📄 আত্মহত্যার প্রতিযোগিতা
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ত্রিশমিনিটে একটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এর অর্থ হচ্ছে—প্রতি বছর আঠারো হাজার মানুষ আত্মহত্যার শিকার হয়। এ পরিসংখ্যান কেবল আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনুসারে। যারা আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়, তাদের সংখ্যা আনুমানিক দশ লাখ। জনৈক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভিমত হলো—উপরিউক্ত পরিসংখ্যানের বাহিরেও সমাজের বড় একটা অংশ থেকে যায়, যাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা। তারা হলো—অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। অনুরূপভাবে যারা অতিরিক্ত মাদক সেবনে মত্ত হয়ে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়。
টিকাঃ
২০০ দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ২১শে জানুয়ারি-১৯৬৭ খ্রি.
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ত্রিশমিনিটে একটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এর অর্থ হচ্ছে—প্রতি বছর আঠারো হাজার মানুষ আত্মহত্যার শিকার হয়। এ পরিসংখ্যান কেবল আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনুসারে। যারা আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়, তাদের সংখ্যা আনুমানিক দশ লাখ। জনৈক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভিমত হলো—উপরিউক্ত পরিসংখ্যানের বাহিরেও সমাজের বড় একটা অংশ থেকে যায়, যাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা। তারা হলো—অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। অনুরূপভাবে যারা অতিরিক্ত মাদক সেবনে মত্ত হয়ে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়。
টিকাঃ
২০০ দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ২১শে জানুয়ারি-১৯৬৭ খ্রি.
📄 চুরি শেখার স্কুল
লন্ডনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এক গবেষক কর্মচারী মিস্টার বাথ জানিয়েছেন—
বৃটেনে শিশুদেরকে চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সেখানে দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের চুরি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো, যেমন—সিধকাটা, দোকান-পাটের মালপত্র চুরি করা, লোহার তালা ও তরবারি ভাঙার ওপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের ভাষ্য হলো—অর্থনৈতিক উন্নতির এ যুগে যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে উন্নতি-অগ্রগতির জোয়ার বইছে, সেখানে চোরের সংখ্যাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিস্টার বাথ এ-ও জানান— আমি যে স্টোরে চাকরি করি, সেখানে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি পনেরো ঘণ্টায় ন্যূনতম একটি চুরির ঘটনা ঘটত। আর এখন প্রতি এগারো ঘণ্টায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যে সকল স্টোরে পাহারাদারি কিছুটা দুর্বল ও শিথিল, সেখানে প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় একটি করে চুরি হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেছেন— ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমাদের দোকান থেকে দুই হাজার তিনশত তেষট্টিটি চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধরা পড়েছে প্রায় ১৯৫৬ থেকে দ্বিগুণ। আর আমরা প্রায় পঁচিশ হাজার টাকার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছি। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে নারীদের গড় সংখ্যা হলো ৬ শতাংশ। আর পুরুষের গড় সংখ্যা হলো ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ হলো উঠতি বয়সের যুবক-যুবতি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শতকরা ছেষট্টিজনকে স্টোরমালিক রাগ-ধমক দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। স্রেফ চৌত্রিশ শতাংশকে আদালতে শান্তি প্রদান করা হয়েছে। শান্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা হলো শতকরা দশভাগ。
