📄 জনৈক বুজুর্গের অব্যর্থ দুআ
বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. [মৃত্যু: ২৭৬ হি.] ছিলেন উন্দুলুস শহরের একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস। ইলমে হাদিসের জগতে তাঁর সুনাম সর্বজন বিদিত। তিনি একাধারে উঁচু মাপের হাদিসবেত্তা, যুগশ্রেষ্ঠ আবেদ, খোদাভীরু ও মুস্তাজাবুদ্দাওয়াত [যার দুআ বিফলে যায় না] এমন বুজুর্গ ছিলেন। একবার এক মহিলা এসে তাকে বলল, আমার ছেলেকে ইংরেজরা বন্দি করে রেখেছে। তার চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমার ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর আছে। আমি মুক্তিপণ বাবদ ঘরটি বিক্রি করে ছেলেকে মুক্ত করতে চাই। আপনি একজন গ্রাহক যোগাড় করে দেন। আমি তার চিন্তায় নিতান্ত অস্থির হয়ে পড়েছি।
বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. এক সন্তান হারা অভাগী মায়ের করুণ আর্তনাদ শুনে তাকে বললেন, 'তুমি এখন যাও, আমি তোমার বিষয়টি ভেবে দেখছি।' এ কথা বলেই তিনি মাথা নোয়ালেন এবং ছেলের মুক্তির জন্য দুআ করতে লাগলেন।
এ ঘটনার কিছুদিন না যেতেই সেই মহিলা ফিরে এলো। এবার সঙ্গে ছিল তার সদ্য কারামুক্ত ছেলে। মা বলল, এর কাছে শোনেন-এর সাথে কী অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলতে লাগল, আমাকে ইংরেজসম্রাট সেসব কয়েদির অন্তর্ভুক্ত করল যারা শৃঙ্খলিতবস্থায় সম্রাটের সেবা দানে নিয়োজিত থাকে। একদিন আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ চলার মাঝেই আমার পা হতে শিকল খুলে মাটিতে পড়ে গেল। আমার পাহারায় নিয়োজিত সিপাহি অকথ্য ভাষায় বলল, পায়ের শিকল খুলেছিস কেন? আমি বললাম, খোদার কসম! আমি একটুও টের পাইনি, কখন কীভাবে আমার পা হতে শিকলটি খুলে পড়ে গেছে! অতঃপর সে একজন কর্মকারকে ডেকে এনে পুনরায় আমার পায়ে শিকলটি পরিয়ে দিল। এবার খুব মজবুত পেরেক এঁটে দেওয়া হলো আমার শিকলে; কিন্তু পরক্ষণে উঠে হাঁটতে শুরু করলাম, অমনি আমার পা হতে পুনরায় শিকল খুলে পড়ে গেল। সিপাহি পুনরায় সেটাকে পরিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পর আবারো শিকল পড়ে গেল। সকল সিপাহি এতে বেশ অবাক হলো। কৌতূহলী মনে তাদের পাদ্রিদের নিকট এর রহস্য জানতে চাইলে তারা জিজ্ঞেস করলেন ছেলেটির মা কি জীবিত আছে? আমিই জবাব দিয়ে বললাম, হ্যাঁ! পাদ্রিরা বললেন, মনে হয় তার মা তার জন্য দুআ করেছেন আর অমনি তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে গেছে। অতঃপর পাদ্রিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলে পরামর্শ অনুযায়ী তারা আমাকে মুক্ত করে দিল। আর আমি অনতিবিলম্বে মুসলিম নগরীতে চলে আসলাম।
ঘটনা শুনে বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. শিকল খুলে পড়ে যাওয়ার সময়টা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। দেখা গেল সময়টা ঠিক তখন ছিল যখন বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. তার জন্য দুআ করেছিলেন।
টিকাঃ
