📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 দুই ভাইয়ের একরাত

📄 দুই ভাইয়ের একরাত


মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির রহ. ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ও হাদিস বর্ণনাকারী। তিনি বলেন, একদিন আমি সারা রাত আমার মায়ের পা টিপছিলাম। আর আমার ভাই আবু বকর ইবনুল মুনকাদির রাতভর নামাজ পড়ছিল; কিন্তু কিছুতেই আমি আমার রাতটিকে তার রাতের বিনিময়ে গ্রহণ করতে রাজি নই।

টিকাঃ
১৪২ শামসুল আইম্মাহ সারাখসি, আল-মাবসুত : ১০/১৪০

মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির রহ. ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ তাবেয়ি ও হাদিস বর্ণনাকারী। তিনি বলেন, একদিন আমি সারা রাত আমার মায়ের পা টিপছিলাম। আর আমার ভাই আবু বকর ইবনুল মুনকাদির রাতভর নামাজ পড়ছিল; কিন্তু কিছুতেই আমি আমার রাতটিকে তার রাতের বিনিময়ে গ্রহণ করতে রাজি নই।

টিকাঃ
১৪২ শামসুল আইম্মাহ সারাখসি, আল-মাবসুত : ১০/১৪০

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 রণাঙ্গনে দুই সাহাবির দুআ

📄 রণাঙ্গনে দুই সাহাবির দুআ


ইমাম বাগাবি রহ. সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন, উহুদযুদ্ধ চলাকালীন আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, আসেন, আমরা উভয়ে মিলে দুআ করি। অতঃপর আমরা ময়দানের এক কোণে চলে যাই। আমি দুআ করলাম-হে আল্লাহ, আগামীকাল যখন যুদ্ধ আরম্ভ হবে, আমার মোকাবেলা যেন কোনো হৃষ্টপুষ্ট তাগড়া নওজোয়ানের সঙ্গে হয়। আমি তার সঙ্গে কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়বো। আপনি আমাকে উক্ত যুদ্ধে জয়ী করেন!
আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহু আমার দুআ শুনে আমিন বললেন। তারপর তিনি দুআ করলেন-হে আল্লাহ, আগামীকাল আমাকে কোনো শক্তিশালী কাফেরের মোকাবেলা করার তাওফিক দেন! তার সঙ্গে আমি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লড়াই করবো। অতঃপর আমার প্রতিপক্ষ কাফের যেন আমাকে পাকড়াও করে আমার নাক, কান ইত্যাদি কেটে দেয়। যাতে কিয়ামতের দিন আপনার সামনে আরজ করতে পারি-হে আল্লাহ, আমি আপনার ও আপনার রাসুলের রাস্তায় এ নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেদিন আপনি আমার কথার সমর্থন জানাবেন।
সাদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহুর দুআ আমার দুআর চেয়ে উত্তম ছিল। অতঃপর পরের দিন আমি দেখলাম, যথারীতি তার নাক ও কান কাটা অবস্থায় একটি সুতোয় ঝুলছে!

টিকাঃ
১৪৩ আল-ইসাবাহ: ২/২৭৮

ইমাম বাগাবি রহ. সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রাজিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন, উহুদযুদ্ধ চলাকালীন আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহু আমাকে বললেন, আসেন, আমরা উভয়ে মিলে দুআ করি। অতঃপর আমরা ময়দানের এক কোণে চলে যাই। আমি দুআ করলাম-হে আল্লাহ, আগামীকাল যখন যুদ্ধ আরম্ভ হবে, আমার মোকাবেলা যেন কোনো হৃষ্টপুষ্ট তাগড়া নওজোয়ানের সঙ্গে হয়। আমি তার সঙ্গে কেবল আপনার সন্তুষ্টির জন্য লড়বো। আপনি আমাকে উক্ত যুদ্ধে জয়ী করেন!
আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহু আমার দুআ শুনে আমিন বললেন। তারপর তিনি দুআ করলেন-হে আল্লাহ, আগামীকাল আমাকে কোনো শক্তিশালী কাফেরের মোকাবেলা করার তাওফিক দেন! তার সঙ্গে আমি আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য লড়াই করবো। অতঃপর আমার প্রতিপক্ষ কাফের যেন আমাকে পাকড়াও করে আমার নাক, কান ইত্যাদি কেটে দেয়। যাতে কিয়ামতের দিন আপনার সামনে আরজ করতে পারি-হে আল্লাহ, আমি আপনার ও আপনার রাসুলের রাস্তায় এ নির্যাতনের শিকার হয়েছি। সেদিন আপনি আমার কথার সমর্থন জানাবেন।
সাদ রাজিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু জাহাশ রাজিয়াল্লাহু আনহুর দুআ আমার দুআর চেয়ে উত্তম ছিল। অতঃপর পরের দিন আমি দেখলাম, যথারীতি তার নাক ও কান কাটা অবস্থায় একটি সুতোয় ঝুলছে!

