📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 মুহাম্মদ নামি চারজন মুহাদ্দিস

📄 মুহাম্মদ নামি চারজন মুহাদ্দিস


তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে মিশরে চারজন কালজয়ী মুহাদ্দিসের আবির্ভাব হয়েছিল। ঘটনাক্রমে চারজনেরই নাম ছিল মুহাম্মদ। সকলেই হাদিসশাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তারা হলেন—মুহাম্মদ ইবনু নসর মারওয়াজি রহ., মুহাম্মদ ইবনু জারির তাবারি রহ., মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির রহ. ও মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু খুজায়মা রহ.। তাদের একটি বিরল ও আশ্চর্য ঘটনা হাফিজ ইবনু কাসির রহ. উল্লেখ করেছেন। তারা সকলেই ইলমে হাদিসের বিভিন্ন শাখায় খেদমত করেছেন। ইলমি খেদমতে গভীর নিমগ্নতার দরুন অনেক সময় তারা অভাব-অনটন ও ভয়াবহ দরিদ্রতার শিকার হতেন। কখনো কখনো অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতেন। একদিন সকলে মিলে হাদিস সংকলনে ব্যস্ত ছিলেন। সেদিন কারও কাছে খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না। পরিশেষে সিদ্ধান্ত হলো—চারজনের মধ্যে একজন জীবিকার জন্য বের হবেন। বাকিরা ইলমি কাজে থাকবেন। সেমতে লটারি করা হলো। নাম উঠল মুহাম্মদ ইবনু নসর মারওয়াজির। তিনি জীবিকা উপার্জনের জন্য বের হওয়ার পূর্বে নামাজ পড়ে দুআ করতে লাগলেন। সময়টা ছিল ঠিক দুপুর। মিশরের শাসনকর্তা আহমদ ইবনু তুলুন তখন প্রাসাদে বিশ্রাম করছিলেন। ঘুমে দু'জাহানের বাদশা প্রিয় নবীজির সঙ্গে তার জিয়ারত নসিব হয়।
স্বপ্নে নবীজি তাকে বললেন, মুহাদ্দিসদের খবর নাও। তাদের খাওয়ার মতো কিছু নেই। ঘুম ভাঙার পর ইবনু তুলুন খোঁজ নিলেন—এ শহরের মুহাদ্দিস কে কে? লোকেরা তাঁর নিকট তাদের একটি তালিকা পেশ করল। আহমদ ইবনু তুলুন তৎক্ষণাৎ একহাজার দিনার পাঠালেন। অধিকন্তু যে ঘরে তারা হাদিস চর্চা করতেন সে ঘরটিকে খরিদ করে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিলেন। এবং সেখানকার একটি জমিন ওয়াকফ করে তথায় ইলমে হাদিস চর্চার কেন্দ্র স্থাপন করেন。

