটানোর ও লায়লাতুল কদর লাভের এক সুবর্ণ সুযোগ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমৃত্যু রামাযানের শেষ দশকে ই'তিকাফ করে গেছেন (বুখারী, মুসলিম)। আয়েশা (রাঃ) বলেন, 'আল্লাহ্র রাসূল (ছাঃ) রামাযানের শেষ দশকে ইবাদতে যত কষ্ট করতেন, এত কষ্ট অন্য সময় করতেন না' (মুসলিম)। তিনি আরো বলেন, 'শেষ দশক হাযির হলে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সারারাত জাগতেন, পরিবারের সবাইকে জাগাতেন এবং খুব কষ্ট করতেন ও কোমরে কাপড় শক্ত করে বেঁধে নিতেন' (বুখারী, মুসলিম)। সুতরাং ই'তিকাফের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
আধুনিক যুগে ইলমে হাদীছের বিস্ময়কর প্রতিভা শায়খ মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আলবানী )১৯১৪-১৯৯৯) তাঁর 'কিয়ামু রামাযান' )قيام رمضان গ্রন্থে তারাবীহ ও ই'তিকাফ সম্পর্কিত প্রায় প্রতিটি বিষয় সংক্ষিপ্তাকারে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুস্তিকা। সেজন্যই আমরা এর অনুবাদে হাত দিয়েছি এবং যথাসাধ্য সহজ-সাবলীল অনুবাদ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছি। আল্লাহ তা'আলা লেখক ও অনুবাদককে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন! আমীন!!
📄 লেখক পরিচিতি
নাম ও জন্ম :
নাম-মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন, উপনাম-আবূ আব্দির রহমান, পিতার নাম-নূহ নাজাতী। বংশপরিক্রমা হল- মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন বিন নূহ নাজাতী বিন আদম আল-আলবানী । তিনি ১৩৩২ হিজরী মোতাবেক ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে আলবেনিয়ার প্রাক্তন রাজধানী 'উশকুদারাহ' )أَشْقُودرة( নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব:
এক দরিদ্র ধার্মিক পরিবারে আলবানীর শৈশব কাটে। তাঁর বাবা নূহ নাজাতী একজন বড় মাপের হানাফী আলেম ছিলেন। শায়খ আলবানী পিতা সম্পর্কে নিজেই বলেছেন, والدي كان يعتبر خاصة بين الأرناؤوط هو أعلمهم بالفقه الحنفي، وكان ملاذهم ومرجعهم. 'আমার বাবা বিশেষভাবে আরনাউতীদের (আলবেনীয় ও সার্ব জনগোষ্ঠী) মধ্যে হানাফী ফিকহ সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ছিলেন তাদের নির্ভরতার প্রতীক'। তিনি তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুল থেকে ফারেগ হয়ে দ্বীনের খিদমতের মানসে নিজ দেশ আলবেনিয়ায় ফিরে আসেন। তাঁর কাছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন শারঈ জ্ঞান অর্জনের জন্য আসত। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর (১৯৪৫-১৯৮৭) ও প্রখ্যাত মুহাক্কিক শায়খ শু'আইব আরনাউত।
সিরিয়ায় হিজরত :
আলবেনিয়ার কমিউনিস্ট শাসক আহমাদ যুগ্ )أحمد زُوغُو(-এর শাসনামলে সেখানে ইসলামের উপর কুঠারাঘাত নেমে আসে। তিনি তুরস্কের কামাল আতাতুর্কের মতো আলবেনিয়ায় নারীদের বোরকা পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন এবং দেশকে ইউরোপীয় ধাঁচে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইউরোপীয় টুপি (Hat) পরিধান বাধ্যতামূলক করেন। আলবানীর বাবা ঐ সময় স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। তিনি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থার ক্রমঅবনতি লক্ষ্য করে দ্বীন রক্ষার্থে সিরিয়ায় হিজরত করেন। তখন আলবানীর বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।
শিক্ষা জীবন :
সিরিয়ায় হিজরতের পর আলবানীকে তাঁর বাবা 'জামঈয়্যাতুল ইস'আফ আল-খায়রী' (দাতব্য এম্বুলেন্স সংস্থা) নামে একটি বেসরকারী মাদরাসায় ভর্তি করে দেন। প্রাথমিক স্ত রের অন্যান্য ছাত্রদের তুলনায় আলবানীর বয়স বেশি হওয়ায় তিনি এক বছরেই ১ম ও ২য় শ্রেণী শেষ করে ৪ বছরে কৃতিত্বের সাথে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ইতিপূর্বে আরবী বর্ণমালা না চিনলেও এ মাদরাসায় তিনি আরবী ভাষা শিখেন। এরপর তাঁর নিয়মতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা আর এগোয়নি। এর কারণ সম্পর্কে তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন,
فوالدي رحمه الله كان سيىء الرأي في المدارس الحكومية، وحق له ذلك، لأنها كانت لا تدرس من الشريعة إلا ما هو أقرب إلى الشكل من الحقيقة، ولذلك ما أدخلني مدرسة التجهيز مثلا التي كانت هي الثانوية يومئذ في سوريا.
