📄 বায়েজিদ বোস্তামি রহ.-এর একটি মূল্যবান উক্তি
বায়েজিদ বোস্তামি রহ. [মৃত্যু : ২৬১ হি.] ছিলেন একজন বিখ্যাত সুফি- সাধক। তাঁর উক্তি—
যদি তোমরা কাউকে দেখো যে, সে বড় বড় কারামত ও অলৌকিক কোনো কিছু প্রদর্শন করছে, তবুও তার ফাঁদে পা দেবে না। যতক্ষণ না জানতে পারবে সে শরিয়তের বিধি- বিধানের প্রতি কতটুকু যত্নশীল。
টিকাঃ
১৬১ প্রাগুক্ত: ১১/৩৫
বায়েজিদ বোস্তামি রহ. [মৃত্যু : ২৬১ হি.] ছিলেন একজন বিখ্যাত সুফি- সাধক। তাঁর উক্তি—
যদি তোমরা কাউকে দেখো যে, সে বড় বড় কারামত ও অলৌকিক কোনো কিছু প্রদর্শন করছে, তবুও তার ফাঁদে পা দেবে না। যতক্ষণ না জানতে পারবে সে শরিয়তের বিধি- বিধানের প্রতি কতটুকু যত্নশীল。
টিকাঃ
১৬১ প্রাগুক্ত: ১১/৩৫
📄 জনৈক খ্রিস্টানের জ্ঞানগর্ভ কথা
আল্লামা সাইয়িদ রশিদ রেজা মিশরি লেখেন, সিরিয়ার ত্রিপোলিতে ইস্কান্দার নামক একজন উঁচুমাপের খ্রিস্টান ধর্মযাজক ছিলেন। রুশ এবং জার্মানির মাঝে তিনি কাউন্সিল হিসেবে কাজ করতেন। আমি তখনো অধ্যয়নরত ছিলাম। একবার পিতা মহোদয়ের কোনো এক কাজে তার কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার ফাঁকে প্রসঙ্গতঃ ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এমন একটি কথা বলেছেন, যা আজীবন আমার হৃদয়ে গাঁথা থাকবে। তিনি বলছিলেন—
ইসলামের সৌন্দর্য পাহাড়ের ন্যায় সুউচ্চ ও সুদৃঢ়; কিন্তু তোমরা এর সকল সৌন্দর্য এমনভাবে সমাধিস্থ করে রেখেছ যে, তা আজ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। এর বিন্দুমাত্র বাস্তব রূপরেখা কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আমাদের খ্রিস্টধর্মের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নেহাত কম। তাও আবার ঠুনকো-ঠানকা। তথাপি আমরা সেগুলোকে ‘খ্রিস্টধর্মের ফজিলত’ বলে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাই!
টিকাঃ
১৬২ আল-ওহয়ুল মুহাম্মাদি: পৃ.১৭০
আল্লামা সাইয়িদ রশিদ রেজা মিশরি লেখেন, সিরিয়ার ত্রিপোলিতে ইস্কান্দার নামক একজন উঁচুমাপের খ্রিস্টান ধর্মযাজক ছিলেন। রুশ এবং জার্মানির মাঝে তিনি কাউন্সিল হিসেবে কাজ করতেন। আমি তখনো অধ্যয়নরত ছিলাম। একবার পিতা মহোদয়ের কোনো এক কাজে তার কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার ফাঁকে প্রসঙ্গতঃ ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এমন একটি কথা বলেছেন, যা আজীবন আমার হৃদয়ে গাঁথা থাকবে। তিনি বলছিলেন—
ইসলামের সৌন্দর্য পাহাড়ের ন্যায় সুউচ্চ ও সুদৃঢ়; কিন্তু তোমরা এর সকল সৌন্দর্য এমনভাবে সমাধিস্থ করে রেখেছ যে, তা আজ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। এর বিন্দুমাত্র বাস্তব রূপরেখা কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আমাদের খ্রিস্টধর্মের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নেহাত কম। তাও আবার ঠুনকো-ঠানকা। তথাপি আমরা সেগুলোকে ‘খ্রিস্টধর্মের ফজিলত’ বলে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাই!
