📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 ইলমের সম্মান দানে আখেরাতে মুক্তি লাভ

📄 ইলমের সম্মান দানে আখেরাতে মুক্তি লাভ


হাফিজ শামসুদ্দিন সাখাবি রহ. লেখেন—প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনু দাউদ শাজকুনি রহ.-কে [মৃত্যু: ২৩৪ হি.] কেউ মৃত্যুর পরে স্বপ্ন-সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করল—
: আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?
: আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন!'
: কোন আমলের বিনিময়ে?
: একদিন আমি ইস্পাহানে যাচ্ছিলাম। পথে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো। আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম—আমার সঙ্গে যেসব কিতাব রয়েছে, সেগুলো ভিজে গেলে আমার সব পুঁজি ভেস্তে যাবে। আশপাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোনো ছাদ বা ছাউনিও ছিল না। অগত্যা আমি আমার শরীরকে দু'ভাঁজ করে কিতাবগুলোকে ঢেকে রাখলাম। যাতে কিছুটা হলেও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়। সারা রাত বৃষ্টি চলছিল। আর আমিও রাতভর ওই অবস্থায় কাটিয়েছি। সকালে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে এ আমলের উসিলায় মাফ করে দিয়েছেন!

টিকাঃ
১৬৫ আল্লামা সাখাবি, ফাতহুল মুগিস: পৃ.১৫৭

হাফিজ শামসুদ্দিন সাখাবি রহ. লেখেন—প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনু দাউদ শাজকুনি রহ.-কে [মৃত্যু: ২৩৪ হি.] কেউ মৃত্যুর পরে স্বপ্ন-সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করল—
: আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?
: আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন!'
: কোন আমলের বিনিময়ে?
: একদিন আমি ইস্পাহানে যাচ্ছিলাম। পথে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো। আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম—আমার সঙ্গে যেসব কিতাব রয়েছে, সেগুলো ভিজে গেলে আমার সব পুঁজি ভেস্তে যাবে। আশপাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোনো ছাদ বা ছাউনিও ছিল না। অগত্যা আমি আমার শরীরকে দু'ভাঁজ করে কিতাবগুলোকে ঢেকে রাখলাম। যাতে কিছুটা হলেও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়। সারা রাত বৃষ্টি চলছিল। আর আমিও রাতভর ওই অবস্থায় কাটিয়েছি। সকালে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে এ আমলের উসিলায় মাফ করে দিয়েছেন!

টিকাঃ
১৬৫ আল্লামা সাখাবি, ফাতহুল মুগিস: পৃ.১৫৭

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 সিন্ধুর এক প্রবীণ আলেমের মহামূল্যবান উক্তি

📄 সিন্ধুর এক প্রবীণ আলেমের মহামূল্যবান উক্তি


ইমাম আবু নসর ফাতাহ ইবনু আবদুল্লাহ সিন্ধি রহ. ছিলেন সিন্ধু বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত আলেম। মুসলিমদের সিন্ধু বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকাহ ও আকায়েদ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আল্লামা সামআনি রহ. তার নিম্নোক্ত ঘটনা সনদসহ বর্ণনা করেন:
আবদুল্লাহ ইবনু হুসাইন বলেন, 'একবার আমি আবু নসর সিন্ধির সঙ্গে কাদাটে পথ ধরে চলছিলাম। সাথে ছিল তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। হঠাৎ দেখতে পেলাম—সাইয়িদ বংশীয় এক আরবি রাজপুত্র মাতাল অবস্থায় কাদামাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। সে আমাদের দিকে দৃষ্টি ফেরাতেই আবু নসর তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ আসছে। রাজপুত্র আবু নসরকে লক্ষ্য করে বলল, হে গোলাম, আমার কঠিন বেহাল দশা দেখেও তুমি নিশ্চিন্ত মনে চলে যাচ্ছ? আর তোমার পেছনে পেছনে এতগুলো মানুষ তারাও তোমার মতোই নির্দ্বিধায় চলে যাচ্ছে?
আবু নসর নির্ভয়ে শাহজাদাকে জবাব দিলেন, শাহজাদা, তুমি জানো, আমি কেন এমনটি করেছি? আসলে কথা হলো, আমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ সাহাবা ও তাবিয়িন রহ.-এর অনুকরণ করতে শুরু করেছি। আর তোমরা কিনা আমাদের পূর্বপুরুষ কাফের-মুশরিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছ!

