📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কামনা এমনই হওয়া চাই

📄 কামনা এমনই হওয়া চাই


নবীজির মৃত্যুর পর সকল সাহাবায়ে কেরামের ওপর ব্যথা-বেদনার এক বিশাল পাহাড় ভেঙে পড়েছিল। সকলেই প্রিয় নবীজিকে হারানোর শোকে কাতর ছিলেন। তখন অধিকাংশ সাহাবি দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন—
হায়! যদি প্রিয় নবিজির ইন্তেকালের পূর্বে আমরা মারা যেতাম! কারণ, তার মৃত্যুর পর আমরা না জানি কোনো ফিতনায় জড়িয়ে যাই।
এহেন পরিস্থিতিতে মাআন ইবনু আদি রাজিয়াল্লাহু আনহু বলে উঠলেন—
لكِنِّي وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنْ أَمُوْتَ قَبْلَهُ لِأُصَدِّقَهُ مَيِّتًا كَمَا صَدَّقْتُهُ حَيًّا.
তবে আমি নবিজির মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুবরণ করার কামনা করি না। কেননা, কামনা ছিল আমি জীবদ্দশায় নবীজির ওপর যেমন ঈমান এনেছি, তার মৃত্যুর পরও অনুরূপ ঈমান রাখবো।
পরবর্তী সময়ে মাআন ইবনু আদি রাজিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামার-যুদ্ধ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। নবীজি জায়েদ ইবনু খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। অবশেষে তারা উভয়ে ইয়ামার-যুদ্ধে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে পরপারে পাড়ি জমান।

টিকাঃ
১৮৫ প্রাগুক্ত: ৬/৩৩৯

নবীজির মৃত্যুর পর সকল সাহাবায়ে কেরামের ওপর ব্যথা-বেদনার এক বিশাল পাহাড় ভেঙে পড়েছিল। সকলেই প্রিয় নবীজিকে হারানোর শোকে কাতর ছিলেন। তখন অধিকাংশ সাহাবি দুঃখ ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন—
হায়! যদি প্রিয় নবিজির ইন্তেকালের পূর্বে আমরা মারা যেতাম! কারণ, তার মৃত্যুর পর আমরা না জানি কোনো ফিতনায় জড়িয়ে যাই।
এহেন পরিস্থিতিতে মাআন ইবনু আদি রাজিয়াল্লাহু আনহু বলে উঠলেন—
لكِنِّي وَاللَّهِ مَا أُحِبُّ أَنْ أَمُوْتَ قَبْلَهُ لِأُصَدِّقَهُ مَيِّتًا كَمَا صَدَّقْتُهُ حَيًّا.
তবে আমি নবিজির মৃত্যুর পূর্বে মৃত্যুবরণ করার কামনা করি না। কেননা, কামনা ছিল আমি জীবদ্দশায় নবীজির ওপর যেমন ঈমান এনেছি, তার মৃত্যুর পরও অনুরূপ ঈমান রাখবো।
পরবর্তী সময়ে মাআন ইবনু আদি রাজিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামার-যুদ্ধ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। নবীজি জায়েদ ইবনু খাত্তাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন। অবশেষে তারা উভয়ে ইয়ামার-যুদ্ধে শাহাদাতের অমিয় সুধা পান করে পরপারে পাড়ি জমান।

