📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 অকুতোভয় ঈমানদীপ্ত এক সাহাবির কাহিনি

📄 অকুতোভয় ঈমানদীপ্ত এক সাহাবির কাহিনি


একদা খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু রোমের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন। শত্রুরা তাকেসহ কাফেলার সকলকে বন্দি করে ফেলল। এ মহান ব্যক্তিকে যখন রোম-সম্রাটের দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো, সম্রাট তাকে এ মর্মে প্রস্তাব প্রদান করে যে, যদি তুমি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো তবে তোমাকে আমার সাম্রাজ্যের অংশীদার করবো। হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল ধন-সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহ এ মরুচারী যাযাবরকে কাত করে দেবে; কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, তার সামনে দণ্ডায়মান মুহাম্মাদে আরাবির একজন ভক্ত ও আত্মনিবেদিত সাহাবি। যার অভাব-অনটন ও দরিদ্রতার সম্মুখে এক-দুটি নয়-হাজারো সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে。
আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তার প্রস্তাব স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এই বিমুখতার দরুন আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তা-ই পেয়েছেন, যা এ পৃথিবীতে সত্য পথের পথিকগণ পেয়ে থাকেন। সম্রাট তাকে শূলে চড়িয়ে তির মারতে মারতে হত্যা করার নির্দেশ দিল। সিপাহিরা নির্দেশমতো তাকে শূলে চড়ালো। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তাকে ঝাঁজরা করার জন্য কামানগুলো তাক করানো হলো। মৃত্যু তার সম্মুখে অপেক্ষমাণ; কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল যে, এ নির্ভীক খোদাভক্ত প্রেমীর চেহারায় দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয়-ভীতির বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। মৃত্যুকে এত সহজে বরণ করার দৃশ্য সম্রাট ইতোপূর্বে কাউকে দেখে নি। তাই সে ভাবলো—তাকে এমন কোনো ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতে হত্যা করতে হবে, যেন তার মতো অকুতোভয় সাহসী ব্যক্তিও ঘাবড়াতে বাধ্য হয়। সেজন্য সম্রাট তাকে শূলকাষ্ঠ হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল। আর একটি ডেগে পানি ঢেলে তা ফোটানোর হুকুম করল। পানি ভর্তি ডেগটি যখন টগবগ করছিল, ঠিক তখনি আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র কাফেলার এক বন্দি সাহাবিকে এনে তারই সম্মুখে ডেগে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আর দেখলেন, তার সঙ্গী বন্দিকে ডেগে ছাড়ামাত্রই তার হাড্ডি থেকে গোশত খসে পড়ল। আর হাড্ডিগুলো ডেগের মধ্যে বীভৎসরূপে চকচক করতে লাগল। নির্দয় সম্রাট আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, যদি তুই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করিস, তবে তোকেও ঠিক এই পরিণতির শিকার হতে হবে; কিন্তু এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে তার সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে নি। তার জবানে একটাই কথা ছিল—এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব, তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর সৈন্যরা তাকেও তাতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হলো। যেই আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুক্ষণ পূর্বে প্রফুল্লচিত্তে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইয়ের কাছে যেতেই তার আঁখিযুগল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল! তাকে অশ্রুসিক্ত দেখে সম্রাট ভাবল, এটাই আমার বিজয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে ডেকে এনে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে আবদুল্লাহ বললেন, আমি এই আক্ষেপ করে কেঁদেছিলাম, যদি আমার শত প্রাণ থাকত আর সবগুলোকে আজ আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করতে পারতাম!
বাদশা এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। কারণ, সে লোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো ব্যক্তির মুখ থেেেক এরূপ উত্তর কখনো আশা করে নি। পরিশেষে বাদশা ভাবলো এমন লোকের শাস্তি হয়তো প্রাণে না মেরে বাঁচিয়ে রাখা। তাই সম্রাট তাকে লক্ষ্য করে বলল, ঠিক আছে, তুই কেবল আমার কপালে চুমু খেলেই তোকে ছেড়ে দেবো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর বিনিময়ে কেবল আমাকে নয়; বরং আমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করলে আমি তা করতে পারি। বাদশা বলল, আচ্ছা, তা-ই হবে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার কপালে চুমু খেলেন এবং সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।
এই পবিত্র কাফেলা যখন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে পুরো ঘটনা শুনালেন, তখন তিনি স্বস্থান হতে দাঁড়িয়ে গেলেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু যে ঈমানি চেতনা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদে ফিরে এসেছেন তার স্বীকৃতি ও পুরস্কারস্বরূপ তার কপালে চুম্বন করলেন。

