📄 খলিফা মনসুরের আকাঙ্ক্ষা
মনসুর ছিলেন আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ। তার রাজত্বের পরিধি ও সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল সুবিস্তীর্ণ। তার যুগে সর্বস্তরের জনগণ আরাম-আয়েশে দিন কাটাত। হাফিজ ইবনু আসাকির মুহাম্মদ ইবনু সালাম আজামি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, একদিন কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করল—আমিরুল মুমিনিন, পৃথিবীতে এমন কোনো স্বাদ আছে কি, যা আপনি উপভোগ করেন নি? খলিফা মনসুর খুব ভেবে চিন্তে উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! এখনো কোনো কোনো বিষয়ের স্বাদ আমি উপভোগ করতে পারি নি। তার অন্যতম হলো, আমি কোনো বড় কামরায় বসা থাকবো। আর আমার চতুপার্শ্বে ইলমে হাদিসের ছাত্ররা ঘিরে বসে থাকবে। তারা আমার থেকে হাদিস শুনে শুনে তৎক্ষণাৎ তা লিখে রাখবে। কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, এক্ষণে আপনি কোন রাবির হাদিস বর্ণনা করছিলেন? আমি উত্তরে বলবো—
حدثنا فلان قال حدثنا فلان، قال حدثنا فلان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এ ছিল একজন খলিফা ও রাষ্ট্রের সবচে' উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মনের বাসনা ও খায়েশ! যা এমন কোনো আহামরি বিষয় ছিল না যে, তার চোখের ইশারায় পূরণ হওয়া কঠিন।
পরেরদিন সকালে খলিফার সহচর, মন্ত্রী, মন্ত্রীপুত্র ও দরবারের অন্যান্য লোক কলম-দোয়াত ও কাগজ নিয়ে খলিফার দরবারে হাজির। সকলে খলিফার নিকট হাদিস শোনানোর আবেদন করল। ইলমে হাদিস সম্পর্কে খলিফা এতটা অযোগ্য ছিলেন না যে, সনদসহ কয়েকটি হাদিস লেখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তথাপি মন্ত্রী ও সভাসদসহ অন্যান্যদের হাতে কাগজ-কলম দেখে ঈষৎ হেসে বললেন, তোমরা কোথায় আর ইলমে হাদিসের তালিবে ইলমরা কোথায়! আরে! ইলমে হাদিসের প্রকৃত তালিবে ইলম তো তারাই, যাদের একান্ত নিমগ্নতা ও মনোযোগিতার দরুন কাপড়-চোপড় জীর্ণ-শীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। হাদিসের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে যাদের পা ফেটে যায়। সময় অভাবে যাদের চুল লম্বা ও আলুথালু থাকে। যারা মূল্যবান মণি-মুক্তা ও জহরতের তালাশে দিগ-দিগন্তে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়!
টিকাঃ
১৬৪ আল্লামা সুযুতি, তারিখুল খুলাফা: পৃ.১৭৭
মনসুর ছিলেন আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ। তার রাজত্বের পরিধি ও সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল সুবিস্তীর্ণ। তার যুগে সর্বস্তরের জনগণ আরাম-আয়েশে দিন কাটাত। হাফিজ ইবনু আসাকির মুহাম্মদ ইবনু সালাম আজামি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, একদিন কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করল—আমিরুল মুমিনিন, পৃথিবীতে এমন কোনো স্বাদ আছে কি, যা আপনি উপভোগ করেন নি? খলিফা মনসুর খুব ভেবে চিন্তে উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! এখনো কোনো কোনো বিষয়ের স্বাদ আমি উপভোগ করতে পারি নি। তার অন্যতম হলো, আমি কোনো বড় কামরায় বসা থাকবো। আর আমার চতুপার্শ্বে ইলমে হাদিসের ছাত্ররা ঘিরে বসে থাকবে। তারা আমার থেকে হাদিস শুনে শুনে তৎক্ষণাৎ তা লিখে রাখবে। কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, এক্ষণে আপনি কোন রাবির হাদিস বর্ণনা করছিলেন? আমি উত্তরে বলবো—
حدثنا فلان قال حدثنا فلان، قال حدثنا فلان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এ ছিল একজন খলিফা ও রাষ্ট্রের সবচে' উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মনের বাসনা ও খায়েশ! যা এমন কোনো আহামরি বিষয় ছিল না যে, তার চোখের ইশারায় পূরণ হওয়া কঠিন।
পরেরদিন সকালে খলিফার সহচর, মন্ত্রী, মন্ত্রীপুত্র ও দরবারের অন্যান্য লোক কলম-দোয়াত ও কাগজ নিয়ে খলিফার দরবারে হাজির। সকলে খলিফার নিকট হাদিস শোনানোর আবেদন করল। ইলমে হাদিস সম্পর্কে খলিফা এতটা অযোগ্য ছিলেন না যে, সনদসহ কয়েকটি হাদিস লেখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তথাপি মন্ত্রী ও সভাসদসহ অন্যান্যদের হাতে কাগজ-কলম দেখে ঈষৎ হেসে বললেন, তোমরা কোথায় আর ইলমে হাদিসের তালিবে ইলমরা কোথায়! আরে! ইলমে হাদিসের প্রকৃত তালিবে ইলম তো তারাই, যাদের একান্ত নিমগ্নতা ও মনোযোগিতার দরুন কাপড়-চোপড় জীর্ণ-শীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। হাদিসের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে যাদের পা ফেটে যায়। সময় অভাবে যাদের চুল লম্বা ও আলুথালু থাকে। যারা মূল্যবান মণি-মুক্তা ও জহরতের তালাশে দিগ-দিগন্তে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়!
