📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 নজিরবিহীন দান

📄 নজিরবিহীন দান


আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!

টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০

আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!

টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 ইসলামের সৌন্দর্য

📄 ইসলামের সৌন্দর্য


এক মুসলিমছাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে তার হোস্টেলে থাকত এক ইংরেজ মহিলা। বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাও সে হোস্টেলে থাকত। ইংরেজ মহিলাটি সকলের কাপড় চোপড় ধুয়ে দিত। একবার সে মুসলিম-ছাত্রটিকে প্রশ্ন করল-
: আপনি কি আমার কাপড় ধোয়ার প্রতি আস্থাশীল নন?
: কেন হবো না? আপনি অতি যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাপড় ধুয়ে থাকেন-সেটা আমি ভালোভাবেই জানি।
: তাহলে আপনি তা নিজে ধোয়ার পর আমাকে কেন ধুতে দেন?
: আমি এমনটি কেন করবো? আমি নিজে ধুতে পারলে কি আর আপনাকে দিতাম?
: তাহলে অন্যান্যদের মতো আপনার প্যান্টে কেন দাগ ও দুর্গন্ধ থাকে না?
: ম্যাডাম, আমি একজন মুসলিম। আমার ধর্ম আমাকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়। যদি আমার পায়জামা কিংবা প্যান্টে কোনোভাবে এক ফোঁটা পেশাবও লেগে যায়, তবে আমি সেটাকে না ধুয়ে নামাজ আদায় করতে পারি না। এজন্য আমার জামা কাপড়ও অপবিত্র থাকে না। যখন আপনাকে ধোয়ার জন্য দিই, তখনো পাকসাফ থাকে।
: আপনাদের ইসলাম এত মামুলি বিষয়েও শিক্ষা দেয়?!
: শুধু তাই নয়। আমাদের প্রিয় নবী সা. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো আমরা টয়লেটে ঢুকতে একটি বিশেষ দুআ ও বেরুতে আরেকটি দুআ পড়ে থাকি। এমনিভাবে কাপড় পরিধান করা, খানা খাওয়া, ঘরে ঢোকা, ঘর থেকে বের হওয়াসহ যাপিত জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা নবীজির শেখানো দুআ পড়ে থাকি। যাতে আল্লাহ তাআলার সাথে আমাদের সুদৃঢ় ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার বদৌলতে তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেবেন এবং ভ্রান্ত পথ থেকে বিরত রাখবেন।
ইংরেজ মহিলার নিকট যুবক ছাত্রটির কথাগুলো রূপকথার মতো মনে হলেও এতে সে বেশ মুগ্ধ হলো। এরপর থেকে মহিলাটি মুসলিম যুবকের উঠা-বসা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। তার কৃষ্টি-কালচার, শুচিতা, ভদ্রতা, নিষ্কলুষতা ও অমায়িক আচরণের বিভিন্ন দৃশ্য মহিলার হৃদয়মাঝে ইসলামের প্রতি বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করল। সে ধীরে ধীরে মুসলিম ছাত্রটির কাছ থেকে ইসলামের যাবতীয় বুনিয়াদি ও প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে লাগল।
এভাবে এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সত্যতা তার মইবনু জায়গা করে নিল। হকের পিদিম তার অন্তরকেও উদ্ভাসিত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে কেবল সে-ই নয়; বরং তার পরিবার-পরিজনসহ বংশের অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে。