টিকাঃ
১৬৬ আল্লামা সামআনি, আল-আনসাব: পৃ.৩১৩

ইমাম আবু নসর ফাতাহ ইবনু আবদুল্লাহ সিন্ধি রহ. ছিলেন সিন্ধু বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত আলেম। মুসলিমদের সিন্ধু বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকাহ ও আকায়েদ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আল্লামা সামআনি রহ. তার নিম্নোক্ত ঘটনা সনদসহ বর্ণনা করেন:
আবদুল্লাহ ইবনু হুসাইন বলেন, 'একবার আমি আবু নসর সিন্ধির সঙ্গে কাদাটে পথ ধরে চলছিলাম। সাথে ছিল তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। হঠাৎ দেখতে পেলাম—সাইয়িদ বংশীয় এক আরবি রাজপুত্র মাতাল অবস্থায় কাদামাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। সে আমাদের দিকে দৃষ্টি ফেরাতেই আবু নসর তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ আসছে। রাজপুত্র আবু নসরকে লক্ষ্য করে বলল, হে গোলাম, আমার কঠিন বেহাল দশা দেখেও তুমি নিশ্চিন্ত মনে চলে যাচ্ছ? আর তোমার পেছনে পেছনে এতগুলো মানুষ তারাও তোমার মতোই নির্দ্বিধায় চলে যাচ্ছে?
আবু নসর নির্ভয়ে শাহজাদাকে জবাব দিলেন, শাহজাদা, তুমি জানো, আমি কেন এমনটি করেছি? আসলে কথা হলো, আমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ সাহাবা ও তাবিয়িন রহ.-এর অনুকরণ করতে শুরু করেছি। আর তোমরা কিনা আমাদের পূর্বপুরুষ কাফের-মুশরিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছ!

টিকাঃ
১৬৬ আল্লামা সামআনি, আল-আনসাব: পৃ.৩১৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 ভারতবর্ষে আগমনকারী সাহাবিগণের তালিকা

📄 ভারতবর্ষে আগমনকারী সাহাবিগণের তালিকা


বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ হতে জানা যায়, ভারতবর্ষে নবীজির পঁচিশজন সাহাবির আগমন ঘটে। বারোজন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে, পাঁচজন উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে, তিনজন আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে, চারজন মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ও একজন ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে।
তাদের মধ্যে মুখাজরিমিন ও মুদরিকিন—উভয় শ্রেণির লোকই ছিলেন। মুখাজরিমিন হলো ওই সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা ইসলাম ও জাহিলি—উভয় যুগ পেয়েছেন; কিন্তু তারা নবীজির যুগ পেয়েও তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেন নি।
আর মুদরিকিন হলো—যারা কেবল নবীজির যুগ পেয়েছেন। তবে যে কোনো কারণে তাঁর সাক্ষাৎ মেলে নি। [তাদেরকে সাহাবিদের দলভুক্ত করা হয়েছে রূপকার্থে。

টিকাঃ
১৬৮ প্রাগুক্ত: ১/১০-১১

বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ হতে জানা যায়, ভারতবর্ষে নবীজির পঁচিশজন সাহাবির আগমন ঘটে। বারোজন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে, পাঁচজন উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে, তিনজন আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে, চারজন মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ও একজন ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে।
তাদের মধ্যে মুখাজরিমিন ও মুদরিকিন—উভয় শ্রেণির লোকই ছিলেন। মুখাজরিমিন হলো ওই সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা ইসলাম ও জাহিলি—উভয় যুগ পেয়েছেন; কিন্তু তারা নবীজির যুগ পেয়েও তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেন নি।
আর মুদরিকিন হলো—যারা কেবল নবীজির যুগ পেয়েছেন। তবে যে কোনো কারণে তাঁর সাক্ষাৎ মেলে নি। [তাদেরকে সাহাবিদের দলভুক্ত করা হয়েছে রূপকার্থে。

