📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 জীবন সন্ধিক্ষণে ইমাম আবু ইউসুফ রহ.

📄 জীবন সন্ধিক্ষণে ইমাম আবু ইউসুফ রহ.


ইবরাহিম ইবনুল জাররাহ রহ. বলেন, আমি ইমাম আবু ইউসুফ রহ.'র মৃত্যুশয্যায় তার শুশ্রূষার জন্য গিয়ে দেখলাম তিনি বেহুঁশ। কিছুক্ষণ পর তাঁর হুঁশ ফিরল। চোখ মেলেই তিনি আমাকে পাশে বসা পেলেন। আমাকে দেখেই বললেন, ইবরাহিম, বলো তো দেখি, হাজিদের জন্য পায়ে হেঁটে কঙ্কর নিক্ষেপ করা উত্তম, নাকি আরোহী অবস্থায়? আমি বললাম, পায়ে হেঁটে নিক্ষেপ করা উত্তম। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বললেন, তোমার কথা ঠিক না। আমি বললাম, তাহলে আরোহী অবস্থায় উত্তম। তিনি বললেন, এও ঠিক না। অতঃপর তিনি নিজেই বললেন, প্রথম দু'বার পায়ে হেঁটে উত্তম। আর তৃতীয়বার আরোহী অবস্থায় উত্তম।
ইবরাহিম রহ. বলেন, মাসআলাটি জেনে আমি যতটুকু না আশ্চর্য ও অভিভূত হয়েছি তারচে' বেশি আশ্চর্য হয়েছি মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায়ও ইলমি পর্যালোচনার প্রতি তাঁর অগাধ উদ্দীপনা দেখে! অতঃপর বিদায় নিয়ে কিছুদূর না যেতেই ভেতর থেকে কর্ণকুহরে ভেসে এলো মেয়েদের কান্নার আওয়াজ। তখন বুঝতে পারলাম—তিনি পরম মাওলার সান্নিধ্যে চলে গেছেন。

টিকাঃ
১৫৩ মাআরিফুস সুনান: ৬/৪৭৪-৪৭৫

ইবরাহিম ইবনুল জাররাহ রহ. বলেন, আমি ইমাম আবু ইউসুফ রহ.'র মৃত্যুশয্যায় তার শুশ্রূষার জন্য গিয়ে দেখলাম তিনি বেহুঁশ। কিছুক্ষণ পর তাঁর হুঁশ ফিরল। চোখ মেলেই তিনি আমাকে পাশে বসা পেলেন। আমাকে দেখেই বললেন, ইবরাহিম, বলো তো দেখি, হাজিদের জন্য পায়ে হেঁটে কঙ্কর নিক্ষেপ করা উত্তম, নাকি আরোহী অবস্থায়? আমি বললাম, পায়ে হেঁটে নিক্ষেপ করা উত্তম। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বললেন, তোমার কথা ঠিক না। আমি বললাম, তাহলে আরোহী অবস্থায় উত্তম। তিনি বললেন, এও ঠিক না। অতঃপর তিনি নিজেই বললেন, প্রথম দু'বার পায়ে হেঁটে উত্তম। আর তৃতীয়বার আরোহী অবস্থায় উত্তম।
ইবরাহিম রহ. বলেন, মাসআলাটি জেনে আমি যতটুকু না আশ্চর্য ও অভিভূত হয়েছি তারচে' বেশি আশ্চর্য হয়েছি মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায়ও ইলমি পর্যালোচনার প্রতি তাঁর অগাধ উদ্দীপনা দেখে! অতঃপর বিদায় নিয়ে কিছুদূর না যেতেই ভেতর থেকে কর্ণকুহরে ভেসে এলো মেয়েদের কান্নার আওয়াজ। তখন বুঝতে পারলাম—তিনি পরম মাওলার সান্নিধ্যে চলে গেছেন。

টিকাঃ
১৫৩ মাআরিফুস সুনান: ৬/৪৭৪-৪৭৫

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কাব ইবনু জুহাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর চাদর