'সরকারী মাদরাসাগুলোর ব্যাপারে আমার বাবার (রহঃ) ধারণা খারাপ ছিল। এমন ধারণা থাকাটাও তাঁর জন্য যৌক্তিক ছিল। কারণ ঐ মাদরাসাগুলোতে নামকাওয়াস্তে শরী'আহ শিক্ষা দেয়া হত। সেজন্য তিনি আমাকে 'মাদরাসাতুত তাজহীয'-এ ভর্তি করেননি, যেটি সিরিয়ায় সে সময় উচ্চ মাধ্যমিক স্তর ছিল'।
এর একটা কারণ এটাও হতে পারে যে, বাবা চাইতেন তার সন্তান হানাফী ফিকহে ব্যুৎপত্তি লাভ করুক। কিন্তু সিরিয়ায় তখন হানাফী ফিকহ পড়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিক স্ত রের কোন ভাল ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। সেজন্য তিনি বাড়িতেই তার সন্তানকে তাজবীদ সহ কুরআন মুখস্থ করান। পাশাপাশি নাহু, ছরফ ও হানাফী ফিকহ 'মুখতাছারুল কুদূরী' পড়ান। তাছাড়া এ সময় আলবানী মুহাম্মাদ সাঈদ বুরহানী নামে এক হানাফী ছুফী শিক্ষকের নিকট হানাফী ফিকহ 'মারাকিল ফালাহ', আরবী ব্যাকরণের 'শুযূরুয যাহাব' ও বালাগাতের কতিপয় আধুনিক গ্রন্থ পাঠ করেন। পরবর্তীতে তিনি সিরিয়ার প্রখ্যাত সালাফী বিদ্বান মুহাম্মাদ বাহজাতুল বায়তারের (১৮৯৪-১৯৭৬) দরসে উপস্থিত হতেন। তিনি আলেপ্পোর খ্যাতনামা মুহাদ্দিছ ও ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ রাগেব আত-তাব্বাখের নিকট থেকে হাদীছের 'ইজাযাত' বা সনদ লাভ করেন।
ইলমে হাদীছের প্রতি মনোনিবেশ :
বাল্যকাল থেকেই পড়ার প্রতি আলবানীর ঝোঁক ছিল প্রবল। এ সময় তিনি আরবী কিচ্ছা- কাহিনী, ইউরোপীয় গোয়েন্দা কাহিনী ও ইতিহাসের বিভিন্ন বইপত্র পড়তেন। বাবার সাথে ঘড়ির দোকানে কাজ করার সময় সুযোগ পেলেই তিনি দামেশকের উমাইয়া মসজিদে দরসে বসতেন। এ মসজিদের পশ্চিম গেটের সন্নিকটে আলী মিসরী নামক একজন ব্যক্তির পুরাতন বই ও পত্রিকা বিক্রির দোকান ছিল। তিনি সেখানে প্রায়ই যেতেন এবং পছন্দনীয় বই পড়ার জন্য ধার নিয়ে আসতেন। একদিন খ্যাতনামা মিসরীয় বিদ্বান সাইয়িদ রশীদ রিযা (১৮৬৫-১৯৩৫) সম্পাদিত 'আল-মানার' পত্রিকাটি তাঁর গোচরীভূত হয়। সেখানে তিনি ইমাম গাযালীর 'ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন' গ্রন্থের উপর একটি সমালোচনামূলক প্রবন্ধ দেখতে পান। তিনি পত্রিকাটি নিয়ে গিয়ে গোটা প্রবন্ধটি পড়েন। উক্ত প্রবন্ধে হাফেয যায়নুদ্দীন ইরাকী লিখিত 'আল-মুগনী আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফী তাখরীজে মা ফিল ইহইয়া মিনাল আখবার'-এর উল্লেখ দেখতে পেয়ে সেটি সংগ্রহের জন্য বাজারের বইয়ের দোকানগুলোতে তাঁর ভাষায় 'দিশেহারা প্রেমিকের ন্যায়' )كالعاشق الولهان ঘুরতে থাকেন। অবশেষে এক দোকানে ৪ খণ্ডে মুদ্রিত পরম কাঙ্খিত গ্রন্থটি পেয়ে যান। কিন্তু কিনতে অপারগ হওয়ায় তিনি