টিকাঃ
১৬৪ আল্লামা সুযুতি, তারিখুল খুলাফা: পৃ.১৭৭
📄 ইলমের সম্মান দানে আখেরাতে মুক্তি লাভ
হাফিজ শামসুদ্দিন সাখাবি রহ. লেখেন—প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনু দাউদ শাজকুনি রহ.-কে [মৃত্যু: ২৩৪ হি.] কেউ মৃত্যুর পরে স্বপ্ন-সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করল—
: আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?
: আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন!'
: কোন আমলের বিনিময়ে?
: একদিন আমি ইস্পাহানে যাচ্ছিলাম। পথে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো। আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম—আমার সঙ্গে যেসব কিতাব রয়েছে, সেগুলো ভিজে গেলে আমার সব পুঁজি ভেস্তে যাবে। আশপাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোনো ছাদ বা ছাউনিও ছিল না। অগত্যা আমি আমার শরীরকে দু'ভাঁজ করে কিতাবগুলোকে ঢেকে রাখলাম। যাতে কিছুটা হলেও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়। সারা রাত বৃষ্টি চলছিল। আর আমিও রাতভর ওই অবস্থায় কাটিয়েছি। সকালে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে এ আমলের উসিলায় মাফ করে দিয়েছেন!
টিকাঃ
১৬৫ আল্লামা সাখাবি, ফাতহুল মুগিস: পৃ.১৫৭
হাফিজ শামসুদ্দিন সাখাবি রহ. লেখেন—প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনু দাউদ শাজকুনি রহ.-কে [মৃত্যু: ২৩৪ হি.] কেউ মৃত্যুর পরে স্বপ্ন-সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করল—
: আল্লাহ তাআলা আপনার সাথে কেমন আচরণ করেছেন?
: আল্লাহ তাআলা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন!'
: কোন আমলের বিনিময়ে?
: একদিন আমি ইস্পাহানে যাচ্ছিলাম। পথে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হলো। আমি বেশ চিন্তায় পড়ে গেলাম—আমার সঙ্গে যেসব কিতাব রয়েছে, সেগুলো ভিজে গেলে আমার সব পুঁজি ভেস্তে যাবে। আশপাশে আশ্রয় নেওয়ার মতো তেমন কোনো ছাদ বা ছাউনিও ছিল না। অগত্যা আমি আমার শরীরকে দু'ভাঁজ করে কিতাবগুলোকে ঢেকে রাখলাম। যাতে কিছুটা হলেও বৃষ্টি থেকে রক্ষা পায়। সারা রাত বৃষ্টি চলছিল। আর আমিও রাতভর ওই অবস্থায় কাটিয়েছি। সকালে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আমি সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি। আল্লাহ তাআলা আমাকে এ আমলের উসিলায় মাফ করে দিয়েছেন!
টিকাঃ
১৬৫ আল্লামা সাখাবি, ফাতহুল মুগিস: পৃ.১৫৭
📄 সিন্ধুর এক প্রবীণ আলেমের মহামূল্যবান উক্তি
ইমাম আবু নসর ফাতাহ ইবনু আবদুল্লাহ সিন্ধি রহ. ছিলেন সিন্ধু বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত আলেম। মুসলিমদের সিন্ধু বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকাহ ও আকায়েদ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আল্লামা সামআনি রহ. তার নিম্নোক্ত ঘটনা সনদসহ বর্ণনা করেন:
আবদুল্লাহ ইবনু হুসাইন বলেন, 'একবার আমি আবু নসর সিন্ধির সঙ্গে কাদাটে পথ ধরে চলছিলাম। সাথে ছিল তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। হঠাৎ দেখতে পেলাম—সাইয়িদ বংশীয় এক আরবি রাজপুত্র মাতাল অবস্থায় কাদামাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। সে আমাদের দিকে দৃষ্টি ফেরাতেই আবু নসর তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ আসছে। রাজপুত্র আবু নসরকে লক্ষ্য করে বলল, হে গোলাম, আমার কঠিন বেহাল দশা দেখেও তুমি নিশ্চিন্ত মনে চলে যাচ্ছ? আর তোমার পেছনে পেছনে এতগুলো মানুষ তারাও তোমার মতোই নির্দ্বিধায় চলে যাচ্ছে?
