📄 যার পাপ তার গর্দান
খলিফা মু'তাজ বিল্লাহ'র যুগে মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন আহমদ ইবনু তুলুন। এর আগে তিনি বিখ্যাত তুর্কি বাদশা তুলুনের নিকট ছিলেন। তুলুন তাকে নিজের পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন। একবার তিনি আহমদকে বিশেষ কাজে রাজদরবারে পাঠালেন। আহমদ সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন—রাজদরবারে এক চাকরানী অপর এক চাকরের সঙ্গে বেহায়াপনায় লিপ্ত।
আহমদ ইবনু তুলুন সেখানকার কাজ সেরে বাদশার নিকট ফিরে এলেন; কিন্তু এদের কুকর্ম সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। এদিকে চাকরানী ভেবেছিল ইবনু তুলুন নিঃসন্দেহে আমার বিরুদ্ধে বাদশার কাছে নালিশ করেছে। তাই সে উল্টো বাদশার নিকট এসে অভিযোগ করে বলল, জাঁহাপনা! আহমদ ইবনু তুলুন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। চাকরানী এমন ভঙ্গিতে বাদশার নিকট অভিযোগ করেছিল যে, বাদশা এতে বেশ প্রভাবিত হলেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে ডেকে পাঠালেন। এবং চাকরানীর অভিযোগের ব্যাপারে মৌখিক কোনো কিছু না বলে কেবল সীলযুক্ত একটি চিরকুট হাতে দিয়ে বললেন, এটা অমুক আমিরের নিকট দেবে। তাতে লেখা ছিল—
পত্রবাহক তোমার নিকট পৌঁছামাত্র তাকে হত্যা করে তার ছিন্নশির আমার নিকট পাঠিয়ে দেবে।
আহমদ ইবনু তুলুন কল্পনাও করতে পারেন নি যে, তার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত চলছে। তিনি নিশ্চিন্তে পত্রটি নিয়ে রওনা হলেন। পথে দাঁড়িয়ে ছিল চাকরানী। তার বিশ্বাস ছিল বাদশা ইবনু তুলুনকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখলে আরও নিশ্চিত হবেন যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য ছিল। এই ভেবে সে ইবনু তুলুনের সঙ্গে কথা বলার ফন্দি খুঁজতে লাগল। এবং এ সম্পর্কে বলল, আমার একটি জরুরি চিঠি লেখা প্রয়োজন। আপনি দয়া করে লিখে দেন! আমি এ পত্রটি অন্য কারও মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
চাকরানী পত্রটি ওই চাকরের হাতে দিল, যার সঙ্গে সে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। চাকর পত্রটি প্রাপকের নিকট হস্তান্তর করার সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে হত্যা করে মুণ্ড বাদশার নিকট পাঠিয়ে দিল। বাদশা মুণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। এবং ইবনু তুলুনকে ডাকালেন। তিনি বাদশাকে পুরো ঘটনা শোনালেন। এদিকে চাকরানীও নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। সেদিন থেকে আহমদ ইবনু তুলুনের প্রতি বাদশার আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। একপর্যায়ে বাদশা অসিয়ত করলেন—
আমার অবর্তমানে ইবনু তুলুনই আমার স্থলাভিষিক্ত হবে。
টিকাঃ
১৯০ প্রাগুক্ত: ১১/৪৬
খলিফা মু'তাজ বিল্লাহ'র যুগে মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন আহমদ ইবনু তুলুন। এর আগে তিনি বিখ্যাত তুর্কি বাদশা তুলুনের নিকট ছিলেন। তুলুন তাকে নিজের পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন। একবার তিনি আহমদকে বিশেষ কাজে রাজদরবারে পাঠালেন। আহমদ সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন—রাজদরবারে এক চাকরানী অপর এক চাকরের সঙ্গে বেহায়াপনায় লিপ্ত।
আহমদ ইবনু তুলুন সেখানকার কাজ সেরে বাদশার নিকট ফিরে এলেন; কিন্তু এদের কুকর্ম সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। এদিকে চাকরানী ভেবেছিল ইবনু তুলুন নিঃসন্দেহে আমার বিরুদ্ধে বাদশার কাছে নালিশ করেছে। তাই সে উল্টো বাদশার নিকট এসে অভিযোগ করে বলল, জাঁহাপনা! আহমদ ইবনু তুলুন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। চাকরানী এমন ভঙ্গিতে বাদশার নিকট অভিযোগ করেছিল যে, বাদশা এতে বেশ প্রভাবিত হলেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে ডেকে পাঠালেন। এবং চাকরানীর অভিযোগের ব্যাপারে মৌখিক কোনো কিছু না বলে কেবল সীলযুক্ত একটি চিরকুট হাতে দিয়ে বললেন, এটা অমুক আমিরের নিকট দেবে। তাতে লেখা ছিল—
পত্রবাহক তোমার নিকট পৌঁছামাত্র তাকে হত্যা করে তার ছিন্নশির আমার নিকট পাঠিয়ে দেবে।
