📄 কুরআনে কারিমের ফজিলত
ইমাম আবু আবদির রহমান সুলামি রহ. বিখ্যাত তাবেয়ি ছিলেন। তিনি যদিও ইলমে হাদিস, তাফসির ও অন্যান্য দীনি শিক্ষায় একজন উঁচুমাপের আলেম ছিলেন। তথাপি সারাটি জীবন কুফার জামে মসজিদে কুরআনে কারিমের শিক্ষাদানে কাটিয়েছেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত মানুষকে কুরআনে কারিম [হিফজ, নাজেরা, তাজবিদ ও কিরাত] শিক্ষা দিয়েছেন। কেউ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন-উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নবীজির হাদিস শুনিয়েছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَه
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়。
অতঃপর বলেন, এ হাদিসটিই মূলত আমাকে এ মহৎকাজে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করেছে。
টিকাঃ
১৪৯ বুখারি: ৫০২৭
১৫০ আল্লামা ইবনুল জাযারি, আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশার: ১/৩
ইমাম আবু আবদির রহমান সুলামি রহ. বিখ্যাত তাবেয়ি ছিলেন। তিনি যদিও ইলমে হাদিস, তাফসির ও অন্যান্য দীনি শিক্ষায় একজন উঁচুমাপের আলেম ছিলেন। তথাপি সারাটি জীবন কুফার জামে মসজিদে কুরআনে কারিমের শিক্ষাদানে কাটিয়েছেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত মানুষকে কুরআনে কারিম [হিফজ, নাজেরা, তাজবিদ ও কিরাত] শিক্ষা দিয়েছেন। কেউ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন-উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নবীজির হাদিস শুনিয়েছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَه
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়。
অতঃপর বলেন, এ হাদিসটিই মূলত আমাকে এ মহৎকাজে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করেছে。
টিকাঃ
১৪৯ বুখারি: ৫০২৭
১৫০ আল্লামা ইবনুল জাযারি, আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশার: ১/৩
📄 আল্লামা শাতিবি রহ. ও রাজা ইজজুদ্দিন
ইজজুদ্দিন মুসিক হলো সে রাজা, যার চৌকিদারি করে আল্লামা ইবনু হাজেব রহ. [বিখ্যাত আরবি ব্যাকরণগ্রন্থ কাফিয়ার প্রণেতা] এর পিতা 'হাজেব' উপাধিতে ভূষিত হন। একবার তিনি কিরাতশ্রাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা শাতিবি রহ.-কে নিজের দরবারে ডেকে পাঠালেন। আল্লামা শাতিবি রহ. তখন ছাত্রদের মাঝে তাশরিফ এনেছিলেন। তিনি এক ছাত্রকে বললেন, রাজা ইজজুদ্দিনকে আমার পক্ষ হতে জবাব লিখে পাঠাও-
قُلْ لِلْأَمِيْرِ مَقَالَةٌ مِنْ نَا صِحٍ فَطِنٍ نَبِهِ إِنَّ الْفَقِيْهَ إِذَا أَتَى أَبْوَابَكُمْ، لَا خَيْرَ فِيْهِ.
রাজাকে তার এক সচেতন ও বুদ্ধিমান হিতাকাঙ্খীর পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও, কোনো ফকিহ তোমাদের দুয়ারে ধন্না দিলে তাতে কোনো কল্যাণ নেই。
টিকাঃ
১৫১ মরহুম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, আততাজুল মুকাল্লাল: পৃ.৯৮
ইজজুদ্দিন মুসিক হলো সে রাজা, যার চৌকিদারি করে আল্লামা ইবনু হাজেব রহ. [বিখ্যাত আরবি ব্যাকরণগ্রন্থ কাফিয়ার প্রণেতা] এর পিতা 'হাজেব' উপাধিতে ভূষিত হন। একবার তিনি কিরাতশ্রাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা শাতিবি রহ.-কে নিজের দরবারে ডেকে পাঠালেন। আল্লামা শাতিবি রহ. তখন ছাত্রদের মাঝে তাশরিফ এনেছিলেন। তিনি এক ছাত্রকে বললেন, রাজা ইজজুদ্দিনকে আমার পক্ষ হতে জবাব লিখে পাঠাও-
قُلْ لِلْأَمِيْرِ مَقَالَةٌ مِنْ نَا صِحٍ فَطِنٍ نَبِهِ إِنَّ الْفَقِيْهَ إِذَا أَتَى أَبْوَابَكُمْ، لَا خَيْرَ فِيْهِ.
