📄 এক নির্ভীক বুজুুর্গের সাহসী হুঙ্কার
সুলতান মুহাম্মদ তুঘলক [মৃত্যু: ৭৫২হি.] ছিলেন ভারতের বিখ্যাত শাসক। শৌর্য-বীর্য ও নির্ভীকতায় তার খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি একবার তৎকালীন সুফি-সাধক শাইখ কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ার রহ.-এর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুতুব সাহেব রহ. নিজ স্থানেই বসে ছিলেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হন নি। সুলতান এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুতুবুদ্দিন রহ.-কে রাজপ্রাসাদে তলব করা হলো। তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ও সামরিক সৈন্যরা বাদশা তুঘলকের চতুর্পার্শ্বে সশস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। রাজদরবারের পরিবেশ এতই গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল যে, যে কারও গা ভয়ে ছমছম করবে। কুতুবুদ্দিন রহ.-এর সঙ্গে তার নয় বছরের ছেলে নুরুদ্দিন রহ.ও ছিলেন। সে ইতোপূর্বে কখনো রাজদরবার দেখে নি। সে এ ধরনের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। কুতুব সাহেব রহ. পুত্রের এ অবস্থা দেখে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-
العظمة الله
সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব কেবল আল্লাহর।
নুরুদ্দিন রহ. বলেন, আমার পিতার হুঙ্কারধ্বনি আমার কানে এসে পৌঁছামাত্রই আমি এক অসাধারণ মানসিক ও আত্মিক-শক্তি অনুভব করলাম। নিমেষেই আমার অন্তর থেকে সকল ভয়-ভীতি দূর হয়ে গেল। আর উপস্থিত সকল লোকজনকে ভেড়া-বকরির পালের মতো মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
১০০ আবুল হাসান আলি নদবি, আল-আরকানুল আরবাআহ: পৃ.৩৭
সুলতান মুহাম্মদ তুঘলক [মৃত্যু: ৭৫২হি.] ছিলেন ভারতের বিখ্যাত শাসক। শৌর্য-বীর্য ও নির্ভীকতায় তার খ্যাতি ছিল সর্বজনবিদিত। তিনি একবার তৎকালীন সুফি-সাধক শাইখ কুতুবুদ্দিন মুনাওয়ার রহ.-এর বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কুতুব সাহেব রহ. নিজ স্থানেই বসে ছিলেন। তাকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য বের হন নি। সুলতান এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ হলেন। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুতুবুদ্দিন রহ.-কে রাজপ্রাসাদে তলব করা হলো। তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ও সামরিক সৈন্যরা বাদশা তুঘলকের চতুর্পার্শ্বে সশস্ত্র দাঁড়িয়ে আছে। রাজদরবারের পরিবেশ এতই গাম্ভীর্যপূর্ণ ছিল যে, যে কারও গা ভয়ে ছমছম করবে। কুতুবুদ্দিন রহ.-এর সঙ্গে তার নয় বছরের ছেলে নুরুদ্দিন রহ.ও ছিলেন। সে ইতোপূর্বে কখনো রাজদরবার দেখে নি। সে এ ধরনের গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশ দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। কুতুব সাহেব রহ. পুত্রের এ অবস্থা দেখে হুঙ্কার ছেড়ে বললেন-
العظمة الله
সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব কেবল আল্লাহর।
নুরুদ্দিন রহ. বলেন, আমার পিতার হুঙ্কারধ্বনি আমার কানে এসে পৌঁছামাত্রই আমি এক অসাধারণ মানসিক ও আত্মিক-শক্তি অনুভব করলাম। নিমেষেই আমার অন্তর থেকে সকল ভয়-ভীতি দূর হয়ে গেল। আর উপস্থিত সকল লোকজনকে ভেড়া-বকরির পালের মতো মনে হচ্ছিল।
টিকাঃ
১০০ আবুল হাসান আলি নদবি, আল-আরকানুল আরবাআহ: পৃ.৩৭