বইটি পড়ার জন্য ধার নেন। তিনি গ্রন্থটিকে নকল করে ৩ খণ্ডে দুই হাযার ১২ পৃষ্ঠায় সুবিন্যস্ত করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭/১৮ বছর। এভাবে সাইয়িদ রশীদ রিযার ঐ প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে তাঁর অন্তরে ছহীহ-যঈফ হাদীছ যাচাই-বাছাইয়ের এক দুর্নিবার ইলাহী অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়। হাদীছের প্রতি সন্তানের অনিঃশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করে পিতা টিপ্পনী কেটে প্রায়শই বলতেন, علم الحديث صنعة المفاليس 'ইলমে হাদীছ দরিদ্রদের পেশা'।
ক্রমেই হাদীছের প্রতি শায়খ আলবানীর আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। তিনি তাঁর জীবিকার জন্য মঙ্গলবার ও শুক্রবার ব্যতীত সপ্তাহের বাকী দিনগুলোতে মাত্র তিন ঘণ্টা ঘড়ি মেরামতে ব্যয় করতেন। বাকী সময় ব্যয় হত জ্ঞানার্জন ও গ্রন্থ প্রণয়নে। তিনি হাদীছের মুদ্রিত গ্রন্থাবলী ও দুর্লভ পাণ্ডুলিপি অধ্যয়নের জন্য দামেশকের সুপ্রাচীন যাহেরিয়া লাইব্রেরীতে প্রত্যেক দিন ৬/৮ ঘণ্টা নিয়মিত পড়াশুনা করতেন। কখনো কখনো ১২ ঘণ্টা অবধি চলত নিরবচ্ছিন্ন গবেষণা। অনেক সময় লাইব্রেরীর সিঁড়িতে দাঁড়িয়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অধ্যয়নে কেটে যেত। কর্তৃপক্ষ তাঁর পড়ার জন্য লাইব্রেরীর একটি কক্ষ বরাদ্দ করেন এবং সার্বক্ষণিক উপকৃত হওয়ার জন্য লাইব্রেরীর একটি চাবি তাঁকে প্রদান করেন। তিনি ইবনু আবিদ দুনয়ার 'যাম্মুল মালাহী' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির বিনষ্ট হয়ে যাওয়া একটি পৃষ্ঠা উদ্ধারের জন্য উক্ত লাইব্রেরীর প্রায় ১০ হাযার পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন করেন।
দাওয়াত ও সমাজ সংস্কার :
শায়খ আলবানী হাদীছ শাস্ত্রে গবেষণায় নিরত হয়ে সমাজে প্রচলিত বোধ-বিশ্বাস ও রসম- রেওয়াজের সাথে ইসলামের অবিমিশ্র ধারার যোজন যোজন পার্থক্য লক্ষ্য করেন। তিনি সমাজের বুকে জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসা শিরক-বিদ'আত ও তাকলীদ উৎসাদনের জন্য দাওয়াতী ময়দানে আবির্ভূত হন। তিনি তার পিতা, ভাই, শিক্ষক, বন্ধু- বান্ধব ও অন্যদেরকে আকীদা সংশোধন করা, মাযহাবী গোঁড়ামি পরিহার, যঈফ ও জাল হাদীছ বর্জন ও মৃত সুন্নাত পুনর্জীবিতকরণের দাওয়াত দিতে থাকেন।