টিকাঃ
১৯৭ মাজাল্লাতুত তাযামুনিল ইসলামি ১৪০৪হি, সংখ্যা, পৃ.৬৬-৬৭

এক মুসলিমছাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে তার হোস্টেলে থাকত এক ইংরেজ মহিলা। বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাও সে হোস্টেলে থাকত। ইংরেজ মহিলাটি সকলের কাপড় চোপড় ধুয়ে দিত। একবার সে মুসলিম-ছাত্রটিকে প্রশ্ন করল-
: আপনি কি আমার কাপড় ধোয়ার প্রতি আস্থাশীল নন?
: কেন হবো না? আপনি অতি যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাপড় ধুয়ে থাকেন-সেটা আমি ভালোভাবেই জানি।
: তাহলে আপনি তা নিজে ধোয়ার পর আমাকে কেন ধুতে দেন?
: আমি এমনটি কেন করবো? আমি নিজে ধুতে পারলে কি আর আপনাকে দিতাম?
: তাহলে অন্যান্যদের মতো আপনার প্যান্টে কেন দাগ ও দুর্গন্ধ থাকে না?
: ম্যাডাম, আমি একজন মুসলিম। আমার ধর্ম আমাকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়। যদি আমার পায়জামা কিংবা প্যান্টে কোনোভাবে এক ফোঁটা পেশাবও লেগে যায়, তবে আমি সেটাকে না ধুয়ে নামাজ আদায় করতে পারি না। এজন্য আমার জামা কাপড়ও অপবিত্র থাকে না। যখন আপনাকে ধোয়ার জন্য দিই, তখনো পাকসাফ থাকে।
: আপনাদের ইসলাম এত মামুলি বিষয়েও শিক্ষা দেয়?!
: শুধু তাই নয়। আমাদের প্রিয় নবী সা. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো আমরা টয়লেটে ঢুকতে একটি বিশেষ দুআ ও বেরুতে আরেকটি দুআ পড়ে থাকি। এমনিভাবে কাপড় পরিধান করা, খানা খাওয়া, ঘরে ঢোকা, ঘর থেকে বের হওয়াসহ যাপিত জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা নবীজির শেখানো দুআ পড়ে থাকি। যাতে আল্লাহ তাআলার সাথে আমাদের সুদৃঢ় ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার বদৌলতে তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেবেন এবং ভ্রান্ত পথ থেকে বিরত রাখবেন।
ইংরেজ মহিলার নিকট যুবক ছাত্রটির কথাগুলো রূপকথার মতো মনে হলেও এতে সে বেশ মুগ্ধ হলো। এরপর থেকে মহিলাটি মুসলিম যুবকের উঠা-বসা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। তার কৃষ্টি-কালচার, শুচিতা, ভদ্রতা, নিষ্কলুষতা ও অমায়িক আচরণের বিভিন্ন দৃশ্য মহিলার হৃদয়মাঝে ইসলামের প্রতি বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করল। সে ধীরে ধীরে মুসলিম ছাত্রটির কাছ থেকে ইসলামের যাবতীয় বুনিয়াদি ও প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে লাগল।
এভাবে এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সত্যতা তার মইবনু জায়গা করে নিল। হকের পিদিম তার অন্তরকেও উদ্ভাসিত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে কেবল সে-ই নয়; বরং তার পরিবার-পরিজনসহ বংশের অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে。

টিকাঃ
১৯৭ মাজাল্লাতুত তাযামুনিল ইসলামি ১৪০৪হি, সংখ্যা, পৃ.৬৬-৬৭

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর মূল্যবান উক্তি

📄 ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর মূল্যবান উক্তি


আল্লামা ইবনু সালাহ রহ. ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর একটি অতি মূল্যবান ও স্মরণীয় উক্তি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
الإنقباض عن الناس مكسبة للعداوة، والإنبساط مجلبة لقرناء السوء، فكن بين المنقبض والمنبسط.
মানুষের সঙ্গে মুখ মলিন করে উঠা-বসা করলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর অতিরিক্ত হাসি-খুশির সঙ্গে উঠা-বসা করলে অসৎবন্ধুরা সুযোগ পেয়ে বসে। অতএব, তুমি এতদুভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো。

টিকাঃ
১৯৮ ফাতাওয়া ইবনে সালাহ: ৪/৩১

আল্লামা ইবনু সালাহ রহ. ইমাম শাফেয়ি রহ.-এর একটি অতি মূল্যবান ও স্মরণীয় উক্তি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন-
الإنقباض عن الناس مكسبة للعداوة، والإنبساط مجلبة لقرناء السوء، فكن بين المنقبض والمنبسط.
মানুষের সঙ্গে মুখ মলিন করে উঠা-বসা করলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়। আর অতিরিক্ত হাসি-খুশির সঙ্গে উঠা-বসা করলে অসৎবন্ধুরা সুযোগ পেয়ে বসে। অতএব, তুমি এতদুভয়ের মধ্যবর্তী পন্থা অবলম্বন করো。