📄 আমেরিকার অপরাধ-জগৎ
আমেরিকার অপরাধ জগতের পরিসংখ্যান আজ আর কারও কাছে অস্পষ্ট নয়। সেখানে দিন-দিন যে হারে অন্যায়-অপরাধ বেড়ে চলছে সে সম্পর্কে করাচির ডেইলি নিউজ-এর ১৯৭২ সালের ২৯ আগস্ট সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-'ওয়াশিংটন হতে ২৯ আগস্ট এফ. বি. আই. আজ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সে অনুপাতে আমেরিকায় বছরে প্রতি ত্রিশ মিনিটে একটি করে খুনের ঘটনা ঘটে। প্রতি ঊনচল্লিশ সেকেন্ডে কোনো-না- কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রতি তেরো মিনিট অন্তর একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতি আঠারো সেকেন্ডে একটি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এবং প্রতি ছিয়াশি সেকেন্ডে একজন আমেরিকান নাগরিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।'
রিপোর্টে আরও লেখা হয়- 'এ বছর পুরো দেশের অপরাধের হার সাত শতাংশ বেড়েছে। গুরুতর অপরাধ যেমন-খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি এগারো শতাংশ এবং সাধারণ অপরাধ যেমন-চুরি করা, সিঁধ কাটা ইত্যাদি বেড়েছে সাত শতাংশ। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর সতেরো হাজার ছয়শত ত্রিশটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সতেরোশ' সত্তরটি খুন বেশি হয়েছে। আর বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় একষট্টি শতাংশ খুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বেয়াল্লিশ হাজার।'
এ রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এগারো সতাংশ ও গত পাঁচ বছরের তুলনায় চৌষট্টি শতাংশ অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। মারামারি, রাহাজানি ও ডাকাতির সংখ্যা ছিল এ বছর তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার নয়শ' দশটি। যা ১৯৭০ সালের চেয়ে এগারো শতাংশ ও ১৯৬৬ সালের চেয়ে একশ' পঁয়তাল্লিশ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, উপরিউক্ত পরিসংখ্যান হলো, সরকারি দায়িত্বশীলও সাংবাদিকদের জ্ঞাত ঘটনাবলির হিসাব। এ ছাড়া অজ্ঞাত কিংবা অপ্রকাশিত ঘটনাবলি এ পরিসংখ্যানের বাইরে।
টিকাঃ
১৩৪ দৈনিক ডেইলি নিউজ করাচি সংখ্যা: ২৯ আগস্ট ১৯৭২ খ্রি. পৃ.১, কলাম: ৬ দ্রষ্টব্য
আমেরিকার অপরাধ জগতের পরিসংখ্যান আজ আর কারও কাছে অস্পষ্ট নয়। সেখানে দিন-দিন যে হারে অন্যায়-অপরাধ বেড়ে চলছে সে সম্পর্কে করাচির ডেইলি নিউজ-এর ১৯৭২ সালের ২৯ আগস্ট সংখ্যার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-'ওয়াশিংটন হতে ২৯ আগস্ট এফ. বি. আই. আজ যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে সে অনুপাতে আমেরিকায় বছরে প্রতি ত্রিশ মিনিটে একটি করে খুনের ঘটনা ঘটে। প্রতি ঊনচল্লিশ সেকেন্ডে কোনো-না- কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়। প্রতি তেরো মিনিট অন্তর একজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতি আঠারো সেকেন্ডে একটি করে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এবং প্রতি ছিয়াশি সেকেন্ডে একজন আমেরিকান নাগরিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়।'