তিনি প্রত্যেক মাসে এক সপ্তাহ (পরবর্তীতে মাসে ৩ দিন) দাওয়াতী সফরে সিরিয়ার হিমছ, হামাহ, ইদলিব, রাক্কা, সিলমিয়্যাহ, লাযেকিয়াহ প্রভৃতি শহরে-নগরে বেরিয়ে পড়তেন। এসব সফরের কারণে মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। তারা শিরক- বিদ'আত পরিহার করে কুরআন ও ছহীহ হাদীছকে আঁকড়ে ধরতে থাকে। এতে বিদ'আতী, কবরপূজারী, ছুফী ও মুকাল্লিদদের গাত্রদাহ শুরু হয়ে যায়। তারা তাকে 'ওয়াহাবী' বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও দাওয়াতের ময়দান থেকে তিনি কখনো নিবৃত্ত হননি।
তিনি বেশ কিছু মৃত সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেন। তাঁর মধ্যে অন্যতম হল- খুতবাতুল হাজাহ-এর প্রচলন, ময়দানে ঈদের ছালাত আদায়, আকীকা ও নবজাতকের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুন্নাত, বিতর সহ এগারো রাক'আত তারাবীহ ছালাত, পায়ে পা ও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতার সোজা করে ছালাতে দাঁড়ানো, সুতরা দেয়া প্রভৃতি।
দরস-তাদরীস :
১৯৪৫ সালের পূর্বেই তিনি দামেশকে সপ্তাহে দু'টি দরস প্রদান করা শুরু করেন। হাফেয ইবনুল কাইয়িমের 'যাদুল মা'আদ'-এর মাধ্যমে এ দরসের শুভ সূচনা হয়। আকীদা, ফিকহ, উছুলে ফিকহ, হাদীছ প্রভৃতি বিষয়ের বিভিন্ন গ্রন্থের উপর এখানে দরস চলত। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে হিজরত করার পর সেখানেও প্রত্যেক বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব একটি করে দরস প্রদান করতেন। এসব দরসে ছাত্র, শিক্ষক ও ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত হতেন। কুরআন ও ছহীহ হাদীছের দাওয়াত প্রচার-প্রসারে এর প্রভাব ছিল অনির্বচনীয়।
মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা :
ইলমে হাদীছে শায়খ আলবানীর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন চ্যান্সেলর ও সউদী গ্র্যান্ড মুফতী শায়খ মুহাম্মাদ বিন ইবরাহীম আলে শায়খ তাঁকে সেখানে শিক্ষকতার আহ্বান জানান। তিনি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৩৮১- ১৩৮৩ হিজরী পর্যন্ত 'শায়খুল হাদীছ' হিসাবে সেখানে কর্মরত থাকেন। তাছাড়া ১৩৯৫- ৯৮ হিজরীতে তিনি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরিচালনা পরিষদের সদস্য মনোনীত হন।
জেল-যুলুম :
শায়খ আলবানী দু'বার কারাগারে অন্তরীণ থাকেন। একবার ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাঈল যুদ্ধের সময়। আর দ্বিতীয়বার ১৯৬৯ সালে ৬ মাস, দামেশকের যে কারাগারে ইমাম ইবনু তায়মিয়াকে (৬৬১-৭২৮হিঃ) বন্দী রাখা হয়েছিল সেখানে। এ সময় তিন মাসে তিনি মুনযিরীকৃত সংক্ষিপ্ত ছহীহ মুসলিম তাহকীক করেন এবং টীকা-টিপ্পনী সংযোজন করেন। ইমাম ইবনু তায়মিয়ার পর তিনিই প্রথম সেখানে জুম'আ কায়েম করেন বলে প্রবল জনশ্রুতি রয়েছে।
বাদশাহ ফয়ছাল পুরস্কার লাভ :