টিকাঃ
১৪৪ প্রাগুক্ত: ২/২৮৮

একদা খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু রোমের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন। শত্রুরা তাকেসহ কাফেলার সকলকে বন্দি করে ফেলল। এ মহান ব্যক্তিকে যখন রোম-সম্রাটের দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো, সম্রাট তাকে এ মর্মে প্রস্তাব প্রদান করে যে, যদি তুমি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো তবে তোমাকে আমার সাম্রাজ্যের অংশীদার করবো। হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল ধন-সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহ এ মরুচারী যাযাবরকে কাত করে দেবে; কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, তার সামনে দণ্ডায়মান মুহাম্মাদে আরাবির একজন ভক্ত ও আত্মনিবেদিত সাহাবি। যার অভাব-অনটন ও দরিদ্রতার সম্মুখে এক-দুটি নয়-হাজারো সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে。
আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তার প্রস্তাব স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এই বিমুখতার দরুন আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তা-ই পেয়েছেন, যা এ পৃথিবীতে সত্য পথের পথিকগণ পেয়ে থাকেন। সম্রাট তাকে শূলে চড়িয়ে তির মারতে মারতে হত্যা করার নির্দেশ দিল। সিপাহিরা নির্দেশমতো তাকে শূলে চড়ালো। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তাকে ঝাঁজরা করার জন্য কামানগুলো তাক করানো হলো। মৃত্যু তার সম্মুখে অপেক্ষমাণ; কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল যে, এ নির্ভীক খোদাভক্ত প্রেমীর চেহারায় দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয়-ভীতির বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। মৃত্যুকে এত সহজে বরণ করার দৃশ্য সম্রাট ইতোপূর্বে কাউকে দেখে নি। তাই সে ভাবলো—তাকে এমন কোনো ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতে হত্যা করতে হবে, যেন তার মতো অকুতোভয় সাহসী ব্যক্তিও ঘাবড়াতে বাধ্য হয়। সেজন্য সম্রাট তাকে শূলকাষ্ঠ হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল। আর একটি ডেগে পানি ঢেলে তা ফোটানোর হুকুম করল। পানি ভর্তি ডেগটি যখন টগবগ করছিল, ঠিক তখনি আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র কাফেলার এক বন্দি সাহাবিকে এনে তারই সম্মুখে ডেগে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আর দেখলেন, তার সঙ্গী বন্দিকে ডেগে ছাড়ামাত্রই তার হাড্ডি থেকে গোশত খসে পড়ল। আর হাড্ডিগুলো ডেগের মধ্যে বীভৎসরূপে চকচক করতে লাগল। নির্দয় সম্রাট আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, যদি তুই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করিস, তবে তোকেও ঠিক এই পরিণতির শিকার হতে হবে; কিন্তু এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে তার সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে নি। তার জবানে একটাই কথা ছিল—এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব, তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর সৈন্যরা তাকেও তাতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হলো। যেই আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুক্ষণ পূর্বে প্রফুল্লচিত্তে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইয়ের কাছে যেতেই তার আঁখিযুগল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল! তাকে অশ্রুসিক্ত দেখে সম্রাট ভাবল, এটাই আমার বিজয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে ডেকে এনে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে আবদুল্লাহ বললেন, আমি এই আক্ষেপ করে কেঁদেছিলাম, যদি আমার শত প্রাণ থাকত আর সবগুলোকে আজ আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করতে পারতাম!
বাদশা এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। কারণ, সে লোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো ব্যক্তির মুখ থেেেক এরূপ উত্তর কখনো আশা করে নি। পরিশেষে বাদশা ভাবলো এমন লোকের শাস্তি হয়তো প্রাণে না মেরে বাঁচিয়ে রাখা। তাই সম্রাট তাকে লক্ষ্য করে বলল, ঠিক আছে, তুই কেবল আমার কপালে চুমু খেলেই তোকে ছেড়ে দেবো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর বিনিময়ে কেবল আমাকে নয়; বরং আমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করলে আমি তা করতে পারি। বাদশা বলল, আচ্ছা, তা-ই হবে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার কপালে চুমু খেলেন এবং সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।
এই পবিত্র কাফেলা যখন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে পুরো ঘটনা শুনালেন, তখন তিনি স্বস্থান হতে দাঁড়িয়ে গেলেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু যে ঈমানি চেতনা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদে ফিরে এসেছেন তার স্বীকৃতি ও পুরস্কারস্বরূপ তার কপালে চুম্বন করলেন。