টিকাঃ
১৪৩ আল-ইসাবাহ: ২/২৭৮

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 অকুতোভয় ঈমানদীপ্ত এক সাহাবির কাহিনি

📄 অকুতোভয় ঈমানদীপ্ত এক সাহাবির কাহিনি


একদা খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু রোমের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন। শত্রুরা তাকেসহ কাফেলার সকলকে বন্দি করে ফেলল। এ মহান ব্যক্তিকে যখন রোম-সম্রাটের দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো, সম্রাট তাকে এ মর্মে প্রস্তাব প্রদান করে যে, যদি তুমি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো তবে তোমাকে আমার সাম্রাজ্যের অংশীদার করবো। হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল ধন-সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহ এ মরুচারী যাযাবরকে কাত করে দেবে; কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, তার সামনে দণ্ডায়মান মুহাম্মাদে আরাবির একজন ভক্ত ও আত্মনিবেদিত সাহাবি। যার অভাব-অনটন ও দরিদ্রতার সম্মুখে এক-দুটি নয়-হাজারো সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে。
আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তার প্রস্তাব স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এই বিমুখতার দরুন আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তা-ই পেয়েছেন, যা এ পৃথিবীতে সত্য পথের পথিকগণ পেয়ে থাকেন। সম্রাট তাকে শূলে চড়িয়ে তির মারতে মারতে হত্যা করার নির্দেশ দিল। সিপাহিরা নির্দেশমতো তাকে শূলে চড়ালো। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তাকে ঝাঁজরা করার জন্য কামানগুলো তাক করানো হলো। মৃত্যু তার সম্মুখে অপেক্ষমাণ; কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল যে, এ নির্ভীক খোদাভক্ত প্রেমীর চেহারায় দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয়-ভীতির বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। মৃত্যুকে এত সহজে বরণ করার দৃশ্য সম্রাট ইতোপূর্বে কাউকে দেখে নি। তাই সে ভাবলো—তাকে এমন কোনো ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতে হত্যা করতে হবে, যেন তার মতো অকুতোভয় সাহসী ব্যক্তিও ঘাবড়াতে বাধ্য হয়। সেজন্য সম্রাট তাকে শূলকাষ্ঠ হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল। আর একটি ডেগে পানি ঢেলে তা ফোটানোর হুকুম করল। পানি ভর্তি ডেগটি যখন টগবগ করছিল, ঠিক তখনি আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র কাফেলার এক বন্দি সাহাবিকে এনে তারই সম্মুখে ডেগে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আর দেখলেন, তার সঙ্গী বন্দিকে ডেগে ছাড়ামাত্রই তার হাড্ডি থেকে গোশত খসে পড়ল। আর হাড্ডিগুলো ডেগের মধ্যে বীভৎসরূপে চকচক করতে লাগল। নির্দয় সম্রাট আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, যদি তুই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করিস, তবে তোকেও ঠিক এই পরিণতির শিকার হতে হবে; কিন্তু এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে তার সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে নি। তার জবানে একটাই কথা ছিল—এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব, তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর সৈন্যরা তাকেও তাতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হলো। যেই আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুক্ষণ পূর্বে প্রফুল্লচিত্তে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইয়ের কাছে যেতেই তার আঁখিযুগল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল! তাকে অশ্রুসিক্ত দেখে সম্রাট ভাবল, এটাই আমার বিজয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে ডেকে এনে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে আবদুল্লাহ বললেন, আমি এই আক্ষেপ করে কেঁদেছিলাম, যদি আমার শত প্রাণ থাকত আর সবগুলোকে আজ আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করতে পারতাম!
বাদশা এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। কারণ, সে লোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো ব্যক্তির মুখ থেেেক এরূপ উত্তর কখনো আশা করে নি। পরিশেষে বাদশা ভাবলো এমন লোকের শাস্তি হয়তো প্রাণে না মেরে বাঁচিয়ে রাখা। তাই সম্রাট তাকে লক্ষ্য করে বলল, ঠিক আছে, তুই কেবল আমার কপালে চুমু খেলেই তোকে ছেড়ে দেবো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর বিনিময়ে কেবল আমাকে নয়; বরং আমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করলে আমি তা করতে পারি। বাদশা বলল, আচ্ছা, তা-ই হবে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার কপালে চুমু খেলেন এবং সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।
এই পবিত্র কাফেলা যখন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে পুরো ঘটনা শুনালেন, তখন তিনি স্বস্থান হতে দাঁড়িয়ে গেলেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু যে ঈমানি চেতনা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদে ফিরে এসেছেন তার স্বীকৃতি ও পুরস্কারস্বরূপ তার কপালে চুম্বন করলেন。