১৬০ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/৫৭
বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. [মৃত্যু: ২৭৬ হি.] ছিলেন উন্দুলুস শহরের একজন প্রখ্যাত মুহাদ্দিস। ইলমে হাদিসের জগতে তাঁর সুনাম সর্বজন বিদিত। তিনি একাধারে উঁচু মাপের হাদিসবেত্তা, যুগশ্রেষ্ঠ আবেদ, খোদাভীরু ও মুস্তাজাবুদ্দাওয়াত [যার দুআ বিফলে যায় না] এমন বুজুর্গ ছিলেন। একবার এক মহিলা এসে তাকে বলল, আমার ছেলেকে ইংরেজরা বন্দি করে রেখেছে। তার চিন্তায় আমার রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। আমার ছোট্ট একটি কুঁড়েঘর আছে। আমি মুক্তিপণ বাবদ ঘরটি বিক্রি করে ছেলেকে মুক্ত করতে চাই। আপনি একজন গ্রাহক যোগাড় করে দেন। আমি তার চিন্তায় নিতান্ত অস্থির হয়ে পড়েছি।
বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. এক সন্তান হারা অভাগী মায়ের করুণ আর্তনাদ শুনে তাকে বললেন, 'তুমি এখন যাও, আমি তোমার বিষয়টি ভেবে দেখছি।' এ কথা বলেই তিনি মাথা নোয়ালেন এবং ছেলের মুক্তির জন্য দুআ করতে লাগলেন।
এ ঘটনার কিছুদিন না যেতেই সেই মহিলা ফিরে এলো। এবার সঙ্গে ছিল তার সদ্য কারামুক্ত ছেলে। মা বলল, এর কাছে শোনেন-এর সাথে কী অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বলতে লাগল, আমাকে ইংরেজসম্রাট সেসব কয়েদির অন্তর্ভুক্ত করল যারা শৃঙ্খলিতবস্থায় সম্রাটের সেবা দানে নিয়োজিত থাকে। একদিন আমি আমার অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ চলার মাঝেই আমার পা হতে শিকল খুলে মাটিতে পড়ে গেল। আমার পাহারায় নিয়োজিত সিপাহি অকথ্য ভাষায় বলল, পায়ের শিকল খুলেছিস কেন? আমি বললাম, খোদার কসম! আমি একটুও টের পাইনি, কখন কীভাবে আমার পা হতে শিকলটি খুলে পড়ে গেছে! অতঃপর সে একজন কর্মকারকে ডেকে এনে পুনরায় আমার পায়ে শিকলটি পরিয়ে দিল। এবার খুব মজবুত পেরেক এঁটে দেওয়া হলো আমার শিকলে; কিন্তু পরক্ষণে উঠে হাঁটতে শুরু করলাম, অমনি আমার পা হতে পুনরায় শিকল খুলে পড়ে গেল। সিপাহি পুনরায় সেটাকে পরিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পর আবারো শিকল পড়ে গেল। সকল সিপাহি এতে বেশ অবাক হলো। কৌতূহলী মনে তাদের পাদ্রিদের নিকট এর রহস্য জানতে চাইলে তারা জিজ্ঞেস করলেন ছেলেটির মা কি জীবিত আছে? আমিই জবাব দিয়ে বললাম, হ্যাঁ! পাদ্রিরা বললেন, মনে হয় তার মা তার জন্য দুআ করেছেন আর অমনি তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে গেছে। অতঃপর পাদ্রিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলে পরামর্শ অনুযায়ী তারা আমাকে মুক্ত করে দিল। আর আমি অনতিবিলম্বে মুসলিম নগরীতে চলে আসলাম।
ঘটনা শুনে বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. শিকল খুলে পড়ে যাওয়ার সময়টা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। দেখা গেল সময়টা ঠিক তখন ছিল যখন বাকি ইবনু মুখাল্লাদ রহ. তার জন্য দুআ করেছিলেন।
টিকাঃ
১৬০ আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১১/৫৭