টিকাঃ
১৬২ আল-ওহয়ুল মুহাম্মাদি: পৃ.১৭০
📄 হাসান-হুসাইনের তাবলিগি কৌশল
আল্লামা কিরদারি রহ. বলেন, নবীজির প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু একবার ফোরাত নদীর তীরে জনৈক বৃদ্ধকে তড়িঘড়ি অজু করতে দেখলেন। অতঃপর সে নামাজও অনুরূপ তড়িঘড়ি করে আদায় করল। ফলে এতে অজু ও নামাজের সুন্নতসমূহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু তাকে বোঝানোর ইচ্ছা করছিলেন; কিন্তু বেচারা বৃদ্ধ মানুষ নিজের ভুল ধরার কথা শুনে পাছে ক্ষিপ্ত না হয়ে পড়েন— এই ভয়ে দুই ভাই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বললেন, আমরা উভয়ে আনাড়ি যুবক। আপনি অভিজ্ঞ ও অশীতিপর বৃদ্ধ। আপনি অজু-নামাজের নিয়ম- কানুন আমাদের চেয়ে ভালো জেনে থাকবেন। অতএব, আপনার সমীপে আমাদের নিবেদন—আমরা আপনাকে অজু ও নামাজ আদায় করে দেখাচ্ছি। এতে কোনো ভুল-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে শুধরে দেবেন। তারপর তারা উভয়ে সুন্নত মোতাবেক অজু ও নামাজ আদায় করে দেখালেন। বৃদ্ধলোকটি তা দেখে নিজের ভুলের জন্য তওবা করলেন এবং ভবিষ্যতে ভুল-পদ্ধতি পরিহারে প্রতিজ্ঞা করলেন。
টিকাঃ
১৬৩ আল্লামা কিরদারি, মানাকিবুল ইমাম আযম: ১/৩৯
আল্লামা কিরদারি রহ. বলেন, নবীজির প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু একবার ফোরাত নদীর তীরে জনৈক বৃদ্ধকে তড়িঘড়ি অজু করতে দেখলেন। অতঃপর সে নামাজও অনুরূপ তড়িঘড়ি করে আদায় করল। ফলে এতে অজু ও নামাজের সুন্নতসমূহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু তাকে বোঝানোর ইচ্ছা করছিলেন; কিন্তু বেচারা বৃদ্ধ মানুষ নিজের ভুল ধরার কথা শুনে পাছে ক্ষিপ্ত না হয়ে পড়েন— এই ভয়ে দুই ভাই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বললেন, আমরা উভয়ে আনাড়ি যুবক। আপনি অভিজ্ঞ ও অশীতিপর বৃদ্ধ। আপনি অজু-নামাজের নিয়ম- কানুন আমাদের চেয়ে ভালো জেনে থাকবেন। অতএব, আপনার সমীপে আমাদের নিবেদন—আমরা আপনাকে অজু ও নামাজ আদায় করে দেখাচ্ছি। এতে কোনো ভুল-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে শুধরে দেবেন। তারপর তারা উভয়ে সুন্নত মোতাবেক অজু ও নামাজ আদায় করে দেখালেন। বৃদ্ধলোকটি তা দেখে নিজের ভুলের জন্য তওবা করলেন এবং ভবিষ্যতে ভুল-পদ্ধতি পরিহারে প্রতিজ্ঞা করলেন。
টিকাঃ
১৬৩ আল্লামা কিরদারি, মানাকিবুল ইমাম আযম: ১/৩৯
📄 খলিফা মনসুরের আকাঙ্ক্ষা
মনসুর ছিলেন আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ। তার রাজত্বের পরিধি ও সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল সুবিস্তীর্ণ। তার যুগে সর্বস্তরের জনগণ আরাম-আয়েশে দিন কাটাত। হাফিজ ইবনু আসাকির মুহাম্মদ ইবনু সালাম আজামি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, একদিন কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করল—আমিরুল মুমিনিন, পৃথিবীতে এমন কোনো স্বাদ আছে কি, যা আপনি উপভোগ করেন নি? খলিফা মনসুর খুব ভেবে চিন্তে উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! এখনো কোনো কোনো বিষয়ের স্বাদ আমি উপভোগ করতে পারি নি। তার অন্যতম হলো, আমি কোনো বড় কামরায় বসা থাকবো। আর আমার চতুপার্শ্বে ইলমে হাদিসের ছাত্ররা ঘিরে বসে থাকবে। তারা আমার থেকে হাদিস শুনে শুনে তৎক্ষণাৎ তা লিখে রাখবে। কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, এক্ষণে আপনি কোন রাবির হাদিস বর্ণনা করছিলেন? আমি উত্তরে বলবো—
حدثنا فلان قال حدثنا فلان، قال حدثنا فلان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এ ছিল একজন খলিফা ও রাষ্ট্রের সবচে' উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মনের বাসনা ও খায়েশ! যা এমন কোনো আহামরি বিষয় ছিল না যে, তার চোখের ইশারায় পূরণ হওয়া কঠিন।
পরেরদিন সকালে খলিফার সহচর, মন্ত্রী, মন্ত্রীপুত্র ও দরবারের অন্যান্য লোক কলম-দোয়াত ও কাগজ নিয়ে খলিফার দরবারে হাজির। সকলে খলিফার নিকট হাদিস শোনানোর আবেদন করল। ইলমে হাদিস সম্পর্কে খলিফা এতটা অযোগ্য ছিলেন না যে, সনদসহ কয়েকটি হাদিস লেখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তথাপি মন্ত্রী ও সভাসদসহ অন্যান্যদের হাতে কাগজ-কলম দেখে ঈষৎ হেসে বললেন, তোমরা কোথায় আর ইলমে হাদিসের তালিবে ইলমরা কোথায়! আরে! ইলমে হাদিসের প্রকৃত তালিবে ইলম তো তারাই, যাদের একান্ত নিমগ্নতা ও মনোযোগিতার দরুন কাপড়-চোপড় জীর্ণ-শীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। হাদিসের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে যাদের পা ফেটে যায়। সময় অভাবে যাদের চুল লম্বা ও আলুথালু থাকে। যারা মূল্যবান মণি-মুক্তা ও জহরতের তালাশে দিগ-দিগন্তে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়!
