📄 রাখে আল্লাহ মারে কে!
আমর ইবনু ইয়াহইয়া আলাবি রহ. বলেন, একবার আমরা একটি কাফেলার সঙ্গে কুফা থেকে মক্কায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কাফেলার একজনের পেটের পীড়া দেখা দিল। এ সফরে আমরা মরু দস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। দস্যুরা আমাদের একপাল উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ঘটনাক্রমে সে পীড়িত লোকটিকেও তারা নিয়ে গেল। ফলে সে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। দীর্ঘদিন পর যখন আমরা কুফায় ফিরে এলাম, তখন আমি সে লোকটিকে দেখলাম, সে সম্পূর্ণ সুস্থাবস্থায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে এর রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, দস্যুরা আমাকে তাদের লোকালয়ে নিয়ে এলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে তাদের বাড়ির পাশে ফেলে রাখল। তখন আমি আমার এহেন দুর্বিসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যু কামনা করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম, তারা বেশ কিছু অজগর সাপ শিকার করে এনে সেগুলোর মাথা ও লেজ ফেলে দিয়ে ভুনা করছে। আমি ভাবলাম, হয়তো বা এরা সাপ খাওয়ায় অভ্যস্ত; কিন্তু আমি খেলে নির্ঘাত মারা যাবো। আবার মনে হলো, মরে গেলে তো আমি এ দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাবো। তাই আমি তাদের ভুনাকৃত অজগর খেতে চাইলাম। তারা আমার নিকট একটা ছুঁড়ে মারলো। আমি তা খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষ না হতেই আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ঘুম হতে উঠেই দেখি ঘামে গোটা শরীর স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রচণ্ড বমির ভাব হচ্ছে। তারপর শতাধিকবার বমি হলো। সকালে উঠে দেখি আমার পেটের স্ফীতি অনেকটাই কমে গেছে। অতঃপর তাদের কাছে কিছু খাবার চেয়ে খেলাম। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলাম।
টিকাঃ
১৪৭ হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩১
আমর ইবনু ইয়াহইয়া আলাবি রহ. বলেন, একবার আমরা একটি কাফেলার সঙ্গে কুফা থেকে মক্কায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কাফেলার একজনের পেটের পীড়া দেখা দিল। এ সফরে আমরা মরু দস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। দস্যুরা আমাদের একপাল উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ঘটনাক্রমে সে পীড়িত লোকটিকেও তারা নিয়ে গেল। ফলে সে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। দীর্ঘদিন পর যখন আমরা কুফায় ফিরে এলাম, তখন আমি সে লোকটিকে দেখলাম, সে সম্পূর্ণ সুস্থাবস্থায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে এর রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, দস্যুরা আমাকে তাদের লোকালয়ে নিয়ে এলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে তাদের বাড়ির পাশে ফেলে রাখল। তখন আমি আমার এহেন দুর্বিসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যু কামনা করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম, তারা বেশ কিছু অজগর সাপ শিকার করে এনে সেগুলোর মাথা ও লেজ ফেলে দিয়ে ভুনা করছে। আমি ভাবলাম, হয়তো বা এরা সাপ খাওয়ায় অভ্যস্ত; কিন্তু আমি খেলে নির্ঘাত মারা যাবো। আবার মনে হলো, মরে গেলে তো আমি এ দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাবো। তাই আমি তাদের ভুনাকৃত অজগর খেতে চাইলাম। তারা আমার নিকট একটা ছুঁড়ে মারলো। আমি তা খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষ না হতেই আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ঘুম হতে উঠেই দেখি ঘামে গোটা শরীর স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রচণ্ড বমির ভাব হচ্ছে। তারপর শতাধিকবার বমি হলো। সকালে উঠে দেখি আমার পেটের স্ফীতি অনেকটাই কমে গেছে। অতঃপর তাদের কাছে কিছু খাবার চেয়ে খেলাম। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলাম।
টিকাঃ
১৪৭ হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩১
📄 উমার ইবনু আবদিল আজিজ রহ.-এর খোলা চিঠি
উমার ইবনু আবদুল আজিজ রহ. তাঁর এক গভর্নরকে পত্র লেখেন-
أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ أَمْكَنَتْكَ القُدْرَةُ مِنْ ظُلْمِ الْعِبَادِ، فَإِذَا هَمَمْتَ بِظُلْمٍ أَحَدٍ فَاذْكُرْ قُدْرَةَ اللَّهِ عَلَيْكَ وَاعْلَمْ أَنَّكَ لَا تَأْتِي إِلَى النَّاسِ شَيْئًا إِلَّا كَانَ زَائِلًا عَنْهُمْ بَاقِيًا عَلَيْكَ وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَخَذَ لِلْمَظْلُوْمِينَ مِنَ الظَّالِمِينَ. وَالسَّلَامُ.