টিকাঃ
১৪৪ প্রাগুক্ত: ২/২৮৮

একদা খলিফাতুল মুসলিমিন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু রোমের উদ্দেশ্যে আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে একটি সৈন্যদল পাঠালেন। শত্রুরা তাকেসহ কাফেলার সকলকে বন্দি করে ফেলল। এ মহান ব্যক্তিকে যখন রোম-সম্রাটের দরবারে নিয়ে যাওয়া হলো, সম্রাট তাকে এ মর্মে প্রস্তাব প্রদান করে যে, যদি তুমি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করো তবে তোমাকে আমার সাম্রাজ্যের অংশীদার করবো। হতভাগা সম্রাট ভেবেছিল ধন-সম্পদ ও পদমর্যাদার মোহ এ মরুচারী যাযাবরকে কাত করে দেবে; কিন্তু তার ধারণা ছিল না যে, তার সামনে দণ্ডায়মান মুহাম্মাদে আরাবির একজন ভক্ত ও আত্মনিবেদিত সাহাবি। যার অভাব-অনটন ও দরিদ্রতার সম্মুখে এক-দুটি নয়-হাজারো সাম্রাজ্য উৎসর্গ হয়ে থাকে。
আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তার প্রস্তাব স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে দিলেন। এই বিমুখতার দরুন আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু তা-ই পেয়েছেন, যা এ পৃথিবীতে সত্য পথের পথিকগণ পেয়ে থাকেন। সম্রাট তাকে শূলে চড়িয়ে তির মারতে মারতে হত্যা করার নির্দেশ দিল। সিপাহিরা নির্দেশমতো তাকে শূলে চড়ালো। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। তাকে ঝাঁজরা করার জন্য কামানগুলো তাক করানো হলো। মৃত্যু তার সম্মুখে অপেক্ষমাণ; কিন্তু সম্রাট এ দৃশ্য দেখে অবাক নয়নে তাকিয়ে রইল যে, এ নির্ভীক খোদাভক্ত প্রেমীর চেহারায় দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা ও ভয়-ভীতির বিন্দুমাত্র ছাপ নেই। মৃত্যুকে এত সহজে বরণ করার দৃশ্য সম্রাট ইতোপূর্বে কাউকে দেখে নি। তাই সে ভাবলো—তাকে এমন কোনো ভয়ঙ্কর পদ্ধতিতে হত্যা করতে হবে, যেন তার মতো অকুতোভয় সাহসী ব্যক্তিও ঘাবড়াতে বাধ্য হয়। সেজন্য সম্রাট তাকে শূলকাষ্ঠ হতে নামিয়ে আনার নির্দেশ দিল। আর একটি ডেগে পানি ঢেলে তা ফোটানোর হুকুম করল। পানি ভর্তি ডেগটি যখন টগবগ করছিল, ঠিক তখনি আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা রাজিয়াল্লাহু আনহুর পবিত্র কাফেলার এক বন্দি সাহাবিকে এনে তারই সম্মুখে ডেগে ছেড়ে দেওয়া হলো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন আর দেখলেন, তার সঙ্গী বন্দিকে ডেগে ছাড়ামাত্রই তার হাড্ডি থেকে গোশত খসে পড়ল। আর হাড্ডিগুলো ডেগের মধ্যে বীভৎসরূপে চকচক করতে লাগল। নির্দয় সম্রাট আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে বলল, যদি তুই খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ না করিস, তবে তোকেও ঠিক এই পরিণতির শিকার হতে হবে; কিন্তু এ ভয়ঙ্কর দৃশ্য আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহুকে তার সাহসী অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র টলাতে পারে নি। তার জবানে একটাই কথা ছিল—এ টগবগে ফুটন্ত পানিতে পড়ে ঝলসে যাওয়া সম্ভব, তবুও ঈমান ত্যাগ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর সৈন্যরা তাকেও তাতে নিক্ষেপ করার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল; কিন্তু এখানে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হলো। যেই আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু কিছুক্ষণ পূর্বে প্রফুল্লচিত্তে মৃত্যুকে অভিবাদন জানাচ্ছিলেন, তিনিই এখন কড়াইয়ের কাছে যেতেই তার আঁখিযুগল বেয়ে অশ্রু ঝরছিল! তাকে অশ্রুসিক্ত দেখে সম্রাট ভাবল, এটাই আমার বিজয়। তাই সঙ্গে সঙ্গে সে তাকে ডেকে এনে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করল। উত্তরে আবদুল্লাহ বললেন, আমি এই আক্ষেপ করে কেঁদেছিলাম, যদি আমার শত প্রাণ থাকত আর সবগুলোকে আজ আল্লাহর রাস্তায় কুরবান করতে পারতাম!
বাদশা এ কথা শুনে বিস্মিত হলো। কারণ, সে লোমহর্ষক ও বিভীষিকাময় মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো ব্যক্তির মুখ থেেেক এরূপ উত্তর কখনো আশা করে নি। পরিশেষে বাদশা ভাবলো এমন লোকের শাস্তি হয়তো প্রাণে না মেরে বাঁচিয়ে রাখা। তাই সম্রাট তাকে লক্ষ্য করে বলল, ঠিক আছে, তুই কেবল আমার কপালে চুমু খেলেই তোকে ছেড়ে দেবো। আবদুল্লাহ রাজিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এর বিনিময়ে কেবল আমাকে নয়; বরং আমার সকল সঙ্গীকেও মুক্ত করলে আমি তা করতে পারি। বাদশা বলল, আচ্ছা, তা-ই হবে। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তার কপালে চুমু খেলেন এবং সকল সঙ্গীদের নিয়ে নিরাপদে ফিরে এলেন।
এই পবিত্র কাফেলা যখন উমার রাজিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে পুরো ঘটনা শুনালেন, তখন তিনি স্বস্থান হতে দাঁড়িয়ে গেলেন। এবং আবদুল্লাহ ইবনু হুজাফা রাজিয়াল্লাহু আনহু যে ঈমানি চেতনা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাফেলার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অলৌকিকভাবে সদলবলে নিরাপদে ফিরে এসেছেন তার স্বীকৃতি ও পুরস্কারস্বরূপ তার কপালে চুম্বন করলেন。