টিকাঃ
২০১ দৈনিক মাশরিক: ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৭ খ্রি., পৃ.২
লন্ডনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এক গবেষক কর্মচারী মিস্টার বাথ জানিয়েছেন—
বৃটেনে শিশুদেরকে চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সেখানে দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের চুরি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো, যেমন—সিধকাটা, দোকান-পাটের মালপত্র চুরি করা, লোহার তালা ও তরবারি ভাঙার ওপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের ভাষ্য হলো—অর্থনৈতিক উন্নতির এ যুগে যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে উন্নতি-অগ্রগতির জোয়ার বইছে, সেখানে চোরের সংখ্যাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিস্টার বাথ এ-ও জানান— আমি যে স্টোরে চাকরি করি, সেখানে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি পনেরো ঘণ্টায় ন্যূনতম একটি চুরির ঘটনা ঘটত। আর এখন প্রতি এগারো ঘণ্টায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যে সকল স্টোরে পাহারাদারি কিছুটা দুর্বল ও শিথিল, সেখানে প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় একটি করে চুরি হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেছেন— ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমাদের দোকান থেকে দুই হাজার তিনশত তেষট্টিটি চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধরা পড়েছে প্রায় ১৯৫৬ থেকে দ্বিগুণ। আর আমরা প্রায় পঁচিশ হাজার টাকার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছি। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে নারীদের গড় সংখ্যা হলো ৬ শতাংশ। আর পুরুষের গড় সংখ্যা হলো ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ হলো উঠতি বয়সের যুবক-যুবতি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শতকরা ছেষট্টিজনকে স্টোরমালিক রাগ-ধমক দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। স্রেফ চৌত্রিশ শতাংশকে আদালতে শান্তি প্রদান করা হয়েছে। শান্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা হলো শতকরা দশভাগ。
টিকাঃ
২০১ দৈনিক মাশরিক: ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৭ খ্রি., পৃ.২
📄 পাঠক-মন্তব্য
মুফতি মুহাম্মাদ আলী জাওহার (জন্ম: জুন ১৯৮৬; শরিয়তপুর, বাংলাদেশ)
একজন হাস্যোজ্জ্বল মেধাবী তরুণ আলিম মুহাম্মাদ আলী জাওহার। পবিত্র কুরআন মাজিদ হিফজের পর রাজধানীর জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ থেকে তিনি দাওরায়ে হাদিস সমাপন করেন। পড়েছেন ফাতওয়া বিভাগেও। রপ্ত করেছেন বাংলাভাষার পাশাপাশি আরবি, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি ভাষাজ্ঞানও। সৃজনশীল লেখালেখিতে শক্তিমান এ তরুণ পৃথিবী বিখ্যাত লেখকদের পুস্তকও করেছেন অনুবাদ। পেশায় তিনি একজন হাদিসের উসতাজ। পড়াশোনা ও গবেষণায় দিন দিন সমকালীন অনেককেই ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত।