হামদ ও সালাতের পর কথা হলো, ক্ষমতা বলে আল্লাহর বান্দাদের ওপর জুলুম করার শক্তি-সামর্থ্য তোমার অর্জিত হয়েছে। তবে যখনই কারও ওপর জুলুম করার ইচ্ছা করবে, তখনই চিন্তা করে দেখবে যে, মহান আল্লাহ তোমার প্রতি কতটা ক্ষমতাবান! মনে রাখবে, তুমি জনসাধারণের ওপর যে বিপদই চাপিয়ে দাও না কেন, তা কোনো একদিন তাদের থেকে সরে যাবে; কিন্তু তোমার আমলনামায় সর্বদা জুড়ে থাকবে। আর স্মরণ রাখবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জালিমদের থেকে মাজলুমদের হক আদায় করেই ছাড়বেন。
টিকাঃ
১৪৮ ইয়াহইয়াউল উলুম: ৪/৫০
উমার ইবনু আবদুল আজিজ রহ. তাঁর এক গভর্নরকে পত্র লেখেন-
أَمَّا بَعْدُ فَقَدْ أَمْكَنَتْكَ القُدْرَةُ مِنْ ظُلْمِ الْعِبَادِ، فَإِذَا هَمَمْتَ بِظُلْمٍ أَحَدٍ فَاذْكُرْ قُدْرَةَ اللَّهِ عَلَيْكَ وَاعْلَمْ أَنَّكَ لَا تَأْتِي إِلَى النَّاسِ شَيْئًا إِلَّا كَانَ زَائِلًا عَنْهُمْ بَاقِيًا عَلَيْكَ وَاعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ تَعَالَى أَخَذَ لِلْمَظْلُوْمِينَ مِنَ الظَّالِمِينَ. وَالسَّلَامُ.
হামদ ও সালাতের পর কথা হলো, ক্ষমতা বলে আল্লাহর বান্দাদের ওপর জুলুম করার শক্তি-সামর্থ্য তোমার অর্জিত হয়েছে। তবে যখনই কারও ওপর জুলুম করার ইচ্ছা করবে, তখনই চিন্তা করে দেখবে যে, মহান আল্লাহ তোমার প্রতি কতটা ক্ষমতাবান! মনে রাখবে, তুমি জনসাধারণের ওপর যে বিপদই চাপিয়ে দাও না কেন, তা কোনো একদিন তাদের থেকে সরে যাবে; কিন্তু তোমার আমলনামায় সর্বদা জুড়ে থাকবে। আর স্মরণ রাখবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা জালিমদের থেকে মাজলুমদের হক আদায় করেই ছাড়বেন。
টিকাঃ
১৪৮ ইয়াহইয়াউল উলুম: ৪/৫০
📄 কুরআনে কারিমের ফজিলত
ইমাম আবু আবদির রহমান সুলামি রহ. বিখ্যাত তাবেয়ি ছিলেন। তিনি যদিও ইলমে হাদিস, তাফসির ও অন্যান্য দীনি শিক্ষায় একজন উঁচুমাপের আলেম ছিলেন। তথাপি সারাটি জীবন কুফার জামে মসজিদে কুরআনে কারিমের শিক্ষাদানে কাটিয়েছেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত মানুষকে কুরআনে কারিম [হিফজ, নাজেরা, তাজবিদ ও কিরাত] শিক্ষা দিয়েছেন। কেউ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন-উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নবীজির হাদিস শুনিয়েছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَه
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়。
অতঃপর বলেন, এ হাদিসটিই মূলত আমাকে এ মহৎকাজে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করেছে。
টিকাঃ
১৪৯ বুখারি: ৫০২৭
১৫০ আল্লামা ইবনুল জাযারি, আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশার: ১/৩