হাদীছ শাস্ত্রে অসামান্য অবদানের জন্য শায়খ আলবানী ১৪১৯ হিঃ/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাদশাহ ফয়ছাল আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।
মৃত্যু ও দাফন :
১৪০০ হিজরীর ১লা রামাযানে তিনি স্বপরিবারে দামেশক থেকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে হিজরত করেন। সেখানে নিজ বাসগৃহে তিনি ১৪২০ হিজরীর ২২ জুমাদিউছ ছানী মোতাবেক ১৯৯৯ সালের ২রা অক্টোবর শনিবার মাগরিবের কিছুক্ষণ পূর্বে ৮৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ঐদিনই বাদ এশা স্থানীয় একটি পুরাতন কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মনীষীদের চোখে আলবানী :
১. সউদী আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতী শায়খ আব্দুল আযীয বিন আব্দুল্লাহ বিন বায )১৯১৩-১৯৯৯) বলেনلا أعلم تحت قبة الفلك في هذا العصر أعلم من الشيخ ناصر في علم الحديث 'আসমানের নিচে এই যুগে শায়খ নাছিরের চেয়ে ইলমে হাদীছে অধিক পণ্ডিত কাউকে আমি জানি না'।
২. শায়খ মুহাম্মাদ বিন ছালেহ আল-উছায়মীন (১৯২৭-২০০১) বলেন, انه ذو علم جم في الحديث رواية ودراية ‘হাদীছের রেওয়ায়াত ও দিরায়াতে তিনি ছিলেন বিশাল পাণ্ডিত্যের অধিকারী'।
৩. সুনানে নাসাঈর ব্যাখ্যাতা শায়খ মুহাম্মাদ আলী আদম (ইথিওপিয়া) বলেন, وله اليد الطولى في معرفة الحديث تصحيحا وتضعيفا. 'হাদীছের ছহীহ-যঈফের অবগতির ব্যাপারে তাঁর গভীর মনীষা রয়েছে'।
৪. শায়খ যায়েদ বিন আব্দুল আযীয আল-ফাইয়ায বলেন, He had great concern for the Hadith- its paths of transmission, its reporters and its levels of authenticity or weakness.
রচনাবলী :
তাঁর রচিত ও তাহকীককৃত গ্রন্থের সংখ্যা সোয়া দুইশ'র বেশি। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হ'ল- ১. সিলসিলাতুল আহাদীছ আছ-ছহীহা (৭ খণ্ড) ২. সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যঈফা ওয়াল মাওযূ'আহ (১৪ খণ্ড) ৩. ইরওয়াউল গালীল (৮ খণ্ড) ৪. ছিফাতু ছালাতিন্নবী (ছাঃ) ৫. ছহীহ ও যঈফ তারগীব ওয়াত তারহীব (৩+২=৫ খণ্ড) ৬. ছহীহ ও যঈফুল জামে আছ-ছাগীর ৭. ছহীহ সুনানে আরবা'আ ও যঈফ সুনানে আরবা'আ ৮. তাহকীক মিশকাত (৩ খণ্ড) ৯. আহকামুল জানায়িয ১০. ছালাতুত তারাবীহ ১১. মু'জামুল হাদীছ আন-নববী (অপ্রকাশিত। ৪০ খণ্ড) ১২. ছহীহ সুনানে আবূ দাউদ (৯ খণ্ডে বিস্ত ারিত তাখরীজ সহ) ১৩. কিয়ামু রামাযান।
📄 প্রথম সংস্করণের ভূমিকা
إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ، نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا، وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا ، مَنْ يَهْده الله فَلا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