টিকাঃ
১৯৮ ফাতাওয়া ইবনে সালাহ: ৪/৩১

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 ইমাম আবু জুরআর কোমলতা

📄 ইমাম আবু জুরআর কোমলতা


ইমাম আব জুরআ রহ. হলেন হাদিসশাস্ত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তৃতীয় হিজরি শতকে যথাক্রমে সিরিয়া ও মিশরের বিচারকও ছিলেন। কথিত আছে-তিনিই একমাত্র শাফেয়ি মাজহাবালম্বি আলেম, যিনি প্রথম কোনো বিচারক পদে নিযুক্ত হয়েছেন। সিরিয়াতে তার মাধ্যমেই শাফেয়ি মাজহাবের প্রচার-প্রসার ঘটেছে।
তিনি এত অধিক বিনম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি অন্য আরেক ব্যক্তির থেকে টাকা পাওয়ার দাবি করল। কাজি সাহেব বিবাদীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করল। তিনি বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করত বিবাদীকে বললেন—তুমি তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। এ কথা শোনার পর বিবাদীর চোখে পানি চলে এলো। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল—
আমি তো মিথ্যা বলতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে সত্য কথাটি স্বীকার করলাম; কিন্তু আমার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো এত অর্থকড়ি নেই। অতএব, আপনি আমাকে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। এ কথা শুনে ইমাম আবু জুরআ' রহ. বাদীকে ডেকে তার ঋণের অর্থ নিজের পক্ষ থেকে শোধ করে দিলেন। আর বিবাদীকে ছেড়ে দিলেন।
এ ঘটনা যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তারপর থেকে সুবিধাবাদী লোকেরা এ কৌশল অবলম্বন করতে লাগল যে, নিজের বিরুদ্ধে কোনো ঋণের অভিযোগ থাকলে তা অকপটে স্বীকার করে দৈন্যদশার অজুহাতে অপারগতা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলত আর বন্দিশালায় যেতে চাইত; কিন্তু ইমাম আবু জুরআ' রহ. তার সাবেক নীতি অপরিবর্তন রেখে যথারীতি অন্যদের ঋণ নিজেই শোধ করে দিতেন。

টিকাঃ
১৯৯ আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিনদি, কিতাবুল কুযাত: পৃ.৫২২

ইমাম আব জুরআ রহ. হলেন হাদিসশাস্ত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি তৃতীয় হিজরি শতকে যথাক্রমে সিরিয়া ও মিশরের বিচারকও ছিলেন। কথিত আছে-তিনিই একমাত্র শাফেয়ি মাজহাবালম্বি আলেম, যিনি প্রথম কোনো বিচারক পদে নিযুক্ত হয়েছেন। সিরিয়াতে তার মাধ্যমেই শাফেয়ি মাজহাবের প্রচার-প্রসার ঘটেছে।
তিনি এত অধিক বিনম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি অন্য আরেক ব্যক্তির থেকে টাকা পাওয়ার দাবি করল। কাজি সাহেব বিবাদীকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করল। তিনি বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করত বিবাদীকে বললেন—তুমি তার ঋণ পরিশোধ করে দাও। এ কথা শোনার পর বিবাদীর চোখে পানি চলে এলো। কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল—
আমি তো মিথ্যা বলতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে সত্য কথাটি স্বীকার করলাম; কিন্তু আমার কাছে ঋণ পরিশোধ করার মতো এত অর্থকড়ি নেই। অতএব, আপনি আমাকে জেলখানায় পাঠিয়ে দেন। এ কথা শুনে ইমাম আবু জুরআ' রহ. বাদীকে ডেকে তার ঋণের অর্থ নিজের পক্ষ থেকে শোধ করে দিলেন। আর বিবাদীকে ছেড়ে দিলেন।
এ ঘটনা যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল, তারপর থেকে সুবিধাবাদী লোকেরা এ কৌশল অবলম্বন করতে লাগল যে, নিজের বিরুদ্ধে কোনো ঋণের অভিযোগ থাকলে তা অকপটে স্বীকার করে দৈন্যদশার অজুহাতে অপারগতা প্রকাশ করে কেঁদে ফেলত আর বন্দিশালায় যেতে চাইত; কিন্তু ইমাম আবু জুরআ' রহ. তার সাবেক নীতি অপরিবর্তন রেখে যথারীতি অন্যদের ঋণ নিজেই শোধ করে দিতেন。

টিকাঃ
১৯৯ আল্লামা মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-কিনদি, কিতাবুল কুযাত: পৃ.৫২২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00