টিকাঃ
১৪৪ প্রাগুক্ত: ২/২৮৮

📘 তারা ঝিকিমিকি জ্বলে > 📄 আল্লাহর নিকট পৌঁছার পথ

📄 আল্লাহর নিকট পৌঁছার পথ


আবু ইয়াজিদ বোস্তামি রহ. বলেন, একবার আমার মহান প্রভুর সঙ্গে আমার স্বপ্নযোগে সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁর সমীপে আরজ করলাম- ‘হে আল্লাহ, আপনার নিকট পৌঁছার পথ কোনটি?’ জবাব এলো-
أترك نَفْسَكَ وَتَعَالَ
তোমার নফসকে ছেড়ে দাও এবং চলে এসো。

টিকাঃ
১৪৫ আল-ই'তিসাম: ১/৩৫২

আবু ইয়াজিদ বোস্তামি রহ. বলেন, একবার আমার মহান প্রভুর সঙ্গে আমার স্বপ্নযোগে সাক্ষাৎ হয়। তখন আমি তাঁর সমীপে আরজ করলাম- ‘হে আল্লাহ, আপনার নিকট পৌঁছার পথ কোনটি?’ জবাব এলো-
أترك نَفْسَكَ وَتَعَالَ
তোমার নফসকে ছেড়ে দাও এবং চলে এসো。

টিকাঃ
১৪৫ আল-ই'তিসাম: ১/৩৫২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00