হামদ ও ছানার পর, আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে মাওকুফ হিসেবে ছহীহ সনদে বর্ণিত আছে। অবশ্য এটি হুকুমগতভাবে মারফু। তিনি (ইবনে মাসঊদ) বলেন,
كَيْفَ أَنْتُمْ إِذَا لَبِسَتْكُمْ فِتْنَةٌ يَهْرَمُ فِيهَا الْكَبِيرُ، وَيَرْبُوْ فِيْهَا الصَّغِيرُ، يَجْرِي عَلَيْهَا النَّاسُ يَتَّخِذُونَهَا سُنَّةً، إِذَا تُرِكَ مِنْهَا شَيْءٌ قِيلَ : تُرِكَتِ السُّنَّةُ؟ قَالُوا : وَمَتَى ذَاكَ؟ قَالَ : إِذَا ذَهَبَتْ عُلَمَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ جُهَلاَؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ قُرَّاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ فُقَهَاؤُكُمْ، وَكَثُرَتْ أُمَرَاؤُكُمْ، وَقَلَّتْ أُمَنَاؤُكُمْ، وَالْتُمسَتِ الدُّنْيَا بِعَمَلِ الْآخِرَةِ، وَتُفُقَهَ لِغَيْرِ الدِّينِ.
‘তোমাদের অবস্থা তখন কেমন হবে যখন ফিতনা (বিদ'আত) তোমাদেরকে এমনভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরবে যে, এই ফিতনার মধ্যেই তোমাদের বড়রা বৃদ্ধ হবে এবং ছোটরা বড় হবে। মানুষ বিদ'আতের উপরেই চলতে থাকবে। এমতাবস্থায় তারা সেটাকেই সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করবে। যখন কোন বিদ'আতকে ত্যাগ করা হবে তখন বলা হবে, সুন্নাহকে পরিত্যাগ করা হয়েছে? লোকেরা বলল, এটা কখন হবে? তিনি বললেন, (ক) যখন তোমাদের আলেমগণ মৃত্যুবরণ করবেন ও মূর্খদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। (খ) যখন সাধারণ আলেমের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু জ্ঞানী আলেমের সংখ্যা কমে যাবে। (গ) যখন নেতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে। (ঘ) যখন আখেরাতের কাজের মাধ্যমে দুনিয়া তালাশ করা হবে এবং দ্বীন ব্যতীত অন্য উদ্দেশ্যে জ্ঞানার্জন করা হবে'।
আমার বক্তব্য হল, এই হাদীছটি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নবুঅত ও তাঁর রিসালাতের সত্যতার নিদর্শন। কারণ বর্তমান যুগে এই হাদীছের প্রত্যেকটি অংশ সত্য প্রতিপন্ন হয়েছে। তন্মধ্যে অন্যতম হল বিদ'আতের আধিক্য এবং তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ এমন পর্যায়ে গিয়ে উপনীত হওয়া যে, শেষাবধি তারা বিদ'আতকেই সুন্নাত হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং উহাকেই অনুসরণীয় ধর্মাচরণে পরিণত করেছে। যখন আহলুস সুন্নাহ (হাদীছের অনুসারীরা) প্রকৃত অর্থে বিদ'আত থেকে বিমুখ হয়ে রাসূল (ছাঃ)-এর ছহীহ হাদীছকে আঁকড়ে ধরে, তখন বলা হয়- সুন্নাহকে পরিত্যাগ করা হয়েছে!