টিকাঃ
১৬৮ প্রাগুক্ত: ১/১০-১১

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 সত্যের সন্ধানে হিন্দু রাজা

📄 সত্যের সন্ধানে হিন্দু রাজা


আবু মুহাম্মদ নজিদি বলেন, আমি ২৮৮ হিজরিতে সিন্ধু প্রদেশের প্রসিদ্ধ নগরী মানসুরায় বসবাস করতাম। সেখানকার কয়েকজন নির্ভরযোগ্য লোক আমাকে বললেন যে, ২৭০ হিজরিতে আবদুল্লাহ ইবনু উমার হুবারি সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত হন। তার প্রধান কার্যালয় ছিল মানসুরাতে। একই সাথে সিন্ধুর আরুর নামক শহরের [সম্ভবত এটি রোহাড়ির প্রাচীন নাম] হিন্দু রাজা মাহরুক ইবনু রাতেক মানসুরার শাসকের নিকট এ মর্মে নিবেদন করলেন, দয়া করে সিন্ধি ভাষায় ইসলাম ধর্মের বুনিয়াদি বিষয়াদি লিখে পাঠাবেন।
মানসুরার শাসক আবদুল্লাহ ইবনু উমার হুবারি জনৈক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন। যার বংশমূল ইরাকে হলেও লালিত-পালিত হয়েছিলেন মানসুরায়। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধীশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। বেশ কয়েকটি ভাষা তার আয়ত্তে ছিল। আবদুল্লাহ হুবারি তাকে রাজার আবেদনের বিষয়টি খুলে বললে বিজ্ঞ লোকটি ইসলামের সকল মৌলিক বিষয়াদিকে একগুচ্ছ কবিতার মালায় গেঁথে ফেললেন। তাতে ইসলামের যাবতীয় মৌলিক বিষয়সহ প্রাসঙ্গিক শিক্ষা-দীক্ষাও সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করেন। শাসক আবদুল্লাহ কবিতাগুচ্ছটি রাজা মাহরুকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। রাজা কবিতাগুলো শুনে বেশ আনন্দিত হলেন এবং আবদুল্লাহর নিকট কবিতার রচয়িতাকে রাজদরবারে পাঠানোর আবেদন করলেন। আবদুল্লাহ তাকে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে তিন বছর অবস্থান করেন। রাজাও তার প্রতি বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন।
অতঃপর ২৭৩ হিজরিতে সিন্ধুর গভর্নর আবদুল্লার সঙ্গে উক্ত আলেমের সাক্ষাৎ হয়। আবদুল্লাহ তার নিকট রাজার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছি, তখনই তিনি খাঁটি অন্তরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; কিন্তু রাজত্ব হারানোর ভয়ে তিনি তা প্রকাশ করেন নি। পাশাপাশি তিনি রাজার বিভিন্ন গুণ-গরিমার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, রাজা তাকে সিন্ধু ভাষায় কুরআনে কারিমের তাফসির লেখার জন্য আরজি জানালে তিনি প্রতিদিন কয়েক আয়াতের তাফসির করে রাজাকে শোনাতেন। একপর্যায়ে যখন সূরা ইয়াসিনের-
قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ.
কাফের বলে, মাটিতে মিশে পচে-গলে যাওয়া হাড়সমূহকে পুনরায় কে জীবিত করবে?
এ আয়াতে এসে পৌঁছলেন এবং এর তরজমা ও তাফসির রাজাকে শোনালেন, তখন তিনি পুনরায় উক্ত আয়াতের তাফসির শুনতে চাইলেন। দ্বিতীয়বার যখন উক্ত আয়াতের তরজমা ও তাফসির শুনলেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মণি-মুক্তা খচিত সোনার আসন থেকে নেমে পড়লেন এবং কয়েক পা অগ্রসর হয়ে মাটিতে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। অথচ তখন মাটি ছিল বেশ ভেজা। রাজা সেজদারত অবস্থায় এত অধিক কান্নাকাটি করেন যে, চোখের পানিতে কাদা সৃষ্টি হয়ে তা মুখমণ্ডলে লেগে একাকার হয়ে গেল। খানিকপর মাথা উঁচিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তিনিই চিরন্তন ও শাশ্বত প্রতিপালক। এরপর তিনি একটি কামরা নির্মাণ করলেন। সেখানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একাকী আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। আর সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন; কিন্তু সকলে জানত, রাজা সেখানে বসে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে থাকেন。