📄 বায়েজিদ বোস্তামি রহ.-এর একটি মূল্যবান উক্তি
বায়েজিদ বোস্তামি রহ. [মৃত্যু : ২৬১ হি.] ছিলেন একজন বিখ্যাত সুফি- সাধক। তাঁর উক্তি—
যদি তোমরা কাউকে দেখো যে, সে বড় বড় কারামত ও অলৌকিক কোনো কিছু প্রদর্শন করছে, তবুও তার ফাঁদে পা দেবে না। যতক্ষণ না জানতে পারবে সে শরিয়তের বিধি- বিধানের প্রতি কতটুকু যত্নশীল。
টিকাঃ
১৬১ প্রাগুক্ত: ১১/৩৫
বায়েজিদ বোস্তামি রহ. [মৃত্যু : ২৬১ হি.] ছিলেন একজন বিখ্যাত সুফি- সাধক। তাঁর উক্তি—
যদি তোমরা কাউকে দেখো যে, সে বড় বড় কারামত ও অলৌকিক কোনো কিছু প্রদর্শন করছে, তবুও তার ফাঁদে পা দেবে না। যতক্ষণ না জানতে পারবে সে শরিয়তের বিধি- বিধানের প্রতি কতটুকু যত্নশীল。
টিকাঃ
১৬১ প্রাগুক্ত: ১১/৩৫
📄 জনৈক খ্রিস্টানের জ্ঞানগর্ভ কথা
আল্লামা সাইয়িদ রশিদ রেজা মিশরি লেখেন, সিরিয়ার ত্রিপোলিতে ইস্কান্দার নামক একজন উঁচুমাপের খ্রিস্টান ধর্মযাজক ছিলেন। রুশ এবং জার্মানির মাঝে তিনি কাউন্সিল হিসেবে কাজ করতেন। আমি তখনো অধ্যয়নরত ছিলাম। একবার পিতা মহোদয়ের কোনো এক কাজে তার কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার ফাঁকে প্রসঙ্গতঃ ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এমন একটি কথা বলেছেন, যা আজীবন আমার হৃদয়ে গাঁথা থাকবে। তিনি বলছিলেন—
ইসলামের সৌন্দর্য পাহাড়ের ন্যায় সুউচ্চ ও সুদৃঢ়; কিন্তু তোমরা এর সকল সৌন্দর্য এমনভাবে সমাধিস্থ করে রেখেছ যে, তা আজ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। এর বিন্দুমাত্র বাস্তব রূপরেখা কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আমাদের খ্রিস্টধর্মের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নেহাত কম। তাও আবার ঠুনকো-ঠানকা। তথাপি আমরা সেগুলোকে ‘খ্রিস্টধর্মের ফজিলত’ বলে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাই!
টিকাঃ
১৬২ আল-ওহয়ুল মুহাম্মাদি: পৃ.১৭০
আল্লামা সাইয়িদ রশিদ রেজা মিশরি লেখেন, সিরিয়ার ত্রিপোলিতে ইস্কান্দার নামক একজন উঁচুমাপের খ্রিস্টান ধর্মযাজক ছিলেন। রুশ এবং জার্মানির মাঝে তিনি কাউন্সিল হিসেবে কাজ করতেন। আমি তখনো অধ্যয়নরত ছিলাম। একবার পিতা মহোদয়ের কোনো এক কাজে তার কাছে গিয়েছিলাম। তখন তিনি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনার ফাঁকে প্রসঙ্গতঃ ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সঙ্গে তুলনা করতে গিয়ে এমন একটি কথা বলেছেন, যা আজীবন আমার হৃদয়ে গাঁথা থাকবে। তিনি বলছিলেন—
ইসলামের সৌন্দর্য পাহাড়ের ন্যায় সুউচ্চ ও সুদৃঢ়; কিন্তু তোমরা এর সকল সৌন্দর্য এমনভাবে সমাধিস্থ করে রেখেছ যে, তা আজ মানুষের দৃষ্টির বাইরে। এর বিন্দুমাত্র বাস্তব রূপরেখা কোথাও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পক্ষান্তরে আমাদের খ্রিস্টধর্মের সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য নেহাত কম। তাও আবার ঠুনকো-ঠানকা। তথাপি আমরা সেগুলোকে ‘খ্রিস্টধর্মের ফজিলত’ বলে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চালাই!