আমরা আহলুস সুন্নাহগণ যখন সিরিয়ায় আমাদের সাধ্যানুযায়ী ধীর-স্থিরতা ও বিনয়-নম্রতা বজায় রেখে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে ছহীহ সূত্রে প্রমাণিত বিভিন্ন মাসনূন দু'আর মাধ্যমে এগারো রাক'আত তারাবীহ ছালাত আদায়ের সুন্নাতকে পুনর্জীবিত করেছিলাম, তখন আমাদেরকেও অনুরূপ অপবাদ সইতে হয়েছিল। বিশ রাক'আত তারাবীহ ছালাত আদায়কারী অধিকাংশ মুছল্লী যেই সুন্নাতকে (ধীর-স্থিরতা ও বিনয়-নম্রতা) বিনষ্ট করেছিল। তদুপরি আমরা যখন 'ছালাতুত তারাবীহ' বইটি বের করলাম, তখন তারা রাগে- ক্ষোভে ফেটে পড়ল। 'তাসদীদুল ইছাবাহ ইলা মান যা'আমা নুছরাতাল খুলাফা আর-রাশিদীন ওয়াছ ছাহাবা' تسديد الإصابة إلى من زعم نصرة الخلفاء الراشدين والصحابة) নামক পুস্তক। তাদের অন্তর্জালার কারণ ছিল 'ছালাতুত তারাবীহ' গ্রন্থের নিম্নোক্ত গবেষণালব্ধ কথাগুলো-
১. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এগারো রাক'আতের বেশি তারাবীহ্ ছালাত আদায় করেননি।
২. উমার (রাঃ) উবাই বিন কা'ব ও তামীম আদ-দারীকে ছহীহ হাদীছ মোতাবেক জামা'আত সহকারে এগারো রাক'আত তারাবীহ্ ছালাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
৩. উমার (রাঃ)-এর যুগে মানুষেরা রামাযান মাসে ২০ রাক'আত তারাবীহ্র ছালাত আদায় করত- মর্মের বর্ণনাটি শায, দুর্বল এবং ঐ সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনার বিপরীত, যারা এগারো রাক'আতের কথা বলেছেন এবং উমার (রাঃ)-ই এই আদেশ দিয়েছিলেন বলে বর্ণনা করেছেন।
৪. যদি শায বর্ণনাটি ছহীহও হত, তবুও সংখ্যার ক্ষেত্রে সুন্নাহ্ অনুকূল হওয়ার কারণে ছহীহ বর্ণনাটিকে গ্রহণ করাই সর্বোত্তম গণ্য হত। তাছাড়া শায বর্ণনাটিতে একথার উল্লেখ নেই যে, উমার (রাঃ) বিশ রাক'আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বরং মানুষেরা নিজেরা তা পড়েছিল। পক্ষান্তরে ছহীহ বর্ণনায় রয়েছে যে, তিনি এগারো রাক'আতের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
৫. যদি শায বর্ণনাটি ছহীহও হত, তাহলেও তার উপর আবশ্যিকভাবে আমল করা এবং ছহীহ সুন্নাহ্ অনুকূল বর্ণনার উপর আমল পরিত্যাগ করা আবশ্যক হত না। উপরন্তু ছহীহ হাদীছের প্রতি আমলকারীকে জামা'আত থেকে খারিজ হিসেবে গণ্য করা হত না। বরং তার আলোকে এতটুকু বলা যেতে পারত যে, বিশ রাক'আত জায়েয। তবে এটি অকাট্য যে, রাসূল (ছাঃ) যে আমলটি (১১ রাক'আত) নিরবচ্ছিন্নভাবে করেছিলেন তাই সর্বোত্তম।
৬. উক্ত গ্রন্থে আমরা ছাহাবায়ে কেরামের কোন একজনের পক্ষে থেকেও বিশ রাক'আত প্রমাণিত না হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করেছি।
৭. যারা বিশ রাক'আতের উপর ইজমা হয়েছে বলে দাবী করেন, তাদের দাবির অসারতা বর্ণনা করেছি।