টিকাঃ
১৬৯ সূরা ইয়াসিন : ৭৮
১৭০ ফুকাহায়ে হিন্দ: পৃ.৮৯-৯১

আবু মুহাম্মদ নজিদি বলেন, আমি ২৮৮ হিজরিতে সিন্ধু প্রদেশের প্রসিদ্ধ নগরী মানসুরায় বসবাস করতাম। সেখানকার কয়েকজন নির্ভরযোগ্য লোক আমাকে বললেন যে, ২৭০ হিজরিতে আবদুল্লাহ ইবনু উমার হুবারি সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত হন। তার প্রধান কার্যালয় ছিল মানসুরাতে। একই সাথে সিন্ধুর আরুর নামক শহরের [সম্ভবত এটি রোহাড়ির প্রাচীন নাম] হিন্দু রাজা মাহরুক ইবনু রাতেক মানসুরার শাসকের নিকট এ মর্মে নিবেদন করলেন, দয়া করে সিন্ধি ভাষায় ইসলাম ধর্মের বুনিয়াদি বিষয়াদি লিখে পাঠাবেন।
মানসুরার শাসক আবদুল্লাহ ইবনু উমার হুবারি জনৈক ব্যক্তিকে ডেকে পাঠালেন। যার বংশমূল ইরাকে হলেও লালিত-পালিত হয়েছিলেন মানসুরায়। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও ধীশক্তি সম্পন্ন ছিলেন। বেশ কয়েকটি ভাষা তার আয়ত্তে ছিল। আবদুল্লাহ হুবারি তাকে রাজার আবেদনের বিষয়টি খুলে বললে বিজ্ঞ লোকটি ইসলামের সকল মৌলিক বিষয়াদিকে একগুচ্ছ কবিতার মালায় গেঁথে ফেললেন। তাতে ইসলামের যাবতীয় মৌলিক বিষয়সহ প্রাসঙ্গিক শিক্ষা-দীক্ষাও সংক্ষিপ্তাকারে উল্লেখ করেন। শাসক আবদুল্লাহ কবিতাগুচ্ছটি রাজা মাহরুকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। রাজা কবিতাগুলো শুনে বেশ আনন্দিত হলেন এবং আবদুল্লাহর নিকট কবিতার রচয়িতাকে রাজদরবারে পাঠানোর আবেদন করলেন। আবদুল্লাহ তাকে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি সেখানে তিন বছর অবস্থান করেন। রাজাও তার প্রতি বেশ সন্তুষ্ট ছিলেন।
অতঃপর ২৭৩ হিজরিতে সিন্ধুর গভর্নর আবদুল্লার সঙ্গে উক্ত আলেমের সাক্ষাৎ হয়। আবদুল্লাহ তার নিকট রাজার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তিনি উত্তরে বললেন, আমি যখন সেখানে গিয়ে পৌঁছি, তখনই তিনি খাঁটি অন্তরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন; কিন্তু রাজত্ব হারানোর ভয়ে তিনি তা প্রকাশ করেন নি। পাশাপাশি তিনি রাজার বিভিন্ন গুণ-গরিমার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন যে, রাজা তাকে সিন্ধু ভাষায় কুরআনে কারিমের তাফসির লেখার জন্য আরজি জানালে তিনি প্রতিদিন কয়েক আয়াতের তাফসির করে রাজাকে শোনাতেন। একপর্যায়ে যখন সূরা ইয়াসিনের-
قَالَ مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ.
কাফের বলে, মাটিতে মিশে পচে-গলে যাওয়া হাড়সমূহকে পুনরায় কে জীবিত করবে?
এ আয়াতে এসে পৌঁছলেন এবং এর তরজমা ও তাফসির রাজাকে শোনালেন, তখন তিনি পুনরায় উক্ত আয়াতের তাফসির শুনতে চাইলেন। দ্বিতীয়বার যখন উক্ত আয়াতের তরজমা ও তাফসির শুনলেন, সঙ্গে সঙ্গে তিনি মণি-মুক্তা খচিত সোনার আসন থেকে নেমে পড়লেন এবং কয়েক পা অগ্রসর হয়ে মাটিতে সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন। অথচ তখন মাটি ছিল বেশ ভেজা। রাজা সেজদারত অবস্থায় এত অধিক কান্নাকাটি করেন যে, চোখের পানিতে কাদা সৃষ্টি হয়ে তা মুখমণ্ডলে লেগে একাকার হয়ে গেল। খানিকপর মাথা উঁচিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তিনিই চিরন্তন ও শাশ্বত প্রতিপালক। এরপর তিনি একটি কামরা নির্মাণ করলেন। সেখানে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে একাকী আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন। আর সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন; কিন্তু সকলে জানত, রাজা সেখানে বসে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি নিয়ে চিন্তা-ফিকির করে থাকেন。

টিকাঃ
১৬৯ সূরা ইয়াসিন : ৭৮
১৭০ ফুকাহায়ে হিন্দ: পৃ.৮৯-৯১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00