টিকাঃ
১৪৪ প্রাগুক্ত: ২/২৮৮

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আল্লাহর নিকট পৌঁছার পথ

📄 আল্লাহর নিকট পৌঁছার পথ


আবু ইয়াজিদ বোস্তামি রহ. বলেন, একবার আমার মহান প্রভুর সঙ্গে আমার স্বপ্নযোগে সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁর সমীপে আরজ করলাম- ‘হে আল্লাহ, আপনার নিকট পৌঁছার পথ কোনটি?’ জবাব এলো-
أترك نَفْسَكَ وَتَعَالَ
তোমার নফসকে ছেড়ে দাও এবং চলে এসো。

টিকাঃ
১৪৫ আল-ই'তিসাম: ১/৩৫২

আবু ইয়াজিদ বোস্তামি রহ. বলেন, একবার আমার মহান প্রভুর সঙ্গে আমার স্বপ্নযোগে সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁর সমীপে আরজ করলাম- ‘হে আল্লাহ, আপনার নিকট পৌঁছার পথ কোনটি?’ জবাব এলো-
أترك نَفْسَكَ وَتَعَالَ
তোমার নফসকে ছেড়ে দাও এবং চলে এসো。

টিকাঃ
১৪৫ আল-ই'তিসাম: ১/৩৫২

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 স্বপ্নের তাৎপর্য

📄 স্বপ্নের তাৎপর্য


খলিফা মাহদি'র শাসনামলে শরিক ইবনু আবদুল্লাহ রহ. বিচারক ছিলেন। একবার তিনি মাহদি'র নিকট এলে তিনি তাকে হত্যা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। কাজি সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, আমিরুল মুমিনিন, কী কারণে আমাকে হত্যা করবেন? মাহদি বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম তুমি আমার বিছানা নাড়াচ্ছ এবং আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে আছ। আমি এ স্বপ্নের কথা একজন ব্যাখ্যাকারের নিকট পেশ করলে তিনি আমাকে বললেন, কাজি শরিক বাহ্যিকভাবে আপনার আনুগত্য প্রকাশ করলেও তলে তলে সে আপনার ঘোর বিরোধী। কাজি শরিক বললেন, খোদার কসম! আমিরুল মুমিনিন, আপনার স্বপ্ন ইবরাহিম আ.-এর স্বপ্ন নয়, আর ব্যাখ্যদাতাও ইউসুফ আ. নন। তবে কেন খামাখা একটি মিথ্যা ও অবাস্তব স্বপ্নকে ভিত্তি করে মুসলিমদের মস্তক উড়িয়ে দিতে চান! খলিফা এ কথা শুনে চুপসে গেলেন এবং হত্যার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন。

টিকাঃ
১৪৬ প্রাগুক্ত: ১/৩৫৩

খলিফা মাহদি'র শাসনামলে শরিক ইবনু আবদুল্লাহ রহ. বিচারক ছিলেন। একবার তিনি মাহদি'র নিকট এলে তিনি তাকে হত্যা করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করলেন। কাজি সাহেব জিজ্ঞাসা করলেন, আমিরুল মুমিনিন, কী কারণে আমাকে হত্যা করবেন? মাহদি বললেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম তুমি আমার বিছানা নাড়াচ্ছ এবং আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে আছ। আমি এ স্বপ্নের কথা একজন ব্যাখ্যাকারের নিকট পেশ করলে তিনি আমাকে বললেন, কাজি শরিক বাহ্যিকভাবে আপনার আনুগত্য প্রকাশ করলেও তলে তলে সে আপনার ঘোর বিরোধী। কাজি শরিক বললেন, খোদার কসম! আমিরুল মুমিনিন, আপনার স্বপ্ন ইবরাহিম আ.-এর স্বপ্ন নয়, আর ব্যাখ্যদাতাও ইউসুফ আ. নন। তবে কেন খামাখা একটি মিথ্যা ও অবাস্তব স্বপ্নকে ভিত্তি করে মুসলিমদের মস্তক উড়িয়ে দিতে চান! খলিফা এ কথা শুনে চুপসে গেলেন এবং হত্যার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলেন。

টিকাঃ
১৪৬ প্রাগুক্ত: ১/৩৫৩

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 রাখে আল্লাহ মারে কে!