টিকাঃ
১৮৫ প্রাগুক্ত: ৬/৩৩৯

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 বিস্ময়কর ইঙ্গিত

📄 বিস্ময়কর ইঙ্গিত


আলি ইবনু ইয়াহইয়া মুনাজ্জাম বলেন—আব্বাসি খলিফা মুনতাসির বিল্লাহ একবার একটি সভা আহ্বান করেন। সভাকক্ষে সোনালি সুতোর রেশমি গালিচা বিছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট লোকজনকে নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ-মতো গালিচা বিছানো হলো। একটি গালিচার মাঝখানে ছিল বিশাল বৃত্ত। বৃত্তের ওপর অঙ্কিত ছিল একজন মুকুট পরিহিত অশ্বারোহীর ছবি। আর তার চতুর্পাশে ফারসি ভাষায় অস্পষ্টাক্ষরে কিছু লেখা ছিল। সভাকক্ষে ঢুকেই বৃত্ত ও বৃত্তের পার্শ্বের লেখাগুলোর প্রতি খলিফার দৃষ্টি পড়ল। কাছে গিয়ে এক লোককে বললেন—এখানে কী লেখা আছে?
লোকটি কিছুতেই পড়তে পারল না। মুনতাসির বিল্লাহ একেক করে দরবারের উপস্থিত সকলকে লেখাটির মর্ম উদঘাটন করতে বললেন; কিন্তু সকলের অবস্থা একই। কেউ-ই তা ভালোভাবে পড়তে পারল না। তারপর খলিফা মুনতাসির একটি গোলামকে বলল—ফারসিভাষী কাউকে ডেকে এ লেখাটি পড়তে বলো।
কিছুক্ষণ পর একজন লোক এসে লেখাটি পড়ল; কিন্তু পড়া শেষে সে কোনো প্রকার মর্ম বিশ্লেষণ না করে চুপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকল।
: কী লেখা এখানে?
: কিছু না, আমিরুল মুমিনিন; এটা ইরানিদের নির্বুদ্ধিতা।
: লেখাটির রহস্য তুমি আমাকে খুলে বলো।
: আমিরুল মুমিনিন, এ লেখার কোনোই অর্থ নেই।
মুনতাসির এবার চরম রেগে গিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, এ লেখাটির অর্থ শোনাও। লোকটি বলল, এতে লেখা আছে—
আমি শিরবিয়া ইবনু কিসরা ইবনু হুরমুজ। আমি আমার পিতাকে হত্যা করেছি। পরবর্তী সময়ে আমার রাজত্ব ছয় মাসেরও অধিক স্থায়ী হয় নি।
কথাটি শুনেই মুসতাসিরের চেহারার রং পাল্টে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সভাকক্ষ ছেড়ে অন্দর মহলে চলে গেলেন। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে তার রাজত্বও ছয় মাসের বেশি টেকে নি。

টিকাঃ
১৮৬ তারিখে বাগদাদ: ২/১২০-১২১

আলি ইবনু ইয়াহইয়া মুনাজ্জাম বলেন—আব্বাসি খলিফা মুনতাসির বিল্লাহ একবার একটি সভা আহ্বান করেন। সভাকক্ষে সোনালি সুতোর রেশমি গালিচা বিছানোর জন্য সংশ্লিষ্ট লোকজনকে নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ-মতো গালিচা বিছানো হলো। একটি গালিচার মাঝখানে ছিল বিশাল বৃত্ত। বৃত্তের ওপর অঙ্কিত ছিল একজন মুকুট পরিহিত অশ্বারোহীর ছবি। আর তার চতুর্পাশে ফারসি ভাষায় অস্পষ্টাক্ষরে কিছু লেখা ছিল। সভাকক্ষে ঢুকেই বৃত্ত ও বৃত্তের পার্শ্বের লেখাগুলোর প্রতি খলিফার দৃষ্টি পড়ল। কাছে গিয়ে এক লোককে বললেন—এখানে কী লেখা আছে?
লোকটি কিছুতেই পড়তে পারল না। মুনতাসির বিল্লাহ একেক করে দরবারের উপস্থিত সকলকে লেখাটির মর্ম উদঘাটন করতে বললেন; কিন্তু সকলের অবস্থা একই। কেউ-ই তা ভালোভাবে পড়তে পারল না। তারপর খলিফা মুনতাসির একটি গোলামকে বলল—ফারসিভাষী কাউকে ডেকে এ লেখাটি পড়তে বলো।
কিছুক্ষণ পর একজন লোক এসে লেখাটি পড়ল; কিন্তু পড়া শেষে সে কোনো প্রকার মর্ম বিশ্লেষণ না করে চুপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকল।
: কী লেখা এখানে?
: কিছু না, আমিরুল মুমিনিন; এটা ইরানিদের নির্বুদ্ধিতা।
: লেখাটির রহস্য তুমি আমাকে খুলে বলো।
: আমিরুল মুমিনিন, এ লেখার কোনোই অর্থ নেই।
মুনতাসির এবার চরম রেগে গিয়ে ধমক দিয়ে বললেন, এ লেখাটির অর্থ শোনাও। লোকটি বলল, এতে লেখা আছে—
আমি শিরবিয়া ইবনু কিসরা ইবনু হুরমুজ। আমি আমার পিতাকে হত্যা করেছি। পরবর্তী সময়ে আমার রাজত্ব ছয় মাসেরও অধিক স্থায়ী হয় নি।
কথাটি শুনেই মুসতাসিরের চেহারার রং পাল্টে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সভাকক্ষ ছেড়ে অন্দর মহলে চলে গেলেন। পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে তার রাজত্বও ছয় মাসের বেশি টেকে নি。