রিপোর্টে আরও লেখা হয়- 'এ বছর পুরো দেশের অপরাধের হার সাত শতাংশ বেড়েছে। গুরুতর অপরাধ যেমন-খুন, ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি ইত্যাদি এগারো শতাংশ এবং সাধারণ অপরাধ যেমন-চুরি করা, সিঁধ কাটা ইত্যাদি বেড়েছে সাত শতাংশ। নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত বছর সতেরো হাজার ছয়শত ত্রিশটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর সতেরোশ' সত্তরটি খুন বেশি হয়েছে। আর বিগত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানের তুলনায় একষট্টি শতাংশ খুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বেয়াল্লিশ হাজার।'
এ রিপোর্ট অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এগারো সতাংশ ও গত পাঁচ বছরের তুলনায় চৌষট্টি শতাংশ অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে। মারামারি, রাহাজানি ও ডাকাতির সংখ্যা ছিল এ বছর তিন লাখ পঞ্চাশ হাজার নয়শ' দশটি। যা ১৯৭০ সালের চেয়ে এগারো শতাংশ ও ১৯৬৬ সালের চেয়ে একশ' পঁয়তাল্লিশ শতাংশ বেশি।
উল্লেখ্য, উপরিউক্ত পরিসংখ্যান হলো, সরকারি দায়িত্বশীলও সাংবাদিকদের জ্ঞাত ঘটনাবলির হিসাব। এ ছাড়া অজ্ঞাত কিংবা অপ্রকাশিত ঘটনাবলি এ পরিসংখ্যানের বাইরে।
টিকাঃ
১৩৪ দৈনিক ডেইলি নিউজ করাচি সংখ্যা: ২৯ আগস্ট ১৯৭২ খ্রি. পৃ.১, কলাম: ৬ দ্রষ্টব্য
📄 পরিবার-পরিকল্পনার নামে অবৈধ গর্ভপাতের সয়লাব
দু-বছর পূর্বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন জন ডি-রাক ফেলার এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। যার লক্ষ্য ছিল আমেরিকার জনসংখ্যা সম্পর্কে একটি রিপোর্ট পেশ করা। সাম্প্রতিক উক্ত কমিশন [Popolation and the American Future] 'আমেরিকার জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা' শিরোনামে একটি রিপোর্ট পেশ করে। তাতে বেশ কিছু অবাক করা পরিসংখ্যান ও হাস্যকর মন্তব্য রয়েছে। রিপোর্টটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্বাচিত অংশ 'প্যানোরামা'র [Panaorama] সাম্প্রতিক সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। তাতে জনসংখ্যার ওপর পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলা হয় যে, এক জরিপ মতে, আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে দুই থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা সংঘটিত হয়। কমিশন উক্ত সমাস্যার সমাধানকল্পে যে থিউরি পেশ করেছে, তার প্রতি লক্ষ্য করেন, কমিশনের দৃষ্টিতে গর্ভপাত চিকিৎসা বিজ্ঞানেরই একটি অংশবিশেষ। একে ছোট্ট কুঠরি কিংবা বদ্ধ কামরা হতে বের করে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করা উচিত। আমাদের জোর দাবি হলো, কোনো মহিলা গর্ভপাত করাতে চাইলে কেবল অনুমতিই নয়; বরং এর জন্য যথারীতি হাসপাতালগুলোতে সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকা চাই। এতে অবৈধ গর্ভপাতের সংখ্যা কমে যাবে। দুগ্ধপোষ্য ছোট ছোট শিশুদের মৃত্যুর হার কমে আসবে এবং বিবাহ ছাড়া অবৈধ সন্তানের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। তাছাড়া মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। কমিশনের সিংহভাগ সদস্যদের মতে, এ ব্যাপারটি মেয়েদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত যে, তারা ক'টি সন্তান নিতে ইচ্ছুক। আর গর্ভপাতের বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে সাব্যস্ত করা উচিত।