📄 রাখে আল্লাহ মারে কে!


আমর ইবনু ইয়াহইয়া আলাবি রহ. বলেন, একবার আমরা একটি কাফেলার সঙ্গে কুফা থেকে মক্কায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কাফেলার একজনের পেটের পীড়া দেখা দিল। এ সফরে আমরা মরু দস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। দস্যুরা আমাদের একপাল উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ঘটনাক্রমে সে পীড়িত লোকটিকেও তারা নিয়ে গেল। ফলে সে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। দীর্ঘদিন পর যখন আমরা কুফায় ফিরে এলাম, তখন আমি সে লোকটিকে দেখলাম, সে সম্পূর্ণ সুস্থাবস্থায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে এর রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, দস্যুরা আমাকে তাদের লোকালয়ে নিয়ে এলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে তাদের বাড়ির পাশে ফেলে রাখল। তখন আমি আমার এহেন দুর্বিসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যু কামনা করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম, তারা বেশ কিছু অজগর সাপ শিকার করে এনে সেগুলোর মাথা ও লেজ ফেলে দিয়ে ভুনা করছে। আমি ভাবলাম, হয়তো বা এরা সাপ খাওয়ায় অভ্যস্ত; কিন্তু আমি খেলে নির্ঘাত মারা যাবো। আবার মনে হলো, মরে গেলে তো আমি এ দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাবো। তাই আমি তাদের ভুনাকৃত অজগর খেতে চাইলাম। তারা আমার নিকট একটা ছুঁড়ে মারলো। আমি তা খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষ না হতেই আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ঘুম হতে উঠেই দেখি ঘামে গোটা শরীর স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রচণ্ড বমির ভাব হচ্ছে। তারপর শতাধিকবার বমি হলো। সকালে উঠে দেখি আমার পেটের স্ফীতি অনেকটাই কমে গেছে। অতঃপর তাদের কাছে কিছু খাবার চেয়ে খেলাম। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলাম।

টিকাঃ
১৪৭ হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩১

আমর ইবনু ইয়াহইয়া আলাবি রহ. বলেন, একবার আমরা একটি কাফেলার সঙ্গে কুফা থেকে মক্কায় যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে কাফেলার একজনের পেটের পীড়া দেখা দিল। এ সফরে আমরা মরু দস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলাম। দস্যুরা আমাদের একপাল উট ছিনিয়ে নিয়ে গেল। ঘটনাক্রমে সে পীড়িত লোকটিকেও তারা নিয়ে গেল। ফলে সে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। দীর্ঘদিন পর যখন আমরা কুফায় ফিরে এলাম, তখন আমি সে লোকটিকে দেখলাম, সে সম্পূর্ণ সুস্থাবস্থায় দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি তাকে এর রহস্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, দস্যুরা আমাকে তাদের লোকালয়ে নিয়ে এলো। সেখানে নিয়ে তারা আমাকে তাদের বাড়ির পাশে ফেলে রাখল। তখন আমি আমার এহেন দুর্বিসহ জীবন থেকে মুক্তির জন্য মৃত্যু কামনা করতে লাগলাম। হঠাৎ একদিন দেখলাম, তারা বেশ কিছু অজগর সাপ শিকার করে এনে সেগুলোর মাথা ও লেজ ফেলে দিয়ে ভুনা করছে। আমি ভাবলাম, হয়তো বা এরা সাপ খাওয়ায় অভ্যস্ত; কিন্তু আমি খেলে নির্ঘাত মারা যাবো। আবার মনে হলো, মরে গেলে তো আমি এ দুর্বিসহ জীবন থেকে রেহাই পাবো। তাই আমি তাদের ভুনাকৃত অজগর খেতে চাইলাম। তারা আমার নিকট একটা ছুঁড়ে মারলো। আমি তা খেয়ে ফেললাম। খাওয়া শেষ না হতেই আমি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লাম। ঘুম হতে উঠেই দেখি ঘামে গোটা শরীর স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে। প্রচণ্ড বমির ভাব হচ্ছে। তারপর শতাধিকবার বমি হলো। সকালে উঠে দেখি আমার পেটের স্ফীতি অনেকটাই কমে গেছে। অতঃপর তাদের কাছে কিছু খাবার চেয়ে খেলাম। এভাবে কয়েকদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলাম।

টিকাঃ
১৪৭ হায়াতুল হায়াওয়ান: ১/৩১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00