📄 কাব ইবনু জুহাইর রাজিয়াল্লাহু আনহুর চাদর


মক্কা বিজয়ের পরে যে সকল সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কাব ইবনু জুহাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন তাদেরই একজন। ইসলাম গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মুসলিমদের নিদারুণ কষ্ট দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের সময় ইসলামের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়াকাশে ফুটে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু রাসুলুল্লাহর সম্মুখে যেতে তিনি সঙ্কোচবোধ করতেন। সকলে তাকে সান্ত্বনা দিল যে, তুমি রাসুলুল্লাহর দরবারে গিয়ে ক্ষমা চাইলে তিনি অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন। তাদের কথা মতো তিনি নবীজির দরবারে হাজির হওয়ার ইচ্ছা করলেন। এবং প্রিয় নবিজির প্রশংসায় যে ঐতিহাসিক কবিতাগুচ্ছ তৈরি করেছিলেন তার প্রথম পঙক্তি হলো—
بَانَتْ سُعَادُ فَقَلْبِي الْيَوْمَ مَتْبُوْلٌ مُتَيِّمٌ إِثْرَهَا، لَمْ يُفْدَ مَكْبُولٌ.
এ কবিতাগুচ্ছ তিনি স্বয়ং নবীজিকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন। নবিজি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিলেন। উপরন্তু পুরস্কারস্বরূপ তাকে নিজের একটি চাদরও দান করলেন। এ কারনেই এ কবিতামালাকে ‘কসিদায়ে বুরদাহ বা চাদরের কবিতা’ বলে অভিহিত করা হয়। [আল্লামা বুসিরি রহ.ও কসিদায়ে বুরদাহ নামে প্রিয় নবীজির শানে প্রশংসা-মূলক কিছু কবিতা রচনা করেন। তার নাম করণের কারণ অবশ্য ভিন্ন।] যা-হোক, কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু নবীজির থেকে পাওয়া সেই চাদরটি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত স্মৃতিচারণ ও বরকত হাসিলের জন্য নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু তার শাসনামলে একবার দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে উক্ত চাদরটি বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব করলেন; কিন্তু কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু স্পষ্ট ভাষায় বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র কাপড়ের বিনিময়ে দুনিয়ার কোনো মূল্যই গ্রহণ করতে পারি না। পরবর্তী সময়ে কাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের পর মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু তার ওয়ারিসদের কাছ থেকে চল্লিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে চাদরটি খরিদ করে নেন। মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের পর এ চাদর বংশ পরম্পরায় বনু উমাইয়ার খলিফাদের নিকট পালাক্রমে হস্তান্তর হতে থাকে। পরে আব্বাসি খেলাফতের প্রথম খলিফা সাফফাহ এ চাদরটি বনু উমাইয়্যা থেকে তিনশ' দিনারের বিনিময়ে খরিদ করে নেন এবং তা দীর্ঘদিন যাবৎ আব্বাসি খলিফাদের নিকট সংরক্ষিত ছিল। অবশেষে তাতারিরা যখন বাগদাদ দখল করে নেয়, চাদরটিও তারা সেখান থেকে লুট করে নেয়。