টিকাঃ
১৮৬ তারিখে বাগদাদ: ২/১২০-১২১

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 মনোবাঞ্ছা পূরণ

📄 মনোবাঞ্ছা পূরণ


আব্বাসি খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ একবার একটি জমিন ওয়াকফ করতে চাইলেন; কিন্তু তার একান্ত ইচ্ছা ছিল ওয়াকফনামার শর্তাবলী এমনভাবে তৈরি করাবেন, যেন সকল ফকিহদের নিকটই ওয়াকফটি বিশুদ্ধ হয়। কোনো ফকিহ'র বিরুদ্ধে না হয়।
সকলেই খলিফাকে বলল— এ কাজ কেবল আল্লামা ইবনু জারির তাবারির দ্বারাই সম্ভব। কারণ, তিনিই কেবল সকল মাজহাবের ইমামগণের মতামত সম্পর্কে পূর্ণ অবগত আছেন।
খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ হাফিজ ইবনু জারির তাবারিকে কাজটি আঞ্জাম দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইবনু জারির রহ. ওয়াকফনামা তৈরি করে দিলেন। এতে খলিফা ইবনু জারিরের উঁচু মাকাম সম্পর্কে কিছুটা আন্দাজ করলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে দরবারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত করেন এবং তার সোহবতে থেকে উপকৃত হতে লাগলেন। খলিফা আল্লামা তাবারি রহ.-কে বার বার বলতেন—
আপনার যেকোনো প্রয়োজনের কথা আমাকে বলবেন।
আল্লামা ইবনু জারির তাবারি রহ. বারবার খলিফার পীড়াপীড়ি দেখে বললেন—
আপনার কাছে বলার মতো আমার কেবল একটি প্রয়োজনই আছে। তা হলো—শুক্রবারে মসজিদে ভিক্ষুক এসে প্রচুর ভিড় জমায়। এতে মুসল্লিদের বেশ কষ্ট হয়। আপনি দয়া করে আপনার পুলিশবাহিনীকে বলে দেন, তারা যেন ভিক্ষুকদের মসজিদের ভেতর ঢুকতে না দেয়।
খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ ফরমান জারি করে ইবনু জারির রহ.-এর একমাত্র মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন。