রিপোর্টটিতে যেসব উদ্ভট ও মনগড়া প্রস্তাবনা ও তার সুফল উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলে-এতে অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা হ্রাস পাবে। সভ্যসমাজে কোনো অবৈধ কাজ নির্মূল করার জন্য উপরিউক্ত খোঁড়া যুক্তি প্রদান করা সেসব শিক্ষিত শয়তানদের কাজ, যারা অবৈধ কাজের সংখ্যা বেড়ে গেলে সেটাকে বৈধ করা ও অনুমোদন দেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টায় লিপ্ত। তাদের দর্শন মেনে নিলে সমাজে কোনো অবৈধ কাজই বাকি থাকবে না। সব বৈধ হয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবতা যে এর উল্টো তা যেকোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেই সুস্পষ্ট। কমিশন উক্ত রিপোর্টের শেষাংশে এসে একটি বাক্যের মাধ্যমে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। তা হলো- গর্ভপাতের বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। প্রশ্ন হলো, যেখানে বৈধ-অবৈধের প্রশ্ন আছে, সেখানে ব্যক্তিগত বিষয় বলতে কিছু বাকি থাকে? বিষয়টি সম্ভবত আমাদের দেশের সেসব লোকদের জন্য শিক্ষণীয় হবে, যারা সভ্য হওয়ার খাহেশে পরিবার-পরিকল্পনার ঠুনকো নিয়মের অন্ধ ভক্ত। তারা বুলি আওড়িয়ে থাকেন-'আমাদের এই কর্মসূচী ও পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনো শিশু হত্যা নয়। কাজেই তা وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ 'তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।'১৩৬-এর আওতাভুক্ত হবে না।
টিকাঃ
১৩৫ Panaorama V. XXIV No.9, p. 13. Colum-No.2
১৩৬ সূরা আনআম: ১৫১; সূরা ইসরা: ৩১
দু-বছর পূর্বে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নিক্সন জন ডি-রাক ফেলার এর নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করে। যার লক্ষ্য ছিল আমেরিকার জনসংখ্যা সম্পর্কে একটি রিপোর্ট পেশ করা। সাম্প্রতিক উক্ত কমিশন [Popolation and the American Future] 'আমেরিকার জনসংখ্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা' শিরোনামে একটি রিপোর্ট পেশ করে। তাতে বেশ কিছু অবাক করা পরিসংখ্যান ও হাস্যকর মন্তব্য রয়েছে। রিপোর্টটির গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্বাচিত অংশ 'প্যানোরামা'র [Panaorama] সাম্প্রতিক সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। তাতে জনসংখ্যার ওপর পর্যালোচনা করতে গিয়ে বলা হয় যে, এক জরিপ মতে, আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে বছরে দুই থেকে ছয় লাখ পর্যন্ত অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা সংঘটিত হয়। কমিশন উক্ত সমাস্যার সমাধানকল্পে যে থিউরি পেশ করেছে, তার প্রতি লক্ষ্য করেন, কমিশনের দৃষ্টিতে গর্ভপাত চিকিৎসা বিজ্ঞানেরই একটি অংশবিশেষ। একে ছোট্ট কুঠরি কিংবা বদ্ধ কামরা হতে বের করে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে স্থানান্তর করা উচিত। আমাদের জোর দাবি হলো, কোনো মহিলা গর্ভপাত করাতে চাইলে কেবল অনুমতিই নয়; বরং এর জন্য যথারীতি হাসপাতালগুলোতে সুন্দর ব্যবস্থাপনা থাকা চাই। এতে অবৈধ গর্ভপাতের সংখ্যা কমে যাবে। দুগ্ধপোষ্য ছোট ছোট শিশুদের মৃত্যুর হার কমে আসবে এবং বিবাহ ছাড়া অবৈধ সন্তানের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। তাছাড়া মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে। কমিশনের সিংহভাগ সদস্যদের মতে, এ ব্যাপারটি মেয়েদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত যে, তারা ক'টি সন্তান নিতে ইচ্ছুক। আর গর্ভপাতের বিষয়টিকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে সাব্যস্ত করা উচিত।