টিকাঃ
১৫৪ প্রাগুক্ত: ৬/৫১৩

মক্কা বিজয়ের পরে যে সকল সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, কাব ইবনু জুহাইর রাজিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন তাদেরই একজন। ইসলাম গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মুসলিমদের নিদারুণ কষ্ট দিয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের সময় ইসলামের সৌন্দর্য তাঁর হৃদয়াকাশে ফুটে উঠেছিল ঠিকই, কিন্তু রাসুলুল্লাহর সম্মুখে যেতে তিনি সঙ্কোচবোধ করতেন। সকলে তাকে সান্ত্বনা দিল যে, তুমি রাসুলুল্লাহর দরবারে গিয়ে ক্ষমা চাইলে তিনি অবশ্যই ক্ষমা করে দেবেন। তাদের কথা মতো তিনি নবীজির দরবারে হাজির হওয়ার ইচ্ছা করলেন। এবং প্রিয় নবিজির প্রশংসায় যে ঐতিহাসিক কবিতাগুচ্ছ তৈরি করেছিলেন তার প্রথম পঙক্তি হলো—
بَانَتْ سُعَادُ فَقَلْبِي الْيَوْمَ مَتْبُوْلٌ مُتَيِّمٌ إِثْرَهَا، لَمْ يُفْدَ مَكْبُولٌ.
এ কবিতাগুচ্ছ তিনি স্বয়ং নবীজিকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছিলেন। নবিজি এতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে তার সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিলেন। উপরন্তু পুরস্কারস্বরূপ তাকে নিজের একটি চাদরও দান করলেন। এ কারনেই এ কবিতামালাকে ‘কসিদায়ে বুরদাহ বা চাদরের কবিতা’ বলে অভিহিত করা হয়। [আল্লামা বুসিরি রহ.ও কসিদায়ে বুরদাহ নামে প্রিয় নবীজির শানে প্রশংসা-মূলক কিছু কবিতা রচনা করেন। তার নাম করণের কারণ অবশ্য ভিন্ন।] যা-হোক, কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু নবীজির থেকে পাওয়া সেই চাদরটি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত স্মৃতিচারণ ও বরকত হাসিলের জন্য নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন। মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু তার শাসনামলে একবার দশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে উক্ত চাদরটি বিক্রি করার জন্য প্রস্তাব করলেন; কিন্তু কাব রাজিয়াল্লাহু আনহু স্পষ্ট ভাষায় বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা.-এর পবিত্র কাপড়ের বিনিময়ে দুনিয়ার কোনো মূল্যই গ্রহণ করতে পারি না। পরবর্তী সময়ে কাব রাজিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের পর মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহু তার ওয়ারিসদের কাছ থেকে চল্লিশ হাজার দিরহামের বিনিময়ে চাদরটি খরিদ করে নেন। মুআবিয়া রাজিয়াল্লাহু আনহুর ইন্তিকালের পর এ চাদর বংশ পরম্পরায় বনু উমাইয়ার খলিফাদের নিকট পালাক্রমে হস্তান্তর হতে থাকে। পরে আব্বাসি খেলাফতের প্রথম খলিফা সাফফাহ এ চাদরটি বনু উমাইয়্যা থেকে তিনশ' দিনারের বিনিময়ে খরিদ করে নেন এবং তা দীর্ঘদিন যাবৎ আব্বাসি খলিফাদের নিকট সংরক্ষিত ছিল। অবশেষে তাতারিরা যখন বাগদাদ দখল করে নেয়, চাদরটিও তারা সেখান থেকে লুট করে নেয়。

টিকাঃ
১৫৪ প্রাগুক্ত: ৬/৫১৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 স্বপ্নযোগে কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাখ্যা