ইমাম আবু আবদির রহমান সুলামি রহ. বিখ্যাত তাবেয়ি ছিলেন। তিনি যদিও ইলমে হাদিস, তাফসির ও অন্যান্য দীনি শিক্ষায় একজন উঁচুমাপের আলেম ছিলেন। তথাপি সারাটি জীবন কুফার জামে মসজিদে কুরআনে কারিমের শিক্ষাদানে কাটিয়েছেন। চল্লিশ বছর পর্যন্ত মানুষকে কুরআনে কারিম [হিফজ, নাজেরা, তাজবিদ ও কিরাত] শিক্ষা দিয়েছেন। কেউ এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলতেন-উসমান রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে নবীজির হাদিস শুনিয়েছেন-
خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَه
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে ও শিক্ষা দেয়。
অতঃপর বলেন, এ হাদিসটিই মূলত আমাকে এ মহৎকাজে নিয়োজিত থাকতে বাধ্য করেছে。
টিকাঃ
১৪৯ বুখারি: ৫০২৭
১৫০ আল্লামা ইবনুল জাযারি, আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশার: ১/৩
📄 আল্লামা শাতিবি রহ. ও রাজা ইজজুদ্দিন
ইজজুদ্দিন মুসিক হলো সে রাজা, যার চৌকিদারি করে আল্লামা ইবনু হাজেব রহ. [বিখ্যাত আরবি ব্যাকরণগ্রন্থ কাফিয়ার প্রণেতা] এর পিতা 'হাজেব' উপাধিতে ভূষিত হন। একবার তিনি কিরাতশ্রাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা শাতিবি রহ.-কে নিজের দরবারে ডেকে পাঠালেন। আল্লামা শাতিবি রহ. তখন ছাত্রদের মাঝে তাশরিফ এনেছিলেন। তিনি এক ছাত্রকে বললেন, রাজা ইজজুদ্দিনকে আমার পক্ষ হতে জবাব লিখে পাঠাও-
قُلْ لِلْأَمِيْرِ مَقَالَةٌ مِنْ نَا صِحٍ فَطِنٍ نَبِهِ إِنَّ الْفَقِيْهَ إِذَا أَتَى أَبْوَابَكُمْ، لَا خَيْرَ فِيْهِ.
রাজাকে তার এক সচেতন ও বুদ্ধিমান হিতাকাঙ্খীর পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও, কোনো ফকিহ তোমাদের দুয়ারে ধন্না দিলে তাতে কোনো কল্যাণ নেই。
টিকাঃ
১৫১ মরহুম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, আততাজুল মুকাল্লাল: পৃ.৯৮
ইজজুদ্দিন মুসিক হলো সে রাজা, যার চৌকিদারি করে আল্লামা ইবনু হাজেব রহ. [বিখ্যাত আরবি ব্যাকরণগ্রন্থ কাফিয়ার প্রণেতা] এর পিতা 'হাজেব' উপাধিতে ভূষিত হন। একবার তিনি কিরাতশ্রাস্ত্রের প্রসিদ্ধ ইমাম আল্লামা শাতিবি রহ.-কে নিজের দরবারে ডেকে পাঠালেন। আল্লামা শাতিবি রহ. তখন ছাত্রদের মাঝে তাশরিফ এনেছিলেন। তিনি এক ছাত্রকে বললেন, রাজা ইজজুদ্দিনকে আমার পক্ষ হতে জবাব লিখে পাঠাও-
قُلْ لِلْأَمِيْرِ مَقَالَةٌ مِنْ نَا صِحٍ فَطِنٍ نَبِهِ إِنَّ الْفَقِيْهَ إِذَا أَتَى أَبْوَابَكُمْ، لَا خَيْرَ فِيْهِ.
রাজাকে তার এক সচেতন ও বুদ্ধিমান হিতাকাঙ্খীর পক্ষ থেকে জানিয়ে দাও, কোনো ফকিহ তোমাদের দুয়ারে ধন্না দিলে তাতে কোনো কল্যাণ নেই。
টিকাঃ
১৫১ মরহুম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান, আততাজুল মুকাল্লাল: পৃ.৯৮