ইতোমধ্যেই বাজার আলাকিত করেছে তার লেখা একাধিক পুস্তক। পাঠক-সমাদৃত হয়েছে বেশ কয়েকটি বই। বিভিন্নমুখী লেখা অনুবাদ করলেও তিনি গদ্যকেই বানিয়েছেন নিজের সিঁড়ি। পদ্যে-ছন্দে দখল থাকলেও গদ্য ছাড়া মানুষ তার মূল ভাবনা সহজে বোঝাতে পারে না। তাই গদ্যকে আপন করার চেষ্টায় তিনি শুরু করেছেন মসৃণ ও সুখদ গদ্যের খোঁজে অবিরাম পথচলা।
মুহাম্মাদ আলী জাওহার আমার দেখা সরলপ্রাণ মেধাবী গদ্যলেখক। আমি বিশ্বাস করি, তার হৃদয়ের সারল্য একদিন পৃথিবী আলোকিত করবে।
-মাসউদুল কাদির
সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা
প্রেসিডেন্ট, শীলন বাংলাদেশ
আমরা ভুলোমনা বলে প্রায়-ই হারিয়ে ফেলি পথ। আমরা অচেতন বলে প্রায়ই ছুড়ে ফেলি গাইরত। আমরা অবুঝ বলে আদর্শ ও শিক্ষা খুঁজি বিজাতীয় সংস্কৃতিতে। আমরা বোকা বলে সুখ খুঁজি অসখে। অথচ আমাদের আছে বিশাল আকাশ, যেখানে হাত পাতলে ফিরতে হয় না খালি হাতে। আমাদের আছে বিশাল বটবৃক্ষ, যেখানে ছায়া পায় তাবৎ বিশ্বের অস্থির সমাজ। এই আকাশ আমাদের মালিকের আরশ। আর বটছায়া-সে তো সৌরভে ভরা আমাদের আকাবির-জীবন।
এই বইয়ে বেশ কিছু গল্প আছে। গল্পগুলো নিছক কোনো গল্প না। এগুলো গল্পের আড়ালে থাকা আমাদেরই জীবন-সংকট, সমাধান ও আলোকিত পথ। গল্পগুলো আকাবির-আসলাফগণের বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে থাকা মুক্তা। সেগুলো সযতনে কুড়িয়ে এনেছেন আলোকের মশালধারী আলোকপুরুষ-আমাদেরই লোক-শাইখুল ইসলাম বিচারপতি মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি।
'আকাশের ঝিকিমিকি তারা' আমাদের অন্ধকারে আলোর মশাল হোক।
মুফতি মুহাম্মাদ আলী জাওহার (জন্ম: জুন ১৯৮৬; শরিয়তপুর, বাংলাদেশ)
একজন হাস্যোজ্জ্বল মেধাবী তরুণ আলিম মুহাম্মাদ আলী জাওহার। পবিত্র কুরআন মাজিদ হিফজের পর রাজধানীর জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ থেকে তিনি দাওরায়ে হাদিস সমাপন করেন। পড়েছেন ফাতওয়া বিভাগেও। রপ্ত করেছেন বাংলাভাষার পাশাপাশি আরবি, উর্দু, ফারসি ও ইংরেজি ভাষাজ্ঞানও। সৃজনশীল লেখালেখিতে শক্তিমান এ তরুণ পৃথিবী বিখ্যাত লেখকদের পুস্তকও করেছেন অনুবাদ। পেশায় তিনি একজন হাদিসের উসতাজ। পড়াশোনা ও গবেষণায় দিন দিন সমকালীন অনেককেই ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত।
ইতোমধ্যেই বাজার আলাকিত করেছে তার লেখা একাধিক পুস্তক। পাঠক-সমাদৃত হয়েছে বেশ কয়েকটি বই। বিভিন্নমুখী লেখা অনুবাদ করলেও তিনি গদ্যকেই বানিয়েছেন নিজের সিঁড়ি। পদ্যে-ছন্দে দখল থাকলেও গদ্য ছাড়া মানুষ তার মূল ভাবনা সহজে বোঝাতে পারে না। তাই গদ্যকে আপন করার চেষ্টায় তিনি শুরু করেছেন মসৃণ ও সুখদ গদ্যের খোঁজে অবিরাম পথচলা।
মুহাম্মাদ আলী জাওহার আমার দেখা সরলপ্রাণ মেধাবী গদ্যলেখক। আমি বিশ্বাস করি, তার হৃদয়ের সারল্য একদিন পৃথিবী আলোকিত করবে।
-মাসউদুল কাদির
সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা
প্রেসিডেন্ট, শীলন বাংলাদেশ
আমরা ভুলোমনা বলে প্রায়-ই হারিয়ে ফেলি পথ। আমরা অচেতন বলে প্রায়ই ছুড়ে ফেলি গাইরত। আমরা অবুঝ বলে আদর্শ ও শিক্ষা খুঁজি বিজাতীয় সংস্কৃতিতে। আমরা বোকা বলে সুখ খুঁজি অসখে। অথচ আমাদের আছে বিশাল আকাশ, যেখানে হাত পাতলে ফিরতে হয় না খালি হাতে। আমাদের আছে বিশাল বটবৃক্ষ, যেখানে ছায়া পায় তাবৎ বিশ্বের অস্থির সমাজ। এই আকাশ আমাদের মালিকের আরশ। আর বটছায়া-সে তো সৌরভে ভরা আমাদের আকাবির-জীবন।
এই বইয়ে বেশ কিছু গল্প আছে। গল্পগুলো নিছক কোনো গল্প না। এগুলো গল্পের আড়ালে থাকা আমাদেরই জীবন-সংকট, সমাধান ও আলোকিত পথ। গল্পগুলো আকাবির-আসলাফগণের বিভিন্ন কিতাবে ছড়িয়ে থাকা মুক্তা। সেগুলো সযতনে কুড়িয়ে এনেছেন আলোকের মশালধারী আলোকপুরুষ-আমাদেরই লোক-শাইখুল ইসলাম বিচারপতি মুফতি মুহাম্মাদ তাকি উসমানি।
'আকাশের ঝিকিমিকি তারা' আমাদের অন্ধকারে আলোর মশাল হোক।