📄 স্বপ্নযোগে কুরআন তিলাওয়াতের ব্যাখ্যা


আল্লামা কামালুদ্দিন আদহামি রহ. লেখেন—
• যদি কেউ কুরআনে কারিম দেখে দেখে পড়া স্বপ্ন দেখে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো—সে ব্যক্তির ইজ্জত-সম্মান, বিজয় ও খুশির উপকরণ অর্জন হবে।
• যদি কেউ মুখস্থ কুরআনে কারিম তিলাওয়াত করা স্বপ্নে দেখে, তবে এর অর্থ হলো—সে কারও সঙ্গে মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িয়ে পড়বে এবং এতে সে বিজয়ী হবে। এর আরও ব্যাখ্যা হলো লোকটি আমানতদার হবে। কোমল হৃদয়ের মুমিন হবে। মানুষকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বাধা প্রদান করবে।
• যদি কেউ স্বপ্ন দেখে—সে অর্থ বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করছে, তবে এর অর্থ হলো, সে সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী।
• যদি কেউ স্বপ্নে কুরআনে কারিম খতম করতে দেখে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো—তার কোনো মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে বিরাট প্রতিদান মিলবে।
• যদি কেউ কুরআন শরিফ হিফজ করতে স্বপ্ন দেখে [অথচ সে হাফিজ নয়], তবে তার ব্যাখ্যা হলো, নিজের অবস্থান অনুপাতে তার কোনো দায়িত্ব ও পদমর্যাদা অর্জিত হবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে নিজেকে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করতে দেখে, কিন্তু কোন সূরা বা কোন আয়াত তিলাওয়াত করছে—তা জানা নেই, তবে তার ব্যাখ্যা হলো, স্বপ্নদ্রষ্টা অসুস্থ হলে অতি শীঘ্রই, ইন শা আল্লাহ, আরোগ্য লাভ করবে আর ব্যবসায়ী হলে ব্যবসায় লাভবান হবে।
• যদি কেউ অন্য কারও তিলাওয়াত শ্রবণ করা স্বপ্নে দেখে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো, তার পদমর্যাদা [যার যার অবস্থা ভেদে] মজবুত ও সুদৃঢ় হবে। পরিণাম শুভ হবে এবং চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত হতে নিরাপদে থাকবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে, সে কুরআন তিলাওয়াত করছে আর লোকজন তা শ্রবণ করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলোড়সে এমন কোনো পদ লাভ করবে যেখানে সকলে তার হুকুম তামিল করবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে কুরআন শরিফ বিকৃত কিংবা উল্টো করে তিলাওয়াত করতে দেখে, তবে এটা তার দুর্ভাগ্যের লক্ষণ。

টিকাঃ
১৫৫ তাহবিবুল মুসলিমিন: পৃ.২৭-২৮

আল্লামা কামালুদ্দিন আদহামি রহ. লেখেন—
• যদি কেউ কুরআনে কারিম দেখে দেখে পড়া স্বপ্ন দেখে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো—সে ব্যক্তির ইজ্জত-সম্মান, বিজয় ও খুশির উপকরণ অর্জন হবে।
• যদি কেউ মুখস্থ কুরআনে কারিম তিলাওয়াত করা স্বপ্নে দেখে, তবে এর অর্থ হলো—সে কারও সঙ্গে মামলা-মোকাদ্দমায় জড়িয়ে পড়বে এবং এতে সে বিজয়ী হবে। এর আরও ব্যাখ্যা হলো লোকটি আমানতদার হবে। কোমল হৃদয়ের মুমিন হবে। মানুষকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজ থেকে বাধা প্রদান করবে।
• যদি কেউ স্বপ্ন দেখে—সে অর্থ বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করছে, তবে এর অর্থ হলো, সে সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী।
• যদি কেউ স্বপ্নে কুরআনে কারিম খতম করতে দেখে, তবে এর ব্যাখ্যা হলো—তার কোনো মনোবাঞ্ছা পূরণ হবে এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে বিরাট প্রতিদান মিলবে।
• যদি কেউ কুরআন শরিফ হিফজ করতে স্বপ্ন দেখে [অথচ সে হাফিজ নয়], তবে তার ব্যাখ্যা হলো, নিজের অবস্থান অনুপাতে তার কোনো দায়িত্ব ও পদমর্যাদা অর্জিত হবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে নিজেকে কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করতে দেখে, কিন্তু কোন সূরা বা কোন আয়াত তিলাওয়াত করছে—তা জানা নেই, তবে তার ব্যাখ্যা হলো, স্বপ্নদ্রষ্টা অসুস্থ হলে অতি শীঘ্রই, ইন শা আল্লাহ, আরোগ্য লাভ করবে আর ব্যবসায়ী হলে ব্যবসায় লাভবান হবে।
• যদি কেউ অন্য কারও তিলাওয়াত শ্রবণ করা স্বপ্নে দেখে, তবে তার ব্যাখ্যা হলো, তার পদমর্যাদা [যার যার অবস্থা ভেদে] মজবুত ও সুদৃঢ় হবে। পরিণাম শুভ হবে এবং চক্রান্তকারীদের চক্রান্ত হতে নিরাপদে থাকবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে দেখে যে, সে কুরআন তিলাওয়াত করছে আর লোকজন তা শ্রবণ করছে, তবে তার ব্যাখ্যা হলোড়সে এমন কোনো পদ লাভ করবে যেখানে সকলে তার হুকুম তামিল করবে।
• যদি কেউ স্বপ্নে কুরআন শরিফ বিকৃত কিংবা উল্টো করে তিলাওয়াত করতে দেখে, তবে এটা তার দুর্ভাগ্যের লক্ষণ。