টিকাঃ
১৬৪ আল্লামা সুযুতি, তারিখুল খুলাফা: পৃ.১৭৭
মনসুর ছিলেন আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ। তার রাজত্বের পরিধি ও সাম্রাজ্যের সীমানা ছিল সুবিস্তীর্ণ। তার যুগে সর্বস্তরের জনগণ আরাম-আয়েশে দিন কাটাত। হাফিজ ইবনু আসাকির মুহাম্মদ ইবনু সালাম আজামি রহ.-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেন, একদিন কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করল—আমিরুল মুমিনিন, পৃথিবীতে এমন কোনো স্বাদ আছে কি, যা আপনি উপভোগ করেন নি? খলিফা মনসুর খুব ভেবে চিন্তে উত্তর দিলেন, হ্যাঁ! এখনো কোনো কোনো বিষয়ের স্বাদ আমি উপভোগ করতে পারি নি। তার অন্যতম হলো, আমি কোনো বড় কামরায় বসা থাকবো। আর আমার চতুপার্শ্বে ইলমে হাদিসের ছাত্ররা ঘিরে বসে থাকবে। তারা আমার থেকে হাদিস শুনে শুনে তৎক্ষণাৎ তা লিখে রাখবে। কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করবে, এক্ষণে আপনি কোন রাবির হাদিস বর্ণনা করছিলেন? আমি উত্তরে বলবো—
حدثنا فلان قال حدثنا فلان، قال حدثنا فلان عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.
এ ছিল একজন খলিফা ও রাষ্ট্রের সবচে' উচ্চপদস্থ ব্যক্তির মনের বাসনা ও খায়েশ! যা এমন কোনো আহামরি বিষয় ছিল না যে, তার চোখের ইশারায় পূরণ হওয়া কঠিন।
পরেরদিন সকালে খলিফার সহচর, মন্ত্রী, মন্ত্রীপুত্র ও দরবারের অন্যান্য লোক কলম-দোয়াত ও কাগজ নিয়ে খলিফার দরবারে হাজির। সকলে খলিফার নিকট হাদিস শোনানোর আবেদন করল। ইলমে হাদিস সম্পর্কে খলিফা এতটা অযোগ্য ছিলেন না যে, সনদসহ কয়েকটি হাদিস লেখা তাঁর পক্ষে অসম্ভব। তথাপি মন্ত্রী ও সভাসদসহ অন্যান্যদের হাতে কাগজ-কলম দেখে ঈষৎ হেসে বললেন, তোমরা কোথায় আর ইলমে হাদিসের তালিবে ইলমরা কোথায়! আরে! ইলমে হাদিসের প্রকৃত তালিবে ইলম তো তারাই, যাদের একান্ত নিমগ্নতা ও মনোযোগিতার দরুন কাপড়-চোপড় জীর্ণ-শীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন থাকে। হাদিসের খোঁজে হাঁটতে হাঁটতে যাদের পা ফেটে যায়। সময় অভাবে যাদের চুল লম্বা ও আলুথালু থাকে। যারা মূল্যবান মণি-মুক্তা ও জহরতের তালাশে দিগ-দিগন্তে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়!
টিকাঃ
১৬৪ আল্লামা সুযুতি, তারিখুল খুলাফা: পৃ.১৭৭