টিকাঃ
১৬২ আল-ওহয়ুল মুহাম্মাদি: পৃ.১৭০
📄 হাসান-হুসাইনের তাবলিগি কৌশল
আল্লামা কিরদারি রহ. বলেন, নবীজির প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু একবার ফোরাত নদীর তীরে জনৈক বৃদ্ধকে তড়িঘড়ি অজু করতে দেখলেন। অতঃপর সে নামাজও অনুরূপ তড়িঘড়ি করে আদায় করল। ফলে এতে অজু ও নামাজের সুন্নতসমূহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু তাকে বোঝানোর ইচ্ছা করছিলেন; কিন্তু বেচারা বৃদ্ধ মানুষ নিজের ভুল ধরার কথা শুনে পাছে ক্ষিপ্ত না হয়ে পড়েন— এই ভয়ে দুই ভাই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বললেন, আমরা উভয়ে আনাড়ি যুবক। আপনি অভিজ্ঞ ও অশীতিপর বৃদ্ধ। আপনি অজু-নামাজের নিয়ম- কানুন আমাদের চেয়ে ভালো জেনে থাকবেন। অতএব, আপনার সমীপে আমাদের নিবেদন—আমরা আপনাকে অজু ও নামাজ আদায় করে দেখাচ্ছি। এতে কোনো ভুল-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে শুধরে দেবেন। তারপর তারা উভয়ে সুন্নত মোতাবেক অজু ও নামাজ আদায় করে দেখালেন। বৃদ্ধলোকটি তা দেখে নিজের ভুলের জন্য তওবা করলেন এবং ভবিষ্যতে ভুল-পদ্ধতি পরিহারে প্রতিজ্ঞা করলেন。
টিকাঃ
১৬৩ আল্লামা কিরদারি, মানাকিবুল ইমাম আযম: ১/৩৯
আল্লামা কিরদারি রহ. বলেন, নবীজির প্রিয় দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু একবার ফোরাত নদীর তীরে জনৈক বৃদ্ধকে তড়িঘড়ি অজু করতে দেখলেন। অতঃপর সে নামাজও অনুরূপ তড়িঘড়ি করে আদায় করল। ফলে এতে অজু ও নামাজের সুন্নতসমূহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাসান ও হুসাইন রাজিয়াল্লাহু আনহু তাকে বোঝানোর ইচ্ছা করছিলেন; কিন্তু বেচারা বৃদ্ধ মানুষ নিজের ভুল ধরার কথা শুনে পাছে ক্ষিপ্ত না হয়ে পড়েন— এই ভয়ে দুই ভাই বৃদ্ধের কাছে গিয়ে বললেন, আমরা উভয়ে আনাড়ি যুবক। আপনি অভিজ্ঞ ও অশীতিপর বৃদ্ধ। আপনি অজু-নামাজের নিয়ম- কানুন আমাদের চেয়ে ভালো জেনে থাকবেন। অতএব, আপনার সমীপে আমাদের নিবেদন—আমরা আপনাকে অজু ও নামাজ আদায় করে দেখাচ্ছি। এতে কোনো ভুল-ত্রুটি দৃষ্টিগোচর হলে শুধরে দেবেন। তারপর তারা উভয়ে সুন্নত মোতাবেক অজু ও নামাজ আদায় করে দেখালেন। বৃদ্ধলোকটি তা দেখে নিজের ভুলের জন্য তওবা করলেন এবং ভবিষ্যতে ভুল-পদ্ধতি পরিহারে প্রতিজ্ঞা করলেন。
টিকাঃ
১৬৩ আল্লামা কিরদারি, মানাকিবুল ইমাম আযম: ১/৩৯