টিকাঃ
১৫৫ তাহবিবুল মুসলিমিন: পৃ.২৭-২৮

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 কাশ্মিরী রহ.-এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা

📄 কাশ্মিরী রহ.-এর কয়েকটি বিস্ময়কর ঘটনা


এক.
মাওলানা আনওয়ারি লায়েলপুরি রহ. ছিলেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ.-এর বিশিষ্ট শাগরেদ। তিনি বলেন, ভাওয়ালপুরের আদালতে আল্লামা কাশ্মিরি রহ. ও কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক হয়েছিল, সেখানে কাদিয়ানি পক্ষের সাক্ষী শাহ সাহেব রহ.-কে প্রশ্ন করল-আপনি বলেছেন যে, আমাদের ধর্ম মুতাওয়াতির বা ক্রমাগত। আর তাওয়াতুর বা ক্রমাগমনের কোনো এক প্রকারকে অস্বীকার করলে সে কাফের। অতএব, আপনার দাবি অনুযায়ী ইমাম রাযি রহ.-কে কাফের বলতে হয়। কারণ, ফাওয়াতিহুর রাহমুত শরহে মুসাল্লামুস-সুবুত গ্রন্থে আল্লামা বাহরুল উলুম রহ. লিখেছেন-ইমাম রাযি রহ. তাওয়াতুরে মা'নবি বা অর্থগত ক্রমাগমনকে অস্বীকার করেছেন। মাওলানা আনওয়ারি রহ. বলেন, [এ চ্যালেঞ্জের জবাবে শাহ সাহেব রহ. উক্ত কিতাবটি তলব করলেন।] ঘটনাক্রমে কিতাবটি আমাদের নিকট ছিল না; কিন্তু শাহ সাহেব রহ. তৎক্ষণাৎ কোনো চিন্তা- ফিকির ছাড়াই বললেন, মাননীয় আদালত, যে কিতাবটির উদ্ধৃতি আমার প্রতিপক্ষ উল্লেখ করেছেন, সেটি এ মুহূর্তে আমার নিকট নেই। তবে আমি বত্রিশ বছর পূর্বে কিতাবটি দেখেছি। তাতে ইমাম রাযি রহ. বলেন-
لَا تَجْتَمِعُ أُمَّتِي عَلَى الضَّلَالَةِ.
এ হাদিসটি তাওয়াতুরে মা'নবির পর্যায়ভুক্ত নয়। তিনি এ হাদিসটি মুতাওয়াতিরে মা'নবি হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। মুতাওয়াতিরে মা'নবির প্রামাণ্য হওয়াকে অস্বীকার করেন নি। সে উদ্ধৃতি পেশ করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। আপনি তাকে বলেন, হয়তো সে মূল ইবারত পড়ুক, নতুবা আমি তার কাছ থেকে কitাব নিয়ে কিতাবের মূল পাঠ আপনাকে পড়ে শোনাবো। কাদিয়ানি পক্ষের সাক্ষী ইবারত পড়ার পর তা-ই পাওয়া গেল, যা শাহ সাহেব রহ. ইতোপূর্বে মুখস্থ শুনিয়েছিলেন!
জজ সাহেব এতে যারপরনাই আনন্দিত হলেন। শাহ সাহেব রহ. বললেন, মাননীয় জজ সাহেব! প্রতিপক্ষ লোকটি আমাকে নিরুত্তর করতে চেয়েছিল; কিন্তু আমি যেহেতু একজন জ্ঞান-পিপাসু ছাত্র, তাই দু'চারটি কিতাব আগেই অধ্যয়ন করে রেখেছি। কাজেই আমি নিরুত্তর হবার পাত্র নই ইন শা আল্লাহ!
দুই.