আবু নসর নির্ভয়ে শাহজাদাকে জবাব দিলেন, শাহজাদা, তুমি জানো, আমি কেন এমনটি করেছি? আসলে কথা হলো, আমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ সাহাবা ও তাবিয়িন রহ.-এর অনুকরণ করতে শুরু করেছি। আর তোমরা কিনা আমাদের পূর্বপুরুষ কাফের-মুশরিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছ!
টিকাঃ
১৬৬ আল্লামা সামআনি, আল-আনসাব: পৃ.৩১৩
ইমাম আবু নসর ফাতাহ ইবনু আবদুল্লাহ সিন্ধি রহ. ছিলেন সিন্ধু বংশোদ্ভূত দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত আলেম। মুসলিমদের সিন্ধু বিজয়ের পর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাফসির, হাদিস, ফিকাহ ও আকায়েদ শাস্ত্রে বুৎপত্তি অর্জন করে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আল্লামা সামআনি রহ. তার নিম্নোক্ত ঘটনা সনদসহ বর্ণনা করেন:
আবদুল্লাহ ইবনু হুসাইন বলেন, 'একবার আমি আবু নসর সিন্ধির সঙ্গে কাদাটে পথ ধরে চলছিলাম। সাথে ছিল তার অসংখ্য ভক্তবৃন্দ। হঠাৎ দেখতে পেলাম—সাইয়িদ বংশীয় এক আরবি রাজপুত্র মাতাল অবস্থায় কাদামাটিতে লুটোপুটি খাচ্ছে। সে আমাদের দিকে দৃষ্টি ফেরাতেই আবু নসর তার কাছে গিয়ে দেখলেন যে, তার মুখ থেকে মদের দুর্গন্ধ আসছে। রাজপুত্র আবু নসরকে লক্ষ্য করে বলল, হে গোলাম, আমার কঠিন বেহাল দশা দেখেও তুমি নিশ্চিন্ত মনে চলে যাচ্ছ? আর তোমার পেছনে পেছনে এতগুলো মানুষ তারাও তোমার মতোই নির্দ্বিধায় চলে যাচ্ছে?
আবু নসর নির্ভয়ে শাহজাদাকে জবাব দিলেন, শাহজাদা, তুমি জানো, আমি কেন এমনটি করেছি? আসলে কথা হলো, আমরা তোমাদের পূর্বপুরুষ সাহাবা ও তাবিয়িন রহ.-এর অনুকরণ করতে শুরু করেছি। আর তোমরা কিনা আমাদের পূর্বপুরুষ কাফের-মুশরিকদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলছ!
টিকাঃ
১৬৬ আল্লামা সামআনি, আল-আনসাব: পৃ.৩১৩
📄 ভারতবর্ষে আগমনকারী সাহাবিগণের তালিকা
বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ হতে জানা যায়, ভারতবর্ষে নবীজির পঁচিশজন সাহাবির আগমন ঘটে। বারোজন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে, পাঁচজন উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে, তিনজন আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে, চারজন মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ও একজন ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে।
তাদের মধ্যে মুখাজরিমিন ও মুদরিকিন—উভয় শ্রেণির লোকই ছিলেন। মুখাজরিমিন হলো ওই সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা ইসলাম ও জাহিলি—উভয় যুগ পেয়েছেন; কিন্তু তারা নবীজির যুগ পেয়েও তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেন নি।
আর মুদরিকিন হলো—যারা কেবল নবীজির যুগ পেয়েছেন। তবে যে কোনো কারণে তাঁর সাক্ষাৎ মেলে নি। [তাদেরকে সাহাবিদের দলভুক্ত করা হয়েছে রূপকার্থে。
টিকাঃ
১৬৮ প্রাগুক্ত: ১/১০-১১
বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থ হতে জানা যায়, ভারতবর্ষে নবীজির পঁচিশজন সাহাবির আগমন ঘটে। বারোজন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে, পাঁচজন উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহুর খেলাফত কালে, তিনজন আলি রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে, চারজন মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর যুগে ও একজন ইয়াযিদ ইবনু মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর শাসনামলে।
তাদের মধ্যে মুখাজরিমিন ও মুদরিকিন—উভয় শ্রেণির লোকই ছিলেন। মুখাজরিমিন হলো ওই সকল ব্যক্তিবর্গ, যারা ইসলাম ও জাহিলি—উভয় যুগ পেয়েছেন; কিন্তু তারা নবীজির যুগ পেয়েও তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করতে পারেন নি।
আর মুদরিকিন হলো—যারা কেবল নবীজির যুগ পেয়েছেন। তবে যে কোনো কারণে তাঁর সাক্ষাৎ মেলে নি। [তাদেরকে সাহাবিদের দলভুক্ত করা হয়েছে রূপকার্থে。
টিকাঃ
১৬৮ প্রাগুক্ত: ১/১০-১১