রাজাকে তার এক সচেতন ও বুদ্ধিমান হিতাকাঙ্খীর পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও, কোনো ফকিহ তোমাদের দুয়ারে ধন্না দিলে তাতে কোনো কল্যাণ নেই。
টিকাঃ
১৫১ মরহুম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, আততাজুল মুকাল্লাল: পৃ.৯৮
📄 অন্তরের ঔষধ
ইবরাহিম খাওয়াস রহ. ছিলেন একজন উঁচুমাপের সুফিসাধক। তিনি বলেন, অন্তরের ঔষধ হলো পাঁচটি:
* চিন্তা ও গবেষণাসহ কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা
* খালি পেটে থাকা
• রাতে তাহাজ্জুদ পড়া
• শেষরাতে তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করা
• আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত গ্রহণ করা。
টিকাঃ
১৫২ কামালুদ্দিন আদহামি, তাহবিবুল মুসলিমিন: পৃ.১৪
ইবরাহিম খাওয়াস রহ. ছিলেন একজন উঁচুমাপের সুফিসাধক। তিনি বলেন, অন্তরের ঔষধ হলো পাঁচটি:
* চিন্তা ও গবেষণাসহ কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা
* খালি পেটে থাকা
• রাতে তাহাজ্জুদ পড়া
• শেষরাতে তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর নিকট কান্নাকাটি করা
• আল্লাহ ওয়ালাদের সোহবত গ্রহণ করা。
টিকাঃ
১৫২ কামালুদ্দিন আদহামি, তাহবিবুল মুসলিমিন: পৃ.১৪
📄 জীবন সন্ধিক্ষণে ইমাম আবু ইউসুফ রহ.
ইবরাহিম ইবনুল জাররাহ রহ. বলেন, আমি ইমাম আবু ইউসুফ রহ.'র মৃত্যুশয্যায় তার শুশ্রূষার জন্য গিয়ে দেখলাম তিনি বেহুঁশ। কিছুক্ষণ পর তাঁর হুঁশ ফিরল। চোখ মেলেই তিনি আমাকে পাশে বসা পেলেন। আমাকে দেখেই বললেন, ইবরাহিম, বলো তো দেখি, হাজিদের জন্য পায়ে হেঁটে কঙ্কর নিক্ষেপ করা উত্তম, নাকি আরোহী অবস্থায়? আমি বললাম, পায়ে হেঁটে নিক্ষেপ করা উত্তম। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বললেন, তোমার কথা ঠিক না। আমি বললাম, তাহলে আরোহী অবস্থায় উত্তম। তিনি বললেন, এও ঠিক না। অতঃপর তিনি নিজেই বললেন, প্রথম দু'বার পায়ে হেঁটে উত্তম। আর তৃতীয়বার আরোহী অবস্থায় উত্তম।
ইবরাহিম রহ. বলেন, মাসআলাটি জেনে আমি যতটুকু না আশ্চর্য ও অভিভূত হয়েছি তারচে' বেশি আশ্চর্য হয়েছি মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায়ও ইলমি পর্যালোচনার প্রতি তাঁর অগাধ উদ্দীপনা দেখে! অতঃপর বিদায় নিয়ে কিছুদূর না যেতেই ভেতর থেকে কর্ণকুহরে ভেসে এলো মেয়েদের কান্নার আওয়াজ। তখন বুঝতে পারলাম—তিনি পরম মাওলার সান্নিধ্যে চলে গেছেন。
টিকাঃ
১৫৩ মাআরিফুস সুনান: ৬/৪৭৪-৪৭৫
ইবরাহিম ইবনুল জাররাহ রহ. বলেন, আমি ইমাম আবু ইউসুফ রহ.'র মৃত্যুশয্যায় তার শুশ্রূষার জন্য গিয়ে দেখলাম তিনি বেহুঁশ। কিছুক্ষণ পর তাঁর হুঁশ ফিরল। চোখ মেলেই তিনি আমাকে পাশে বসা পেলেন। আমাকে দেখেই বললেন, ইবরাহিম, বলো তো দেখি, হাজিদের জন্য পায়ে হেঁটে কঙ্কর নিক্ষেপ করা উত্তম, নাকি আরোহী অবস্থায়? আমি বললাম, পায়ে হেঁটে নিক্ষেপ করা উত্তম। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বললেন, তোমার কথা ঠিক না। আমি বললাম, তাহলে আরোহী অবস্থায় উত্তম। তিনি বললেন, এও ঠিক না। অতঃপর তিনি নিজেই বললেন, প্রথম দু'বার পায়ে হেঁটে উত্তম। আর তৃতীয়বার আরোহী অবস্থায় উত্তম।
ইবরাহিম রহ. বলেন, মাসআলাটি জেনে আমি যতটুকু না আশ্চর্য ও অভিভূত হয়েছি তারচে' বেশি আশ্চর্য হয়েছি মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গনরত অবস্থায়ও ইলমি পর্যালোচনার প্রতি তাঁর অগাধ উদ্দীপনা দেখে! অতঃপর বিদায় নিয়ে কিছুদূর না যেতেই ভেতর থেকে কর্ণকুহরে ভেসে এলো মেয়েদের কান্নার আওয়াজ। তখন বুঝতে পারলাম—তিনি পরম মাওলার সান্নিধ্যে চলে গেছেন。
টিকাঃ
১৫৩ মাআরিফুস সুনান: ৬/৪৭৪-৪৭৫