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ. বলেন, দু'বছর বয়স থেকেই আমি আমার বাবার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া-আসা করতাম। একদিন দেখতে পেলাম দু'জন নিরক্ষর মুসল্লি মসজিদে বিতর্কে লিপ্ত। তাদের একজনের বক্তব্য—পরকালে দেহ ও আত্মা, উভয়কেই শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যজনের দাবি হলো, আত্মাকেই কেবল শান্তি ভোগ করতে হবে।
প্রথমজন তথা উভয়টির শান্তির দাবিদার তার কথার সমর্থনে উপমা পেশ করল—একজন অন্ধ ও একজন লেংড়া লোক একটি বাগানে চুরি করার জন্য প্রবেশ করল। লেংড়া বলল, আমি পায়ে হাঁটতে পারি না। অন্ধ লোকটি বলল, আমি ফল দেখতে পাই না। পরিশেষে সমঝোতা হলো, লেংড়া লোকটি অন্ধ লোকটির কাঁধে চড়ে ফল ছিঁড়বে। রীতিমতো তাই করা হলো। ইতোমধ্যে বাগানের মালিক এসে হাজির হলে যেমন উভয়কে গ্রেফতার করবে, ঠিক তেমনি পরকালেও দেহ-আত্মা, উভয়টিকে শাস্তি দেওয়া হবে। শাহ সাহেব রহ. বলেন, আমি দীর্ঘদিন পর তাজকিরাতুল কুরতুবি নামক কিতাব অধ্যয়ন করছিলাম। হঠাৎ তাতে উল্লিখিত উপমাটিই হুবহু আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে পেয়ে নিরক্ষর লোকটির মেধা ও স্বভাবজাত অন্তর্দৃষ্টি দেখে অবাক হয়ে গেলাম যে, লোকটি কী করে এ জবাব দিল!
তিন.
শাহ সাহেব রহ. একবার কাশ্মিরে যাচ্ছিলেন। পথে শিয়ালকোর্ট টারমিনালে বাসের অপেক্ষায় বসেছিলেন। ইতোমধ্যে জনৈক পাদ্রি এসে বলল, তোমাকে দেখে মুসলিমদের একজন বড় পণ্ডিত বলে মনে হচ্ছে। শাহ সাহেব রহ. বললেন, না, আমি একজন সাধারণ তালিবে ইলম। পাদ্রি জিজ্ঞেস করল— ইসলাম সম্পর্কে তোমার কিছু জানা আছে? তিনি বললেন, যৎসামান্য। তবে ক্রুশ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা সঠিক নয়。
অতঃপর তিনি নবীজির নবুওতের সত্যতা প্রমাণে চল্লিশটি দলিল পেশ করেন। দশটি কুরআন থেকে, দশটি তাওরাত থেকে, দশটি ইঞ্জিল থেকে এবং দশটি যুক্তির আলোকে。
চার.
আল্লামা কাশ্মিরি রহ. একবার আল্লামা ইবনু জারির তবারি রহ.-এর ঘটনা শোনাচ্ছিলেন। ইবনু জারির তবারি রহ. একবার হাদিসের দরস দিচ্ছিলেন। ইতোমধ্যে একজন ধনী লোক এসে তাঁর খেদমতে স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি একটি থলে পেশ করল। এসবের প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে লোকটি থলে রেখেই নিজ পথ ধরল। ইবনু জারির রহ. থলেটি ছুঁড়ে মারলেন। ফলে তা ছিঁড়ে স্বর্ণমুদ্রাগুলো এদিক-সেদিক পড়ে থাকল। ইহা দেখে লোকটি পেছন দিকে দৌড়ে এসে সেগুলো কুড়াতে লাগল। ইবনু জারির রহ. বললেন, এ মুদ্রাগুলো যখন তুমি আমাকে দিয়েই দিয়েছ, তবে আবার কেন সেগুলো কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে? এখন তো এগুলোর মালিক তুমি নও。