টিকাঃ
১৮৯ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/১০৩

তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে মিশরে চারজন কালজয়ী মুহাদ্দিসের আবির্ভাব হয়েছিল। ঘটনাক্রমে চারজনেরই নাম ছিল মুহাম্মদ। সকলেই হাদিসশাস্ত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তারা হলেন—মুহাম্মদ ইবনু নসর মারওয়াজি রহ., মুহাম্মদ ইবনু জারির তাবারি রহ., মুহাম্মদ ইবনুল মুনজির রহ. ও মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক ইবনু খুজায়মা রহ.। তাদের একটি বিরল ও আশ্চর্য ঘটনা হাফিজ ইবনু কাসির রহ. উল্লেখ করেছেন। তারা সকলেই ইলমে হাদিসের বিভিন্ন শাখায় খেদমত করেছেন। ইলমি খেদমতে গভীর নিমগ্নতার দরুন অনেক সময় তারা অভাব-অনটন ও ভয়াবহ দরিদ্রতার শিকার হতেন। কখনো কখনো অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতেন। একদিন সকলে মিলে হাদিস সংকলনে ব্যস্ত ছিলেন। সেদিন কারও কাছে খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না। পরিশেষে সিদ্ধান্ত হলো—চারজনের মধ্যে একজন জীবিকার জন্য বের হবেন। বাকিরা ইলমি কাজে থাকবেন। সেমতে লটারি করা হলো। নাম উঠল মুহাম্মদ ইবনু নসর মারওয়াজির। তিনি জীবিকা উপার্জনের জন্য বের হওয়ার পূর্বে নামাজ পড়ে দুআ করতে লাগলেন। সময়টা ছিল ঠিক দুপুর। মিশরের শাসনকর্তা আহমদ ইবনু তুলুন তখন প্রাসাদে বিশ্রাম করছিলেন। ঘুমে দু'জাহানের বাদশা প্রিয় নবীজির সঙ্গে তার জিয়ারত নসিব হয়।
স্বপ্নে নবীজি তাকে বললেন, মুহাদ্দিসদের খবর নাও। তাদের খাওয়ার মতো কিছু নেই। ঘুম ভাঙার পর ইবনু তুলুন খোঁজ নিলেন—এ শহরের মুহাদ্দিস কে কে? লোকেরা তাঁর নিকট তাদের একটি তালিকা পেশ করল। আহমদ ইবনু তুলুন তৎক্ষণাৎ একহাজার দিনার পাঠালেন। অধিকন্তু যে ঘরে তারা হাদিস চর্চা করতেন সে ঘরটিকে খরিদ করে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দিলেন। এবং সেখানকার একটি জমিন ওয়াকফ করে তথায় ইলমে হাদিস চর্চার কেন্দ্র স্থাপন করেন。

টিকাঃ
১৮৯ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/১০৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 যার পাপ তার গর্দান

📄 যার পাপ তার গর্দান


খলিফা মু'তাজ বিল্লাহ'র যুগে মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন আহমদ ইবনু তুলুন। এর আগে তিনি বিখ্যাত তুর্কি বাদশা তুলুনের নিকট ছিলেন। তুলুন তাকে নিজের পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন। একবার তিনি আহমদকে বিশেষ কাজে রাজদরবারে পাঠালেন। আহমদ সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন—রাজদরবারে এক চাকরানী অপর এক চাকরের সঙ্গে বেহায়াপনায় লিপ্ত।
আহমদ ইবনু তুলুন সেখানকার কাজ সেরে বাদশার নিকট ফিরে এলেন; কিন্তু এদের কুকর্ম সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। এদিকে চাকরানী ভেবেছিল ইবনু তুলুন নিঃসন্দেহে আমার বিরুদ্ধে বাদশার কাছে নালিশ করেছে। তাই সে উল্টো বাদশার নিকট এসে অভিযোগ করে বলল, জাঁহাপনা! আহমদ ইবনু তুলুন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। চাকরানী এমন ভঙ্গিতে বাদশার নিকট অভিযোগ করেছিল যে, বাদশা এতে বেশ প্রভাবিত হলেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে ডেকে পাঠালেন। এবং চাকরানীর অভিযোগের ব্যাপারে মৌখিক কোনো কিছু না বলে কেবল সীলযুক্ত একটি চিরকুট হাতে দিয়ে বললেন, এটা অমুক আমিরের নিকট দেবে। তাতে লেখা ছিল—
পত্রবাহক তোমার নিকট পৌঁছামাত্র তাকে হত্যা করে তার ছিন্নশির আমার নিকট পাঠিয়ে দেবে।
আহমদ ইবনু তুলুন কল্পনাও করতে পারেন নি যে, তার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত চলছে। তিনি নিশ্চিন্তে পত্রটি নিয়ে রওনা হলেন। পথে দাঁড়িয়ে ছিল চাকরানী। তার বিশ্বাস ছিল বাদশা ইবনু তুলুনকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখলে আরও নিশ্চিত হবেন যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য ছিল। এই ভেবে সে ইবনু তুলুনের সঙ্গে কথা বলার ফন্দি খুঁজতে লাগল। এবং এ সম্পর্কে বলল, আমার একটি জরুরি চিঠি লেখা প্রয়োজন। আপনি দয়া করে লিখে দেন! আমি এ পত্রটি অন্য কারও মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
চাকরানী পত্রটি ওই চাকরের হাতে দিল, যার সঙ্গে সে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। চাকর পত্রটি প্রাপকের নিকট হস্তান্তর করার সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে হত্যা করে মুণ্ড বাদশার নিকট পাঠিয়ে দিল। বাদশা মুণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। এবং ইবনু তুলুনকে ডাকালেন। তিনি বাদশাকে পুরো ঘটনা শোনালেন। এদিকে চাকরানীও নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। সেদিন থেকে আহমদ ইবনু তুলুনের প্রতি বাদশার আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। একপর্যায়ে বাদশা অসিয়ত করলেন—
আমার অবর্তমানে ইবনু তুলুনই আমার স্থলাভিষিক্ত হবে。

