📄 ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর মূল্যবান উক্তি
আল্লামা ইবনু সালাহ রহ. ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর একটি অতি মূল্যবান ও স্মরণীয় উক্তি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
الإنقباض عن الناس مكسبة للعداوة، والإنبساط مجلبة لقرناء السوء، فكن بين المنقبض والمنبسط.
মানুষের সঙ্গে মুখ মলিন করে উঠা-বসা করলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর অতিরিক্ত হাসি-খুশির সঙ্গে উঠা-বসা করলে অসৎবন্ধুরা সুযোগ পেয়ে বসে। অতএব, তুমি এতদুভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো。
টিকাঃ
১৯৮ ফাতাওয়া ইবনে সালাহ: ৪/৩১
আল্লামা ইবনু সালাহ রহ. ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর একটি অতি মূল্যবান ও স্মরণীয় উক্তি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
الإنقباض عن الناس مكسبة للعداوة، والإنبساط مجلبة لقرناء السوء، فكن بين المنقبض والمنبسط.
মানুষের সঙ্গে মুখ মলিন করে উঠা-বসা করলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর অতিরিক্ত হাসি-খুশির সঙ্গে উঠা-বসা করলে অসৎবন্ধুরা সুযোগ পেয়ে বসে। অতএব, তুমি এতদুভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো。
টিকাঃ
১৯৮ ফাতাওয়া ইবনে সালাহ: ৪/৩১
📄 ইমাম আবু জুরআর কোমলতা
ইমাম আব জুরআ রহ. হলেন হাদিসশাস্ত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তৃতীয় হিজরি শতকে যথাক্রমে সিরিয়া ও মিশরের বিচারকও ছিলেন। কথিত আছে-তিনিই একমাত্র শাফেয়ি মাজহাবালম্বি আলেম, যিনি প্রথম কোনো বিচারক পদে নিযুক্ত হয়েছেন। সিরিয়াতে তার মাধ্যমেই শাফেয়ি মাজহাবের প্রচার-প্রসার ঘটেছে।
তিনি এত অধিক বিনম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি অন্য আরেক ব্যক্তির থেকে টাকা পাওয়ার দাবি করল। কাজি সাহেব বিবাদীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করল। তিনি বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করত বিবাদীকে বললেন—তুমি তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। এ কথা শোনার পর বিবাদীর চোখে পানি চলে এলো। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল—
আমি তো মিথ্যা বলতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে সত্য কথাটি স্বীকার করলাম; কিন্তু আমার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো এত অর্থকড়ি নেই। অতএব, আপনি আমাকে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। এ কথা শুনে ইমাম আবু জুরআ' রহ. বাদীকে ডেকে তার ঋণের অর্থ নিজের পক্ষ থেকে শোধ করে দিলেন। আর বিবাদীকে ছেড়ে দিলেন।
এ ঘটনা যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তারপর থেকে সুবিধাবাদী লোকেরা এ কৌশল অবলম্বন করতে লাগল যে, নিজের বিরুদ্ধে কোনো ঋণের অভিযোগ থাকলে তা অকপটে স্বীকার করে দৈন্যদশার অজুহাতে অপারগতা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলত আর বন্দিশালায় যেতে চাইত; কিন্তু ইমাম আবু জুরআ' রহ. তার সাবেক নীতি অপরিবর্তন রেখে যথারীতি অন্যদের ঋণ নিজেই শোধ করে দিতেন。
টিকাঃ
১৯৯ আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিনদি, কিতাবুল কুযাত: পৃ.৫২২
ইমাম আব জুরআ রহ. হলেন হাদিসশাস্ত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তৃতীয় হিজরি শতকে যথাক্রমে সিরিয়া ও মিশরের বিচারকও ছিলেন। কথিত আছে-তিনিই একমাত্র শাফেয়ি মাজহাবালম্বি আলেম, যিনি প্রথম কোনো বিচারক পদে নিযুক্ত হয়েছেন। সিরিয়াতে তার মাধ্যমেই শাফেয়ি মাজহাবের প্রচার-প্রসার ঘটেছে।
তিনি এত অধিক বিনম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি অন্য আরেক ব্যক্তির থেকে টাকা পাওয়ার দাবি করল। কাজি সাহেব বিবাদীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করল। তিনি বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করত বিবাদীকে বললেন—তুমি তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। এ কথা শোনার পর বিবাদীর চোখে পানি চলে এলো। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল—
আমি তো মিথ্যা বলতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে সত্য কথাটি স্বীকার করলাম; কিন্তু আমার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো এত অর্থকড়ি নেই। অতএব, আপনি আমাকে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। এ কথা শুনে ইমাম আবু জুরআ' রহ. বাদীকে ডেকে তার ঋণের অর্থ নিজের পক্ষ থেকে শোধ করে দিলেন। আর বিবাদীকে ছেড়ে দিলেন।
এ ঘটনা যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তারপর থেকে সুবিধাবাদী লোকেরা এ কৌশল অবলম্বন করতে লাগল যে, নিজের বিরুদ্ধে কোনো ঋণের অভিযোগ থাকলে তা অকপটে স্বীকার করে দৈন্যদশার অজুহাতে অপারগতা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলত আর বন্দিশালায় যেতে চাইত; কিন্তু ইমাম আবু জুরআ' রহ. তার সাবেক নীতি অপরিবর্তন রেখে যথারীতি অন্যদের ঋণ নিজেই শোধ করে দিতেন。
টিকাঃ
১৯৯ আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিনদি, কিতাবুল কুযাত: পৃ.৫২২
📄 আত্মহত্যার প্রতিযোগিতা
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ত্রিশমিনিটে একটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এর অর্থ হচ্ছে—প্রতি বছর আঠারো হাজার মানুষ আত্মহত্যার শিকার হয়। এ পরিসংখ্যান কেবল আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনুসারে। যারা আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়, তাদের সংখ্যা আনুমানিক দশ লাখ। জনৈক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভিমত হলো—উপরিউক্ত পরিসংখ্যানের বাহিরেও সমাজের বড় একটা অংশ থেকে যায়, যাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা। তারা হলো—অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। অনুরূপভাবে যারা অতিরিক্ত মাদক সেবনে মত্ত হয়ে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়。
টিকাঃ
২০০ দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ২১শে জানুয়ারি-১৯৬৭ খ্রি.
একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে—
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ত্রিশমিনিটে একটি করে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এর অর্থ হচ্ছে—প্রতি বছর আঠারো হাজার মানুষ আত্মহত্যার শিকার হয়। এ পরিসংখ্যান কেবল আত্মহত্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা অনুসারে। যারা আত্মহত্যা করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়, তাদের সংখ্যা আনুমানিক দশ লাখ। জনৈক অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভিমত হলো—উপরিউক্ত পরিসংখ্যানের বাহিরেও সমাজের বড় একটা অংশ থেকে যায়, যাদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করা। তারা হলো—অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর কারণে আকস্মিক মৃত্যুর সম্মুখীন হয়। অনুরূপভাবে যারা অতিরিক্ত মাদক সেবনে মত্ত হয়ে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে আত্মাহুতির পথ বেছে নেয়。
টিকাঃ
২০০ দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস: ২১শে জানুয়ারি-১৯৬৭ খ্রি.
📄 চুরি শেখার স্কুল
লন্ডনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এক গবেষক কর্মচারী মিস্টার বাথ জানিয়েছেন—
বৃটেনে শিশুদেরকে চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সেখানে দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের চুরি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো, যেমন—সিধকাটা, দোকান-পাটের মালপত্র চুরি করা, লোহার তালা ও তরবারি ভাঙার ওপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের ভাষ্য হলো—অর্থনৈতিক উন্নতির এ যুগে যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে উন্নতি-অগ্রগতির জোয়ার বইছে, সেখানে চোরের সংখ্যাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিস্টার বাথ এ-ও জানান— আমি যে স্টোরে চাকরি করি, সেখানে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি পনেরো ঘণ্টায় ন্যূনতম একটি চুরির ঘটনা ঘটত। আর এখন প্রতি এগারো ঘণ্টায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যে সকল স্টোরে পাহারাদারি কিছুটা দুর্বল ও শিথিল, সেখানে প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় একটি করে চুরি হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেছেন— ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমাদের দোকান থেকে দুই হাজার তিনশত তেষট্টিটি চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধরা পড়েছে প্রায় ১৯৫৬ থেকে দ্বিগুণ। আর আমরা প্রায় পঁচিশ হাজার টাকার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছি। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে নারীদের গড় সংখ্যা হলো ৬ শতাংশ। আর পুরুষের গড় সংখ্যা হলো ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ হলো উঠতি বয়সের যুবক-যুবতি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শতকরা ছেষট্টিজনকে স্টোরমালিক রাগ-ধমক দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। স্রেফ চৌত্রিশ শতাংশকে আদালতে শান্তি প্রদান করা হয়েছে। শান্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা হলো শতকরা দশভাগ。
টিকাঃ
২০১ দৈনিক মাশরিক: ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৭ খ্রি., পৃ.২
লন্ডনের একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের এক গবেষক কর্মচারী মিস্টার বাথ জানিয়েছেন—
বৃটেনে শিশুদেরকে চুরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি স্কুল রয়েছে। সেখানে দেশের সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের চুরি বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো, যেমন—সিধকাটা, দোকান-পাটের মালপত্র চুরি করা, লোহার তালা ও তরবারি ভাঙার ওপর উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়ে থাকে। তাদের ভাষ্য হলো—অর্থনৈতিক উন্নতির এ যুগে যেখানে মানবজীবনের প্রতিটি অঙ্গনে উন্নতি-অগ্রগতির জোয়ার বইছে, সেখানে চোরের সংখ্যাও বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিস্টার বাথ এ-ও জানান— আমি যে স্টোরে চাকরি করি, সেখানে ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রতি পনেরো ঘণ্টায় ন্যূনতম একটি চুরির ঘটনা ঘটত। আর এখন প্রতি এগারো ঘণ্টায় এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। যে সকল স্টোরে পাহারাদারি কিছুটা দুর্বল ও শিথিল, সেখানে প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় একটি করে চুরি হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেছেন— ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে আমাদের দোকান থেকে দুই হাজার তিনশত তেষট্টিটি চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে ধরা পড়েছে প্রায় ১৯৫৬ থেকে দ্বিগুণ। আর আমরা প্রায় পঁচিশ হাজার টাকার চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছি। গ্রেফতারকৃতদের মাঝে নারীদের গড় সংখ্যা হলো ৬ শতাংশ। আর পুরুষের গড় সংখ্যা হলো ২৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৪৭ শতাংশ হলো উঠতি বয়সের যুবক-যুবতি। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে শতকরা ছেষট্টিজনকে স্টোরমালিক রাগ-ধমক দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। স্রেফ চৌত্রিশ শতাংশকে আদালতে শান্তি প্রদান করা হয়েছে। শান্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা হলো শতকরা দশভাগ。
টিকাঃ
২০১ দৈনিক মাশরিক: ১৯ এপ্রিল, ১৯৬৭ খ্রি., পৃ.২