টিকাঃ
১৫৬ আনোয়ারে আনোয়ারি: পৃ.৩১-৩২
১৫৭ প্রাগুক্ত: পৃ.৩৪
১৫৮ প্রাগুক্ত: পৃ.৩৬
১৫৯ প্রাগুক্ত: পৃ.৬১

এক.
মাওলানা আনওয়ারি লায়েলপুরি রহ. ছিলেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ.-এর বিশিষ্ট শাগরেদ। তিনি বলেন, ভাওয়ালপুরের আদালতে আল্লামা কাশ্মিরি রহ. ও কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের সঙ্গে যে ঐতিহাসিক বিতর্ক হয়েছিল, সেখানে কাদিয়ানি পক্ষের সাক্ষী শাহ সাহেব রহ.-কে প্রশ্ন করল-আপনি বলেছেন যে, আমাদের ধর্ম মুতাওয়াতির বা ক্রমাগত। আর তাওয়াতুর বা ক্রমাগমনের কোনো এক প্রকারকে অস্বীকার করলে সে কাফের। অতএব, আপনার দাবি অনুযায়ী ইমাম রাযি রহ.-কে কাফের বলতে হয়। কারণ, ফাওয়াতিহুর রাহমুত শরহে মুসাল্লামুস-সুবুত গ্রন্থে আল্লামা বাহরুল উলুম রহ. লিখেছেন-ইমাম রাযি রহ. তাওয়াতুরে মা'নবি বা অর্থগত ক্রমাগমনকে অস্বীকার করেছেন। মাওলানা আনওয়ারি রহ. বলেন, [এ চ্যালেঞ্জের জবাবে শাহ সাহেব রহ. উক্ত কিতাবটি তলব করলেন।] ঘটনাক্রমে কিতাবটি আমাদের নিকট ছিল না; কিন্তু শাহ সাহেব রহ. তৎক্ষণাৎ কোনো চিন্তা- ফিকির ছাড়াই বললেন, মাননীয় আদালত, যে কিতাবটির উদ্ধৃতি আমার প্রতিপক্ষ উল্লেখ করেছেন, সেটি এ মুহূর্তে আমার নিকট নেই। তবে আমি বত্রিশ বছর পূর্বে কিতাবটি দেখেছি। তাতে ইমাম রাযি রহ. বলেন-
لَا تَجْتَمِعُ أُمَّتِي عَلَى الضَّلَالَةِ.
এ হাদিসটি তাওয়াতুরে মা'নবির পর্যায়ভুক্ত নয়। তিনি এ হাদিসটি মুতাওয়াতিরে মা'নবি হওয়াকে অস্বীকার করেছেন। মুতাওয়াতিরে মা'নবির প্রামাণ্য হওয়াকে অস্বীকার করেন নি। সে উদ্ধৃতি পেশ করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। আপনি তাকে বলেন, হয়তো সে মূল ইবারত পড়ুক, নতুবা আমি তার কাছ থেকে কitাব নিয়ে কিতাবের মূল পাঠ আপনাকে পড়ে শোনাবো। কাদিয়ানি পক্ষের সাক্ষী ইবারত পড়ার পর তা-ই পাওয়া গেল, যা শাহ সাহেব রহ. ইতোপূর্বে মুখস্থ শুনিয়েছিলেন!
জজ সাহেব এতে যারপরনাই আনন্দিত হলেন। শাহ সাহেব রহ. বললেন, মাননীয় জজ সাহেব! প্রতিপক্ষ লোকটি আমাকে নিরুত্তর করতে চেয়েছিল; কিন্তু আমি যেহেতু একজন জ্ঞান-পিপাসু ছাত্র, তাই দু'চারটি কিতাব আগেই অধ্যয়ন করে রেখেছি। কাজেই আমি নিরুত্তর হবার পাত্র নই ইন শা আল্লাহ!
দুই.
আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মিরি রহ. বলেন, দু'বছর বয়স থেকেই আমি আমার বাবার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া-আসা করতাম। একদিন দেখতে পেলাম দু'জন নিরক্ষর মুসল্লি মসজিদে বিতর্কে লিপ্ত। তাদের একজনের বক্তব্য—পরকালে দেহ ও আত্মা, উভয়কেই শাস্তি দেওয়া হবে। অন্যজনের দাবি হলো, আত্মাকেই কেবল শান্তি ভোগ করতে হবে।