টিকাঃ
১৯০ প্রাগুক্ত: ১১/৪৬

খলিফা মু'তাজ বিল্লাহ'র যুগে মিশরের শাসনকর্তা ছিলেন আহমদ ইবনু তুলুন। এর আগে তিনি বিখ্যাত তুর্কি বাদশা তুলুনের নিকট ছিলেন। তুলুন তাকে নিজের পুত্ররূপে গ্রহণ করেছিলেন। একবার তিনি আহমদকে বিশেষ কাজে রাজদরবারে পাঠালেন। আহমদ সেখানে গিয়ে দেখতে পেলেন—রাজদরবারে এক চাকরানী অপর এক চাকরের সঙ্গে বেহায়াপনায় লিপ্ত।
আহমদ ইবনু তুলুন সেখানকার কাজ সেরে বাদশার নিকট ফিরে এলেন; কিন্তু এদের কুকর্ম সম্পর্কে কিছুই বলেন নি। এদিকে চাকরানী ভেবেছিল ইবনু তুলুন নিঃসন্দেহে আমার বিরুদ্ধে বাদশার কাছে নালিশ করেছে। তাই সে উল্টো বাদশার নিকট এসে অভিযোগ করে বলল, জাঁহাপনা! আহমদ ইবনু তুলুন আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিল। চাকরানী এমন ভঙ্গিতে বাদশার নিকট অভিযোগ করেছিল যে, বাদশা এতে বেশ প্রভাবিত হলেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে তাকে ডেকে পাঠালেন। এবং চাকরানীর অভিযোগের ব্যাপারে মৌখিক কোনো কিছু না বলে কেবল সীলযুক্ত একটি চিরকুট হাতে দিয়ে বললেন, এটা অমুক আমিরের নিকট দেবে। তাতে লেখা ছিল—
পত্রবাহক তোমার নিকট পৌঁছামাত্র তাকে হত্যা করে তার ছিন্নশির আমার নিকট পাঠিয়ে দেবে।
আহমদ ইবনু তুলুন কল্পনাও করতে পারেন নি যে, তার বিরুদ্ধে কোনো চক্রান্ত চলছে। তিনি নিশ্চিন্তে পত্রটি নিয়ে রওনা হলেন। পথে দাঁড়িয়ে ছিল চাকরানী। তার বিশ্বাস ছিল বাদশা ইবনু তুলুনকে তার সঙ্গে কথা বলতে দেখলে আরও নিশ্চিত হবেন যে, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য ছিল। এই ভেবে সে ইবনু তুলুনের সঙ্গে কথা বলার ফন্দি খুঁজতে লাগল। এবং এ সম্পর্কে বলল, আমার একটি জরুরি চিঠি লেখা প্রয়োজন। আপনি দয়া করে লিখে দেন! আমি এ পত্রটি অন্য কারও মাধ্যমে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
চাকরানী পত্রটি ওই চাকরের হাতে দিল, যার সঙ্গে সে কুকর্মে লিপ্ত হয়েছিল। চাকর পত্রটি প্রাপকের নিকট হস্তান্তর করার সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে হত্যা করে মুণ্ড বাদশার নিকট পাঠিয়ে দিল। বাদশা মুণ্ড দেখে হতবাক হয়ে গেলেন। এবং ইবনু তুলুনকে ডাকালেন। তিনি বাদশাকে পুরো ঘটনা শোনালেন। এদিকে চাকরানীও নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করল। সেদিন থেকে আহমদ ইবনু তুলুনের প্রতি বাদশার আস্থা কয়েকগুণ বেড়ে গেল। একপর্যায়ে বাদশা অসিয়ত করলেন—
আমার অবর্তমানে ইবনু তুলুনই আমার স্থলাভিষিক্ত হবে。

টিকাঃ
১৯০ প্রাগুক্ত: ১১/৪৬

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের উদারনীতি

📄 অমুসলিমদের প্রতি মুসলিমদের উদারনীতি


আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!

টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯

আহমদ ইবনু ইয়াহইয়া বালাজুরি রহ. ফুতুহুল বুলদান নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—ইয়ারমুক-যুদ্ধের ঠিক পূর্বে আবু উবাইদা রাজিয়াল্লাহু আনহু সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্বরত মুসলিম সৈন্যদের যার যার ক্যাম্প ত্যাগ করে ইয়ারমুকে একত্র হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন। হিমস শহরেও মুসলিম সৈন্যরা নিয়োজিত ছিল। তাদের জিম্মাদারি ছিল শহর হেফাজত করা। ইয়ারমুক-যুদ্ধে অংশ গ্রহণের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা সকলে চিন্তা করলেন, আমরা এখানকার অমুসলিম জিম্মিদের কাছ থেকে তাদের জান-মাল হেফাজত করার শর্তে ট্যাক্স আদায় করে থাকি। এখন আমরা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করলে তাদের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান হবে কীভাবে? এই ভেবে মুসলিম সেনাপতি সকল অমুসলিমদের একত্রিত করে বললেন—
আমরা আপনাদের জান-মাল নিরাপত্তার ভিত্তিতে ট্যাক্স উসুল করেছিলাম। এখন যুদ্ধের খাতিরে এটা সম্ভব হচ্ছে না। সুতরাং এখন আপনাদের থেকে নেয়া ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
অতঃপর সকলের ট্যাক্স ফেরত দেওয়া হয়েছে। হিমসের অধিবাসীরা পৃথিবীর বুকে এমন কোনো দখলদার বাহিনী দেখে নি—যারা শত্রুপক্ষের সঙ্গে এত অধিক উদারনীতি প্রদর্শন করে। তারা সকলেই মুসলিমদের এই আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে দুআ করল—হে আল্লাহ, মুসলিমদেরকে রোমানদের বিরুদ্ধে জয়ী করেন!

টিকাঃ
১৯১ সাইয়েদ রশিদ রেজা, আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মদি: পৃ.২৭৯

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আল্লাহর রাস্তায় প্রতারণা

📄 আল্লাহর রাস্তায় প্রতারণা


কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。

টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭

কুরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে—
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ
কস্মিনকালেও পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যাবৎ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করবে。
আল্লাহ তাআলার এ অনাবিল বাণীকে বাস্তবায়ন করার জন্য সাহাবায়ে কেরাম রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজেদের প্রিয়তম বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করার যেসব নজির স্থাপন করেছিলেন-তা আজ মুসলিম ইতিহাসের এক অনন্য গৌরবময় অধ্যায়।
উক্ত আয়াত প্রসঙ্গে মুফাসিসরগণ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তন্মধ্যে একটি হলো-
আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু নিজের কাছে ব্যক্তিগত কোনো কিছু পছন্দ হলেই তিনি তা আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দেওয়াকে রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করেছিলেন। এজন্য তিনি যে কোনো গোলামকে আল্লাহর ইবাদতে বেশি মগ্ন দেখতেন, তাকেই আল্লাহর জন্য মুক্ত করে দিতেন। গোলামরা যখন ওমরের এ রীতি পছন্দের ব্যাপারটি বুঝতে পারল, কেউ কেউ কোমর বেঁধে মসজিদে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে নামাজে দাঁড়িয়ে থাকত। আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু এ নিমগ্নতা দেখে তাকে আজাদ করে দিতেন। একবার কেউ উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, হজরত, এরা তো আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রকৃতপক্ষে তারা ইবাদতের প্রতি ততটা আসক্ত নয়। ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন-
مَنْ خَدَعَنَا بِاللَّهِ إِنْخَدَعْنَا لَهُ.
যে আমাদেরকে আল্লাহর পথে ধোঁকা দেয়, আমরা তার ধোঁকা খেতে রাজি。

টিকাঃ
১৯২ সূরা আলে ইমরান: ৯২
১৯৩ তবাকাতে ইবনে সাদ: ৪/১৬৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00