📄 অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের উদারনীতি
আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!
টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯
আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!
টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯
📄 আল্লাহর রাস্তায় প্রতারণা
কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。
টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭
কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。
টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭
📄 নজিরবিহীন দান
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!
টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!
টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০
📄 ইসলামের সৌন্দর্য
এক মুসলিমছাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে তার হোস্টেলে থাকত এক ইংরেজ মহিলা। বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাও সে হোস্টেলে থাকত। ইংরেজ মহিলাটি সকলের কাপড় চোপড় ধুয়ে দিত। একবার সে মুসলিম-ছাত্রটিকে প্রশ্ন করল-
: আপনি কি আমার কাপড় ধোয়ার প্রতি আস্থাশীল নন?
: কেন হবো না? আপনি অতি যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাপড় ধুয়ে থাকেন-সেটা আমি ভালোভাবেই জানি।
: তাহলে আপনি তা নিজে ধোয়ার পর আমাকে কেন ধুতে দেন?
: আমি এমনটি কেন করবো? আমি নিজে ধুতে পারলে কি আর আপনাকে দিতাম?
: তাহলে অন্যান্যদের মতো আপনার প্যান্টে কেন দাগ ও দুর্গন্ধ থাকে না?
: ম্যাডাম, আমি একজন মুসলিম। আমার ধর্ম আমাকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়। যদি আমার পায়জামা কিংবা প্যান্টে কোনোভাবে এক ফোঁটা পেশাবও লেগে যায়, তবে আমি সেটাকে না ধুয়ে নামাজ আদায় করতে পারি না। এজন্য আমার জামা কাপড়ও অপবিত্র থাকে না। যখন আপনাকে ধোয়ার জন্য দিই, তখনো পাকসাফ থাকে।
: আপনাদের ইসলাম এত মামুলি বিষয়েও শিক্ষা দেয়?!
: শুধু তাই নয়। আমাদের প্রিয় নবী সা. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো আমরা টয়লেটে ঢুকতে একটি বিশেষ দুআ ও বেরুতে আরেকটি দুআ পড়ে থাকি। এমনিভাবে কাপড় পরিধান করা, খানা খাওয়া, ঘরে ঢোকা, ঘর থেকে বের হওয়াসহ যাপিত জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা নবীজির শেখানো দুআ পড়ে থাকি। যাতে আল্লাহ তাআলার সাথে আমাদের সুদৃঢ় ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার বদৌলতে তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেবেন এবং ভ্রান্ত পথ থেকে বিরত রাখবেন।
ইংরেজ মহিলার নিকট যুবক ছাত্রটির কথাগুলো রূপকথার মতো মনে হলেও এতে সে বেশ মুগ্ধ হলো। এরপর থেকে মহিলাটি মুসলিম যুবকের উঠা-বসা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। তার কৃষ্টি-কালচার, শুচিতা, ভদ্রতা, নিষ্কলুষতা ও অমায়িক আচরণের বিভিন্ন দৃশ্য মহিলার হৃদয়মাঝে ইসলামের প্রতি বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করল। সে ধীরে ধীরে মুসলিম ছাত্রটির কাছ থেকে ইসলামের যাবতীয় বুনিয়াদি ও প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে লাগল।
এভাবে এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সত্যতা তার মইবনু জায়গা করে নিল। হকের পিদিম তার অন্তরকেও উদ্ভাসিত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে কেবল সে-ই নয়; বরং তার পরিবার-পরিজনসহ বংশের অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে。
টিকাঃ
১৯৭ মাজাল্লাতুত তাযামুনিল ইসলামি ১৪০৪হি, সংখ্যা, পৃ.৬৬-৬৭
এক মুসলিমছাত্র উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিল। সেখানে তার হোস্টেলে থাকত এক ইংরেজ মহিলা। বিভিন্ন দেশের ছাত্ররাও সে হোস্টেলে থাকত। ইংরেজ মহিলাটি সকলের কাপড় চোপড় ধুয়ে দিত। একবার সে মুসলিম-ছাত্রটিকে প্রশ্ন করল-
: আপনি কি আমার কাপড় ধোয়ার প্রতি আস্থাশীল নন?
: কেন হবো না? আপনি অতি যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাপড় ধুয়ে থাকেন-সেটা আমি ভালোভাবেই জানি।
: তাহলে আপনি তা নিজে ধোয়ার পর আমাকে কেন ধুতে দেন?
: আমি এমনটি কেন করবো? আমি নিজে ধুতে পারলে কি আর আপনাকে দিতাম?
: তাহলে অন্যান্যদের মতো আপনার প্যান্টে কেন দাগ ও দুর্গন্ধ থাকে না?
: ম্যাডাম, আমি একজন মুসলিম। আমার ধর্ম আমাকে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা শিক্ষা দেয়। যদি আমার পায়জামা কিংবা প্যান্টে কোনোভাবে এক ফোঁটা পেশাবও লেগে যায়, তবে আমি সেটাকে না ধুয়ে নামাজ আদায় করতে পারি না। এজন্য আমার জামা কাপড়ও অপবিত্র থাকে না। যখন আপনাকে ধোয়ার জন্য দিই, তখনো পাকসাফ থাকে।
: আপনাদের ইসলাম এত মামুলি বিষয়েও শিক্ষা দেয়?!
: শুধু তাই নয়। আমাদের প্রিয় নবী সা. আমাদেরকে সর্বদা আল্লাহর স্মরণে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো আমরা টয়লেটে ঢুকতে একটি বিশেষ দুআ ও বেরুতে আরেকটি দুআ পড়ে থাকি। এমনিভাবে কাপড় পরিধান করা, খানা খাওয়া, ঘরে ঢোকা, ঘর থেকে বের হওয়াসহ যাপিত জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে আমরা নবীজির শেখানো দুআ পড়ে থাকি। যাতে আল্লাহ তাআলার সাথে আমাদের সুদৃঢ় ও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যার বদৌলতে তিনি আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেবেন এবং ভ্রান্ত পথ থেকে বিরত রাখবেন।
ইংরেজ মহিলার নিকট যুবক ছাত্রটির কথাগুলো রূপকথার মতো মনে হলেও এতে সে বেশ মুগ্ধ হলো। এরপর থেকে মহিলাটি মুসলিম যুবকের উঠা-বসা, চাল-চলন, আচার-ব্যবহার ইত্যাদি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করত। তার কৃষ্টি-কালচার, শুচিতা, ভদ্রতা, নিষ্কলুষতা ও অমায়িক আচরণের বিভিন্ন দৃশ্য মহিলার হৃদয়মাঝে ইসলামের প্রতি বিশেষ কৌতূহল সৃষ্টি করল। সে ধীরে ধীরে মুসলিম ছাত্রটির কাছ থেকে ইসলামের যাবতীয় বুনিয়াদি ও প্রাথমিক বিষয়াদি সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান অর্জন করতে লাগল।
এভাবে এক পর্যায়ে ইসলাম ধর্মের সত্যতা তার মইবনু জায়গা করে নিল। হকের পিদিম তার অন্তরকেও উদ্ভাসিত করেছিল। যার ফলশ্রুতিতে কেবল সে-ই নয়; বরং তার পরিবার-পরিজনসহ বংশের অনেকেই ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় গ্রহণ করে。
টিকাঃ
১৯৭ মাজাল্লাতুত তাযামুনিল ইসলামি ১৪০৪হি, সংখ্যা, পৃ.৬৬-৬৭