টিকাঃ
১৮৭ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/১৪৬

আব্বাসি খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ একবার একটি জমিন ওয়াকফ করতে চাইলেন; কিন্তু তার একান্ত ইচ্ছা ছিল ওয়াকফনামার শর্তাবলী এমনভাবে তৈরি করাবেন, যেন সকল ফকিহদের নিকটই ওয়াকফটি বিশুদ্ধ হয়। কোনো ফকিহ'র বিরুদ্ধে না হয়।
সকলেই খলিফাকে বলল— এ কাজ কেবল আল্লামা ইবনু জারির তাবারির দ্বারাই সম্ভব। কারণ, তিনিই কেবল সকল মাজহাবের ইমামগণের মতামত সম্পর্কে পূর্ণ অবগত আছেন।
খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ হাফিজ ইবনু জারির তাবারিকে কাজটি আঞ্জাম দেওয়ার অনুরোধ করেন। ইবনু জারির রহ. ওয়াকফনামা তৈরি করে দিলেন। এতে খলিফা ইবনু জারিরের উঁচু মাকাম সম্পর্কে কিছুটা আন্দাজ করলেন। পরবর্তী সময়ে তাকে দরবারের উচ্চপদে অধিষ্ঠিত করেন এবং তার সোহবতে থেকে উপকৃত হতে লাগলেন। খলিফা আল্লামা তাবারি রহ.-কে বার বার বলতেন—
আপনার যেকোনো প্রয়োজনের কথা আমাকে বলবেন।
আল্লামা ইবনু জারির তাবারি রহ. বারবার খলিফার পীড়াপীড়ি দেখে বললেন—
আপনার কাছে বলার মতো আমার কেবল একটি প্রয়োজনই আছে। তা হলো—শুক্রবারে মসজিদে ভিক্ষুক এসে প্রচুর ভিড় জমায়। এতে মুসল্লিদের বেশ কষ্ট হয়। আপনি দয়া করে আপনার পুলিশবাহিনীকে বলে দেন, তারা যেন ভিক্ষুকদের মসজিদের ভেতর ঢুকতে না দেয়।
খলিফা মুকতাদির বিল্লাহ ফরমান জারি করে ইবনু জারির রহ.-এর একমাত্র মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন。

টিকাঃ
১৮৭ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/১৪৬

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 পাঁচ দিরহামে এক গ্লাস পানি

📄 পাঁচ দিরহামে এক গ্লাস পানি


ইয়াহইয়া ইবনু জাফর রহ. বলেন, একবার ইমাম আবু হানিফা রহ. তার নিজের ঘটনা শোনাতে গিয়ে বলেন, আমি একবার মরুভূমিতে মহা পানি সংকটে পড়লাম। হঠাৎ পানির মশক হাতে এক গ্রাম্যলোককে দেখলাম। আমি তার কাছে পানি চাইলে সে অপারগতা প্রকাশ করে বলল, পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে দিতে পারি। আমি পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে মশকটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর তাকে বললাম, ছাতু খেতে পছন্দ করেন? সে বলল, নিয়ে এসো। আমি তাকে ছাতু দিলাম। ছাতুগুলো ছিল যায়তুন তেল দ্বারা চর্বিযুক্ত। লোকটি পেট পুরে ছাতু খেলো। এবার শুরু হলো প্রচণ্ড তৃষ্ণা। সে আমাকে বলল, এক গ্লাস পানি দাও! আমি বললাম, পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে হতে পারে। এর কমে নয়। অগত্যা সে আমার কাছ থেকে এক গ্লাস পানি পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে নিয়েছে。

টিকাঃ
১৮৮ আল্লামা ইবনুল জাওযি, কিতাবুল আযকিয়া: পৃ.১১০

ইয়াহইয়া ইবনু জাফর রহ. বলেন, একবার ইমাম আবু হানিফা রহ. তার নিজের ঘটনা শোনাতে গিয়ে বলেন, আমি একবার মরুভূমিতে মহা পানি সংকটে পড়লাম। হঠাৎ পানির মশক হাতে এক গ্রাম্যলোককে দেখলাম। আমি তার কাছে পানি চাইলে সে অপারগতা প্রকাশ করে বলল, পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে দিতে পারি। আমি পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে মশকটি নিয়ে নিলাম। অতঃপর তাকে বললাম, ছাতু খেতে পছন্দ করেন? সে বলল, নিয়ে এসো। আমি তাকে ছাতু দিলাম। ছাতুগুলো ছিল যায়তুন তেল দ্বারা চর্বিযুক্ত। লোকটি পেট পুরে ছাতু খেলো। এবার শুরু হলো প্রচণ্ড তৃষ্ণা। সে আমাকে বলল, এক গ্লাস পানি দাও! আমি বললাম, পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে হতে পারে। এর কমে নয়। অগত্যা সে আমার কাছ থেকে এক গ্লাস পানি পাঁচ দিরহামের বিনিময়ে নিয়েছে。

টিকাঃ
১৮৮ আল্লামা ইবনুল জাওযি, কিতাবুল আযকিয়া: পৃ.১১০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00