আহমদ ইবনু তুলুন কল্পনাও করতে পারেন নি যে, তার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত চলছে। তিনি নিশ্চিন্তে পত্রটি নিয়ে রওনা হলেন। পথে দাঁড়িয়ে ছিল চাকরানী। তার বিশ্বাস ছিল বাদশা ইবনু তুলুনকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখলে আরও নিশ্চিত হবেন যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য ছিল। এই ভেবে সে ইবনু তুলুনের সঙ্গে কথা বলার ফন্দি খুঁজতে লাগল। এবং এ সম্পর্কে বলল, আমার একটি জরুরি চিঠি লেখা প্রয়োজন। আপনি দয়া করে লিখে দেন! আমি এ পত্রটি অন্য কারও মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
চাকরানী পত্রটি ওই চাকরের হাতে দিল, যার সঙ্গে সে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। চাকর পত্রটি প্রাপকের নিকট হস্তান্তর করার সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে হত্যা করে মুণ্ড বাদশার নিকট পাঠিয়ে দিল। বাদশা মুণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। এবং ইবনু তুলুনকে ডাকালেন। তিনি বাদশাকে পুরো ঘটনা শোনালেন। এদিকে চাকরানীও নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। সেদিন থেকে আহমদ ইবনু তুলুনের প্রতি বাদশার আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। একপর্যায়ে বাদশা অসিয়ত করলেন—
আমার অবর্তমানে ইবনু তুলুনই আমার স্থলাভিষিক্ত হবে。
টিকাঃ
১৯০ প্রাগুক্ত: ১১/৪৬
📄 অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের উদারনীতি
আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!
টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯
আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!
টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯
📄 আল্লাহর রাস্তায় প্রতারণা
কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。
টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭
কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。
টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭
📄 নজিরবিহীন দান
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!
টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র নাফে' রহ. বলেন, একবার উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট বিশ হাজার রৌপ্যমুদ্রার বেশি অর্থ এলো; কিন্তু যে মজলিসে উক্ত অর্থ এসেছিল সে মজলিসেই তিনি সকল অর্থ বিতরণ করে তবেই ক্ষান্ত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর একজন ভিক্ষুক এলো। তখন তার হাতে দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। তাই কিছুক্ষণ পূর্বে যাদেরকে দান করেছিলেন, তাদের থেকে ঋণ করে ভিক্ষুককে দান করলেন।
একবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। পরিবারের লোকজন কোথাও থেকে কিছু আঙুর জোগাড় করল। ঘটনাক্রমে এক ভিখারি এসে হাজির। সে আঙুরগুলো দেখে তা-ই চেয়ে বসল। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু আঙুরগুলো তাকেই দিয়ে দিতে বললেন। পরিবারের লোকেরা অনেক করে বলল, এগুলো আপনি খান। আমরা ভিখারির জন্য অন্য কিছুর ব্যবস্থা করছি; কিন্তু আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুতেই মানলেন না। তিনি তাঁর কথায় অনড়। শেষ পর্যন্ত তারা আঙুরগুলো ভিক্ষুককে দিতে বাধ্য হলো। পরে আবার তার কাছ থেকেই কিনে নিয়ে ইবনু উমারের কাছে পেশ করল।
১৯৪
ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর আজীবনের অভ্যাস ছিল—তিনি কখনো একাকী খানা খেতেন না। সবসময় তার দস্তরখানে গরিব-মিসকিনদের ভিড় থাকত। একবার বাড়ির লোকজন ফন্দি করে আশপাশের গরিবদেরকে আগে থেকেই খানা খাইয়ে দিয়ে বলল—তোমাদেরকে ইবনু উমার খানা খেতে ডাকলে তোমরা অপারগতা প্রকাশ করবে। যথারীতি তিনি তাদের খানা খেতে ডাকলে তারা অক্ষমতা প্রকাশ করল। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু সেদিন কোনো খাওয়া-দাওয়া করেন নি। সারাটি রাত না খেয়েই কাটিয়ে দিলেন!
আরেকবার ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু -কে জনৈক ব্যক্তি হজমি ঔষধ দিয়ে বলল-
হুজুর, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য বেশ উপকারী ঔষধ। এতে খাদ্যচাহিদা বাড়বে।
তিনি তাকে বললেন-
আমার কোনো কোনো সময় সারা মাসেও একবার পেট পুরে খাওয়া হয় না। হজমি ঔষধ দিয়ে কী করবো?!
টিকাঃ
১৯৪ প্রাগুক্ত: ৪/১৫৮
১৯৫ প্রাগুক্ত: ৪/১৬৬
১৯৬ প্রাগুক্ত: ৪/১৫০