৮. উক্ত গ্রন্থে আমরা ছহীহ হাদীছে প্রমাণিত রাক'আত সংখ্যাকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতার দলীল এবং যে সকল আলেম এগারো রাক'আতের বেশি পড়াকে নাকচ করেছেন তাদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। এছাড়া আরো অনেক উপকারী বিষয় উল্লেখ করেছি, যা একত্রে কোন একটি গ্রন্থে কদাচিৎ পাওয়া যাবে।
ছহীহ হাদীছের সুস্পষ্ট দলীল ও নির্ভরযোগ্য আছার দ্বারা এগুলো বর্ণনা করার ফলে মুকাল্লিদ ওলামা-মাশায়েখের তরফ থেকে আমাদের উপর তীব্র আক্রমণ চালানো হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ বক্তব্য ও দরসে আবার কেউ আমাদের পূর্বোল্লিখিত (ছালাতুত তারাবীহ) গ্রন্থের প্রত্যুত্তরে পুস্তকাদি রচনা করে তাতে এ আক্রমণ চালিয়েছিল। সেগুলো উপকারী জ্ঞান ও সুস্পষ্ট দলীল শূন্য। বরং হক ও হকপন্থীদের উপর বাতিলপন্থীদের ক্রোধ প্রকাশের চিরায়ত রীতি অনুযায়ী এ সকল গ্রন্থ গালি-গালাজে ভর্তি। সে কারণে তাদের প্রত্যুত্তর প্রদান ও তাদের বক্তব্যের ত্রুটি বর্ণনায় আমাদের সময় নষ্ট করার কোন কার্যকর উপকারিতা আছে বলে আমরা মনে করি না। তাদের সংখ্যাধিক্যের কারণে এ কাজে সময় ব্যয় করার চেয়ে আয়ু অনেক কম। আল্লাহ তাদের সকলকে হেদায়াত দান করুন!
আমাদের পূর্বোক্ত 'ছালাতুত তারাবীহ' গ্রন্থটি পদ্ধতিগত দিক থেকে তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করেছে এবং তার প্রয়োজন পূরণ করেছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হল তারাবীহ্ ছালাতের ব্যাপারে ছহীহ হাদীছের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং ছহীহ হাদীছ বিরোধীদের জবাব প্রদান করা। অবশেষে ছহীহ হাদীছ মোতাবেক তারাবীহ্ ছালাত আদায়ের সুন্নাত সিরিয়া, জর্ডান ও অন্যান্য মুসলিম দেশের অসংখ্য মসজিদে ছড়িয়ে পড়েছে। যাবতীয় প্রশংসা সেই মহান আল্লাহ্র জন্য, যার অনুগ্রহে সৎ আমল সমূহ পূর্ণতা লাভ করে।
উক্ত গ্রন্থটি (ছালাতুত তারাবীহ) ছাপানোর বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তা পুনঃপ্রকাশের প্রয়োজন দেখা দিলে আমি উহাকে নিখাদ ইলমী পদ্ধতিতে সংক্ষিপ্ত করার চিন্তা করি। এতে আমি কারো প্রত্যুত্তর প্রদানে প্রবৃত্ত না হয়ে ‘তুমি তোমার বক্তব্য পেশ কর, অতঃপর চলে চাও' أَلْقِ كَلِمَتَكَ وَامْشِ) এ রীতি অবলম্বন করব। 'ছালাতুত তারাবীহ' গ্রন্থে যে সকল জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ছিল সেগুলোর সারনির্যাস এতে সন্নিবেশিত করব এবং পরিপূর্ণ ফায়েদা হাছিলের জন্য অন্যান্য উপকারী আলোচনাও এতে যুক্ত করব। পূর্ববর্তী গ্রন্থটির ন্যায় এটির দ্বারাও মানুষের উপকার করার এবং আমাকে এর প্রতিদান প্রদান করার ব্যাপারে আল্লাহই দায়িত্বশীল। তিনিই তো উত্তম অভিভাবক। (সংক্ষেপায়িত)
টিকাঃ
১. দারেমী হা/১৯০, ভূমিকা, 'যুগের পরিবর্তন ও তার মধ্যে যা ঘটবে' অনুচ্ছেদ-২২, দারেমী দু'টি সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। যার একটি ছহীহ আর অন্যটি হাসান। হাকেম ৪/৫১৪-১৫, হা/৮৫৭০ 'ফিতান ও মালাহিম' অধ্যায়; ছহীহ তারগীব, হা/১১১।