রিপোর্টটিতে যেসব উদ্ভট ও মনগড়া প্রস্তাবনা ও তার সুফল উল্লেখ করা হয়েছে তন্মধ্যে একটি হলে-এতে অবৈধ গর্ভপাতের ঘটনা হ্রাস পাবে। সভ্যসমাজে কোনো অবৈধ কাজ নির্মূল করার জন্য উপরিউক্ত খোঁড়া যুক্তি প্রদান করা সেসব শিক্ষিত শয়তানদের কাজ, যারা অবৈধ কাজের সংখ্যা বেড়ে গেলে সেটাকে বৈধ করা ও অনুমোদন দেওয়ার ঘৃণ্য চেষ্টায় লিপ্ত। তাদের দর্শন মেনে নিলে সমাজে কোনো অবৈধ কাজই বাকি থাকবে না। সব বৈধ হয়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবতা যে এর উল্টো তা যেকোনো বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেই সুস্পষ্ট। কমিশন উক্ত রিপোর্টের শেষাংশে এসে একটি বাক্যের মাধ্যমে চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে। তা হলো- গর্ভপাতের বিষয়টি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। প্রশ্ন হলো, যেখানে বৈধ-অবৈধের প্রশ্ন আছে, সেখানে ব্যক্তিগত বিষয় বলতে কিছু বাকি থাকে? বিষয়টি সম্ভবত আমাদের দেশের সেসব লোকদের জন্য শিক্ষণীয় হবে, যারা সভ্য হওয়ার খাহেশে পরিবার-পরিকল্পনার ঠুনকো নিয়মের অন্ধ ভক্ত। তারা বুলি আওড়িয়ে থাকেন-'আমাদের এই কর্মসূচী ও পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কোনো শিশু হত্যা নয়। কাজেই তা وَلَا تَقْتُلُوا أَوْلَادَكُمْ 'তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না।'১৩৬-এর আওতাভুক্ত হবে না।
টিকাঃ
১৩৫ Panaorama V. XXIV No.9, p. 13. Colum-No.2
১৩৬ সূরা আনআম: ১৫১; সূরা ইসরা: ৩১
📄 দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষার্থীদের মাথাপিছু ব্যয়ের তালিকা
ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা কারি মুহাম্মদ তৈয়্যব সাহেব রহ. তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি তাতে উপমহাদেশের শীর্ষ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সম্পর্কিত জরুরি তথ্যাবলি বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন। সে গ্রন্থ হতে নির্বাচিত একটি অংশ নিম্নে প্রদত্ত হলো:
একশ' বছরে যে সকল শিক্ষার্থী দারুল উলুম থেকে ইলমি ফায়দা অর্জন করেছে এবং দারুল উলুম তাদের খরচাদি বহন করেছে, তাদের সংখ্যা হলো-পঁয়ষট্টি হাজার সাতশ' সাতাইশ। আর দাওরা হাদিস শেষ করে ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্রের সংখ্যা-সাত হাজার চারশ' সতেরো। নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যয় বাদে আনুষঙ্গিক সকল ব্যয়ের পরিমাণ, সাতানব্বই লাখ ছেচল্লিশ হাজার পঞ্চাশ রুপি তেরো আনা নয় পয়সা। এখন এ ব্যয়কে যদি পঁয়ষট্টি হাজার সাতশ' সাতাইশ জন শিক্ষার্থীর মাথা পিছু হারে বণ্টন করা হয়, তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় একশ' ঊনপঞ্চাশ রুপি। আর যদি ব্যয়িত পুরো অর্থকে সাত হাজার চারশ' সতেরোজন সনদপ্রাপ্ত ছাত্রের মাথা পিছু হারে বণ্টন করা হয়, তবে একজন পরিপূর্ণ আলেম তৈরি করতে দারুল উলুমের ব্যয় হয়েছে মাত্র তেরোশ' চৌদ্দ রুপি।
পৃথিবীতে এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে কি, যা দারুল উলুমের মতো স্বল্প ব্যয় ও অতি সাদাসিধে বাজেট সত্ত্বেও এত সুন্দর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারে?