প্রথমজন তথা উভয়টির শান্তির দাবিদার তার কথার সমর্থনে উপমা পেশ করল—একজন অন্ধ ও একজন লেংড়া লোক একটি বাগানে চুরি করার জন্য প্রবেশ করল। লেংড়া বলল, আমি পায়ে হাঁটতে পারি না। অন্ধ লোকটি বলল, আমি ফল দেখতে পাই না। পরিশেষে সমঝোতা হলো, লেংড়া লোকটি অন্ধ লোকটির কাঁধে চড়ে ফল ছিঁড়বে। রীতিমতো তাই করা হলো। ইতোমধ্যে বাগানের মালিক এসে হাজির হলে যেমন উভয়কে গ্রেফতার করবে, ঠিক তেমনি পরকালেও দেহ-আত্মা, উভয়টিকে শাস্তি দেওয়া হবে। শাহ সাহেব রহ. বলেন, আমি দীর্ঘদিন পর তাজকিরাতুল কুরতুবি নামক কিতাব অধ্যয়ন করছিলাম। হঠাৎ তাতে উল্লিখিত উপমাটিই হুবহু আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে পেয়ে নিরক্ষর লোকটির মেধা ও স্বভাবজাত অন্তর্দৃষ্টি দেখে অবাক হয়ে গেলাম যে, লোকটি কী করে এ জবাব দিল!
তিন.
শাহ সাহেব রহ. একবার কাশ্মিরে যাচ্ছিলেন। পথে শিয়ালকোর্ট টারমিনালে বাসের অপেক্ষায় বসেছিলেন। ইতোমধ্যে জনৈক পাদ্রি এসে বলল, তোমাকে দেখে মুসলিমদের একজন বড় পণ্ডিত বলে মনে হচ্ছে। শাহ সাহেব রহ. বললেন, না, আমি একজন সাধারণ তালিবে ইলম। পাদ্রি জিজ্ঞেস করল— ইসলাম সম্পর্কে তোমার কিছু জানা আছে? তিনি বললেন, যৎসামান্য। তবে ক্রুশ সম্পর্কে তোমাদের ধারণা সঠিক নয়。
অতঃপর তিনি নবীজির নবুওতের সত্যতা প্রমাণে চল্লিশটি দলিল পেশ করেন। দশটি কুরআন থেকে, দশটি তাওরাত থেকে, দশটি ইঞ্জিল থেকে এবং দশটি যুক্তির আলোকে。
চার.
আল্লামা কাশ্মিরি রহ. একবার আল্লামা ইবনু জারির তবারি রহ.-এর ঘটনা শোনাচ্ছিলেন। ইবনু জারির তবারি রহ. একবার হাদিসের দরস দিচ্ছিলেন। ইতোমধ্যে একজন ধনী লোক এসে তাঁর খেদমতে স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি একটি থলে পেশ করল। এসবের প্রতি তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে না পেরে ব্যর্থ মনোরথে লোকটি থলে রেখেই নিজ পথ ধরল। ইবনু জারির রহ. থলেটি ছুঁড়ে মারলেন। ফলে তা ছিঁড়ে স্বর্ণমুদ্রাগুলো এদিক-সেদিক পড়ে থাকল। ইহা দেখে লোকটি পেছন দিকে দৌড়ে এসে সেগুলো কুড়াতে লাগল। ইবনু জারির রহ. বললেন, এ মুদ্রাগুলো যখন তুমি আমাকে দিয়েই দিয়েছ, তবে আবার কেন সেগুলো কুড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে? এখন তো এগুলোর মালিক তুমি নও。

টিকাঃ
১৫৬ আনোয়ারে আনোয়ারি: পৃ.৩১-৩২
১৫৭ প্রাগুক্ত: পৃ.৩৪
১৫৮ প্রাগুক্ত: পৃ.৩৬
১৫৯ প্রাগুক্ত: পৃ.৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00