সাহাবায়ে কেরাম রা. কর্তৃক মুক্ত করা দাস-দাসীর সংখ্যা
নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান সাহেব রহ. আন-নাজমুল ওয়াহহাজ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে কোনো কোনো সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করা দাস-দাসীর যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:
• আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহু-৬৯ জন।
• আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু-৭০ জন।
• হাকিম ইবনু হিযাম রাজিয়াল্লাহু আনহু-১০০ জন।
• আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু-১০০০ জন।
• উসমান গনি রাজিয়াল্লাহু আনহু-২০ জন।
• যুলকিলা' হিময়ারি রাজিয়াল্লাহু আনহু-৮০০০ জন।
• আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাজিয়াল্লাহু আনহু-৩০,০০০ জন।
এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়-কেবলমাত্র সাতজন সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহু মুক্ত করেছেন ঊনচল্লিশ হাজার দুইশত ঊনষাট জন দাস-দাসী। এতে অপরাপর হাজারো সাহাবায়ে কেরামের মুক্ত করা দাস-দাসীর সংখ্যা কত বিশাল হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
টিকাঃ
১৩৭ তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ: পৃ.৯০
১৩৮ ফাতহুল আল্লাম: ২/৩৩২
ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মাওলানা কারি মুহাম্মদ তৈয়্যব সাহেব রহ. তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ নামে একটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি তাতে উপমহাদেশের শীর্ষ দ্বীনি বিদ্যাপীঠ সম্পর্কিত জরুরি তথ্যাবলি বিশদভাবে উল্লেখ করেছেন। সে গ্রন্থ হতে নির্বাচিত একটি অংশ নিম্নে প্রদত্ত হলো:
একশ' বছরে যে সকল শিক্ষার্থী দারুল উলুম থেকে ইলমি ফায়দা অর্জন করেছে এবং দারুল উলুম তাদের খরচাদি বহন করেছে, তাদের সংখ্যা হলো-পঁয়ষট্টি হাজার সাতশ' সাতাইশ। আর দাওরা হাদিস শেষ করে ডিগ্রি অর্জনকারী ছাত্রের সংখ্যা-সাত হাজার চারশ' সতেরো। নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যয় বাদে আনুষঙ্গিক সকল ব্যয়ের পরিমাণ, সাতানব্বই লাখ ছেচল্লিশ হাজার পঞ্চাশ রুপি তেরো আনা নয় পয়সা। এখন এ ব্যয়কে যদি পঁয়ষট্টি হাজার সাতশ' সাতাইশ জন শিক্ষার্থীর মাথা পিছু হারে বণ্টন করা হয়, তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় একশ' ঊনপঞ্চাশ রুপি। আর যদি ব্যয়িত পুরো অর্থকে সাত হাজার চারশ' সতেরোজন সনদপ্রাপ্ত ছাত্রের মাথা পিছু হারে বণ্টন করা হয়, তবে একজন পরিপূর্ণ আলেম তৈরি করতে দারুল উলুমের ব্যয় হয়েছে মাত্র তেরোশ' চৌদ্দ রুপি।
পৃথিবীতে এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে কি, যা দারুল উলুমের মতো স্বল্প ব্যয় ও অতি সাদাসিধে বাজেট সত্ত্বেও এত সুন্দর ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্ত পেশ করতে পারে?
সাহাবায়ে কেরাম রা. কর্তৃক মুক্ত করা দাস-দাসীর সংখ্যা
নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান সাহেব রহ. আন-নাজমুল ওয়াহহাজ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে কোনো কোনো সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহুর মুক্ত করা দাস-দাসীর যে সংখ্যা উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ:
• আয়েশা রাজিয়াল্লাহু আনহু-৬৯ জন।
• আব্বাস রাজিয়াল্লাহু আনহু-৭০ জন।
• হাকিম ইবনু হিযাম রাজিয়াল্লাহু আনহু-১০০ জন।
• আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাজিয়াল্লাহু আনহু-১০০০ জন।
• উসমান গনি রাজিয়াল্লাহু আনহু-২০ জন।
• যুলকিলা' হিময়ারি রাজিয়াল্লাহু আনহু-৮০০০ জন।
• আবদুর রহমান ইবনু আউফ রাজিয়াল্লাহু আনহু-৩০,০০০ জন।
এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়-কেবলমাত্র সাতজন সাহাবি রাজিয়াল্লাহু আনহু মুক্ত করেছেন ঊনচল্লিশ হাজার দুইশত ঊনষাট জন দাস-দাসী। এতে অপরাপর হাজারো সাহাবায়ে কেরামের মুক্ত করা দাস-দাসীর সংখ্যা কত বিশাল হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
টিকাঃ
১৩৭ তারিখে দারুল উলুম দেওবন্দ: পৃ.৯০
১৩৮ ফাতহুল আল্লাম: ২/৩৩২